Thursday, September 20, 2012

পদ্মায় ফিরেছে বিশ্ব ব্যাংক















বহু জল ঘোলা হওয়ার পর পদ্মা সেতু প্রকল্পে ফিরে এসেছে বিশ্ব ব্যাংক। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদের এই খবর জানিয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি  “বিশ্ব ব্যাংক পদ্মা সেতুতে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জাইকা এডিবিসহ অন্য দাতাদের সবাইকে এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে তারা।”

দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ঋণচুক্তি বাতিল করা বিশ্ব ব্যাংককে এই প্রকল্পে ফেরাতে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্ব ব্যাংক দুই পক্ষই ‘ছাড়’ দিচ্ছে বলে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত দুপুরেই সাংবাদিকদের বলেছিলেন। 


রাষ্ট্রদূত আশা করছেন, বৃহস্পতিবার রাতেই বিশ্ব ব্যাংক এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে; দুর্নীতির অভিযোগ তুলে যারা আড়াই মাস আগে বাংলাদেশের বহু প্রতীক্ষিত পদ্মা প্রকল্পে অর্থায়ন বাতিল করেছিল।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে অর্থায়ন স্থগিতের পর কয়েকটি শর্ত দেয় সংস্থাটি, যা পূরণ হয়নি জানিয়ে ঋণচুক্তি বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় তারা।

বিশ্ব ব্যাংকের ওই সিদ্ধান্তে সরকারের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখানো হলেও পরে এই প্রকল্পে তাদের ফেরাতে সরকারের চেষ্টা চলতে থাকে।

এর অংশ হিসেবে পদত্যাগ করেন সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, ছুটিতে যান সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। প্রকল্পের ইন্টেগ্রিটি অ্যাডভাইজর মসিউর রহমানের ছুটিতে যাওয়ার খবরও সরকারের একাধিক সূত্র জানায়, যদিও তিনি তা অস্বীকার করে আসছেন।

বিশ্ব ব্যাংকের দেয়া চার শর্তের শেষ শর্ত (মসিউরের ছুটিতে যাওয়া) নিয়ে ওয়াশিংটনে আলোচনা হওয়ার পর পদ্মা সেতু প্রকল্পে বহুজাতিক দাতা সংস্থাটির ফিরে আসার পথ তৈরি হয়েছে বলে ঢাকায় জল্পনা চলছিল।

এর মধ্যে ওয়াশিংটনে যান প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, যিনি ওয়াশিংটনে সংস্থার সদর দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। ঢাকায় বিশ্ব ব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি অ্যালেন গোল্ডস্টেইন এখন ওয়াশিংটনে রয়েছেন এবং সমঝোতার আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।

রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদের বলেন, “আজ (বৃহস্পতিবার) সকালেও গওহর রিজভী সাহেবের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আজকেও বিশ্ব ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক আছে তার।”

দুপুরে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বিশ্ব ব্যাংকের ঘোষণা আসছে ‘যে কোনো মুহূর্তে’। সমঝোতার জন্য সরকারের পাশাপাশি বিশ্ব ব্যাংককেও কিছু ‘ছাড়’ দিতে হয়েছে।

মসিউর রহমানের ছুটির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, “পদ্মা সেতুসহ সরকারের কোনো আর্থিক বিষয়ে মসিউর রহমানের কোনো সম্পৃক্ততা থাকবে না।”

বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পদ্মা সেতু তৈরিতে গত বছরের প্রথমার্ধে বিশ্ব ব্যাংক, এডিবি, আইডিবি ও জাইকার সঙ্গে ঋণচুক্তি করে সরকার। ২৯১ কোটি ডলারে ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ দ্বিতল রেল ও সড়ক সেতু নির্মাণের নকশা হয়। শুরু হয় জমি অধিগ্রহণও।

কিন্তু প্রকল্পের কাজ তদারকির জন্য প্রাথমিক যোগ্যতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কানাডার এসএনসি লাভালিনের বিরুদ্ধে ওই দেশের পুলিশ দুর্নীতির অভিযোগ তুললে বিশ্ব ব্যাংক তা গুরুত্বের সঙ্গে নেয়ার কথা জানিয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি স্থগিত করে।

বিশ্ব ব্যাংক প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুললেও শুরু থেকে সরকার তা প্রত্যাখ্যান করে আসছিল। প্রকল্পে সংশ্লিষ্টদের পদত্যাগ/ছুটিতে পাঠানো এবং তদন্তের শর্ত বিশ্ব ব্যাংক দিলেও সরকারের কার্যক্রমে তা পূরণের কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি, যদিও কাজ আটকে যায় প্রকল্পের।

কোনো শর্ত পালন হয়নি জানিয়ে বিশ্ব ব্যাংক ঋণচুক্তি বাতিলের ঘোষণা দিলে সরকারপ্রধানসহ সরকারি দলের বিভিন্ন নেতার পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া আসে। বিশ্ব ব্যাংককে আক্রমণ করে বক্তব্যও আসে।

বিশ্ব ব্যাংককে বাদ দিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভায়ও হয়। অন্যদিকে বিশ্ব ব্যাংক চুক্তি স্থগিতের পর মালয়শিয়ার সঙ্গেও এই প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যায় সরকার।

তার মধ্যে আবার বিশ্ব ব্যাংককে ফেরানোর আলোচনাও চলে, যার সফলতা শুরু থেকেই আশা করে আসছিলেন অর্থমন্ত্রী মুহিত।

বিশ্ব ব্যাংকের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসছে- জানিয়ে দুপুরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বহুজাতিক এ দাতা সংস্থা চুক্তি বাতিল করায় দেশের সুনাম যেটুকু ‘ক্ষুন্ন’ হয়েছিল, তারা তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করায় তা আবার ‘সমুন্নত’ হয়েছে।

“দুর্নীতির অপবাদ দিয়ে বিশ্ব ব্যাংক ঋণ চুক্তি বাতিল করেছিল। আমরা তাদের সে অপবাদ প্রত্যাখ্যান করে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বলেছিলাম,” বলেন তিনি।

পদ্মা প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাংক অর্থায়ন বাতিল করলে অন্য ঋণদাতা এডিবির ৬১ কোটি ৫০ লাখ, জাইকার ৪০ কোটি এবং আইডিবি ১৪ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতিও আটকে যায়।

তবে সরকারের অনুরোধে এডিবি ও জাইকা তাদের ঋণচুক্তির মেয়াদ দুই দফা বাড়ায়। আইডিবি অবশ্য প্রকল্পে থাকার সিদ্ধান্ত জানায়। 

‘রায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’

undefined

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আজ বৃহস্পতিবার বলেছেন, সাবেক বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক অবসর গ্রহণের আগে এবং পরে পৃথক রায় দিয়ে বাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে দেয়া সুপ্রিম কোর্টের রায়কে অস্পষ্ট এবং অগ্রহণযোগ্য হিসেবেও অভিহিত করেছেন।

আজ বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বেগম জিয়া এ মন্তব্য করেন। রোববার সুপ্রিম কোর্ট ওই রায় প্রকাশ করে।
বিরোধী দল বলে আসছে, ওই রায়ে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে।
খালেদা জিয়া আগেই জানিয়েছেন, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়কব্যবস্থা ছাড়া তার দল নির্বাচনে যাবে না।
রায় সম্পর্কে খালেদা জিয়া আরো বলেন, এই রায় নৈতিকতাবিরোধী। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনে এই রায় দেয়া হয়েছে। এটি দেশের রাজনৈতিক সংকট আরো বাড়াবে। জাতিকে এর মাধ্যমে বিচার বিভাগকে দলীয়করণের দৃষ্টান্ত দেখতে হলো। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এ রায় তাই জনগণ মেনে নেবে না।
তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক রায়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের হুবহু প্রতিধ্বনি এবং তাদের পূর্ববর্তী রায়ের সঙ্গে স্পষ্টতই অসঙ্গতিপূর্ণ। মাননীয় সাবেক প্রধান বিচারপতির এমন পপাতদুষ্ট আচরণ একটি মারাত্মক বিচারিক অসদাচারণ।
তিনি বলেন, এই মন্দ দৃষ্টান্ত দেশে-বিদেশে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ শুধু নয়, গোটা দেশ ও দেশের জনগণকে হেয় করবে।
সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ১৮ দলের অবস্থানও তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আর এ গনি, টি এইচ খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, এম কে আনোয়ার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, নজরুল ইসলাম খানসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এখানে খালেদা জিয়ার লিখিত বক্তব্য পুরোটা তুলে ধরা হলো-
‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
আপনারা জানেন যে, ১৯৯৬ সালের আগে দেশের সংবিধানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান ছিল না। ১৯৯৫ সাল থেকে বর্তমানে মতাসীন আওয়ামী লীগ জামায়াতে ইসলামসহ কতিপয় রাজনৈতিক দলকে সাথে নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে সহিংস আন্দোলন শুরু করে। তারা দিনের পর দিন হরতাল করেছে, যানবাহন ও সম্পদের বিপুল তি সাধন করেছে, নীরিহ মানুষের জীবন নাশ করেছে, সংসদ বর্জন করেছে এবং শেষ পর্যন্ত এই দাবিতে জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ পর্যন্ত করেছে। তাদের সেই পদত্যাগের ফলে জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটে সংবিধান সংশোধন অসম্ভব হয়ে পড়ে। ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্র“য়ারি জাতীয় সংসদের নির্বাচনের পর দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থনে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী অনুমোদনের মাধ্যমে আমরা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিধান করি। এই বিধানের অধীনে ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২০০৬ সালে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের বিষয় নিয়ে আওয়ামী লীগ ও তার সমমনা দলগুলো পুনরায় আন্দোলনের নামে সহিংসতা শুরু করে। ক্রমাগত হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচি, অবরোধ এবং শেষ পর্যন্ত লগি-বৈঠা আন্দোলনে প্রকাশ্য রাজপথে মানুষ খুনের ঘটনা ঘটিয়ে তারা দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। এরই সুযোগে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারীর আবরণে দেশে চলমান গণতন্ত্র ধ্বংস করে প্রতিষ্ঠিত হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ছদ্মাবরণে সেনা সমর্থিত এক অসংবিধানিক সরকার। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী এই অসংবিধানিক সরকারকে তাদের আন্দোলনের ফসল বলে ঘোষণা দেন এবং তাদের সকল অপকর্মকে আগাম বৈধতা প্রদান করেন। দীর্ঘ ২ বছর ধরে সেই সরকার দেশকে রাজনীতিহীন এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বহীন করার অপচেষ্টা চালায়। তাদের অপশাসনে অতিষ্ঠ জনগণের আন্দোলনের মুখে তারা জরুরী অবস্থা বহাল রেখেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেয়। আমরা জরুরি অবস্থার মধ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে তারা জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারে বাধ্য হয়। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ সেই অবৈধ সরকারের সকল অপকর্মের বৈধতা দেয়ার ঘোষণা দিয়ে তাদের সাথে অশুভ আঁতাত করে এবং জরুরী অবস্থার মধ্যেই নির্বাচনে যেতে রাজি হয়। তাদের এই আঁতাত বুঝতে পেরেও জনগণকে তাদের হারানো গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেয়া এবং অনির্বাচিত স্বৈরশাসন থেকে জনগণকে মুক্ত করার জন্য আমরা নির্বাচনে অংশ নেই। নীল নকশার সেই নির্বাচনে মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকারের সহায়তায় ব্যাপক কারচুপি সম্পর্কে আপনারা সবাই অবহিত আছেন।
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ কখনো নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তনের কথা বলেনি। তাদের নির্বাচনী ইশতেহারেও এ সম্পর্কে কোনো কথা নেই। এমন কি সংবিধান সংশোধনের ব্যাপারে গঠিত সংসদীয় কমিটিতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল রাখার সুপারিশ করেছে। একইভাবে দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দল, শ্রেণী-পেশার সংগঠন, সংবিধান বিশেষজ্ঞগণও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল রাখার পে মত দিয়েছেন।
এরপর সরকার তাদের জনপ্রিয়তা হ্রাস পাওয়ায় নির্বাচনে অবধারিত পরাজয়ের বিষয়টি বুঝতে পেরে মত পাল্টিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের কথা বলা শুরু করে।
অন্যদিকে সেই সময় নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি জনাব এ বি এম খায়রুল হক হঠাৎ করে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের বিষয়ে বহু আগের এক রীট মামলা হতে উদ্ভুত আপিল শুনানীর জন্য গ্রহণ করেন। বিষয়টি সাংবিধানিকভাবে অতীব গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় আদালতের বন্ধু হিসাবে যে ৮ জন সিনিয়র আইনজীবিকে মতামত দিতে ডাকা হয়েছিল তাদের ৭ জনই নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থা বহাল রাখা এবং এই ব্যবস্থা রাষ্ট্রীয় সংবিধানের সাথে অসংগতিপূর্ণ নয় বলে মত দেন। এতদসত্ত্বেও সাবেক প্রধান বিচারপতি জনাব এ বিএম খায়রুল হক গত বছর ১৭ মে তারিখে অবসরে যাওয়ার মাত্র এক সপ্তাহ আগে ১০ মে তারিখে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে এক সংপ্তি রায় ঘোষণা করেন। এটি ছিল একটি বিভক্ত রায়। তিনি প্রকাশ্য আদালতে যে সংপ্তি ও বিভক্ত রায় ঘোষণা করেছিলেন তার সাথে অবসরে যাওয়ার ১৬ মাস পরে গত কয়েকদিন আগে প্রকাশিত রায়ের সুস্পষ্ট পার্থক্য অভূতপূর্ব এবং বিচারিক অসদাচারণ। আমরা তার এই আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
প্রাসঙ্গিক বিষয়ে আমরা দেশবাসীর দৃষ্টি আকর্ষন করে বলতে চাই যে Ñ
ক। বিচারকগণ পপাতহীন থেকে সুবিচার করার যে প্রতিশ্র“তি ঘোষণা করে বিচারক হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন- অবসরে যাওয়ার পর তারা সেই শপথের অধীন থাকেন না। আর সে কারণেই অবসরপ্রাপ্ত কোনো বিচারপতি আদালতে বসতে পারেন না, শুনানী করতে পারেন না এবং একই কারণে কোন মামলার রায়ও লিখতে কিংবা তাতে দস্তখত করতে পারেন না। কিন্তু বিচারপতি খায়রুল হক তাই করেছেন। ফলে এই রায় যৌক্তিক কারণেই পপাতদুষ্ট, অগ্রহণযোগ্য ও বাতিলযোগ্য।
খ। ১০ মে, ২০১১ তারিখে প্রকাশ্য আদালতে ঘোষিত রায়ে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী, ১৯৯৬ ভাবিসাপেে (চৎড়ংঢ়বপঃরাবষু) বাতিল ও মতা বহির্ভূত ঘোষণা করে প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন যেÑ
“জাতীয় সংসদের দশম ও একাদশ নির্বাচন অনাদিকাল থেকে চলে আসা নীতির ভিত্তিতে ত্রয়োদশ সংশোধনীর বিধানসমূহের অধীনে অনুষ্ঠিত হতে পারে, যা অন্যবিধভাবে বৈধ নয়Ñ প্রয়োজনের কারণে বৈধ; জনগণের নিরাপত্তার জন্যÑযা সর্বোচ্চ আইন এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্যÑ যা সর্বোচ্চ আইন।”
ঐ রায়ে আরো বলা হয়েছিলÑ
“যা হোক, ইতিমধ্যে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসাবে সাবেক প্রধান বিচারপতি অথবা আপীল বিভাগের কোন বিচারপতিকে নিয়োগ দানের বিধানটি বাদ দেয়ার জন্য সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার েেত্র জাতীয় সংসদ স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে।”
অথচ, সম্প্রতি প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক তারই ঘোষিত রায় থেকে সরে গিয়ে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পরিবর্তে দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তাব করেছেন।
প্রকাশ্য আদালতে ঘোষিত সংপ্তি রায় এবং পরবর্তী পর্যায়ে ঘোষিত লিখিত রায়ে এমন গরমিল নজিরবিহীন। এ ঘটনা যে হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের জন্যই ঘটানো হয়েছে তাতে কোন সন্দেহ নেই।
উল্লেখ্য যে, সাম্প্রতিক রায়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের যে নির্দেশনা দিয়েছেনÑতা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের হুবহু প্রতিধ্বনি এবং তাদের পূর্ববর্তী রায়ের সাথে স্পষ্টত:ই অসঙ্গতিপূর্ণ। মাননীয় সাবেক প্রধান বিচারপতির এমন পপাতদুষ্ট আচরণ একটি মারাত্মক বিচারিক অসদাচারণ।
এই মন্দ দৃষ্টান্ত দেশে-বিদেশে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ শুধু নয় - গোটা দেশ ও দেশের জনগণকে হেয় করবে।
গ। বিচারপতি আঃ ওয়াহাব মিয়া সাবেক প্রধান বিচারপতির লেখা রায়ের সাথে ১০ মে ২০১১ তারিখে ঘোষিত রায়ের অসঙ্গতির কথা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করে তার সাথে দ্বিমত পোষণ করে আলাদা রায় দিয়েছেন। বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা বিচারপতি আঃ ওয়াহাব মিয়ার সাথে সম্পূর্ণ একমত পোষণ করেছেন। একই সাথে তারা ত্রয়োদশ সংশোধনীকে সাংবিধানিকভাবে অপরিহার্য্য এবং সংবিধানের মূল চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক নয় বলেও মত দিয়েছেন।
একই মত দিয়েছেন বিচারপতি ইমান আলীও। তিনি আরো বলেছেন যে, এই রায়ের ফলে দেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকট আরো ঘনীভূত হবে।
সাবেক প্রধান বিচারপতি টেলিভিশনে দেয়া এক সাাৎকারে বলেছিলেন যে তিনি ২৯ মার্চ, ২০১২ তারিখে তার লেখা রায় সই করে জমা দিয়েছেন।
গত রবিবার সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন যে, জমাকৃত রায়ে পরিবর্তন ও পরিমার্জনের জন্য তিনি সেই রায় ফেরত নিয়ে কয়েক মাস পরে আবার জমা দিয়েছেন। অর্থাৎ একই রায় তিনি ২ বার লিখেছেন এবং ২ বার দস্তখত করেছেন। মতাসীন সরকারের অভিপ্রায় অনুযায়ী লেখার জন্যই যে তিনি নিজের লেখা রায় ফিরিয়ে এনে পুনরায় লিখেছেন তা সুষ্পষ্ট হয়েছে নতুন রায়ে সরকারি অবস্থানের পে লেখা বিভিন্ন প্রস্তাবে।
তার এই আচরণ একেবারেই বিচারক সুলভ নয়Ñ বরং নৈতিকতা বিরোধী। ফলে অনিবার্য্যভাবেই এই রায়ের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে - যার জবাব দেয়ার নৈতিক দায়িত্ব সাবেক প্রধান বিচারপতির।
প্রবীন আইনজীবি ব্যারিস্টার রফিকুল হক তার এই পরিবর্তন - পরিমার্জনের বিষয়টিকে বিশ্রীরকম ভুল ও অসদাচারন বলে বর্ণনা করেছেন।
বার কাউন্সিলের নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রবীন আইনজীবি এ্যাড. খন্দকার মাহবুব হোসেন একে সরাসরি প্রতারণা বলেছেন।
ঘ। ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের মূল কারণ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে যেÑ অনির্বাচিত ব্যক্তিদের দ্বারা রাষ্ট্র পরিচালিত হতে পারে না। অথচ ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে প্রস্তাব করা হয়েছে যে, মতাসীন সরকারই সংপ্তিাকারে নতুন নির্বাচিত সরকারের মতাগ্রহণ করা পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে। যদিও রায়ের অন্য অংশে নির্বাচনের ৪২ দিন আগে সংসদ ভেঙ্গে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। সংসদ বহাল না থাকলে কেউই নির্বাচিত থাকেন না।
তাহলে ঐ ৪২ দিন-অর্থাৎ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালে, নির্বাচনের সময় এবং নতুন সরকার মতা গ্রহণ করা পর্যন্ত অনির্বাচিত ব্যক্তিরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন কোন যুক্তিতে ? এটি বিচারপতি খায়রুল হকের রায়ের স্ববিরোধিতার অসংখ্য উদাহরণের মধ্যে একটি।
উল্লেখযোগ্য যে, ১০ মে ২০১১ তারিখে যখন সংপ্তি রায় ঘোষণা করা হয় তখন জাতীয় সংসদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান ছিল। বর্তমান সরকার পঞ্চদশ সংশোধনীতে সংসদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার ৯০ দিন আগে থেকেই নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু করার বিধান রেখেছে। সদ্য ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে নির্বাচনের পূর্ববর্তী ৪২ দিনের উল্লেখ স্পষ্টত:ই সরকারি ইচ্ছার সাথে সঙ্গতি রেখেই করা হয়েছে। আদালতের রায়কে রাজনীতিকরণের এ এক চরম নিন্দনীয় দৃষ্টান্ত।
মতাসীন সরকারের ইচ্ছা পূরণের জন্যই যে এসব পরস্পর বিরোধী প্রস্তাব করা হয়েছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। বিচারের নামে দলীয়করণের এমন নিকৃষ্ট দৃষ্টান্ত পৃথিবীর কোনো আদালতে খুঁজে পাওয়া যাবে না।
আমরা মনে করি যে নৈতিকতা বিরোধী ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত এই রায় যৌক্তিক কারণেই অকার্যকর। এই রায়ের কারণে দেশে অনভিপ্রেত অস্থিরতা সৃষ্টি হবে এবং রাজনৈতিক সংকট আরো বৃদ্ধি পাবে।
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
আমরা বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। ১৯৭৫ সালে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠার সময় বিচার বিভাগকে প্রশাসনের অধীন করা হয়েছিল। আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তা থেকে বিচার বিভাগকে মুক্ত করেছিলেন।
দেশের জনগণ বিচার বিভাগকে দলীয় প্রভাবমুক্ত এক নিরপে প্রতিষ্ঠান হিসাবে দেখতে চায়। কিন্তু বিভিন্ন কারণে তারা সুবিচার থেকে বঞ্চিত ও আশাহত হয়েছে।
আমরা ঘোষণা করছি যে, সাবেক প্রধান বিচারপতির দেয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত, অযৌক্তিক ও পরস্পর বিরোধী রায় জনগণ কখনো গ্রহণ করবে না এবং তার ভিত্তিতে আয়োজিত কোনো নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করবে না।
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
১০ মে ২০১১ ঘোষিত সংপ্তি রায়ে উল্লেখিত “প্রয়োজনের কারণে বৈধ এবং দেশ ও জনগণের স্বার্থ-যা সর্বোচ্চ আইন”-তা রার কোন তাগিদ মতাসীন সরকার অনুভব করেনি।
প্রধান বিরোধী দলসহ দেশের প্রায় সবগুলো রাজনৈতিক দল-এমন কি মতাসীন মহাজোটের অংশীদার কয়েকটি দল, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক সমাজ এবং দেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের তীব্র আপত্তি তারা গ্রাহ্য করেনি।
তারা স্বৈরতান্ত্রিক বাকশাল কায়েমের মতো দ্রুততার সাথে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুমোদনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করে দলীয় সরকার এবং বর্তমান সংসদ বহাল রেখে তার অধীনে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের অগণতান্ত্রিক আইন পাশ করেছে।
দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের নামে প্রহসন করে পুনরায় রাষ্ট্র মতা দখলের সরকারি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণের আন্দোলন চলছে এবং ক্রমান্বয়েই তা তীব্রতর হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকারকে তাদের অনৈতিক ইচ্ছাপূরণের হাতিয়ার হিসাবে নতুন করে লেখা এই রায় উপহার দেয়া হলো।
একই সাথে সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী অপ্রাসঙ্গিক হওয়া সত্ত্বেও এই রায়ে অবৈধ ফখরুদ্দিন সরকারকে বৈধতা দেয়া হয়েছে Ñ যা এই রায়কে রাজনীতিকরণের আর একটি দৃষ্টান্ত। জাতির দুর্ভাগ্য যে, দলীয় স্বার্থে বিচার বিভাগকে ব্যবহারের এমন নিকৃষ্ট দৃষ্টান্ত তাদের প্রত্য করতে হলো।
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
মতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার তাদের কোন নির্বাচনী প্রতিশ্র“তিই আজ পর্যন্ত পুরণ করতে পারেনি। দ্রব্য মূল্যের অব্যাহত ঊর্ধ্বগতিতে জনগণ দিশেহারা, গ্যাস-বিদ্যুত পানির অভাবে জনজীবন বিপর্যস্ত। আইন-শৃঙ্খলার এতই অবনতি ঘটেছে যে, মানুষ ঘরে-বাইরে কোথাও নিরাপদ নয়। ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমসহ গুম হওয়া কারও কোন সন্ধান নেই।
সাংবাদিক সাগর-রুনি দম্পতিসহ কোন খুনেরই সুরাহা হচ্ছে না। সীমান্তে প্রতিদিন দেশের মানুষ খুন হচ্ছে, অবাধে চোরাচালান চলতে থাকায় দেশের শিল্প-বাণিজ্য ধ্বংসের মুখে। সরকার ও সরকারি দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সর্বনিু পর্যায় পর্যন্ত প্রায় সকলেই দুর্নীতি ও অনাচারে আকণ্ঠ নিমজ্জিত। এই সরকার আগের মেয়াদে দেশকে দুর্নীতির শীর্ষে নিয়ে গিয়েছিল। এবারও তাদের দুর্নীতি দেশের সীমা পেরিয়ে বিদেশেও বি¯তৃত হয়েছে।
আজ আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি দুর্নীতির অভিযোগে কলংকিত। জাতীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে সরকার গদি রায় ব্যস্ত। এই অবস্থা চলতে দেয়া যায় না। জনগণ এই দুরাবস্থা থেকে মুক্তি চায়। তারা জুলুম, নিপীড়ন, দুর্নীতি ও দুঃশাসনের অবসান চায়। সরকার উচ্চ আদালত থেকে শুরু করে দেশের সকল প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করে অকার্যকর করে ফেলেছে। কোন প্রতিষ্ঠানের উপরই আজ আর জনগণের আস্থা নেই। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি লাভের জন্যই আমরা অবাধ ও নিরপে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছি। আর এমন নির্বাচন কেবল নির্দলীয় - নিরপে সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হতে পারে। কাজেই নির্দলীয় - নিরপে সরকারের অধীনেই জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের গণদাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত জনগণের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। অবসরপ্রাপ্ত কোন সাবেক প্রধান বিচারপতির পপাত দুষ্ট রায় এই আন্দোলনকে দুর্বল কিংবা ব্যাহত করতে পারবে না।
প্রধানমন্ত্রী গতকাল সংসদে নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা জনগণকে বিভ্রান্ত করার আর একটি অপচেষ্টা মাত্র। তিনি প্রকৃতপে মতায় অধিষ্ঠিত থেকেই একটি সাজানো নির্বাচনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাঁয়তারা করছেন। এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার।
জনগণের ভোটাধিকার রার জন্য নির্দলীয়, নিরপে সরকারের কোন বিকল্প নেই। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ কোন অবস্থাতেই দেশে দলীয় সরকারের অধীনে সাজানো নির্বাচন মেনে নেবে না।
আমরা বিশ্বাস করি, রাজনৈতিক বিষয়ে জনগণই সকল মতার উৎস।
জনগণের আন্দোলন কখনো ব্যর্থ হয়নি - এবারও হবে না ইন্শাআল্লাহ।
আপনাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।
আল্লাহ হাফেজ, বাংলাদেশ-জিন্দাবাদ।’

Wednesday, September 19, 2012


চাঁদপুরে ১৮ দলীয় জোটের জনসভায় আমান উল্যা আমান
যোগাযোগ মন্ত্রীকে সরিয়ে এবং উপদেষ্টা মশিউরকে ছুটিতে পাঠিয়ে শেখ হাসিনা নিজের দুর্নীতি প্রমাণ করেছেন
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্যা আমান বলেছেন, বর্তমান সরকার চুরি, ডাকাতি, গুম, খুন করতে করতে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে| সরকারের মাথায় পচন ধরেছে| সেই মাথা হচ্ছে শেখ হাসিনা| যোগাযোগমন্ত্রীকে সরিয়ে এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা মশিউরকে ছুটিতে পাঠিয়ে প্রমাণ হয়েছে শেখ হাসিনা দুর্নীতি করেছে| তিনি বলেন, প্রবীণ সাংবাদিক ও আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি এবিএম মুসা ক’দিন আগে বলেছেন, আওয়ামী লীগ নেতাদের দেখলে সবাই চোর বলে| হলমার্ক কেলেঙ্কারী করে ওরা সোনালী ব্যাংক থেকে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকাসহ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা চুরি করেছে| বিশ্বব্যাংক এই সরকারকে চোর বলে প্রমাণ করেছে, সত্যি তারা বিশ্ব চোর|
তিনি গতকাল বুধবার বিকেলে চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১৮ দল আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন|

তত্ত্ববধায়ক সরকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার ভাই বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াছ আলী তত্ত্ববধায়ক সরকারের দাবি প্রথম তুলেছিলেন বলে তাকে গুম করা হয়েছে| চৌধুরী আলম গুম হয়েছে, চাঁদপুরের আবুল হোসেন, লিমন ও লক্ষীপুরে একজন নিহত হয়েছে তত্ত্ববধায়ক সরকারের দাবির আন্দোলনে| অতএব, এতো রক্ত কখনো বৃথা যাবে না| তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে দিয়ে তত্ত্ববধায়ক সরকারের যে রায় দিয়েছে সরকার, এটা কেউ মানবে না| জনতার রায় হচ্ছে বড় রায়| এ দেশে তত্ত্ববধায়ক সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না| জনগণ এটা হতে দেবে না|

আমান উলস্না আমান আরো বলেন, গত মাসে ইন্ডিয়ান টাইমস&ধসঢ়;-এ ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার জরিপের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন বেগম খালেদা জিয়া| ওই খবরের ক’দিন পর কানাডিয়ান অনলাইন পত্রিকায় দেখা যায়, বেগম খালেদা জিয়াকে হত্যার পরিকল্পনা করা হচ্ছে|

তিনি আরো বলেন, এই সরকার নির্বাচনকে ভয় পায় বলে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন দিচ্ছে না| চাঁদপুর পৌরসভায়ও নির্বাচন দিচ্ছে না| কারণ, তারা বুঝে গেছে জনগণ তাদেরকে ভোট দেবে না|

আন্দোলন-সংগ্রাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট সরকারকে উৎখাত করতে ১৮ দল জোট বেঁধেছে| আজকের জনসমুদ্রে তা’ প্রমাণ হয়েছে| ঈদের পর কঠোর আন্দোলন আসছে| বেগম জিয়া তথা ১৮ দল ঘোষিত আন্দোলন কর্মসূচি সরকার উৎখাত না হওয়া পর্যন্ত চলবে| এই আন্দোলনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে|

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার| সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি, হত্যা, গুম, নির্যাতন ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে, খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং নির্দলীয় তত্ত্ববধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের উদ্যোগে এ জনসভার আয়োজন করা হয়|

জেলা বিএনপির সভাপতি লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের সভাপতিত্বে, চাঁদপুর শহর বিএনপির সভাপতি অ্যাডঃ সলিম উল্যাহ সেলিম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি দেওয়ান শফিকুজ্জামান ও শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন মাঝির পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য লায়ন মোঃ হারুনুর রশিদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, সাবেক সাংসদ জিএম ফজলুল হক, মহিলা এমপি রাশেদা বেগম হীরা, ন্যাশনাল পিপলস&ধসঢ়; পার্টির মহাসচিব ড. ফরিদুজ্জামান, মুসলিম লীগ কেন্দ্রীয় মহাসচিব আতিকুল ইসলাম, জাগপা কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান খান, কল্যাণ পার্টির মহাসচিব মালেক চৌধুরী, লেবার পার্টির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, ইসলামী ঐক্য জোটের কেন্দ্রীয় সদস্য মাওঃ শাহাদাত হোসেন, ডেমোক্রেটিক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডঃ মিজানুর রহমান, খেলাফত মজলিসের চাঁদপুর জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ কাজী আসাদুল্যা, জেলা জামায়াতের আমীর এ এইচ আহমদ উল্যা মিয়া, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ইসমাঈল হোসেন বেঙ্গল, জেলা বিএনপি নেতা সফিউদ্দিন আহমেদ, আব্দুল হামিদ মাস্টার, শরীফ মোঃ ইউনুছ, এম এ শুক্কুর পাটওয়ারী, দেলোয়ার হোসেন, মোস্তফা খান সফরী, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওঃ আঃ রহিম পাটওয়ারী, সেক্রেটারী বিলস্নাল হোসেন মিয়াজী, জেলা যুবদলের সভাপতি শাহজালাল মিশন, সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মানিকুর রহমান মানিক, সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ বাহার, শহর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহীম খলিল, শহর স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মহসিন পাটওয়ারী প্রমুখ|

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার বলেন, সমপ্রতি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ১৮ দলীয় ঐক্যজোট গঠন করা হয়েছে| এর কারণ মিথ্যাবাদী দুর্নীতিবাজ সরকারের বিরুদ্ধে মানুষকে জাগ্রত করা, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সুখী সমৃদ্ধ দেশ গঠন করা| তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগের প্রথম জনসভা চাঁদপুরে| এখান থেকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কর্মসূচি শুরু হলো| বর্তমান সরকার তাদের মেরুদণ্ড হারিয়ে ফেলেছে| মেরুদণ্ডহীনভাবে তারা দেশ চালাচ্ছে| এই বাংলাদেশে যদি নির্বাচন হয় সেটা হবে নির্দলীয় তত্ত্ববধায়ক সরকারের অধীনেই|

সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন : পঞ্চদশ সংশোধনী থেকে সরে এসে পার্লামেন্টে শেখ হাসিনার ঘোষণা


আগামী সংসদ নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে নতুন ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগের অবস্থান থেকে সরে এসে জানালেন, সংসদ বহাল রেখে নয়, সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন হবে। গতকাল জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ নেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘সংসদ রেখে তো নির্বাচন হবে না। আমরা ওয়েস্টমিনিস্টার টাইপ অব গভর্নমেন্ট অনুসরণ করি। এ পদ্ধতিতে সরকারপ্রধান রাষ্ট্রপতির কাছে নির্বাচনের প্রস্তাব দেন। সে অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্দেশ দেন এবং নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’ আরও ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেমন আমি রাষ্ট্রপতির কাছে গিয়ে অনুরোধ করব, আমরা ওই তারিখে, সময়ে নির্বাচন করতে চাই। তখন রাষ্ট্রপতি ঠিক করবেন সংসদ করে ডিজল্ভ (ভেঙে দেয়া) হবে। এই মন্ত্রিসভা থাকবে, না কি ছোট করতে হবে, কতজন থাকবে—এই নির্দেশ তিনি (রাষ্ট্রপতি) দেবেন। এটা সম্পূর্ণ তার এখতিয়ার। এর পর রাষ্ট্রপতি যেভাবে নির্দেশ দেবেন, সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন নির্বাচন করবে।’
গতকাল জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নুর এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ের পর এ নিয়ে যখন রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল বিতর্ক চলছে এবং বিরোধীদলীয় নেতা আজ এ নিয়ে বিরোধী জোটের অবস্থান তুলে ধরার জন্য সংবাদ সম্মেলনের আহ্বান করেছেন, ঠিক তখন প্রধানমন্ত্রী নতুন এ ঘোষণা দিলেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার সঙ্গে সদ্যঘোষিত আপিল বিভাগের রায়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের মতামতের অনেকটাই মিল রয়েছে। তবে রায় অনুযায়ী সংসদ ভেঙে দিলে নির্বাচিতদের দিয়ে কীভাবে সরকার হবে; আবার প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির কাছে নির্বাচনের দিন, তারিখ, সময় নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারাধীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ হবে কি না, সেসব বিতর্ক নতুন করে শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রধামন্ত্রীর গতকালের বক্তব্য পঞ্চদশ সংশোধনী থেকে সরে আসা এবং ষষ্ঠদশ সংশোধনীর ইঙ্গিত কি না, সে প্রশ্নও উঠতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী গতকাল সংসদে আরও বলেন, আমরা জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করি। যে জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষার জন্য আমরা দিনের পর দিন আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি, জেল খেটেছি, সেই জনগণের ভোট কেড়ে নেয়া বা চুরি করা আমাদের রীতি নয়। আমরা ভোট চুরির রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আমরা তা করবও না। তাই জনগণ চাইলে আমরা আছি, আর না চাইলে নাই। এটা পরিষ্কার কথা। এতে কোনো সন্দেহ নেই।
বর্তমান সরকারের আমলে সব নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, যারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তুলে টক শো’তে গিয়ে টেলিভিশন ফাটিয়ে ফেলেন, তাদের বলতে চাই, বাংলাদেশের ইতিহাসে পঁচাত্তরের পর দলীয় সরকার ক্ষমতায় থাকতে এত অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে, তার দৃষ্টান্ত নেই।
বিরোধী দলের তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবি প্রসঙ্গে ইমাজউদ্দিন প্রামাণিকের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় যে কোনো ধরনের কথা বা দাবি করার স্বাধীনতা সবার রয়েছে। তবে যারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি করছেন, তারা যাদি অতীত অভিজ্ঞতার কথা ভুলে যান, আমার কিছু বলার নেই। যদি ১/১১-এর মতো সরকার ক্ষমতায় আসে, সংবিধান কার্যকর থাকবে না। ইয়াজউদ্দীন, যদি ফখরুদ্দীন ও মইনউদ্দিনের মতো সরকার একটার পর একটা আসতেই থাকে, তারাও গণতান্ত্রিক অধিকার হারাবেন। অবশ্য যারা সে সময় গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন তাদের কথা আলাদা।
এর আগে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ইমাজউদ্দিন প্রামাণিকের লিখিত প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের অধীনে যে কোনো ধরনের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনা করার মতো গণতান্ত্রিক পরিবেশ দেশে ফিরে এসেছে। এ কারণে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার প্রয়োজন নেই। নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত শক্তিশালী ও স্বাধীনভাবে নির্বাচন পরিচালনা করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর জনগণের আকাঙ্ক্ষা ছিল, তত্ত্বাবধায়ক সরকার যেন বাদ হয়। আমরা জনগণের সেই আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে এটা বাতিল করেছি।
ওয়ান ইলেভেন-পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ১৫ ফেব্রুয়ারির ভোটচুরির নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার নির্বাচন পরিচালনায় ও ক্ষমতায় থাকার যে দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে, সে অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জনগণের মনে শঙ্কা সৃষ্টি করেছে। আবার যদি এ ব্যবস্থা আসে, আর যদি ক্ষমতা না ছাড়ে, তাহলে জনগণ গণতান্ত্রিক অধিকার হারাবে।
তিনি বলেন, মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর উপ-নির্বাচন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন, পৌরসভার নির্বাচন ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়েছে। জনগণ পছন্দমত প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে পেরেছে—যা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিচায়ক।
সংসদ নেতা বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সব সময় রাষ্ট্র পরিচালনার বিধান রয়েছে বিধায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু নেই। সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিধায় মহামান্য হাইকোর্ট কর্তৃক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষিত হয়েছে।
সংসদের পঞ্চদশ সংশোধনীর প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, সংসদে সর্বদলীয় বিশেষ কমিটির সুপারিশ মোতাবেক সংবিধান সংশোধন করে সংসদীয় গণতন্ত্র এবং ১৯৭২ সালের সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। পঞ্চদশ সংশোধনীতে জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে।
পদ্মা সেতু প্রসঙ্গ : পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমাদের কাছে দুটো জিজাইন আছে। আমরা দুটোই খতিয়ে দেখছি। মাঝখানে রেললাইন দিয়ে দু’পাশে সড়ক সেতু করতে খরচ অনেক কম পড়বে। আমাদের সেটা করার আর্থিক সঙ্গতি রয়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে আমরা টাকা সাশ্রয় করেছি। তার মাধ্যমে এটা আমরা করতে পারব। তাছাড়া আমাদের যে রিজার্ভ রয়েছে, সেখান থেকে ১-২ বিলিয়ন ডলার খরচ করা কঠিন কাজ হবে না। এছাড়া দেশবাসী ও প্রবাসীদের পক্ষ থেকে আমরা যে অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছি, তাতে আমাদের আত্মবিশ্বাস জন্মেছে, এই সেতু আমরা করতে পারব। কোনো সারচার্জ বসাতে হবে না। কোনো সারচার্জ ছাড়াই এই সেতু কীভাবে করা যায়, আমরা তার উদ্যোগ নিয়েছি। ইনশাআল্লাহ আমরা এ সেতু করতে পারব।
এ সময় পদ্মা সেতু অর্থায়ন বন্ধের পেছনে নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসের হাত রয়েছে—এমন ইঙ্গিত দিয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ফজলুল আজিমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতুর অর্থায়নে বিশ্বব্যাংক নিজেই এগিয়ে আসে। এরপর দুর্নীতির গন্ধ পেয়ে তারা অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়। মাননীয় সংসদ সদস্য, মঙ্গলবার যার জন্য সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছিলেন, তার কিছু কারসাজি ছিল বলে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন বন্ধ করেছে।

উপদেষ্টাদের মা-বাপ নেই


সরকারের কঠোর সমালোচনা করে মহাজোটের অন্যতম শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সাংসদ রাশেদ খান মেনন বলেছেন, ‘উপদেষ্টাদের কোনো  মা-বাপ নেই। তাঁদের কোনো জবাবদিহি নেই। নিজেদের স্বার্থে তাঁরা দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দিতে তত্পর।’
আজ বুধবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে চার দফা দাবিতে সাতটি বাম সংগঠনের বিক্ষোভ সমাবেশে রাশেদ খান মেনন এসব কথা বলেন। সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক কেলেঙ্কারি, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, আদিবাসীদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা-অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে এ সমাবেশ ডাকা হয়।
রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘বিদ্যুতের মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টের মাধ্যমে লুটপাট করা হয়েছে। এই বোঝা চেপেছে জনগণের ওপর। সরকার ছয়বার বিদ্যুতের দাম বাড়াল।’ তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ভারতের দিকে তাকিয়ে দেখুন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কারণে সরকার পড়ে যাচ্ছে।’
রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘সরকার ক্ষমতায় আসার পর শেয়ারবাজার থেকে শুরু করে হলমার্ক পর্যন্ত একের পর এক লুটপাট হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী শেয়ারবাজারকে বললেন দুষ্ট মার্কেট; আর সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা তাঁর কাছে কিছুই না। ব্যাংকের টাকা এভাবে লুট হয়ে যাবে আর অর্থমন্ত্রী এ ধরনের কথা বলবেন, তা হতে পারে না। জনগণ এটা বরদাশত করবে না।’
মেনন বলেন, ‘আমরা বারবার হোঁচট খাই। বিজয় বারবার ব্যর্থ হয়। এবারও সেই বিজয় ব্যর্থ হতে চলেছে বলে রাজপথে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছি। পার্বত্যাঞ্চলবাসীর দাবি শুধু তাদের নয়, এ দাবি রাষ্ট্রীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির পরও শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন করা হয়নি। চার বছর তো পার হয়ে যাচ্ছে। কবে বাস্তবায়ন হবে?’ তিনি বলেন, ‘আদিবাসীদের ভূমির অধিকার নেই। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নস্যাত্ করতে সাম্প্রদায়িক বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। এগুলো আর কত দেখতে হবে? সরকারকে বলতে চাই, সমস্যার সমাধান করুন। বাংলাদেশের মানুষ কিছুই ভুলে যায় না।’ 
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘এসব দাবি নিয়ে আমরা বহুদিন ধরে সংগ্রাম করছি। বাস্তবায়ন করা হয়নি। সমস্যার সমাধান করতে হলে সব বাম গণতান্ত্রিক শক্তিকে একত্র হয়ে রাজপথে নামতে হবে।’ 
গণ আজাদী লীগের সভাপতি আবদুস সামাদের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন গণ ঐক্যের আহ্বায়ক পঙ্কজ ভট্টাচার্য, সাম্যবাদী দলের পলিট ব্যুরোর সদস্য আবু আহমেদ সাহাবুদ্দিন, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুর রহমান, আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের নেতা অসিত বরণ প্রমুখ।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, গণতন্ত্রী পার্টি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল, গণ আজাদী লীগ, কমিউনিস্ট কেন্দ্র, গণ ঐক্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি যৌথভাবে এ সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রেসক্লাবের সামনের সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

তারা তসলিমার চেয়েও হাজার বিলিয়ন বেশি পাপ করেছে: হান্নান শাহ।


যারা সংবিধান থেকে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস তুলে দিয়েছে তারা তসলিমা নাসরিনের চেয়েও হাজার মিলিয়ন, বিলিয়ন বেশি পাপ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার (অব.) আসম হান্নান শাহ।

তিনি এও বলেছেন, “বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সংবিধানে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুন:স্থাপন করবে।”

বুধবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে সম্মিলিত নাগরিক ফেডারেশন আয়োজিত ‘সংবিধান থেকে আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস মুছে ফেলা এবং জাতীয় পর্যায়ে আলেমদের উপর জুলুম নির্যাতন বন্ধে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

হান্নান শাহ বলেন, “যে দেশে ৯০ শতাংশ মানুষ মুসলমান তাদের অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে সংবিধান সংশোধন হতে পারে না।” 

যিনি (সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক) পঞ্চম সংশোধনী বাতিলে স্বাক্ষর করেছেন তিনি মুসলমান না কাফের তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে হান্নান শাহ বলেন, “তিনি কাফেরের থেকে খারাপ কাজ করেছেন। আলেম-ওলামাদের বলতে হবে আমরা তার জানাযা পড়াবো না।”

নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত করে সংবিধান পুনঃসংশোধন করা হবে বলেও জানান এই বিএনপি নেতা। 

এজন্য তিনি আলেম-ওলামা সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। 

জঙ্গি গ্রেফতার সরকারের নাটক উল্লেখ করে সভাপতির বক্তব্যে আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, “র‌্যাব হেড কোয়ার্টারে যে সব লোক বন্দি আছে মাঝে মধ্যে তাদের বের করে টেলিভিশনের সামনে নিয়ে আসা হয়।” 

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আমাকে গ্রেফতার করে যখন চোখ বেঁধে বন্দিশালায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সেখানে অনেক মানুষের আর্তনাদ শুনতে পেয়েছি।  সেখানে সরকারের প্রতিবাদকারীদের আটক রাখা হয়েছে।” 

মাহমুদুর রহমান দাবি করেন, বিদেশি অর্থ সাহায্যে দেশে জেএমবি তৈরি করেছিলেন সংসদ সদস্য মির্জা আজমের এক আত্মীয়। পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে বাতিল করেছেন খায়রুল হক। শুধু ইসলামকে নয়, তত্ত্বাধায়ক বাতিল করে ১৬ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা নিয়ে তিনি যে খেলা করেছেন দেশের মানুষ তা ক্ষমা করবে না।”

রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য বিচার বিভাগকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন মাহমুদুর রহমান। 

তিনি আলেমদের এদেশে তাহরীর স্কয়ার তৈরির করে রাষ্ট্রদ্রোহী, ইসলাম বিরোধী সরকারকে উৎখাতের আহ্বান জানান। 

প্রধান আলোচক হিসেবে নরসিংদী জামিয়া কাশেমিয়র হেড মুহাদ্দিস মুফতি কাজী ইব্রাহিম বক্তব্য রাখেন।

আরও বক্তব্য রাখেন চাঁদপুরের পীর খাজা শাহ আলমগীর, লেবার পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, চরমোনাই পীর রশিদ আহমেদ ফেরদৌস, ইসলামী ঐক্যজোটের সেক্রেটারি আব্দুল লতিফ নেজামী প্রমুখ।