Wednesday, October 24, 2012

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী : ড. ইউনূসই বিদেশি বিনিয়োগে বাধা













দেশে বিদেশি বিনিয়োগ না আসায় গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা নোবেলবিজয়ী অধ্যাপক ড. ইউনূসকে দায়ী করেন র্অথমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের বিনিয়োগ তেমন বাড়েনি। সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগও (এফডিআই) কমে গেছে। বিনিয়োগের অভাবে আমরা মরে যাচ্ছি। এ সবকিছুর জন্য একমাত্র দায়ী অধ্যাপক ড. ইউনূস। বিদেশে তার মিথ্যা প্রচারণার কারণে দেশে বিনিয়োগ আসছে না। তিনিই বাংলাদেশের একমাত্র সমস্যা। গতকাল রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে ষষ্ঠ-পঞ্চবাষিক পরিকল্পনার বাস্তবায়ন-পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নসম্পর্কিত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভাশেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী প্রধান অতিথি ছিলেন। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ড. শামসুল আলমের পরিচালনায় বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান এসএ সামাদ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা প্রত্যাশিত, সঞ্চয় ও বিনিয়োগ না হওয়া, শিল্পায়নের অভাবে কাঙ্ক্ষিত উত্পাদন প্রবৃদ্ধি না হওয়া এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্য অর্জন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। আর বিনিয়োগ না আসার কারণ হিসেবে তারা দায়ী করেছেন সুশাসনের অভাবকে। সভাশেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি খাতে আমাদের অর্জন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ভালো। তবে আমরা পিছিয়ে আছি বিনিয়োগে। এফডিআই অনেক কমে গেছে। বিনিয়োগের অভাবে আমরা মরে যাচ্ছি। এর জন্য একমাত্র দায়ী ড. ইউনূস। একজন ব্যক্তি কীভাবে সরকারের বিরুদ্ধে এমন প্রচারণা চালাচ্ছেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘হি (ইউনূস) হ্যাজ অ্যা ওয়ান্ডারফুল পাবলিসিটি মেশিনারি। উনি যেসব কথা বলেন, তার মধ্যে পুরোপুরি সততা নেই।’ অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রামীণ ব্যাংক উনার (ইউনূস) প্রতিষ্ঠান। উনি কোনোমতেই গ্রামীণ ব্যাংক ছাড়বেন না, এটাই হলো উনার সমস্যা। আর এজন্যই উনার এত কারসাজি।’
বিনিয়োগ না আসায় সুশাসনের অভাবকেও দায়ী করেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এখনও ঘুষ লেনদেন হয়। অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। এছাড়া ব্রিটেনের প্রভাবশালী সাময়িকী ‘ইকোনমিস্ট’ গত চার বছর সরকারের বিরুদ্ধে লেগে ছিল। তবে ইকোনমিস্ট তার অবস্থান বিরাট পরিবর্তন করেছে। তারা বাংলাদেশ প্রসঙ্গে আর নেতিবাচক কোনো সংবাদ করতে পারেনি। গত সপ্তাহে ইকোনমিস্টে বাংলাদেশ সম্পর্কে অনেক ইতিবাচক সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে। কিন্তু বিদেশি বিনিয়োগ না হওয়ার পেছনে প্রধান সমস্যা হচ্ছেন ড. ইউনূস। বহির্বিশ্বে তিনি যেসব কথা বলেন, তা সততার সঙ্গে বলেন না।’ উল্লেখ্য, গত বছরের শুরুতে ড. ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে চিঠি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সিদ্ধান্তের বিপক্ষে আইনি লড়াইয়ে হেরে যান ইউনূস। এর ফলে সরকারের সঙ্গে তার টানাপড়েন
সৃষ্টি হয়। অবশ্য ড. ইউনূস আদালতেও সুবিচার পাবেন না বলে অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তাকে গ্রামীণ ব্যাংক ছাড়তে হয়েছে বলে দাবি করেছেন ড. ইউনূস।
অবশ্য গতবছরের সেপ্টেম্বরে তিন মাসের মধ্যে গ্রামীণ ব্যাংকে নতুন এমডি নিয়োগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের জন্য আইন সংশোধনের পর থেকেই ড. ইউনূসের সঙ্গে সরকারের নতুন করে তিক্ততার শুরু হয়। নারী পরিচালকদের ক্ষমতা খর্ব করে এমডি নিয়োগে সরকার মনোনীত চেয়ারম্যানকে একক ক্ষমতা দেয় সরকার। বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ দেশ-বিদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়।
নতুন আইনে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের কমিটিতে ইউনূসের নাম প্রস্তাব করা হলেও তা প্রত্যাখ্যান করে সরকার। সরকারের এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে অর্থমন্ত্রী গত আগস্টে বলেছিলেন, তাকে নিয়োগ দিলে তিনি তার ইচ্ছামতো উত্তরসূরি নির্বাচন করবেন।
তবে এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার গ্রামীণ ব্যাংক ধ্বংস করতে চাইছে বলে বিবৃতি দিয়েছিলেন ড. ইউনূস। এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, তার এই ভুয়া প্রচারণার জন্য অনেকে চিঠি লিখে আক্রোশ প্রকাশ করছেন। অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ে সরকার-সমর্থক কয়েকজন বুদ্ধিজীবী ড. ইউনূসের ব্যাপারে আপত্তিকর বিবৃতি দিয়েছেন। ড. ইউনূসের কারণে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন করছে না বলেও বিভিন্ন সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রচারণা চালানো হয়েছে। এমনকি ড. ইউনূসের নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তি নিয়েও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমসহ সরকারের শীর্ষ নীতিনির্ধারকরা প্রশ্ন তুলেছেন।

Sunday, October 21, 2012



দিনে ২ ঘণ্টা লোডশেডিং হতেই হবে : শেখ হাসিনা














স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ভণ্ডুল করতে চায়, এমন দাবি করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যারা যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে চায়, তাদের নীলনকশার ব্যাপারে দেশবাসীকে সজাগ থাকতে হবে। সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এদের মোকাবিলা করতে হবে। যতই অপতত্পরতা চালানো হোক না কেন দেশের মানুষ সজাগ থাকলে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি কিছুই করতে পারবে না।
গতকাল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের জাতীয় সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের যারা বাঁচাতে চায়, তাদের অপতত্পরতা তো থাকবেই। এখন সময় এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সোচ্চার হতে হবে। গত দু’দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতে ইসলামী ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী গতকাল এসব মন্তব্য করেন।
বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বিদ্যুত্ বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছি, দিনে দুই ঘণ্টা লোডশেডিং হতেই হবে। এটা জরুরি বলে আমি মনে করি। লোডশেডিং কী—এটা যেন জনগণ ভুলে না যায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বিদ্যুতের উত্পাদন ছয় হাজার ২০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করেছি। কিন্তু এর জন্যও কথা শুনতে হয়, সমালোচনা করা হয়। যারা সমালোচনা করেন, তারা আবার সমালোচনা শুনতে পারেন না। আমাদের রাজনীতিবিদদেরই শুধু সমালোচনা শুনতে হবে।
বর্তমান সরকার দেশকে স্বনির্ভর করতে কাজ করে যাচ্ছে বলে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরতে চাই না। তিনি বলেন, বিএনপির নীতি ছিল, দেশে যেন খাদ্যঘাটতি থাকে। তাদের নীতি ছিল, কীভাবে সাহায্য পাওয়া যায়, ভিক্ষার চাল পাওয়া যায়।
আগামী নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলার মানুষ আবার ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে নামার ব্যবস্থা করবে কিনা এটা তারাই (জনগণ) ঠিক করবে।
আঞ্চলিক এবং দ্বিপক্ষীয় সমস্যা সমাধানেও সরকারের তত্পরতা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ঝগড়াঝাঁটি চাই না। আমরা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই।
প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়নে প্রকৌশলীদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের আত্মনির্ভরশীল হতে হবে। দাতাদের কাছ থেকে সাহায্য নিলে তাদের কথা শুনতে হয়। তারা যে টাকা দেয়, কনসালট্যান্সি করেই তার সব টাকা নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে আমাদের জয়ী হতে হবে। অন্যথায় আমাদের স্বাধীনতা অর্থহীন হয়ে যাবে।
এ সময়ে গাজীপুরের মেশিন টুলস কারখানার প্রসঙ্গ তুলে শেখ হাসিনা বলেন, ওটা বন্ধ করে সেখানে হাউজিংয়ের কথা বলা হয়েছিল। সেটাও দাতাদের প্রেসক্রিপশন ছিল। আমরা মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি সেনাবাহিনীকে দিয়ে দিয়েছি। এখন সেখানে বিভিন্ন জিনিস উত্পাদন হচ্ছে।

Saturday, October 20, 2012


আমার দেশ-এর সাংবাদিকদের রিমান্ডে নিতে পুলিশের আবেদন : মিডিয়া দলনে মহাজোট সরকারের ইতিহাস সৃষ্টি

পুলিশি কর্তব্যকাজে বাধার অভিযোগে সোয়া দুই বছর আগে দায়ের করা এক মামলায় আমার দেশ-এর সাংবাদিকদের জামিন বাতিল করে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। ২০১০ সালের ২ জুন দায়ের করা মামলায় আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, নির্বাহী সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, বার্তা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী, প্রধান সহকারী সম্পাদক সঞ্জীব চৌধুরী, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার আলাউদ্দিন আরিফ ও অফিস সহকারী সাইফুল ইসলামের নাম এজাহারভুক্ত করে আরও ৪০০ সাংবাদিক-কর্মচারীকে আসামি করা হয়। এ মামলায় আসামিরা প্রথমে হাইকোর্ট ও পরে সিএমএম কোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন।
কিন্তু হঠাত্ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার পরিদর্শক অপূর্ব হাসান ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে জামিন বাতিল করে রিমান্ড চেয়ে ওই আবেদন জানান। তবে সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে রিমান্ড আবেদনের বাইরে রাখা হয়েছে। আজ মামলাটির হাজিরার পূর্ব নির্ধারিত তারিখ। আমার দেশ-এর সাংবাদিকদের জামিন বাতিল ও রিমান্ড আবেদনের ওপর আজ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে আমার দেশ-এর সব সাংবাদিক-কর্মচারী হাজির হবেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল আমার দেশ কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দৈনিক আমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, মামলাটি আড়াই বছরের পুরনো। ওই মামলায় এজাহার নামীয় প্রত্যেক আসামি হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। সিএমএম আদালত থেকেও জামিন নিয়েছেন। প্রতিমাসে নির্ধারিত হাজিরার তারিখে সিএমএম কোর্টে সশরীরে হাজির হয়ে প্রত্যেক সাংবাদিক হাজিরা দিয়েছেন। এরকম একটি মামলায় শুধু স্থায়ী ঠিকানা জানার জন্য রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। মামলায় প্রত্যেকের অফিসের ঠিকানা দেয়া রয়েছে। তারা সবাই প্রথিতযশা সাংবাদিক। এদের মধ্যে জাতীয় প্রেস ক্লাবের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদও রয়েছেন। তারা নিয়মিত অফিস করছেন। ঠিকানা জানার জন্য এভাবে রিমান্ডের আবেদন বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। রিমান্ড যেন এখন ডাল-ভাতে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি একটি জিডির ভিত্তিতে রিমান্ডের আবেদনের ঘটনার পর এখন নাম জানার জন্য একটি পত্রিকার এত সাংবাদিকের নামে রিমান্ড আবেদন জানানো হয়েছে। বিশ্বের ইতিহাসেও এর নজির পাওয়া যাবে না। বর্তমান মহাজোট সরকার মিডিয়া দলনের যে পথ বেছে নিয়েছে, সর্বশেষ ঘটনা তার আরেকটি বড় প্রমাণ।
মাহমুদুর রহমান বলেন, আমি মনে করি সরকারের সংবাদপত্র দলন নীতি ও আমার দেশ পত্রিকা ফের বন্ধের চক্রান্ত হিসেবে এই রিমান্ড আবেদন জানানো হয়েছে। এর আগে আমাকে গ্রেফতার করে ১৪ দিন রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশি কাজে বাধা দেয়ার মামলায় তিন দিন রিমাণ্ডে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে আমাকে অজ্ঞান করে ফেলা হয়েছিল। এবার সব সাংবাদিককে ভীতসন্ত্রস্ত করার জন্য এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। যাতে সাংবাদিকরা সরকারের অপকর্মের সংবাদ তুলে ধরতে ভয় পান। তিনি আরও বলেন, সরকার এরই মধ্যে টকশো নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছে। সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনও হয়নি। এক জজ মিয়ার জায়গায় ৭ জজ মিয়া নাটক সাজানো হচ্ছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। আমার দেশ-কে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বহু আগে থেকেই ডাকা হয় না। সর্বশেষ আমার দেশ সাংবাদিকদের রিমান্ডের আবেদন বাংলাদেশের সাংবাদিকতার জন্য আরেকটি অশনি সঙ্কেত হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন।
মাহমুদুর রহমান আরও বলেন, ২০১০ সালের ১ জুন আমি সংবাদ সম্মেলন করে গ্রেফতারের আশঙ্কা প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন করেছিলাম। ওইদিন রাতেই শত শত পুলিশ সাদা পোশাকে ও রণসাজে সজ্জিত হয়ে আমার দেশ কার্যালয় থেকে আমাকে গ্রেফতার করে। আমাকে গ্রেফতারের সময় পুলিশের কতর্ব্যকাজে বাধা দেয়া হয়েছে অভিযোগ এনে পরদিন ২ জুন তেজগাঁও থানায় আমার দেশ-এর সিনিয়র সাংবাদিকদের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৪০০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছিল। এ মামলায় এখন জামিন বাতিল করে রিমান্ড চাওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, ওই মামলার নম্বর ২, তারিখ ২/৬/২০১০ইং। মামলার ধারা দণ্ডবিধির ১৪৩/ ১৪২/ ৩৩২/ ৩৫৩/ ১৮৬/ ৫০৬/ ১১৪।
তেজগাঁও থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অপূর্ব হাসানের করা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সুপারিশকৃত রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, ‘এজাহার নামীয় আসামি (১) সহকারী সম্পাদক সঞ্জীব চৌধুরী (৬০), পিতা-সুশীল দাস চৌধুরী, সাং-বিএসইসি ভবন (১১তলা) ১০২, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, থানা-তেজগাঁও, ঢাকা, (২) ক্রাইম রিপোর্টার আলাউদ্দিন আরিফ (৩৮), পিতা-মৌলভী আরিফুর রহমান, (৩) চিফ এডিটর সৈয়দ আবদাল আহমদ (৪৮), পিতা-মৃত সৈয়দ শায়েস্তা মিয়া, (৪) সিটি এডিটর জাহেদ চৌধুরী, পিতা-মৃত আবদুুর নূর চৌধুরী (৫) অফিস পিয়ন সাইফুল (৩০), পিতা-মৃত আবদুুল খায়ের সরকার গং বিজ্ঞ আদালতে উল্লিখিত কর্মস্থলের ঠিকানা উল্লেখ করে আত্মসমর্পণ করেছেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিদের স্থায়ী ঠিকানা আবশ্যক। এ অবস্থায় আসামিদের সঠিক ও পূর্ণ নাম-ঠিকানার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জামিন বাতিলপূর্বক একদিনের পুলিশ রিমান্ড আবশ্যক।’
মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিদের সঠিক ও পূর্ণ নাম-ঠিকানা বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের জামিন বাতিলপূর্বক একদিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করতে মর্জি হয়।’
জামিনে থাকা প্রায় আড়াই বছর পুরনো মামলায় জামিন বাতিল করে রিমান্ড চাওয়ার ঘটনায় আইনজীবী ও সাংবাদিক নেতারাসহ সাধারণ মানুষও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
দুপুর ১২টায় প্রেস ক্লাবে বিক্ষোভ কর্মসূচি : আমার দেশ-এর সাংবাদিকদের জামিন বাতিল করে রিমান্ডে নেয়ার পুলিশের আবেদনের প্রতিবাদে আজ আমার দেশ-এর সব সাংবাদিক-কর্মচারী আদালতে বিচারিক এজলাসে উপস্থিত থাকবেন। হাজিরা শেষে আজ দুপুর ১২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। আমার দেশসহ গণমাধ্যমের সব সাংবাদিকদের বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেয়ার জন্য ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের আমার দেশ-এর ইউনিট প্রধান বাছির জামাল অনুরোধ জানিয়েছেন। এছাড়া বিক্ষোভে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ সব সাংবাদিক সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেবেন।

Thursday, October 18, 2012

যুক্তরাষ্ট্রে মিডিয়ার খবর নাফিসের ঘটনা : সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের নতুন ফ্রন্ট বাংলাদেশ : সহযোগী সন্দেহে এক মার্কিনি গ্রেফতার

নাফিসকে গ্রেফতারের পর যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাস ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বাংলা-দেশকে সন্ত্রাস-বিরোধী যুদ্ধের নয়া ফ্রন্ট মনে করছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত টিভি স্টেশন সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে।
সিবিএস নিউজ বলেছে, সন্ত্রাস বিশেষজ্ঞরা ফেডা-রেল রিজার্ভ ভবন উড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনাকে বিভিন্ন কারণে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন। এর মধ্যে সন্দেহভাজন কাজী নাফিস বাংলাদেশী হওয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে বাংলাদেশকে নতুন ফ্রন্ট হিসেবে উল্লেখ করেছেন তারা।
সিবিএস নিউজের বরাত দিয়ে নিউজওয়ার্ল্ড জানায়, নিউইয়র্কে এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী আক্রমণের পরিকল্পনা ফাঁস হলেও বাংলাদেশী নাফিসের পরিকল্পনা ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। সবকিছু দেখে মনে হয়েছে সে তার উদ্দেশ্য সাধনে ছিল দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ভয়াবহ জিহাদ সংঘটনই ছিল তার মূল চিন্তা ও চেতনা। ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী ঘটনার চেয়েও ভয়াবহ ছিল
তার পরিকল্পনা। নিউইয়র্ক সিটির জন জে কলেজ অব ক্রিমিনাল জাস্টিসের শিক্ষক ড. মাকি হ্যাবারফিল্ড বলেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই নাফিসের পরিকল্পনা ছিল বড় কিছু একটা করার। সিবিএস নিউজ বলেছে, কথিত সন্ত্রাসী ঘটনা ব্যর্থ হলেও এর ফলে অনেক নতুন ঘটনা ঘটতে পারে। আরও অনেক তরুণ এতে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়ার কথিত পরিকল্পনার অভিযোগে বুধবার নাফিসকে গ্রেফতার করে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় অপরাধ তদন্ত ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়, নাফিসের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্রের ব্যবহার ও জঙ্গি সংগঠন আল কায়দাকে সহযোগিতা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
নাফিস বলত, প্রকৃত মুসলমান সহিংসতায় বিশ্বাস করে না : সন্ত্রাসবাদী পরিকল্পনার অভিযোগে নিউইয়র্কে বাংলাদেশী যুবক কাজী মোহাম্মদ রেজওয়ানুল আহসান নাফিস এফবিআইর হাতে গ্রেফতার হওয়ায় বিস্মিত হয়েছেন তার মার্কিন সহপাঠীরা। নাফিসের ভূয়সী প্রশংসা করে তারা বলেছেন, ‘নাফিস ছিল ভদ্র ও বিনয়ী। সে বলত, প্রকৃত মুসলমান কখনও সহিংসতায় বিশ্বাস করে না।’ ফক্স নিউজ এ খবর দিয়েছে।
গতকাল মার্কিন টিভি চ্যানেল ফক্স নিউজের অনলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর নাফিস প্রথমে ভর্তি হন সাউথইস্ট মিসৌরি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে। সেখানে তার সহপাঠী ডিয়ন ডানকান বলেন, ‘নাফিস ছিলেন ভালো মানুষ। তার মধ্যে কখনও মার্কিন বিরোধিতা দেখিনি। সে ছিল বিশ্বস্ত ও সত্ লোক। ডানকান বলেন, ‘নাফিস ছিল ভদ্র ও বিনয়ী। সে ছিল পরোপকারী। একজন ভালো মুসলিমের কাছ থেকে আপনি যেমনটা আশা করেন, সে ছিল তেমনই। সে দৈনিক ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ত।’
ওই ইউনিভার্সিটিতে তার আরেক সহপাঠী ডাউ বলেন, ‘নাফিস লাদেনের প্রশংসা করেছে ঠিকই। তবে সে বলেছে, লাদেন টুইন টাওয়ারে হামলা করেছে বলে সে বিশ্বাস করে না। নাফিস বলত, লাদেন ছিল ধর্মপরায়ণ এবং একজন ধার্মিক লোক কখনও এ কাজ করতে পারে না।’ ডাউ বলেন, নাফিস তাকে এক কপি কোরআন শরিফ উপহার দিয়ে তা পড়তে বলেছিল। তবে কোরআন পড়ার জন্য সে কখনও পীড়াপীড়ি করেনি।’
নাফিসের পরিবারও একই ধরনের কথা বলেছে। তারা বলেছেন, নাফিস এফবিআইর সাজানো নাটকের শিকার। নাফিস শিশুর মতো সরল মনের অধিকারী বলে মন্তব্য করেছে তার পরিবার ও নিকটজনরা।
এফবিআই যে কৌশল নিয়ে এভাবে সম্ভাব্য অপরাধীদের গ্রেফতার করে তা নিয়ে মার্কিন মুল্লুকেও প্রশ্নও উঠেছে। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের ভাষ্যমতেই এফবিআইর এজেন্ট ও ইনফরমার এ ধরনের অপারেশন চালাতে নাফিসকে উত্সাহিত করেছেন, তাকে নির্দেশনা দিয়েছেন, অর্থ দিয়েছেন, এমনকি হামলা চালাতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পর্যন্ত সরবরাহ দিয়েছেন। সমালোচকরা মনে করছেন, উপযুক্ত সরকারি সহায়তা ছাড়া এমন একটি পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে পারত না নাফিস।
এক্ষেত্রে নিউইয়র্ক টাইমস ২০০৯ সালের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছে। ওই বছর বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ব্রনক্সে রিভারডেল সেকশনে একটি উপাসনালয়ের সামনে বাসায় তৈরি বোমা স্থাপন করেছিল। ওই ঘটনায় ৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। তাতেও সরকারি ইনফরমারের ভূমিকা ছিল। এ মামলাটি যে বিচারক দেখছিলেন, তিনি এতে আইন প্রয়োগকারী এজেন্টদের ভূমিকার সমালোচনা করেন। ওই এজেন্টরা ওই ব্যক্তিদের বোমা পাতার পরিকল্পনা সামনে এগিয়ে নিতে সহায়তা করেছিল। বিচারক তাই সমালোচনায় বলেছিলেন, ‘দ্য গভর্নমেন্ট মেড দেম টেররিস্টস’ (সরকার তাদের সন্ত্রাসী বানিয়েছে।’
নাফিসের সহযোগী সন্দেহে এক মার্কিনি গ্রেফতার : নাফিসের সঙ্গে ই-মেইলে যোগাযোগের সূত্র ধরে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো থেকে এক মার্কিন নাগরিককে গ্রেফতার করেছে এফবিআই। তার নাম হাওয়ার্ড উইলি কারটার। গতকাল নিউইয়র্ক টাইমসে এ খবর প্রকাশিত হয়।
কারটারের বাসা থেকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন সম্পর্কের ৩০টি ভিডিও এবং সহস্রাধিক ছবি জব্দ করা হয় বলেও এসব প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে আদালতের বরাত দিয়ে এসব প্রতিবেদনে বলা হয়, কারটারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে লিপ্ত থাকার কোনো অভিযোগ এখনও দায়ের করা হয়নি।

Wednesday, October 17, 2012


আমু ও জলিল মন্ত্রী হচ্ছেন! 






















আরেক দফায় সম্প্রসারণ হচ্ছে মন্ত্রিসভা। তবে ঠিক কবে নাগাদ সম্প্রসারণ হবে, তা কেউ নির্দিষ্ট করে বলতে না পারলেও কমপক্ষে দু'জন মন্ত্রিসভায় আসছেন বলে সমকালকে নিশ্চিত করেছে একাধিক সূত্র। আলোচনায় পুরোভাগে রয়েছেন আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদের দুই সদস্য আমির হোসেন আমু ও আবদুল জলিল। বর্ষীয়ান এ দুই নেতা ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। আমির হোসেন আমু খাদ্যমন্ত্রী ও আবদুল জলিল ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। আওয়ামী লীগের কয়েকজন
নীতিনির্ধারক নেতা সমকালকে জানিয়েছেন, সরকারের শেষ বেলায় অনাগ্রহ থাকলেও আমন্ত্রণ জানানো হলে মন্ত্রী হিসেবে শেষের খেয়ার যাত্রী হতে তাদের আপত্তি থাকবে না। ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, দল ও দলনেত্রীর প্রতি আনুগত্যের প্রমাণ দিতে মন্ত্রিত্বের আমন্ত্রণে এ দু'জন নেতা সম্মত হবেন। তবে এ দুই নেতার বিকল্প হিসেবে নতুন দু'জনের কথাও ভেবে রাখা হয়েছে।
মন্ত্রিসভা সম্প্রসারিত হলেও কারোর বাদ পড়ার সম্ভাবনা নেই। প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যেও কারও পদোন্নতির সম্ভাবনা কম। তবে কোনো কোনো মন্ত্রীর দায়িত্ব কমিয়ে আলাদাভাবে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হবে নতুনদের। ঈদের আগে না হলেও নভেম্বর মাসে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদের তিন সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ ও আবদুল জলিলকে দলের সাংগঠনিক কাঠামোতে আরও সক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি ইতিমধ্যে এই তিন নেতাকে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় পরিষদ সদস্য করেছেন।
এ অবস্থায় অনেকেই মনে করছেন, আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় দলের জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ ও আবদুল জলিলকে গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবিতে ফিরিয়ে আনবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
কাঠগড়ায় আ'লীগের তিন সাংগঠনিক সম্পাদক
সোমবার আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টারি বোর্ডের বৈঠকের পর দলের তিন সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, ভূঁইয়া মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক ও আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনকে ডেকে আনেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জানতে চান, সাংগঠনিক সম্পাদকদের উদ্ধৃতি দিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে ভুল সংবাদ কীভাবে প্রচার হচ্ছে। এ সময় সাত সাংগঠনিক সম্পাদকের পক্ষে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন আহমদ হোসেন, ভূঁইয়া মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক ও আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। তারা বলেছেন, যা বলা হয়নি তা-ও প্রকাশ পেয়েছে কয়েকটি গণমাধ্যমে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাংগঠনিক সম্পাদকদের বক্তব্য বিকৃত করে প্রকাশ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমে প্রতিবাদও পাঠানো হয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমে সতর্ক হয়ে কথা বলার নির্দেশ দিয়েছেন।
বৈঠকে সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ, যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, অধ্যাপক ড. আলাউদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ ও গৃহায়ন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান উপস্থিত ছিলেন।

Tuesday, October 16, 2012


ঢাকাসহ দেশব্যাপী ১৮ দলীয় জোটের বিশাল গণমিছিল : ব্যর্থতার ভারেই সরকারের পতন ঘটবে - মওদুদ

রাজধানীতে গতকাল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের বিশাল গণমিছিল থেকে ঘোষণা করা হয়, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। মিছিল-পূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এমপি বলেন, ব্যর্থতার ভারেই সরকারের পতন হবে। এ সরকারের দুর্নীতি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। এখন আন্তর্জাতিকভাবেই শেখ হাসিনার সরকারকে বিশ্বচোর হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যান, ঘাবড়াবেন না। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি ও সরকারের নির্যাতনের প্রতিবাদে ১৮ দলীয় জোটের উদ্যোগে দেশব্যাপী মহানগর ও জেলা সদরে গণমিছিলের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানীতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বিকাল সোয়া ৪টায় গণমিছিল শুরু হয়। পরে মগবাজার মোড়ে গিয়ে তা শেষ হয়। গণমিছিল শেষে ছাত্রশিবির মৌচাক মোড়ে সমাবেশ করে। এতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর নেতারা বক্তৃতা করেন।
পূর্বে ফকিরেরপুল বাজার থেকে কাকরাইল মোড় পর্যন্ত নয়াপল্টনের দীর্ঘ সড়ক কানায় কানায় পূর্ণ ছিল মিছিলে। এর ৫ মিনিটের মাথায় নয়াপল্টনের আনন্দভবন কমিউনিটি সেন্টারের বিপরীত দিকে সড়কের পাশে ট্রান্সফরমারে বিকট শব্দ হলে নেতাকর্মীরা দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন। এতে মিছিলের নেতাকর্মীদের মাঝে ভয়-আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। অনেক নেতাকর্মী ভয়ে অলিগলিতে ঢুকে যায়। অনেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে। দৌড়াদৌড়ির সময়ে অনেক নেতাকর্মী আহত হয়। নেতাকর্মীরা অনেকে আইল্যান্ডের ব্যানার-ফেস্টুনের বাঁশ-লাঠি নিয়ে এগুতে থাকে। পেছনের অংশটিতে জামায়াতে ইসলামীসহ জোটের শরিক দলের কর্মীরা ছিলেন। তবে কিছুক্ষণের মধ্যে পরিস্থিতি শান্ত হয়। অলিগলিতে থাকা নেতাকর্মীরা আবার মিছিলে অংশ নেয়। এ সময়ে রাস্তার দুই পাশে পুলিশ ও র্যাব স্থিরভাবে দাঁড়িয়েছিল।
গণমিছিলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এমপি, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, সহ-সভাপতি সাদেক হোসেন খোকা, আবদুল্লাহ আল নোমান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, শামসুজ্জামান দুদু, কেন্দ্রীয় নেতা আমানউল্লাহ আমান, রবকতউল্লাহ বুলু, অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী, ফজলুল হক মিলন, আবদুস সালাম, আবদুল লতিফ জনি, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, আসাদুর রহমান শাহীন, যুবদলের অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, সাইফুল আলম নীরব, স্বেচ্ছাসেবক দলের হাবিব-উন নবী খান সোহেল, মীর সরফত আলী সপু, শফিউল বারী বাবু, মহিলা দলের শিরিন সুলতানা, ছাত্রদলের আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, হাবিবুর রশিদ হাবিব, নিলোফার চৌধুরী মনি এমপি ও হেলেন জেরিন খানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
গণমিছিলে ১৮ দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক মজিবুর রহমান, মিয়া গোলাম পরওয়ার, অধ্যাপক তাসনীম আলম, হামিদুর রহমান আযাদ এমপি, মাওলানা আবদুল হালিম, নুরুল ইসলাম বুলবুল, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, সেলিম উদ্দিন ও মঞ্জুরুল ইসলাম ভুঁইয়া, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির শামীম আল মামুন, খেলাফত মজলিসের মাওলানা শফিক উদ্দিন, শেখ গোলাম আজগর ও নোমান মাজহারী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির খন্দকার গোলাম মুর্তজা, ন্যাপের জেবেল রহমান ঘানি, ইসলামিক পার্টির আবদুল মবিন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, ন্যাপ ভাসানীর শেখ আনোয়ারুল হক, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সাইফুদ্দিন মনি, পিপলস লীগের সৈয়দ মাহবুব হোসেন প্রমুখ। এছাড়াও গণমিছিলে ছাত্রশিবিরের সভাপতি দেলাওয়ার হোসাইন ও সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল জব্বার উপস্থিত ছিলেন।
নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বিকাল সোয়া ৪টার গণমিছিল শুরু হয়ে মগবাজার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। নির্দলীয় সরকারের দাবিতে সর্বশেষ গণমিছিলটি হয়েছিল ৩০ জানুয়ারি। ওই মিছিলে নেতৃত্ব দেন দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া।
দুপুর আড়াইটা থেকে মহানগরের ১০০টি ওয়ার্ডে থেকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে সমবেত হয়। বিকাল সাড়ে তিনটার মধ্যে ফকিরেরপুল মোড় থেকে শুরু করে বিজয়নগরের নাইটেঙ্গল ছাড়িয়ে কাকরাইল মোড় পর্যন্ত পুরো এলাকা নেতাকর্মীদের উপস্থিতি জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
কর্মীদের হাতে নানা রঙের উত্সব পতাকা, ব্যানার-ফেস্টুন ছিল। গণমিছিলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের প্রতিকৃতিও স্থান পায়। জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা মঞ্চের বাঁদিকে অবস্থান নেয়। তারা দলীয় ক্যাপ পরে ব্যাপক শোডাউন করে। এছাড়াও ১৮ দলীয় জোটের শরিক খেলাফত মজলিস, এলডিপি, বাংলাদেশ ন্যাপ ও লেবার পার্টিসহ অন্য দলগুলোও গণমিছিলে শরিক হয়।
গণমিছিল উপলক্ষে ফকিরেরপুল, নয়াপল্টন, বিজয়নগর, কাকরাইল, শান্তিনগর, মালিবাগ ও মগবাজার মোড়ে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি ছিল।
গণমিছিল শুরুর আগে নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়। মহানগর আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা এতে সভাপতিত্ব করেন। ট্রাকের ওপর দাঁড়িয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, সরকার সংসদকে অকার্যকর করে রেখেছে। তারা ৪ বছর ধরে একদলীয়ভাবে সংসদ চালিয়ে যাচ্ছে। কেবল তাই নয়, কর্মকমিশন, নির্বাচন কমিশনসহ সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর হয়ে আছে। চার বছরে সরকারের ব্যর্থতার হিসাব এতো বেশি যে বলে শেষ করা যাবে না। এই ব্যর্থতার ভারে তাদের পতন ঘটবে। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনেই এদের বিদায় করব।
দুর্নীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার দুর্নীতিতে ডুবে গেছে। পদ্মা সেতুর দুর্নীতিতে বিশ্বের কাছে দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হয়েছে। লজ্জায় মুখ দেখানো যায় না। আমি সম্প্রতি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক আমার কাছে জানতে চেয়েছিলেন তোমাদের দেশে কেন এতো বড় দুর্নীতি হয়। আমি এর জবাব দিতে পারিনি।
পদ্মা সেতুর দুর্নীতি পর্যবেক্ষণে বিশ্বব্যাংকের তদন্ত দলের ঢাকায় আগমনকে লজ্জাজনক অভিহিত করে সাবেক আইনমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন সরকারের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। তারা আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। আমার বিশ্বাস বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতি পর্যবেক্ষণ টিম এ বিষয়টি বুঝতে পারবে। তখন তারা হতাশ হবেন।
গণমাধ্যমের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুনেছি প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বেসরকারি কোনো টেলিভিশন ও সংবাদপত্রকে কাভার করতে দিচ্ছে না। তাদের ব্যর্থতার খবর সব গণমাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে বলে সরকার অসহনশীল হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালেও আওয়ামী লীগ সংবাদপত্র দমন একদলীয় শাসন কায়েম করেছিলো। এবারও তারা গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ জনগণ বরদাশত করবে না।
নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি উল্লেখ করে মওদুদ বলেন, শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী রেখে কোনো নির্বাচনে বিএনপি যাবে না। জনগণও ওই নির্বাচনে অংশ নেবে না।
রামু, উখিয়া, টেকনাফ ও পটিয়ায় বৌদ্ধবিহারে হামলার ঘটনার জন্য সরকারকে দায়ী করে মওদুদ বলেন, বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র বানিয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের জন্য সরকার পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

Monday, October 15, 2012


ঝুলে গেল পদ্মা সেতুর ঋণ : ডিসেম্বরে আবার আসবে বিশ্বব্যাংক প্যানেল : তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে দুদককে পরামর্শ

পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধান পর্যবেক্ষণে আসা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশ্বব্যাংক গঠিত শক্তিশালী প্যানেল অব ইনভেস্টিগেটিভ এক্সপার্টের সদস্যরা গতকাল ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে তারা দুদক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে তারা জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরে তারা আবার আসবেন। এছাড়া দুদককে তারা তদন্তের জন্য কিছু ‘সাজেশন’ দিয়েছেন।
প্যানেলের কর্মসূচি নিয়ে গতকাল দুদক বা বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে গোপনীয়তা অবলম্বন করা হয়। তারা কোথায় কখন বৈঠক করবেন, কী নিয়ে আলোচনা করবেন—এসব বিষয়ে গণমাধ্যমের কাছে গোপন রাখা হয়। উল্টো দুদকের উপ-পরিচালক জনসংযোগ পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে গতকাল প্যানেলের সদস্যরা দুদকে যাচ্ছেন না। দুদক চেয়ারম্যান এবং কমিশনাররাও অফিস থেকে বাইরে চলে যান। এ অবস্থায় সন্ধ্যায় ৭টার দিকে প্যানেলের সদস্যরা দুদকে প্রবেশ করেন। তার আগেই চেয়ারম্যান, কমিশনার, দুদুকের প্রধান আইন উপদেষ্টা ও অনুসন্ধান টিমের কর্মকর্তারা দুদকে উপস্থিত হন।
দুপুরে বাইরে যাওয়ার আগে দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের জানান, রোববারের বৈঠকটি ছিল পরিচিতিমূলক। তারা আরও পর্যবেক্ষণ শেষে ফিরে যাবেন। পরে প্রয়োজনে আবার আসতে পারেন। তবে এখানেই তারা পর্যবেক্ষণ সমাপ্ত করবেন না আরও বসবেন, সে বিষয়টি প্যানেলের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। ওই সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পে কমিশন যে অনুসন্ধান করছে, সেটি এখনও কারও বিরুদ্ধে মামলার পর্যায়ে পৌঁছেনি।
পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি ও দুর্নীতির ষড়যন্ত্র বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের দুটি অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। প্রাথমিক তদন্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে পদ্মা সেতু প্রকল্পে ঋণ দেয়ার বিষয়টি গত ২৯ জুন বাতিল করে বিশ্বব্যাংক। পরে সরকার ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতার প্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাংক তিন সদস্যের একটি প্যানেল ঘোষণা করে। প্যানেলের তিন সদস্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সাবেক প্রধান প্রসিকিউটর লুই গাব্রিয়েল মোরেনো ওকাম্পো, হংকংয়ের দুর্নীতিবিরোধী স্বাধীন কমিশনের সাবেক কমিশনার টিমোথি টং ও যুক্তরাজ্যের গুরুতর প্রতারণা দমন কার্যালয়ের সাবেক পরিচালক রিচার্ড অল্ডারম্যান রোববার বাংলাদেশে আসেন। এছাড়া বিশেষজ্ঞ কমিটির সঙ্গে বাংলাদেশে আসেন বিশ্বব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্ত বিষয়ক প্রধান জিমারম্যান ও বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ বিষয়ক আইন উপদেষ্টা প্রিরালি মালিক। এ ৫ বিশেষজ্ঞ ও বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশে কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যালেন গোলস্টেইন গতকালও দুদকের বৈঠকে অংশ নেন।
একটি সূত্র জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞ প্যানেল গতকাল এসএনসি-লাভালিনের তিন সাব-কনসালট্যান্ট প্রতিষ্ঠান প্রকল্প প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহিদুল হাসান খান, বেটস কনসালটিং লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক নুরুল ইসলাম ও বিসিএল অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের পরিচালক ড. এম এ আজিজসহ কয়েক জনের সঙ্গে কথা বলেছেন। এছাড়া তারা প্রথম দিনের বৈঠকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করেছেন। সেখানে তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, এসব বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
এর আগে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুর্নীতির অভিযেগের তদন্ত বাংলাদেশের আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী হবে, সে ব্যাপারে উভয়পক্ষ একমত হয়েছে। পাশাপাশি পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের আইনই অনুসরণ করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। তারা তদন্তের যেসব তথ্য-উপাত্ত চেয়েছিলেন তাদেরকে সেটা দেয়া হয়েছে। তারা যদি এগুলোতে সন্তুষ্ট থাকেন, তবে আজই তাদের সিদ্ধান্ত জানাতে পারেন। সাংবাদিকদের অন্য একটি প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের অনুসন্ধান এখনও মামলা করার পর্যায়ে পৌঁছেনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান প্যানেলের সদস্যদের কোনো ধরনের গাইডলাইন দেয়ার বিষয়েও অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, রাতে যে বৈঠক হবে, সেখানে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

Saturday, October 13, 2012

সরকারের প্রতি হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের আসামি পক্ষের আইনজীবীদের হয়রানি বন্ধ করুন

কোনো কারণ উল্লেখ ছাড়াই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আসামি পক্ষের এক প্রখ্যাত আইনজীবীর অফিসে সশস্ত্র পুলিশের হানা দেয়া নিরপেক্ষ বিচারের মৌলিক ধারণার মারাত্মক লঙ্ঘন। বাংলাদেশ সরকারের উচিত হবে আসামি পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের অফিসে হানা দেয়ার নির্দেশ যারা দিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া এবং ওই আইনজীবীরা যে হুমকি ও ভীতি প্রদর্শনের মুখে পড়বেন না, তা নিশ্চিত করা।

নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানাবাধিকার সংস্থা হিউম্যঅন রাইটস ওয়াচ আজ বুধবার তাদের ওয়েব সাইটে এক প্রতিবেদনে এই আহ্বান জানিয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়াবিষয়ক পরিচালক ব্র্র্যাড অ্যাডামস বলেন, যুদ্ধাপরাধ বিচারপ্রক্রিয়াটি ইতোমধ্যে ক্রুটিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এখন কোনো ওয়ারেন্ট বা যুক্তিগ্রাহ্য কারণ ছাড়া আসামি পক্ষের আইনজীবীদের অফিসে সশস্ত্র গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের তল্লাসি ওই প্রক্রিয়াকে মারাত্মক ঝুঁকিগ্রস্ত করবে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ সরকারের উচিত প্রকাশ্যে ওই ব্যবস্থার সমালোচনা করা। নয়তো নিরপেক্ষ বিচার মানদণ্ডের এই মারাত্মক লঙ্ঘনের জন্য দায়ভার তাদের ওপর বর্তাবে।

মানবাধিকার সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ৯ অক্টোবর বিকেলে সাড়ে ৪টার দিকে  গোয়েন্দা সংস্থার (ডিবি) পরিচয়ে ১০/১২ জন পুলিশ কর্মকর্তা তাজুল ইসলামের চেম্বারের বাইরে জড়ো হন। সেখানে উপস্থিত আইনজীবীরা তাদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করলে পুলিশ কর্মকর্তারা প্রথমে চেম্বারের ব্যাপারে আগ্রহ না থাকার কথা জানালেও পরে তারা জানান, তারা সেখানে তল্লাসি চালাতে চান বলে জানান। আইনজীবীরা তাদেরকে সার্চ ওয়ারেন্ট দেখাতে বললে তারা তা দেখাতে ব্যর্থ হন। তারপর পুলিশ সদস্যরা ওই চেম্বারে উপস্থিত স্টাফ ও মক্কেলদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকেন, তাদের ঠিকানা নেন। প্রায় ২০ মিনিট পরে পুলিশ সেখান থেকে চলে যায়।

১০ অক্টোবর আসামি পক্ষ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১ ও ২-এ বিষয়টি অবগত করান। ট্রাইব্যুনাল-২ আসামি পক্ষকে লিখিত আবেদন দাখিল এবং থানায় জিডি করতে বলেন। আর ট্রাইব্যুনাল-১ জানায়, বিষয়টি তাদের আওতাবহির্ভূত।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাইব্যুনালে আসামি পক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুর রাজ্জাককে হয়রানি, হুমকি দেয়া হয়েছে। তার বাড়ি ও চেম্বারের উপর নজরদারি করা হচ্ছে।

আসামি পক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ করছেন, কৌসুলিদের পক্ষে কর্মরত ব্যক্তিদের হুমকি ও ভীতি প্রদর্শনের জন্য তারা অনেক সময়ই সাক্ষীদের আদালতে আনতে পারছেন না।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ওই প্রতিবেদনে অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ত্রুটিগুলো সংশোধনের দাবিও জানিয়েছে। সংস্থাটি উভয় পক্ষের প্রতি সমান আচরণ করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বানও জানায়।

Friday, October 12, 2012

নিরাপত্তা পেলে সামনে আসবেন গাড়িচালক আজম

পালিয়ে বেড়ানো জীবনের অবসান ঘটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চান গাড়িচালক আজম খান। তিনি সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) ওমর ফারুক তালুকদারের গাড়িচালক ছিলেন। আজম চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার নওগাঁও গ্রামের বাসিন্দা।
আজ রোববার দুপুরে ‘প্রথম আলো’র মতলব দক্ষিণ (চাঁদপুর) প্রতিনিধিকে মুঠোফোনে এসব কথা বলেন আজমের বোন সৌদি প্রবাসী সালমা বেগম।
সালমা বেগমের দাবি, তাঁর ভাই আজম গতকাল শনিবার দুপুরে তাঁকে ফোন করেছিলেন। আলাপচারিতায় আজম তাঁকে বলেছেন, রেলের অবৈধ টাকা ধরিয়ে দিয়ে তিনি সঠিক কাজটিই করেছেন। দেশের সবাইকে সত্যটা জানিয়েছেন। তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন, অথচ দোষী ব্যক্তিরা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছেন।
সালমা বেগমের দাবি, আজম তাঁকে বলেছেন, আত্মগোপনে থাকতে থাকতে এখন তিনি (আজম) ক্লান্ত ও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। টিভিতে তাঁর সাক্ষাত্কার প্রচারিত হওয়ার পর তিনি জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত বলে বোনকে জানিয়েছেন। যেকোনো সময় তাঁকে গুম বা হত্যা করা হতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও বোনকে জানিয়েছেন তিনি। সরকার আজমের জীবনের নিরাপত্তা দিলে প্রয়োজনে যেকোনো তদন্ত বা মামলার মুখোমুখি হতে রাজি আছেন তিনি।
সালমা বেগম বলেন, আজম লুকিয়ে থাকায় একমাত্র মেয়েকে নিয়ে তাঁর স্ত্রী স্বপ্না বেগম খুবই অর্থকষ্টে আছেন। অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে গেছে আজমের মেয়ে রিয়ার লেখাপড়া। মতলব থানা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) না নেওয়ায় আজমের পরিবার হতাশ ও উদ্বিগ্ন বলেও সালমা জানান।
রেলের অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনার পর থেকে পলাতক আছেন চালক আজম খান। সম্প্রতি তিনি অজ্ঞাত স্থান থেকে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভিকে সাক্ষাত্কার দেন। তাঁর দেওয়া বক্তব্যের ব্যাপারে নিজের অবস্থান জানিয়ে সংবাদ ব্রিফিং করেন সাবেক রেলমন্ত্রী ও বর্তমানে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

১/১১ খেলোয়াড়রাই আবার খেলছে : শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এক এগারোর সরকারের মতো অনির্বাচিতদের ক্ষমতায় আনার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। আবারও ওয়ান ইলেভেন সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, কিছু মানুষ আছে, যাদের ক্ষমতায় যাওয়ার খায়েশ থাকলেও নির্বাচন করার সাহস নেই। জনগণের সামনে দাঁড়াতে পারেন না। জনগণের ওপর তাদের ভরসা নেই, ভরসা অসাংবিধানিক পথে। অসাংবিধানিক ধারায় ক্ষমতায় যেতে চান। তাদের খায়েশের কারণেই দেশ বারবার বিপদে পড়ে। তারা এখন আবার খেলা শুরু করেছেন।
গতকাল গণভবনে আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির বৈঠকে প্রারম্ভিক বক্তব্যে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতার খায়েশধারীদের কারণে বারবার দেশে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা বারবার অসাংবিধানিক ব্যবস্থাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্নম্ন আইনজীবী বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে এ প্লাস সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন। কীভাবে ওই তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে আরও রাখা যায়, সে ফতোয়া দিয়েছিলেন। তারাই এখন স্বোচ্চার হয়েছেন। তাদের খায়েশ মেটাতে গিয়ে দেশটাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অবশ্য ফতোয়াবাজরা তো অসাংবিধানিক সরকার চাবেনই। কারণ তারা সাংবিধানিক সরকারের সময়ে মূল্য পান না। অসাংবিধানিক সরকার এলে তাদের মূল্য বাড়ে। সে কারণে তারা অসাংবিধানিক সরকার চান।
সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ষড়যন্ত্র চললেও তা নস্যাত্ করে সংবিধান অনুযায়ীই দেশ চলবে। কারণ এক-এগারোর কথা জনগণ ভুলে যায়নি।
শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে জাতীয় সংসদের উপনির্বাচন থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার পর্যায়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি নির্বাচনের সবই সুষ্ঠু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করেছে। মানুষ পছন্দমতো তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। শুধু আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনেই সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে। এরই মধ্যে তা প্রমাণিত হয়েছে।
সুশীল সমাজের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এক শ্রেণীর মানুষ সরকারের কাছ থেকে সুবিধা ভোগ করতে না পেরে মধ্যরাতের টকশো থেকে শুরু করে বিভিন্ন ভাবে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আমরা মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। দেশের অনেক উন্নতি হয়েছে। সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া গ্রামের মানুষ পাচ্ছেন। পাচ্ছেন না শুধু কিছু লোক। তারা (টেলিভিশনের টকশো) মধ্যরাতে জেগে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন। এই রাত জেগে জেগে নাই নাই, এটা হলো না, ওটা হলো না। কিন্তু কোন অবস্থায় ছিল বাংলাদেশ? বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা থেকে কোথায় নিয়ে এসেছি। সেটা তো চোখে দেখেন না তারা। এই যে ঈদ গেল প্রত্যেকটি মানুষকে ১০ কেজি খাবার সাহায্য দিয়েছি। তারা কি একটুও চিন্তা করেন? অবশ্য তারা দেখবেন কীভাবে? চোখে তো তারা ঠুলি পরা।
আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আসা ঠেকাতে বিভিন্নমুখী ষড়যন্ত্রের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রতিবছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে তাদের প্রতিবেদন দিলেও ২০০১ সালে হঠাত্ বলা নেই কওয়া নেই তারা দুর্নীতির রিপোর্ট প্রকাশ করল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ছাড়ার ঠিক আগে তড়িঘড়ি করে এই রিপোর্ট দেয়া হলো, যা ছিল সম্পূর্ণ বানোয়াট। এতেই বোঝা গেছে যে তাদের উদ্দেশ্য আছে। আর না হলে এভাবে নির্বাচনের আগে রিপোর্ট দেবে কেন।
তিনি বলেন, ওই সময় তেল-গ্যাস বিক্রি করতে রাজি হইনি বলেই আওয়ামী লীগ তখন ক্ষমতায় বসতে পারেনি। আমাদের দেশের সম্পদ বেচবে এক দেশ আর কিনবে আরেক দেশ। আমি রাজি হইনি। যার কারণে আমরা ভোট পেয়েও ক্ষমতায় যেতে পারলাম না।
প্রতিটি সাংগঠনিক জেলা থেকে একজন, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য এবং দলীয় প্রধান মনোনীত ২১ জনকে নিয়ে জাতীয় কমিটি গঠিত হয়। দলীয় প্রধানের মনোনীত কোটায় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমদ ও আবদুল জলিলকে সম্প্রতি জাতীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের সর্বশেষ জাতীয় সম্মেলনের পর গতকালই জাতীয় কমিটির প্রথম বৈঠক হলো। তবে এখন থেকে এ কমিটির বৈঠক নিয়মিত হবে বলে জানান দলটির সভানেত্রী।
আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির বর্ধিত মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনুমোদন দিয়েছে দলের জাতীয় কমিটি। এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে কমিটির মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়। গত ২৩ জুলাই আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির তিন বছর মেয়াদ শেষ হয়।
এখন থেকে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি ছয় মাস অন্তর জাতীয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে জানান। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, বৈঠকে জাতীয় কমিটির তৃণমূল পর্যায়ের সদস্যরা তৃণমূল সংগঠনের সমন্বয়হীনতা ও সাংগঠনিক দুর্বলতার কথা তুলে ধরেন। তারা স্থানীয় সংসদ সদস্যদের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, এমপিরা স্থানীয় নেতাকর্মীদের গুরুত্ব না দিয়ে নিজস্ব বলয় সৃষ্টি করছেন। এমপির ‘লোকজন’ সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির মাধ্যমে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন বলেও কেউ কেউ অভিযোগ করেন। তারা বলেন, এমপি ও স্থানীয় সংগঠনের মধ্যে যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে, তা এখনই না মেটানো হলে আগামী নির্বাচনে মূল্য দিতে হবে। বেশ কয়েকজন সদস্য তাদের নিজ নিজ এলাকার বর্তমান সংসদ সদস্যকে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়া হলে নিশ্চিত পরাজয় বলেও মন্তব্য করেন।
বৈঠকে বেশ কয়েকজন সদস্য গণমাধ্যমের সমালোচনা করে বলেন, টিভি দেখলে আর পত্রিকা পড়লে শুধু সরকারের বিরুদ্ধেই খবর দেখি। বর্তমান সরকারের কাছ থেকে পাওয়া টিভি চ্যানেলগুলোও সরকারের সমালোচনা করছে। সরকারের কোনো ভালো কাজের খবর আমরা গণমাধ্যমে দেখি না।
বৈঠকে চট্টগ্রাম অঞ্চলের এক সদস্য রামু প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেন। তিনি এ ঘটনাকে সুপরিকল্পিত উল্লেখ করে বলেন, একটি মহল আওয়ামী লীগকে জড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি বৌদ্ধদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কক্সবাজারের রামু ও হিমছড়িতে দুটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের প্রস্তাব করেন। অন্যান্য সাংগঠনিক জেলা থেকে আসা সদস্যরা তাদের নিজ নিজ জেলার রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি করেছেন।
সূত্র আরও জানায়, বৈঠকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রমের ওপর জোর দেয়া হয়। যেসব জেলা ও উপজেলায় এখনো সম্মেলন হয়নি সেখানে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্মেলন সম্পন্ন করার তাগিদ দেয়া হয়।
প্রায় পাঁচ বছর পর গতকাল আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গঠনতন্ত্রের ১৭(ঝ) অনুযায়ী প্রতি ছয় মাস অন্তর জাতীয় কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

বিএনপির তদন্ত কমিটির রিপোর্ট প্রকাশ : জঙ্গি প্রমাণ করতেই রামুর ঘটনা

কক্সবাজারের রামু, উখিয়া, টেকনাফ এবং চট্টগ্রামের পটিয়ায় বৌদ্ধবিহার ও বসতিতে হামলার ঘটনা সরকারের মদতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপির তদন্ত দল। সহিংসতার সুষ্ঠু তদন্ত করতে একজন সাবেক সিনিয়র প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি বিচারবিভাগীয় কমিশন গঠনের দাবিও করেছে দলটি। সরেজমিন তদন্তে প্রাপ্ত সব তথ্য পর্যালোচনায় সরকারের ইন্ধনেই সাম্প্রদায়িক এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানায় বিএনপির তদন্ত দল। গতকাল সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ৬৭ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন কমিটির আহ্বায়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার কাছে এ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়।
বিএনপির অভিযোগ, আগামীতে সুষ্ঠু নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সরকারের মদতে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা করা হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মওদুদ আহমদ বলেন, ২৯ সেপ্টেম্বর রাত ৯টা থেকে সাড়ে নয়টার মধ্যে শ’খানেক লোক মিছিল করে। এরপর ভোররাত ৫টা পর্যন্ত অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর লুটপাট হয়। পরদিন পটিয়ায়ও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। প্রায় ২৪ ঘণ্টা সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ছিল না। সরকারের উপস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, রামুর কেন্দ্রীয় সীমাবিহার থেকে থানার দূরত্ব ছিল মাত্র আধা কিলোমিটার। জেলা পুলিশ সদরের দূরত্ব ১৮ কিলোমিটার আর সেনা ক্যাম্পের দূরত্ব ছিল ৪ কিলোমিটার। তারা কেউই পরিস্থিতি শান্ত বা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ভূমিকা নেয়নি। নিলে এই বর্বর নারকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। তাদের এই ব্যর্থতার কারণেই এ ঘটনা আজ জাতীয় ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, আশ্চর্যের বিষয় হলো, যে উত্তম কুমার বড়ুয়ার জন্য ঘটনার সূত্রপাত, তার বাড়ির সামনে দিয়ে মিছিল হয়, আশপাশের বৌদ্ধবিহারে হামলা হয়, কিন্তু উত্তমের বাড়িতে একটি ইটও পড়েনি। তদন্ত দলের মনে এটি গভীর সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। তদন্ত দলটি ৫ ও ৬ অক্টোবর রামু, উখিয়া, টেকনাফ ও পটিয়ায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সেখানে তারা শ’ শ’ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে অন্তত ৬০ জনের বক্তব্য রেকর্ড করেন, বক্তব্যের ভিডিও দৃশ্য ধারণ করেন। তিনি বলেন, দলীয়ভাবে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হয়েছে। কারণ বিএনপি একটি অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব সালাউদ্দিন আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার, নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিস্ট অ্যান্ড পালি বিভাগের অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া এবং বিএনপি নেতা কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, আবদুল লতিফ জনি, আবদুস সালাম আজাদ, রফিক শিকদার প্রমুখ।
সহিংসতা পূর্বপরিকল্পিত : ক্ষতিগ্রস্ত ও আক্রান্ত লোকজনের সাক্ষ্য এবং হামলার ঘটনায় গান পাউডারের ব্যবহার ও সিমেন্টের তৈরি চৌকোণা ব্লক দেখে ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল বলে তদন্ত দল নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়া তদন্ত দলটি অভিযোগ করে, রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহেল সরওয়ার ওরফে কাজল ওই দিন বিএনপির সংসদ সদস্যদের সঙ্গে মিলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তার ভাই স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা সাইমুন সরওয়ার ওরফে কমল এ ঘটনায় মদত দিয়েছেন। ‘রামুর ঘটনায় স্থানীয় এমপি কাজল জড়িত’ প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সমালোচনা করে মওদুদ বলেন, তার মতো দায়িত্বশীল পদে থেকে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই এ ধরনের কথা বলা ঠিক হয়নি। তাহলে তদন্ত করার দরকার কি? দোষী কে সেটা তো তিনি বলেই দিয়েছেন! এমপিই যদি এত ক্ষমতাবান হন, তাহলে সরকারের থাকার দরকার কি?
সুপারিশ : তদন্ত প্রতিবেদনে কয়েকটি সুপারিশও করা হয়েছে। স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় যাদের নাম এসেছে, তাদের গ্রেফতার করে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যারা যথাসময়ে দায়িত্ব পালন করেনি, তাদের যথাযথ শাস্তি দিতে হবে। এই ঘটনাকে পুঁজি করে সরকার বিরোধী দলের উপরে যে মিথ্যা অভিযোগ ও হয়রানি করেছে তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং সরকারের তদন্তের আগেই বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য লুত্ফর রহমান কাজলকে দায়ী করে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তা প্রত্যাহার করতে হবে। ওইসব জনপদে বসবাসকারী সব জনগোষ্ঠীর দ্রুত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনার জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। ধ্বংস হওয়া বিহার, প্যাগোডা, মন্দির ও বসত বাড়ি নির্মাণে যত কোটি টাকা লাগুক পুনর্নির্মাণ করে দিতে হবে। স্বর্ণের মূর্তি যেগুলো চুরি হয়েছে সেগুলো উদ্ধার করে তাদের ফেরত দিতে হবে। পুড়ে যাওয়া ত্রিপিটক সংগ্রহ করে দিতে হবে। ১৫টি বিহার, মন্দির ও প্যাগোডা বানিয়ে দিতে হবে। আশপাশের পুড়ে যাওয়া ১৮টি বাড়িসহ ক্ষতিগ্রস্ত সব বাড়ি পুনর্নির্মাণের সহায়তা দিতে হবে।
মওদুদ বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার যে অংশ এই ঘটনায় মদত দিয়েছে, তাদের গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। কারণ প্রকৃত ঘটনা তারও জানত।
বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি : ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, প্রকৃত ঘটনা জানার জন্য একজন অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে অতিদ্রুত একটি তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে। এ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করে প্রকৃত দায়ীদের শাস্তির বিধান করতে হবে। আগামীতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ১৪ জন সাবেক প্রধান বিচারপতি বেঁঁচে আছেন। তাদের মধ্য থেকে সিনিয়র একজনকে এ দায়িত্ব দিতে হবে। যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জনগণ গ্রহণ করবে না। ওই কমিটির তদন্ত রিপোর্ট হবে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে নির্দোষ ঘোষণার মতো।
নানা প্রশ্ন : সংবাদ সম্মেলনে মওদুদ আহমদ বলেন, এ ঘটনায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বিদেশে থাকলেও ৫ মিনিটের মধ্যে এ খবর জেনে যাওয়ার কথা। তিনি যদি না জানেন তাহলে মনে করতে হবে ওই সময় দেশে কোনো সরকার ছিল না। আর জানলে তিনি তাত্ক্ষণিকভাবে কেন ব্যবস্থা নেননি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত থাকাকালে পাশের থানায় কীভাবে হামলা হলো? তখন পুলিশ কি করেছে? তাহলে কি পুলিশের মধ্যকার চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে? শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া এ ঘটনা সঙ্গে সঙ্গে জানলেও তিনি কেন কোনো ব্যবস্থা নেননি? সব স্থানে একই ধরনের হামলা হয়েছে। এটা কীভাবে সম্ভব? যে গান পাউডার দিয়ে আগুন জ্বালানো হয়েছে তা কোথা থেকে, কারা এনেছে? ঘটনার মূলসূত্র উত্তম বড়ুয়ার বাড়ির সামনে দিয়ে মিছিল গেলেও তার বাড়িতে হামলা হলো না কেন?

Thursday, October 11, 2012

ডেসটিনি চেয়ারম্যান জে. হারুনসহ তিন কর্মকর্তা জেলহাজতে : আদালত প্রাঙ্গণে ডেসটিনি কর্মীদের পুলিশের লাঠিচার্জ


সাবেক সেনাপ্রধান ও ডেসটিনি গ্রুপের চেয়ারম্যান লে. জেনারেল (অব.) হারুন-অর-রশীদসহ ডেসটিনির তিন শীর্ষ কর্মকর্তা আদালতে আত্মসমর্পণ করার পর তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মানি লন্ডারিং আইনসহ অর্থ আত্মসাত্ ও প্রতারণার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের দায়ের করা মামলায় গতকাল তাদের জামিন নামঞ্জুর করা হয়েছে। আসামিদের আদালত থেকে জেলহাজতে নেয়ার সময় কয়েকজন ব্যক্তি রাস্তায় শুয়ে ও মায়াকান্না জুড়ে প্রতিবাদ জানানোর চেষ্টা করে। পুলিশ তাদের বেধড়ক পিটুনি দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এদিকে ডেসটিনি গ্রুপের চেয়ারম্যান সাবেক সেনাপ্রধান ও সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের পদত্যাগকারী সাধারণ সম্পাদক লে. জেনারেল (অব.) হারুনের জামিন আবেদন জানানো হয়েছে হাইকোর্টে। আদালত আগামী রোববার জামিন আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করেছে।
জানা গেছে, গত ৩১ জুলাই রাজধানীর কলাবাগান থানায় লে. জেনারেল (অব.) হারুন-অর-রশীদসহ ডেসটিনির ২২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা মামলায় জামিন বাতিল হওয়ার পর দুদক তাদের গ্রেফতারের জন্য বিশেষ অভিযানে নামে। গ্রেফতার এড়াতে গতকাল লে. জেনারেল (অব.) হারুন-অর-রশীদ, ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীন ও ডেসটিনি ২০০০-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। বৃহস্পতিবার ঢাকার সিনিয়র বিশেষ জজ মো. জহুরুল হক শুনানি শেষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ডেসটিনির তিন শীর্ষ কর্মকর্তা গতকাল সকাল ১০টার দিকে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত ওই আবেদনের ওপর শুনানি হয়। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী কাজী নজিবুল্লাহ হিরু এবং এহসানুল হক সমাজী তাদের জামিন আবেদনে বলেন, লে. জেনারেল হারুন সাবেক সেনাপ্রধান। ডেসটিনি ২০০০-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন ও ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীন সমাজের সম্মানিত ব্যক্তি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। ডেসটিনির মাল্টিপারপাস ও ট্রি প্লান্টেশন কোম্পানি সমবায় আইনের কোনো ধরনের লঙ্ঘন করেনি। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তারা আত্মসমর্পন করেছেন, তাদের জামিন দেয়া হোক। তাছাড়া গত ৬ আগস্ট আসামিরা নিম্ন আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। জামিন পাওয়ার পর জামিনের কোনো শর্ত তারা লঙ্ঘন করেননি।
সিনিয়র আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী বলেন, আদালত যদি তাদের জামিন নামঞ্জুর করেন তবে সবার কাছে প্রমাণ হবে তারা দোষী। কিন্তু উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত আছে, সব সাক্ষ্য-প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্তভাবে রায় হওয়ার আগে কাউকে দোষী বলা যাবে না।
কাজী নজিবুল্লাহ হিরু বলেন, ডেসটিনির ব্যাংক হিসাব জব্দ থাকায় ৫৬ লাখ পরিবার না খেয়ে আছে। ডেসটিনির কোনো গ্রাহক কি দুদককে বলেছে যে তারা প্রতারিত হয়েছে! তবে কেন এবং কার ইশারায় লাখ লাখ লোককে না খাইয়ে রাখা হয়েছে? নজিবুল্লাহ হিরু আরও বলেন, এসব ষড়যন্ত্র। অবশ্যই এসবের নেপথ্যে কেউ একজন খেলছে। তারা কিসের স্বার্থে, কাদের স্বার্থে ডেসটিনিকে হয়রানি করছে? সেটি খতিয়ে দেখতে আদালতের প্রতি আবেদন জানান তিনি।
আসামিপক্ষের আইনজীবীদের জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে দুদকের প্রধান আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, আমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিকে সরাসারি অভিযোগ করতে হয় না। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে আমলযোগ্য অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা। ডেসটিনির হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে। নিজেদের অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নিয়েছে। কোম্পানির সাড়ে ৩৩ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৫৩৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আছে মাত্র ১৩ কোটি টাকা।
মামলার তদন্তের স্বার্থে তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, অভিনব কায়দায় জনগণকে প্রতারিত করে ডেসটিনির এসব কর্মকর্তা হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট ও আত্মসাত্ করেছেন। বাদী-বিবাদী পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শোনার পর আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ডেসটিনির বিরুদ্ধে মুদ্রা পাচারের দুটি মামলায় ডেসটিনি গ্রুপের চেয়ারম্যান লে. জেনারেল হারুনসহ ২২ আসামির জামিন বাতিল করে আদালত। এরপর থেকে তারা পলাতক ছিল।
গত ৬ আগস্ট মহানগর হাকিমের আদালতে আত্মসমর্পণ করে ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীনসহ ৬ জন জামিন নিয়েছিলেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে গত ১৩ আগস্ট দুদকের পক্ষ থেকে ডেসটিনির শীর্ষ পাঁচ কর্মকর্তার জামিনের আদেশ পুনর্বিবেচনার জন্য (রিভিশন) ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে আবেদন করা হয়। গত ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকার বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক ড. আখতারুজ্জামান রিভিউ আবেদন গ্রহণ করেন এবং নিম্ন আদালতের আদেশ বাতিল করেন।
গত ১৩ আগস্ট আসামিপক্ষ ভারপ্রাপ্ত বিচারকের দেয়া আদেশের বিরুদ্ধে সিনিয়র বিশেষ জজ জহুরুল হকের কাছে আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন জানান। আদালত ওই আবেদন গ্রহণ করায় ভারপ্রাপ্ত বিচারকের আদেশ বাতিল হয়ে যায়। এরপর বিচারক শুনানির জন্য ২০ সেপ্টেম্বর ধার্য করেন। ওইদিন রাষ্ট্র অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানি করেন। ওই শুনানিতে তিনি বলেছিলেন, জনগণের অর্থ আত্মসাতকারী চোরদের আবার সামাজিক মর্যাদা কিসের? রাষ্ট্রের স্বার্থে জনগণের অর্থ আত্মসাতকারীদের উপযুক্ত বিচারে সহায়তা করতে আমি এই আদালতে এসেছি।
ডেসটিনির ২২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাত করে বিদেশে পাচারের অভিযোগে গত ৩১ জুলাই রাজধানীর কলাবাগান থানায় দুটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন। কমিশনের উপ-পরিচালক মো. মোজাহার আলী সরদার ও সহকারী পরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ আইনে ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেশন (এমএলএম) ও ট্রি প্লানটেশন প্রকল্পের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থ স্থানান্তরের প্রমাণ পেয়ে দুটি মামলা দায়ের করেন।
ডেসটিনি কর্মীদের মায়াকান্না থামাতে বেধড়ক পিটুনি : তিন শীর্ষ কর্মকর্তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় ডেসটিনির কয়েকশ’ কর্মী ব্যারিকেড দেয়ার চেষ্টা করে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবী অ্যাডভোকেট বেলাল হোসেন জসিম বলেন, প্রথম দিকে পুলিশ ডেসটিনির ওই গ্রাহকদের কিছু বলেনি, বাধা দেয়নি। আসামিদের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় ২০-৫০ কর্মী গাড়ির সামনে শুয়ে হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করে। তারা আসামিদের ছেড়ে দিতে পুলিশের প্রতি অনুরোধ করে। এ সময় তারা পুলিশের পা জড়িয়ে ধরে। এরকম নাটকীয় অবস্থায় পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ করে ডেসটিনির কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে আসামিদের জেলহাজতে নেয়া হয়।
এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অপর আইনজীবী বলেন, দেখে মনে হয়েছে তারা আগে থেকেই পরিকল্পনা করে এসেছিল। তারা যখন হাউমাউ করে কাঁদছিল, তখন অন্য আইনজীবী ও উপস্থিত কিছু লোকজন চোর চোর বলে চিত্কার করে বলেন, চোরের শাস্তি হওয়া উচিত।
হাইকোর্টে জামিন আবেদন : বিশেষ জজ আদালতে জামিন আবেদন বাতিল হওয়ার পর গতকালই লে. জেনারেল (অব.) হারুন-অর-রশীদের জামিনের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে। আগামী রোববার এ আবেদনের ওপর শুনানি হবে।
বৃহস্পতিবার বিকালে বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি ফরিদ আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু। বিকালে তিনি হারুন-অর-রশীদকে চিকিত্সার জন্য বিএসএমএমইউ হাসপাতালে পাঠানোর আবেদন করেন। তিনি আদালতে বলেন, লে. জে. (অব.) হারুন-অর-রশীদ সাবেক সেনাপ্রধান। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার। তিনি গুরুতর অসুস্থ। হার্টের সমস্যায় ভুগছেন। তাকে জামিন দেয়া বা না দেয়ার এখতিয়ার আদালতের আছে। তবে তাকে হাসপাতালে পাঠানোর আবেদন করছি। তাকে হাসপাতালে পাঠানোর আবেদনের বিরোধিতা করে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, তিনি (হারুন-অর-রশীদ) এখনও কারাগারে যাননি। কারাগারে গেলে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আইজি প্রিজনকে বলব। তিনি বলেন, ‘হারুন-অর-রশীদের অসুস্থতার সমর্থনে কোনো কাগজপত্র নেই। ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন আবেদনের শুনানিতে অসুস্থতা সম্পর্কে কোনো কিছু বলা হয়নি।’
এ সময় আদালত বলে, ডেসটিনির অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনা ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। গ্রুপের চেয়ারম্যান সাবেক সেনাপ্রধান ও একজন সেক্টর কমান্ডার। তিনি সম্মানিত ব্যক্তি। এর আগেও তো হাসপাতালে পাঠানোর ঘটনা আছে। তাছাড়া আবদুল মতিন খসরুর কথা কি বিশ্বাসযোগ্য নয়? তাছাড়া তার কিছু হলে আপনি বা আমরা দায়ী হবো।
জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী যা করার সব হবে। কারা কর্তৃপক্ষই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে। হারুন-অর-রশীদ ডেসটিনি থেকে মাসে ১০ লাখ টাকা বেতন নেন। তিনি সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি ডেসটিনি ছাড়তে পারবেন না। তাই বলে কি উনি চোরদের সঙ্গে থাকবেন?’
জবাবে মতিন খসরু বলেন, ‘ডেসটিনির সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি একজন কর্মচারী। চাকরিজীবী। পরিচালনা পরিষদই ডেসটিনি পরিচালনা করে থাকে। হারুন-অর-রশীদ ডেসটিনি গ্রুপের চেয়ারম্যান। এই চেয়ারম্যান পদ আলঙ্কারিক।
এরপর আদালত জামিন আবেদনের ওপর রোববার শুনানির দিন ধার্য করেন। তবে হারুন-অর-রশীদকে হাসপাতালে পাঠানোর বিষয়টি অ্যাটর্নি জেনারেলকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে আদালত বলেন, আপনি আদালতকে আশ্বস্ত করেছেন, ন্যূনতম অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে পাঠাবেন।

Wednesday, October 10, 2012

রামুর ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি চান খালেদা


 বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, কক্সবাজারের রামুর ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত টিম গঠন করে সত্যিকারের দোষিদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

বুধবার রাতে গুলশানে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে রামু উখিয়া হোয়াইক্যং ও পটিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধ ভিক্ষু ও সম্প্রদায়ের লোকজন সাক্ষাত করতে এলে তিনি তাদের ক্ষতির বিবরণ শুনে এ কথা বলেন।

খালেদা জিয়া বলেন, “সরকার যদি শাস্তির ব্যবস্থা না করে তবে আমরা করবো। অপরাধীদের একদিন না একদিন বের করে শাস্তি দেওয়া হবে।”

বিএনপি প্রধান বলেন, “আপনারা মনে অনেক কষ্ট নিয়ে আমাদের কাছে এসেছেন। ২৯ সেপ্টেম্বরের ঘটনায় আমরা সবাই অত্যান্ত দুঃখিত ও মর্মাহত। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে এই ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না।”

তিনি বলেন, “এই ঘটনা ঘটার পর আমি তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের দলের নেতা মওদুদ আহমদ এর নেতৃত্বে একটি কমিটি করে দিয়েছি। তারা সব তথ্য নিয়ে এসেছে। কালকে আমার কাছে রিপোর্ট জমা দেবে। পরবর্তীতে তারা সংবাদ সম্মেলন করবে।”

খালেদা জিয়া বলেন, “কারো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আঘাত করা নিঃসন্দেহে যে ধর্মেরই হোক তার নিন্দনীয়। এতে মানসিক আঘাত লাগবেই। আমরা সব ধর্মকে সম্মান করি। বৌদ্ধ পূর্ণিমায় ছুটি থাকে। তাদের সঙ্গে আমরা মতবিনিময় করি। হিন্দুসহ সব সম্প্রদায়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলি।”

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যাওয়ার দাবির জবাবে তিনি বলেন, “আমি অবশ্যই যাব। সবার সঙ্গে কথা বলবো। আর আজকে আপনারা যেসব দাবি দিয়েছেন তা পূরণ করার চেষ্টা করবো। আপনারা জানেন, আমরা বিরোধীদলে আছি। তারপরও বিরোধীদল হিসেবে আমরা দায়িত্ব পালন করি। বন্যা হলে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে ছুটে যাই। কক্সবাজারেও তাৎক্ষণিকভাবে লোক পাঠিয়েছি। আরো চেষ্টা করবো। যতটুকু সাহায্য করার তা করবো।”

তিনি বলেন, “কিন্তু প্রধান দায়িত্ব হলো সরকারের। তাদের দায়িত্ব হলো সব প্রতিষ্ঠান আবার নতুন করে গড়ে দেওয়া। যাতে আপনারা পুনরায় নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারেন।”

সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, “আমি দাবি জানাবো ওই এলাকায় যেন সার্বক্ষণিকভাবে নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা হয়। ভবিষ্যতে আর কেউ যেন এরকম অঘটন ঘটাতে সাহস না করে। আর যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের দলমত নির্বিশেষে ধরে শাস্তি দিতে হবে।”

পুলিশ কেন ঠিক মতো দায়িত্ব পালন করলো না এই প্রশ্ন তুলে খালেদা জিয়া বলেন, “যারা দায়িত্ব ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করেনি, তাদেরও শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।”

তিনি বলেন, “বিএনপি সব সময় আপনাদের পাশে আছে ও থাকবে।
আমি চীন থেকে এসেই ওখানে যাব।”

তিনি অভিযোগ করেন, “এ সরকার তদন্ত না করেই কোনো ঘটনা ঘটলে কথায় কথায় বিরোধীদলেরওপর দোষ চাপায়। অপরাধ কারা করেছে তা না জেনে কারো নাম এভাবে বলা উচিত না।”

তিনি বলেন, “উচ্চ পর্যায়ের একটি নিরপেক্ষ টিম গঠন করে যারা দোষী তাদের শাস্তি দিলে কিছুটা হলেও যারা ক্ষতিগ্রস্ত তারা মনে শান্ত্বনা পাবে।”

অনুষ্ঠানে রামুর রামকোট বৌদ্ধ তীর্থের অধ্যক্ষ প্রজ্ঞাবংশ মহাথেরো, খরুলিয়ার বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত জ্যোতি বোধি ভিক্ষু, রামুর বৌদ্ধ বিহারের বিশুদ্ধাবংশ ভিক্ষু, উখিয়ার বৌদ্ধ বিহারের কোলিয় বংশ ভিক্ষু, উখিয়ার ভালুকিয়া বৌদ্ধ বিহারের সভাপতি দীপক বড়ুয়া, উত্তর বড়বিল বৌদ্ধ বিহারের সভাপতি বাবু সেন বড়ুয়া, মরিয়া দীপংকর বৌদ্ধ বিহারের সভাপতি বাবু লাল বড়ুয়া, রেজুরকুল বৌদ্ধ বিহারের সভাপতি প্রেমানন্দ বড়ুয়া, খরুলিয়া ধর্মজ্যেতি বৌদ্ধ বিহারের সাধারণ সম্পাদক চন্দন বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের রামুর ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসী প্রিয়দর্শী বড়ুয়া, প্রদীপ বড়ুয়া, বিকিরণ বড়ুয়া, মিঠুন বড়ুয়া, কক্সবাজার সদরের কিশোর বড়ুয়া, কানন বড়ুয়া, পরিমল বড়ুয়া, বাবু বড়ুয়া, সুরঞ্জন বড়ুয়া, সুধাংশু বড়ুয়া, খরুলিয়ার আকিঞ্চন বড়ুয়া, লোকনাথ বড়ুয়া, অনঙা বড়ুয়া, কানুনগো বড়ুয়া, টিসেন বড়ুয়া,সুনীল বড়ুয়া, পটিয়ার সুজন বড়ুয়া, বিকাশ বড়ুয়া, প্রদীপ বড়ুয়া, ধনু বড়ুয়া, অমলেন্দু বড়ুয়া, মিন্টু সরদার, রূপক শীল ও বিপ্লব চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, বিশ্ব বৌদ্ধ ফেডারেশনের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া এবং হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য ফ্রন্টের আহ্বায়ক গৌতম চক্রবর্তী, বিএনপির সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক নিতাই রায় চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে রামুর রামকোট বৌদ্ধ তীর্থের অধ্যক্ষ প্রজ্ঞাবন্দা মহাথেরো
বলেন, “এ ঘটনায় বৌদ্ধদের মাঝে অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। আরাকানে নানা ঘটনা ঘটছে। সেজন্য বৌদ্ধরা আতঙ্কিত।”

তিনি বলেন, “একটা ভিত্তিহীন ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাজার বছরের সম্প্রীতি নষ্ট করা হয়েছে। এর একটা স্থায়ী সমাধান হওয়া দরকার।”

খালেদা জিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনি সেখানে যাবেন। তাহলে ক্ষতিগ্রস্তরা সাহস পাবে।”

পটিয়ার কোলাগাঁও সার্বজনীন রত্নপুর বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ দীপানন্দ ভিক্ষু বলেন, “আমরা যার পূজা করি তার মূর্তি কিভাবে ভাঙা হয়েছে আপনি দেখে আসবেন। আমার বিহারে অনেক সম্পদ ছিল তা লুট করে নিয়ে গেছে। যে বা যারা করেছে আমি তাদের শাস্তি কামনা করি। আপনি যদি পটিয়ায় গিয়ে দেখে আসেন তাহলে ভাল হবে। শুধু কোলাগাঁও গ্রাম নয়, গোটা বৌদ্ধ সম্প্রদায় এখন আতঙ্কিত।

একজন ইউপি চেয়ারম্যান দীপক বড়ুয়া বলেন, “আমরা নির্বাক, আমরা হতবাক। বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর ৪০ বছরে এরকম নির্মম নির্যাতন আর হয়নি। স্বাধীনতা সংগ্রামেও হয়নি।”

খালেদা জিয়াকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “ঘটনার পরপরই কমিটি করে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন, এজন্য আমরা আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে এসেছি। ২৯ সেপ্টেম্বর যে ঘটনা ঘটেছে আমরা আশা করবো তার সত্য প্র্রকাশ পাবে।”

তিনি বলেন, “সেদিন প্রথম শোডাউন করেছে রাত ৯টা থেকে। রাত সাড়ে এগারোটা থেকে দুই ঘণ্টা মিছিল সভা হয়েছে। কিন্তু প্রশাসন জানে না।”

দীপক বড়ুয়া বলেন, “যদি প্রশাসন যথাযথভাবে উদ্যোগ ও ব্যবস্থা নিত তাহলে কোনো কিছু ঘটতো না। যারা সর্ব প্রথম মিছিল করেছে তাদের নাম দেওয়া হয়েছে। তাদের ধরে থানায় নিয়ে যাওয়া হলেও ছেড়ে দেওয়া হয়। এতে আমরা অত্যন্ত ব্যাথিত।”

তিনি বলেন, “চেয়ারপারসন, আমরা আপনাকে আমন্ত্রণ জানাতে এসেছি। আমরা অত্যন্ত আতঙ্কগ্রস্ত। যে কোনো মুহূর্তে আবার ঘটনা ঘটতে পারে।”

দীপক বড়ুয়া বলেন, “যেখান থেকে আমি চেয়ারম্যান হয়েছি, সেখানে কাস্টিং ভোটের ৯০ ভাগ মুসলিম ভোট।হাজার বছরের বৌদ্ধ বিহার যা পুড়ে গেছে তা শুধু বৌদ্ধদের সম্পদ নয়। এটা বাংলাদেশের সম্পদ। এই সম্পদ যে নষ্ট হয়ে গেল তা অত্যন্ত দুঃখজনক।

তিনি বলেন, “২৯ সেপ্টেম্বর রাতে রামুর ঘটনা  ঘটলো। ৩০ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেখানে থাকাকালে পাশে উখিয়ায় আক্রমণ হলো। সাতটি বৌদ্ধ মন্দির ভেঙে ও পুড়িয়ে দেওয়া হলো। এটা কিভাবে সম্ভব হলো?”

দীপক বড়ুয়া বলেন, “চেয়ারপারসন, আপনি যদি সরেজমিনে গিয়ে দেখে আসেন তাহলে যারা ভয়ভীতিতে আছে তারা একটু সাহস পাবেন।”

পটিয়ার লাখেরা কোলাগাঁও ইউনিয়নের মানুষের পক্ষ থেকে তিনি চেয়ারপারসনের প্রতি চারটি দাবি তুলে ধরেন। এগুলো হলো-

এক. একদিনের কর্মসূচি নিয়ে একটু কষ্ট করে দেখে আসবেন। নর-নারীদের শান্ত্বনা দিয়ে আসবেন।

দুই. আপনার পক্ষ থেকে একটি ত্রাণ কমিটি গঠন করে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।

তিন. ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির ও পরিবারের লোকদের হামলা মামলা থেকে রক্ষা করার জন্য সহযোগিতা করবেন।

চার. বর্তমানে এবং আগামীতে অসহায় এ জনগোষ্ঠীর দুর্বিষহ চিত্র তুলে ধরতে একজন প্রতিনিধি থাকলে ভাল হয়। এবং দেশি বিদেশি মহলে এই বিষয়টি তুলে ধরার জন্য আপনার কাছে অনুরোধ করছি। 

উল্লেখ্য, ফেসবুকের প্রোফাইলে কোরআন এর অবমাননাকর ছবি থাকার অভিযোগ তুলে গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ মন্দির ও ঘরবাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর চালায় ধর্মীয় উগ্রপন্থিরা।
রাতভর হামলায় সাতটি বৌদ্ধ মন্দির, অন্তত ৩০টি বাড়ি ও দোকান পুড়িয়ে দেওয়া হয়। হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয় আরো শতাধিক বাড়ি ও দোকানে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ওই ঘটনা তদন্তে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেন। কমিটি গত শুক্র ও শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত করেছে।

হলমার্ক কেলেঙ্কারি

মামলা না করলে সোনালী ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা: দুদক



সোনালী ব্যাংক যদি হলমার্কের টাকা উদ্ধারের জন্য মামলা না করে তাহলে সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেই সহায়তাকারী হিসেবে মামলা করবে  দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় দুদকের মাসিক ব্রিফিংয়ে দুদক সচিব মো. ফয়জুর রহমান চৌধুরী সাংবাদিকদের একথা বলেন।

তিনি বলেন, হলমার্কের টাকা উদ্ধারের দায়িত্ব দুদকের নয়। দুদক হলমার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় যারা অভিযুক্ত তাদের বিরুদ্ধে শুধু আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছে।

অপরদিকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সাবেক এপিএস ওমর ফারুক তালুকদারের গাড়ি চালক আজম খানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কি-না  সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আজমের বক্তব্য নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সোনালী ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের সাবেক ও বর্তমান ১০ পরিচালককে শিগগিরই সম্পদ বিবরণীর জন্য নোটিশ পাঠানো হবে বলে তিনি জানান।

পদ্মা সেতু দুর্নীতি 

বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক প্যানেল আসছে ১৪ অক্টোবর


পদ্মা সেতুর প্রকল্পে দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে বিশ্বব্যাংকের তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেল আগামী ১৪ অক্টোবর (রোববার) ঢাকায় আসছেন। তারা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করবেন।

বুধবার বিকেলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় থেকে পাঠানো বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমানও তাদের আগমনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, বেশ কয়েকটি ধারাবাহিক পরিদর্শনের মধ্যে এই সফর প্রাথমিক পর্যায়ের।

তিন সদস্যের এই প্যানেলে আছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সাবেক প্রধান কৌঁসুলি লুই গ্যাব্রিয়েল মোরেনো ওকাম্পো, হংকংয়ের দুর্নীতিবিরোধী স্বাধীন কমিশনের সাবেক কমিশনার টিমোথি টং ও যুক্তরাজ্যের সিরিয়াস ফ্রড অফিসের সাবেক পরিচালক রিচার্ড এল্ডারম্যান। এ প্যানেলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মোরেনো ওকাম্পো।

পদ্মা সেতুর দুর্নীতি তদন্তে গত ৫ অক্টোবর আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তিন সদস্যের প্যানেল গঠনের ঘোষণা দেয় বিশ্বব্যাংক।

বিবৃতিতে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, মোরেনো ওকাম্পো নেতৃত্বাধীন প্যানেল পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি পর্যবেক্ষণে দুদকের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করবে। তারা একটি প্রতিবেদন বিশ্বব্যাংক সদর দপ্তরে দাখিল করার পাশাপাশি সরকারকে তাদের পাওয়া পর্যবেক্ষণ অবহিত করবে। একই সঙ্গে অন্য অর্থায়নকারী দাতাদের বিষয়টি অবহিত করা হবে।

এদিকে, দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বাংলানিউজকে বলেন, “বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তাদের একাধিকবার আমার কথা হয়েছে। তারা ১৪ অক্টোবর আসছেন। ১৪ বা ১৫ অক্টোবরের যে কোনো দিন আমরা একসঙ্গে বসব।”

প্রসঙ্গত, বিশ্বব্যাংক ছাড়াও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাপানি সংস্থা জাইকা ও ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) এই প্রকল্পের অংশীদার।

তথ্য মতে, এই প্যানেলের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করছে পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করবে কিনা।

দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গত জুন মাসে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের বহু প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতু প্রকল্পে ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি বাতিল করেছিল।

তবে সরকারের বহুমুখী তৎপরতায় বিশ্বব্যাংক গত মাসে পদ্মা প্রকল্পে ফেরার ঘোষণা দেয়। জানা গেছে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাংক ঋণসহায়তার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এ ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত আরোপ করে। এগুলোর অন্যতম হচ্ছে একটি বিশেষজ্ঞ দলের মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে পরিচালিত তদন্তের গ্রহণযোগ্যতা পর্যালোচনা করে দেখা।

আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেল ঘোষণার পর বহুজাতিক সংস্থাটি বলেছিলো, “এই প্যানেলের পর্যবেক্ষণ বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটি বড় সুযোগ, যা তদন্তের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার বাড়বে।”

চুক্তি বাতিলের পর অবশ্য শর্ত পূরণে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন পদত্যাগ করেন। ছুটিতে পাঠানো হয় প্রকল্পের ইন্টিগ্রিটি অ্যাডভাইজার ও প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মসিউর রহমান ও সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশারররফ হোসেন ভূঁইয়াকে।

পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত পর্যবেক্ষণ করতে দিতেও রাজি হয় সরকার, যার ফলে প্রকল্পে সম্পৃক্ত হবার ঘোষণা দেয় বিশ্বব্যাংক।

প্রসঙ্গত, পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ পেতে কানাডাভিত্তিক প্রকৌশল কোম্পানি এসএনসি-লাভালিন গ্রুপ কয়েকজনকে ঘুষ দিয়েছে মর্মে অভিযোগ তোলার পরই বিশ্বব্যাংক তার ঋণ প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসে।

Tuesday, October 9, 2012

হত্যাকারীদের বাঁচাতে চার চোরের কথা বলছে সরকার : ড. মোশাররফ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন,‘রামুসহ কয়েকটি এলাকায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বিদের ওপর হামলার ঘটনায় সরকার নিজে জড়িত থেকে এখন উদোর পিন্ডি বুধোর ঘারে চাপানোর চেষ্টা করছে। সরকারের সবক্ষেত্রে ব্যর্থতা ও পাহাড় সমান দুর্নীতি কারণে চারদিকে যখন মানুষ ক্ষোভে ফুসে উঠছে তখনই জনগনের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার অপচেষ্টায়বৌদ্ধদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রীর মত গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে শেখ হাসিনা তদন্তের আগেই স্থানীয় বিএনপি এমপির ঘারে এর দোষ চাপালেন। তা হলে আর তদন্তের কী দরকার?’ তিনি বলেন, সাংবাদিক দম্পতি সাগর রুনি হত্যার ঘটনায় চারজন চোরকে জড়িত বলে জানাচ্ছে সরকার। এটা ওই ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার অপচেষ্টা বলেই সবাই মনে করছে।

জাতীয়তাবাদী যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আজ মঙ্গলবার নয়া পল্টনে যুবদল আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকারের সর্বব্যাপী ব্যর্থতার কারণে দেশের সবক্ষেত্রে ধস নেমেছে। দ্রব্যমূল্য আকাশ ছুয়েছে, আইনশৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। সরকারের পাহাড় সমান দুর্নীতির কথা এখন সবখানে সমালোচিত হচ্ছে। এ অবস্থায় জনগনের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই সরকার অসাম্প্রাদায়িক বাংলাদেশে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বিদের ওপর হামলার ঘৃন্য ঘটনা ঘটিয়েছে। এসব হামলার সাথে আওয়ামী লীগের লোকেরা জড়িত। অথচ সরকার এখন উদোর পিন্ডি বুধোর ঘারে চাপাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর মত গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে শেখ হাসিনা তদন্তাধীন ওই ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির এমপি লুতফুর রহমান কাজলকে দায়ী করে বক্তব্য দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্যের পর তা হলে আর তদন্তের কী প্রয়োজন থাকতে পারে?’

বিএনপি নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ এখন শেষ সময়ে পড়ন্ত বেলায় মিথ্যা মামলা দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করছে।

শেয়ারবাজার, হলমার্ক, পদ্মাসেতু দুর্নীতি, রামুর ঘটনা সব কিছুই সরকার ধামাচাপা দিতে চাচ্ছে। হলমার্কের এমডি পুলিশকে বলেছে তারা কাকে হাজার কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছে।

তিনি বলেন, সাংবাদিক দম্পতি সাগর রুনি হত্যার ঘটনায় চারজন চোরকে জড়িত বলে জানাচ্ছে সরকার। এটা ওই ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার অপচেষ্টা বলেই সবাই মনে করছে।

ড. মোশাররফ আরো বলেন, এই ব্যর্থ সরকার বিদ্যুত, দ্রব্যমূল্য, আইনশৃংখলা পরিস্থিতিসহ কোন সমস্যারই সমাধান করতে পারবে না।

এখন বেগম খালেদা জিয়ার আহ্বানে চুড়ান্ত আন্দোলনে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে রাজপথে ঝাপিয়ে পড়তে হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, নেত্রকোনায় প্রশাসনের কাছ থেকে পূর্বানুমতি নেয়া সত্ত্বেও বিএনপির সমাবেশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। এসপির পরামর্শে এর বাইরে জনসভা করতে গেলে সেখানেও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। অন্যস্থানে সমাবেশ মঞ্চ পুলিশে ভেঙে দেয়। এই অবিচারের বিচার একদিন হবে। সব বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের সামনে ছাত্রলীগ অস্ত্র হাতে গুলি ছোড়ে, রামুতে আওয়ামী লীগ বৌদ্ধদের ওপর হামলা করে কিন্তু পুলিশ তাদের ধরে না। পুলিশ ধরে নির্দোষ বিএনপি নেতাকর্মীদের।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এখন বিএনপির নেতাদের জেলে পুরে একটি কালো  উদ্দেশ্য পুরণ করতে চায়। তা হল একদলীয় নির্বাচন দিয়ে বাকশাল পুনর্গঠন করা। কিন্তু তা সম্ভব হবে না।

যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদের সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু, রুহুল কবির রিজভী, যুবদল সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নীরব, যুবদল নেতা মোরতাজুল করিম বাদরু, মামুন হাসান, আ: বারী ড্যানি, সেলিমুজ্জামান সেলিম, জাকারিয়া মঞ্জুর, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, ইউসুফ বিন জলিল প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন যুবদল নেতা রফিকুল আলম মজনু। নেতৃবৃন্দ আলালসহ কারাবন্দি সব নেতাকর্মীর মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

Monday, October 8, 2012


সুরঞ্জিতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি বিএনপির

দফতরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদ করতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
তিনি গতকাল নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে এক বিক্ষোভ সমাবেশে বলেন, সুরঞ্জিতের দুর্নীতির কালো বিড়াল বের হয়ে পড়েছে। তার এপিএসের গাড়িচালক আলী আজম খান সব বলে দিয়েছে। সে যা বলেছে, তার একবর্ণও মিথ্যে নয়। রেলের ১০ কোটি টাকা দুর্নীতি ঘটনায় সুরঞ্জিত জড়িত। কিন্তু জনগণকে বিভ্রান্ত করতে তিনি নানা কথার জাল বুনে চলেছেন। এ বিষয়ে দুদককে শিগগিরই ব্যবস্থা নিতে হবে। নইলে দুদকের ওপর মানুষ আর আস্থা রাখতে পারবে না।
সম্প্রতি বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল আরটিভির সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে সুরঞ্জিতের এপিএস ফারুকের গাড়ির ড্রাইভার আলী আজম খান স্বীকার করেছেন, ওইদিন সুরঞ্জিত সেনের বাসার উদ্দেশেই গাড়িতে করে টাকা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কিন্তু সুরঞ্জিত ড্রাইভারের এ দাবিকে নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, ড্রাইভারকে তিনি চেনেন না। এটা মিডিয়ার সৃষ্টি।
গত মঙ্গলবার বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা এবং যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মোশাররফ মঙ্গলবারের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশকে দায়ী করে বলেন, বর্তমান সরকারের স্বৈরাচারী চরিত্রের কথা মানুষ জানে। তারা অন্যায়ভাবে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের তিন দিন অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। এভাবেই জনধিকৃত সরকার গায়ের জোরে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে এভাবেই হামলা-মামলা এবং মানুষ হত্যা করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি।
পদ্মা সেতু দুর্নীতির বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের তদন্ত কমিটি দেশে আসছে। আমার প্রশ্ন, এ খাতে দুর্নীতি যদি না-ই হয়, তাহলে তাদের কমিশন আসছে কেন?
ড. মোশাররফ কক্সবাজারের রামু ও উখিয়ায় বৌদ্ধদের ওপর হামলার ঘটনার জন্য সরকারকে দায়ী করে বলেন, এর সঙ্গে সরকারি দল জড়িত। ঘটনার কাছাকাছি পুলিশের থানা থাকলেও তারা সময়মত ঘটনাস্থলে আসেনি। সময়মত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারত না। বিএনপি অফিস অবরুদ্ধ রাখতে সরকার যেভাবে সক্রিয় ছিল, ওই সাম্প্রদায়িকতার তাণ্ডব দমনে তারা ছিল ততটাই নিষ্ক্রিয়।
তিনি ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় শুধু হলমার্ক কর্মকর্তা নয়, সোনালী ব্যাংকের এমডি এবং পরিচালনা পর্ষদসহ জড়িত সরকারদলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, শুধু হলমার্কের এমডিসহ ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু এত বড় জালিয়াতি পরিচালনা পর্ষদ ছাড়া সম্ভব নয়। এর আগে শেয়ারবাজার জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত তাদের দলের লোকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি ক্ষমতাসীনরা। কারণ এসব দুর্নীতির সঙ্গে সরকারের প্রধান, তার আত্মীয়স্বজন, মন্ত্রী এবং সরকারি দলের নেতারা জড়িত।
তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, সরকারের দুর্নীতি, অযোগ্যতা ও সমন্বয়হীনতার কারণে দেশের অবস্থা নাজুক। দুর্নীতির কারণে ব্যাংকিং ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। কারণ প্রতিটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে সরকার তাদের দলীয় এমন লোকদের বসিয়েছে, যাদের ব্যাংকিং সম্পর্কে কোনো জ্ঞান নেই।
স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এমপি বলেন, রামুর ঘটনা বাংলাদেশের জন্য কলঙ্কজনক। বিএনপির প্রতিনিধি দল সেখানে দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে তদন্ত করেনি; নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করেছে। প্রকৃত তথ্য দেশবাসীকে শিগগিরই জানানো হবে।
তিনি বিশ্বব্যাংকের তদন্ত দলের ঢাকায় এসে দুর্নীতির তদন্ত করাকে দেশের জন্য লজ্জাজনক বলে মনে করেন। বলেন, এর থেকে লজ্জাজনক ঘটনা আর হতে পারে না। সরকারের লজ্জা থাকলে এতদিনে পতদ্যাগ করত। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের কালো বিড়াল বের হয়েছে। এই দুর্নীতির বিচার করতে হবে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, আওয়ামী লীগে এখন অনেক সুরঞ্জিত রয়েছেন। একসময় ভারতে সুর উঠেছিল— ‘গলি গলি মে শোর হ্যায়, রাজীব গান্ধী চোর হ্যায়।’ এখন বাংলাদেশেও একই সুর— ‘প্রধানমন্ত্রী চোর হ্যায়।’
ঢাকা মহানগর বিএনপি আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকার সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, বরকতউল্লাহ বুলু, জয়নুল আবদিন ফারুখ, নাজিম উদ্দিন আলম, হাবিব-উন নবী সোহেল, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, শিরিন সুলতানা, আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল প্রমুখ।

Sunday, October 7, 2012

বিচারপতি মানিককে নিয়ে স্পিকারের রুলিং বিতর্ক : সরকার আপিলের অনুমতি পায়নি

বিতর্কিত বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে নিয়ে স্পিকারের রুলিং বেআইনি, অসাংবিধানিক ও ভিত্তিহীন বলে হাইকোর্টের ঘোষিত রায়ের বিরুদ্ধে সরকারপক্ষের দায়ের করা লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) মঞ্জুর করেনি আপিল বিভাগ। আপিলের অনুমতি না দিয়ে কিছু পর্যবেক্ষণসহ সরকারপক্ষের দায়ের করা আবেদনটির নিষ্পত্তি করে দিয়েছে আপিল বিভাগ। দুই পক্ষের শুনানি শেষে গতকাল প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ফুলকোর্ট ‘অর্ডার ইজ ডিসপোজাল উইথ সাম অবজারভেশন’ বলে রায় ঘোষণা করেন। ফলে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অনুমতি মিলল না সরকারের। আপিল বিভাগের নিয়মানুযায়ী পূর্ণাঙ্গ আদেশ পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হয়। আইনজ্ঞরা বলছেন, রায় প্রকাশ হওয়ার পর বোঝা যাবে আপিল বিভাগ এ বিষয়ে কী পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। রায় প্রকাশ হওয়ার আগে পর্যবেক্ষণ জানার কোনো সুযোগ নেই। গত বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে শুনানি শেষে রোববার আদেশের জন্য ধার্য করা হয়েছিল। এদিন আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় শীর্ষে ছিল মামলাটি। সকালে বিচারপতিরা এজলাসে বসার পর আইনজীবীরা বিভিন্ন মামলা উপস্থাপন করেন। এরপর প্রধান বিচারপতি একবাক্যে এ মামলার আদেশ দেন।
আদেশের পর এক প্রতিক্রিয়ায় রিটকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার আখতার ইমাম বলেন, এ রায়ের ফলে হাইকোর্টের আদেশই বহাল রইল। আপিলের আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ায় হাইকোর্টের আদেশ পরিবর্তন করার আর তেমন সুযোগ নেই বলে আমার মনে হয়। তবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, হাইকোর্টের রায়ে বেশকিছু আপত্তিকর ও অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য দেয়া হয়েছে। শুনানিতে আমরা সেগুলোর ব্যাপারে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আদালত আমাদের ‘অ্যাপ্রিসিয়েট’ করে। আশা করি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর সব বিতর্কের অবসান হবে। হাইকোর্ট বিভাগের রায়ে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে। হাইকোর্টের মূল রিটের বেলায়ও প্রথমে পর্যবেক্ষণসহ সংক্ষিপ্ত আদেশ দেয়া হয়েছিল। পরে পর্যবেক্ষণের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়।
ব্যারিস্টার আখতার ইমাম সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের করা আপিল গ্রহণ করা হলে এ নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়ত। রাষ্ট্রের প্রধান দুটি ‘অর্গানের’ মধ্যে যেন সংঘাতের সৃষ্টি না হয় সে জন্য আবেদনটি নিষ্পত্তি করে দেয়া হয়েছে। ফলে হাইকোর্টের দেয়া আদেশই বহাল রইল।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, আসলে এ বিষয়টি আদালতে নিয়ে আসাই উচিত হয়নি। রায়ের কোনো কোনো অংশে আমরা ক্ষুব্ধ, কোনো কোনো অংশ রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য নষ্ট করবে তা আমরা আদালতকে বলেছি।
তিনি বলেন, স্পিকার সংসদের প্রধান। তিনি যা বলেন, সংসদে তাই বাস্তবায়িত হয়। হাইকোর্টের রায়ে তার বিরুদ্ধে কোনো কটূক্তি থাকলে নিশ্চয়ই আপিল বিভাগ বিষয়টি বিবেচনা করবে।
প্রধান অ্যাটর্নি বলেন, লিভ টু আপিল আবেদন মঞ্জুর না করেও অতীতে বহু রায় পরিবর্তন করেছে আপিল বিভাগ। আমাদের আবেদনে কয়েকটি বিষয়ে আমরা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। আশা করি এমন কিছু করা হবে না, যাতে এ দুটি অঙ্গের মধ্যে বিতর্ক বাড়ে। আমাদের আবেদনটি খারিজ করা হয়নি কিছু পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি করে দেয়া হয়েছে।
গত ২৩ জুলাই হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিনকে নিয়ে স্পিকারের দেয়া রুলিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট আবেদন করেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী এটিএম সাইফুদ্দীন। ২৪ জুলাই বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এবিএম আলতাফ হোসেন সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ কিছু পর্যবেক্ষণসহ রিট আবেদনটি নিষ্পত্তি করে দেন। ২৭ আগস্ট পর্যবেক্ষণসহ পূর্ণাঙ্গ আদেশ প্রকাশ করা হয়। এর আগে ২২ জুলাই হাইকোর্টের আরেকটি দ্বৈত বেঞ্চ এ রিটের শুনানিতে বিব্রতবোধ করেছিল।
হাইকোর্ট বিভাগের পূর্ণাঙ্গ আদেশে বলা হয়, বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরীকে নিয়ে স্পিকারের রুলিংয়ের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই এবং তা আইনের দৃষ্টিতে অস্থিত্বহীন। স্পিকারের রুলিং সংবিধানের ৯৬(৫) অনুচ্ছেদের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
এ বছরের ১৪ মে সড়ক ভবন নিয়ে আদালত অবমাননা মামলায় বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ একটি আদেশ দেন। এ নিয়ে ২৯ মে সংসদে আলোচনা চলাকালে স্পিকার আবদুল হামিদ কথা প্রসঙ্গে ‘জনগণ ক্ষুব্ধ হলে বিচার বিভাগের প্রতি রুখে দাঁড়াতে পারে’ বলে মন্তব্য করেন।
এরপর ৫ জুন বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ স্পিকার আবদুল হামিদের দেয়া বক্তব্যকে রাষ্ট্রদ্রোহমূলক বলে মন্তব্য করেন। স্পিকারকে নিয়ে আদালতে কটাক্ষমূলক মন্তব্য করেন বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী। ওই দিন সন্ধ্যায় সংসদে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীর সমালোচনা ও অপসারণ দাবি করেন সরকারদলীয় কয়েকজন সংসদ সদস্য। তারা বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মস্তিষ্ক বিকারগ্রস্ত বলে মন্তব্য করেন। এ জন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীকে অপসারণ করতে তিন দিনের আল্টিমেটাম দেয়া হয় জাতীয় সংসদে। পরে ১৮ জুন এ বিষয়ে স্পিকার রুলিং দেন। স্পিকারের রুলিংয়ে বলা হয়, বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের ভার প্রধান বিচারপতির ওপর ন্যস্ত করেন স্পিকার।

অস্ত্রসহ হলমার্কের এমডি তানভীর ও জিএম তুষার আটক


 অস্ত্রসহ হলমার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ ও জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) তুষার আহমেদকে আটক করেছে র‌্যাব। মিরপুর ১০ থেকে রোববার রাত সোয়া ৯টায় তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে জানা গেছে র‌্যাব সূত্রে।

আটকের পর  প্রথম এ তথ্য নিশ্চিত করেন তানভীরের ব্যক্তিগত আইনজীবী ফৌজিয়া ইয়াসমিন মুক্তি।

রাত সাড়ে ৯টায় র্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান লে. কর্নেল জিয়াউল আহসান এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান টিমের সদস্যরাও বাংলানিউজকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আটক হওয়ার সময় তানভীরের কাছ থেকে একটি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয় বলে জানা গেছে। তবে আটককৃত অস্ত্র বৈধ না অবৈধ সে ব্যাপারে কিছু এখনও নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক এম সোহায়েল জানান, তানভীরকে রমনা থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
আটক দুইজনকে সোমবার সকালে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলে জানান র‌্যাব-৪ এর এএসপি তানভীর।

উল্লেখ্য, ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার তানভীরসহ ২৭ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

মামলার এজাহারের উল্লেখ রয়েছে, ভূয়া এলসির মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা শাখা থেকে ফান্ডেড এক হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা আত্মসাত করেছে হলমার্ক গ্রুপ। ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের যোগসাজসে বিপুল
পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করে গ্রুপটি।

বাংলানিউজকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ``ব্যাংকি ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারি করেছে হলমার্ক গ্রুপ। আসামিদের যখন যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই গ্রেফতার করা হবে।``

তিনি বলেন, “মামলার পর থেকেই দুদক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় গ্রেফতার অভিযান চালাচ্ছে।
``অন্য আসামিদেরও আইনের হাতে সোপর্দ করা হবে বলে`` মন্তব্য করেন তিনি।

হলমার্ক গ্রুপের যারা আসামি
গত বৃহস্পতিবার দুদকের হলমার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় প্রথম পর্যায়ে যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হচ্ছেন- হলমার্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ ওরফে তফছীর, তানভীরের স্ত্রী ও গ্রুপের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম, তানভীরের ভায়রা ও গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার (কমার্শিয়াল) তুষার আহমেদ, হলমার্ক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আনোয়ারা স্পিনিং মিলসের স্বত্ত্বাধিকারী মো: জাহাঙ্গীর আলম, ম্যাক্স স্পিনিং মিলসের স্বত্ত্বাধিকারী মীর জাকারিয়া, সেঞ্চুরি ইন্টারন্যাশনালের স্বত্ত্বাধিকারী মো: জিয়াউর রহমান, এ্যাপারেল এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী মো: শহিদুল ইসলাম।

রুপসী বাংলা শাখায় যাদের নামে মামলা
সোনালী ব্যাংক রুপসী বাংলা শাখায় (সাবেক শেরাটন শাখা) মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। এরা হলেন-রুপসী বাংলা শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক ও ডিজিএম (সাময়িক বরখাস্ত) একেএম আজিজুর রহমান, সাবেক এজিএম মো: সাইফুল হাসান (সামায়িক বরখাস্ত), নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল মতিন (সাময়িক বরখাস্ত), অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র অফিসার মো: ওয়াহিদুজ্জামান ও সোনালী ব্যাংক  ধানমন্ডি শাখার বর্তমান সিনিয়র নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেরুন্নেসা মেরী। এদের মধ্যে মেহেরুন্নেসা মেরী রুপসী বাংলা শাখায় কর্মরত ছিলেন।

প্রধান কার্যালয়ের যারা আসামি
সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ূন কবিরসহ সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের জিএম অফিস, আইটিএফডি শাখা, অডিট ও ইন্সপেকশন-২, সিএডি, টিএমডি বিভাগে মোট ১৫ কর্মকর্তাকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন-ডিএমডি মাঈনুল হক(ওএসডি) ও আতিকুর রহমান (ওএসডি)। জিএম আ.ন.ম মাশরুরুল হুদা সিরাজী, ননী গোপাল নাথ (ওএসডি), মীর মহিদুর রহমান (ওএসডি)ও সাবেক জিএম সবিতা সিরাজ। ডিজিএম ভগবতী মজুমদার (সাময়িক বরখাস্ত), শেখ আলতাফ হোসেন (সাময়িক বরখাস্ত), মো: সফিজউদ্দিন আহমেদ (সাময়িক বরখাস্ত) ও কানিজ ফাতেমা চৌধুরী। এজিএম মো: কামরুল হোসেন খান (সাময়িক বরখাস্ত), আশরাফ আলী পাটোয়ারী (সাময়িক বরখাস্ত), মো: আবুল হাসান ও মো: খুরশিদ আলম।

মামলার বাদী যারা
হলমার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় দুদকের ৬ অনুসন্ধান কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলার বাদীরা হলেন- দুদকের প্রধান অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও জ্যেষ্ঠ উপ-পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলী, উপ-পরিচালক এস এম এম আখতার হামিদ ভুঞা, সহকারী পরিচালক মো: মশিউর রহমান, নাজমুচ্ছায়াদাত, উপ-সহকারী পরিচালক মো: মজিবুর রহমান, মো: জয়নুল আবদীন। ৬ সদস্যের এ অনুসন্ধান টিম হলমার্ক ও সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তাদের নামে মামলা দায়ের করেন।

যে ধারায় মামলা
মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ এর (২) ধারায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২) ধারায় এবং দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৯,৪২০ এ ১১৯ ধারায় মামলাগুলো দায়ের করা হয়।

অনুসন্ধানকারী দলে পাঁচজন কর্মকর্তা দুটি করে দশটি এবং দুদকের অনুসন্ধান টিমের প্রধানের একটিসহ মোট এগারটি মামলা দায়ের করা হয়। রমনা মডেল থানায় মামলা নং ৮ থেকে ১৮।

আত্মসাতের ঘটনায় হলমার্কের ৭ এবং সোনালী ব্যাংকের ২০ ব্যক্তি জড়িত থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে এজাহারে।

দুদকের অনুসন্ধান টিম রাতে বাংলানিউজকে জানায়, হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে জড়িত দুদকের মামলার প্রায় সব আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। দুদক র‌্যাবের সহযোগিতায় অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা হোটেল (সাবেক শেরাটন) শাখা থেকে হলমার্ক কর্তৃক আত্মসাৎকৃত ২ হাজার ৬৮৬ কোটি ১৪ লাখ টাকার মধ্যে যে পরিমাণ টাকা এরই মধ্যে স্বীকৃত বিলের বিপরীতে পরিশোধ করা হয়েছে (ফান্ডেড), সেই পরিমাণ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানে প্রমাণিত হওয়ায় ২৭ ব্যক্তির নামে মামলা দায়ের করে দুদক।

জানা গেছে, রূপসী বাংলা শাখা থেকে হলমার্ক গ্রুপসহ ৬টি কোম্পানি আত্মসাৎ করেছে মোট ৩ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে হলমার্ক এককভাবে আত্মসাৎ করেছে ২ হাজার ৬৮৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা।

রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের রুপসী বাংলা শাখা থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকার আত্মসাতের অভিযোগে গত জুন মাসের ১০ তারিখে অনুসন্ধান শুরু করে দুদকের জ্যেষ্ঠ উপ-পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলী।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, আড়াই হাজার নয়, ভুয়া ঋণপত্রসহ জালিয়াতির মাধ্যমে হলমার্ক গ্রুপসহ ৫টি কোম্পানি প্রায় ৩ হাজার ৬শ’ কোটি টাকার আত্মসাৎ করেছে। তখন বিষয়টি জানার পর অনুসন্ধান কমিটির পরিধি বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। জুলাই মাসের ১৫ তারিখে কমিটি পূনর্গঠন করা হয়। কমিটি পূনর্গঠিত হওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদন সংগ্রহ করে এবং ৭৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অনুসন্ধান দল।

এছাড়া সোনালী ব্যাংক থেকে দুদকের মামলায় আসামি করার জন্য ২২ জনের একটি তালিকাও পাঠানো হয় দুর্নীতি দমন কমিশনে।

অনুসন্ধান কমিটি প্রাপ্ত বক্তব্য এবং সোনালী ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত খতিয়ে দেখে এসবের ভিত্তিতে ``শুধু হলমার্কের ফান্ডে টাকা নেয়ার অংশটা জালজালিয়াতি`` বলে উল্লেখ করে কমিটি  কমিশনে রিপোর্ট জমা দেয়। কমিশন রিপোর্ট পর্যালোচনা করে মঙ্গলবার ১১ মামলার অনুমতি দেয়।