Friday, September 21, 2012


মহানবীকে (সা.) অবমাননা করে চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রতিবাদ : বায়তুল মোকাররম এলাকায় বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের বিক্ষোভ

মহানবী হজরত মুহাম্মদকে (সা.) নিয়ে ‘ইনোসেন্স অব মুসলিম’ নামক সিনেমা তৈরির প্রতিবাদে এবং এর নির্মাতা স্যাম ভেসেলির ফাঁসির দাবিতে গতকাল রাজধানীতে বিক্ষোভ করেছে বিভিন্ন ইসলামী সংগঠন। বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেট এলাকায় ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটি, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত আন্দোলন, ছাত্র জমিয়ত ও ছাত্র মোর্চার উদ্যোগে এসব বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া রাজধানীর শাহবাগ, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ইসলামী ও সমমনা ১২ দলের উদ্যোগে পৃথক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তারা অবিলম্বে মহানবীর (সা.) অবমনানাকারী চলচ্চিত্রকারের ফাঁসি দাবি করেন। বিক্ষোভকারীরা মার্কিন পতাকায় অগ্নিসংযোগ, মার্কিন প্রেসিডেন্টের কুশপুত্তলিকা দাহ এবং মার্কিন পতাকায় মোড়ানো প্রতীকী কাফনে অগ্নিসংযোগ করেন। এ সময় ওই এলাকায় ব্যাপক পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন ছিল।
ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটি : কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয়ভাবে গতকাল বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে ইসলামী আইন বাস্তবায়ন ঢাকা মহানগর কমিটির উদ্যোগে এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ এবং মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তারা বলেন, অবিলম্বে ওই কুখ্যাত চলচ্চিত্রের নির্মাতাকে যদি ফাঁসি না দেয়া হয় এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট যদি বিশ্ব মুসলিমের কাছে প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা না করে, তাহলে গোটা বিশ্বের মুসলমানরা মার্কিন পণ্য বর্জনসহ মহানবীর (সা.) অবমাননার দাঁতভাঙা জবাব দেবে। এ সময় মার্কিন
পতাকা ও প্রেসিডেন্টের কুশপুত্তলিকা দাহ হয়। একই দাবিতে গতকাল দেশব্যাপী বিক্ষোভ দিবস পালন করে সংগঠনটি।
ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটি ঢাকা মহানগর আমির মাওলানা আবু তাহের জিহাদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী ঐক্যজোট মহাসচিব ও কমিটির নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কমিটির নায়েবে আমির মাওলানা জাফরুল্লাহ খান, মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাওলানা আবুল কাশেম, অধ্যাপক এহতেশাম সরোয়ার, মাওলানা শেখ লোকমান হোসেন, মাওলানা শেখ মজিবুর রহমান প্রমুখ।
মাওলানা নেজামী বলেন, পশ্চিমা বিশ্ব আজ মুসলমানদের বিরুদ্ধে ক্রুসেড শুরু করেছে। এই ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখলে মুসলিম বিশ্ব থেকে তোমাদের বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হবে। সমাবেশ শেষে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে শুরু করে পুরানা পল্টন, তোপখানা রোড হয়ে প্রেস ক্লাবের সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
ইসলামী আন্দোলন : ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী বলেছেন, ফ্রান্সের ম্যাগাজিনে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসলাম ধর্ম ও মহানবী হজরত মুহাম্মদের (সা.) বিরুদ্ধে অবমাননাকর সিনেমা নির্মাণ করে বিশ্বময় অশান্তির আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। মুসলমানদের অন্তরের এই জিহাদি আগুন ইঙ্গ-মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠীকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছাই করে দেবে ইনশাআল্লাহ। মহানবীর (সা.) অবমাননা বিশ্বের দেড়শ’ কোটি মুসলমান কোনোক্রমেই সহ্য করবে না।
তিনি গতকাল বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে ফ্রান্স ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মহানবী হজরত মুহাম্মদের (সা.) অবমাননা ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মিছিল-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। ইসলামী আন্দোলন ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ-পূর্ব সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ঢাকা মহানগর সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দীন। বক্তব্য রাখেন সংগঠনের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, রাজনৈতিক উপদেষ্টা অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, নগর সহ-সভাপতি আলহাজ আলতাফ হোসেন, জয়েন্ট সেক্রেটারি মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম, প্রচার সম্পাদক মাওলানা এইচএম সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
ইসলামী ও সমমনা ১২ দল : মহানবীর (সা.) অবমাননাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ও আজ পল্টনের মহাসমাবেশ সফলের আহ্বানে রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ থেকে মিছিল বের করে ইসলামী ও সমমনা ১২ দল। বাদ জুমা সারাদেশের মসজিদে মসজিদে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের অংশ হিসেবে রাজধানীর ঢাকার বিভিন্ন মসজিদ থেকে মুসল্লিরা মিছিল করে শাহবাগে জড়ো হলে ইসলামী ও সমমনা ১২ দলের নেতারা বিক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশ বলেন, মহানবীর (সা.) সম্মান হেফাজত ও ইসলাম নির্মূল চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাইকে ইমানি এ মহাসমাবেশ বাস্তবায়ন করতে হবে।
বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট আবদুল মোবিন, ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, আলমগীর মজুমদার, মাওলানা শাহ আরিফ বিল্লাহ সিদ্দিকী, অধ্যক্ষ মাওলানা মোশাররফ হোসাইন, মাওলানা আবুল হাসান, ডা. আবদুর রব, মোস্তাফিজুর রহমান, আলহাজ একরামুল হক প্রমুখ। বায়তুল মোকাররম থেকে বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্ব দেন মাওলানা জাফরুল্লাহ খান, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী প্রমুখ। যাত্রবাড়ী থেকে অধ্যক্ষ মাওলান যাইনুল আবেদীনের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। এছাড়া মিরপুর, কামরাঙ্গীরচর ও মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল বের করে সংগঠনটি।
ছাত্র জমিয়ত : ছাত্র জমিয়ত নেতারা বলেছেন, সর্বত্র আজ মুসলমানরা নির্যাতিত। ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী অপশক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে আবার ময়দানে নেমেছে। সময়ের সঠিক সিদ্ধান্ত হবে মুসলিম উম্মাহর ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন। বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক বিক্ষোভ-পূর্ব সমাবেশে তারা এসব কথা বলেন। ছাত্র জমিয়ত সভাপতি শরীফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় কার্যনিবাহী পরিষদের সদস্য মাওলানা ওয়ালী উল্লাহ আরমান, মুফতি রেদওয়ানুল বারী সিরাজী, ছাত্র জমিয়ত সহ-সভাপতি ইমরানুল বারী, সেক্রেটারী ওমর ফারুক, সাংগঠনিক সম্পাদক তোফায়েল গাজালি, মহানগর সেক্রেটারি জাকারিয়া সিদ্দিকী প্রমুখ।
ছাত্রমোর্চা : বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ করে ইসলামী ছাত্রমোর্চা ঢাকা মহানগর। বিক্ষোভ মিছিলের আগে ইসলামী ছাত্রমোর্চা ঢাকা মহানগরের সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, ৫৬ বছর বয়স্ক কুখ্যাত ইহুদিবাদী নির্মাতা স্যাম ভেসেলি দুই ঘণ্টার এই চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করে এদেশের মুসলমানের অন্তরে আঘাত হেনেছে। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন দলের সেক্রেটারি জাকারিয়া মাহমুদ, আবদুল আজিজ, নূরে আলম সিদ্দিকী, আবুল হাশেম, আবদুল মতিন, আমিনুল্লাহ, ফয়জাল প্রমুখ। মিছিলটি জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে হাইকোর্ট হয়ে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে এসে সমাপ্ত হয়।

 

Thursday, September 20, 2012


সাবেক প্রধান বিচারপতির নৈতিকতা বিরোধী ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রায় প্রত্যাখ্যান করছি


গতকাল বৃহস্পতিবার গুলশান বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য পেশ করেন দলের চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া 
o বিচারের নামে এমন রায়ের নজির খুঁজে পাওয়া যাবে না 0
o সংক্ষিপ্ত ও পূর্ণাঙ্গ রায়ে পার্থক্য অভূতপূর্ব এবং বিচারিক অসদাচরণ 0
o শপথের অধীন ছাড়া বিচারপতি রায় লিখতে কিংবা দস্তখত করতে পারেন না 0
o খায়রুল হক নিজের লেখা রায় ফিরিয়ে এনে পুনরায় লিখেছেন 0
o ক্ষমতাসীন সরকারের ইচ্ছা পূরণের জন্যই পরস্পর বিরোধী প্রস্তাব 0
o যৌক্তিক কারণেই এ রায় পক্ষপাতদুষ্ট, অগ্রহণযোগ্য ও বাতিলযোগ্য 0
o প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনকালীন সরকার বিষয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা মাত্র 0
o সংবিধান সংশোধন না করলে আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হবে 0
 তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে আপিল বিভাগের দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায় ‘প্রত্যাখ্যান' করে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও ১৮ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, এই রায়ের ভিত্তিতে আয়োজিত কোনো নির্বাচনে তারা অংশ নেবেন না এবং জনগণ নির্বাচন হতেও দেবে না। তিনি বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতির ওই রায় নৈতিকতা বিরোধী ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জনগণ কখনোই তা গ্রহণ করবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সম্পর্কে আদালত যে চূড়ান্ত রায় দিয়েছেন তা প্রধানমন্ত্রীর কথার হুবহু প্রতিধ্বনি। প্রধানমন্ত্রী যেভাবে বলে দিয়েছেন সেভাবেই রায় দেয়া হয়েছে। সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিচারের নামে এমন নিকৃষ্ট রায়ের নজির পৃথিবীর আর কোনো আদালতে খুঁজে পাওয়া যাবে না। তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরো বাড়বে। তিনি বলেন, আদালতের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় পক্ষপাতদুষ্ট, বাতিলযোগ্য এবং তা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, সংসদে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা মাত্র। প্রকৃতপক্ষে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থেকেই একটি সাজানো নির্বাচন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাঁয়তারা করছে সরকার। নির্দলীয় সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের জন্য সরকারকে সংসদে বিল তোলার আহবান জানিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, সরকার যদি সংবিধান সংশোধনের বিল পাস না করে, তাহলে চলমান আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হবে।  গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে গুলশানে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।  খালেদা জিয়া তার লিখিত বক্তব্যে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রেক্ষাপট এবং এর জন্য আওয়ামী লীগ আন্দোলনের নামে যে জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচি দিয়েছিল তা উল্লেখ করেন। 
গতকাল বিকেল ৩ টা ১৫ মিনিটে খালেদা জিয়া তার বক্তব্য শুরু করেন। তিনি প্রায় ৩৫ মিনিট বক্তব্য রাখেন।তার এ বক্তব্যের মধ্যে কমপক্ষে ৯ বার বিদ্যুৎ চলে যায়। ফলে বিরতি দিয়েই খালেদা জিয়া তার লিখিত বক্তব্য পেশ করেন। সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গনি, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, এম কে আনোয়ার, আ স ম হান্নান শাহ, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আববাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও দলের ভাইস প্রেসিডেন্ট বিচারপতি টি এইচ খান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, বিরোধী দলীয় নেতার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জানুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি


এই জানুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে মতাসীন আওয়ামী লীগ। এ জন্য একটি স্বল্পকালীন অ্যাকশান কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। জানা গেছে, অতি দ্রুততার সাথে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন দিতে চায় সরকার। বিরোধী দলের সম্ভাব্য আন্দোলন কর্মসূচির প্রস্তুতির মধ্যেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। এ মাসের শেষ দিকে অথবা নভেম্বরের শুরুতেই জাতীয় সংসদ ভেঙে দেয়ার ঘোষণা আসতে পারে। নির্দলীয় নিরপে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে বিরোধী দলের দাবির বিষয়ে পুরোপুরি না হলেও কিছুটা ছাড় দিয়েই আগাম নির্বাচনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো এ আভাস দিয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্ধারিত সময়ের আগে দেয়ার ব্যাপারে সরকারের নীতিনির্ধারক মহল একমত। নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকার তার আগের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছে। এখন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়ে নতুন ধারণা উপস্থাপন করা হচ্ছে। সে অনুযায়ী সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সংসদ ভেঙে দেয়া হবে। বুধবার জাতীয় সংসদেও প্রধানমন্ত্রী এ রকম কিছু কথা বলেছেন। তিনি এ বিষয়ে দিনণ না জানালেও তার ঘনিষ্ঠ মহলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সংবিধানের ৫৭ ও ৫৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে সংসদ ভেঙে দেয়ার অনুরোধ জানাতে পারেন। এরপর নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি বিদায়ী প্রধানমন্ত্রীকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ওই মন্ত্রিসভার আকার এবং করণীয় রাষ্ট্রপতিই নির্ধারণ করবেন। সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী সংক্রান্ত রায় অনুযায়ী বর্তমানে নির্দলীয় নিরপে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান আর কার্যকর নেই। এ কারণে মেয়াদ পূর্তির আগেই সরকার পদত্যাগ করে আগাম নির্বাচন দিয়ে সব বিতর্কের ইতি ঘটানোর চিন্তাভাবনা করছে।
কেন আগাম নির্বাচন? : সংবিধান অনুযায়ী সরকারের মেয়াদ পাঁচ বছর। সে হিসাবে বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হবে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে। কিন্তু সে পর্যন্ত এই সরকার মতায় থাকলে তাদের লাভের চেয়ে তির দিকটাই সামনে আসছে। বিভিন্নভাবে সরকারের নীতিনির্ধারকেরা হিসাব করে দেখেছেন, তাদের জনসমর্থনের পারদ দ্রুত নিম্নগামী হচ্ছে। অর্থনৈতিক েেত্র ঘোর বিশৃঙ্খলা চলছে। ব্যাংকিং খাত দেউলিয়া হওয়ার পথে। দুর্নীতি আর অদতার কথা এখন সরকারের দায়িত্বশীল লোকদেরও মুখে মুখে। শেয়ারবাজারে লুটপাট আর পদ্মা সেতু নিয়ে কেলেঙ্কারি শেষ না হতেই রাষ্ট্র মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক থেকে হলমার্ক গ্রুপের অর্থ লোপাটের মতো ঘটনাগুলো দেশের গোটা অর্থনীতিতে বিপর্যয়ের আলামত দেখাচ্ছে। সুশাসন ও মানবাধিকার প্রসঙ্গ এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের ইমেজকে তিগ্রস্ত করে চলেছে। সরকারের লোকজন এবং মন্ত্রী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দুর্নীতি নিয়ে যেসব কথা দেশে-বিদেশে আলোচিত হচ্ছে এসবের কার্যকর কোনো জবাবও তারা দিতে পারছেন না।
পাশাপাশি আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বিরোধের বিষয়টি এখন আর কারো অজানা নয়। সরকার নিজ দলের চেয়েও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে বহিরাগত হিসাবে পরিচিতদের ওপর, যারা আওয়ামী লীগের মূলধারার বাইরের শক্তি। মন্ত্রিপরিষদে এবং উপদেষ্টা হিসেবে সরকারে এদের একচ্ছত্র আধিপত্যে বিরক্ত আওয়ামী লীগের মূলধারার নেতাকর্মীরা। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী নির্বাচনে দলের ভেতরকার এই শক্তি সক্রিয় ভূমিকা না রাখার আশঙ্কা রয়েছে। সে রকমটি হলে নির্বাচনে শাসক দলের জন্য বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিরোধী দলের অবস্থা : বিরোধী দলের দুর্বল অবস্থান এবং আন্দোলনে তাদের প্রলম্বিত প্রস্তুতি আগাম নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সরকারের নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, বর্তমানে বিএনপি যে রণাত্মক ভূমিকায় রয়েছে তা থাকতে থাকতেই একটি নির্বাচনের ঘোষণা দিলে তারা আর আন্দোলনে নামার সুযোগ পাবে না। বিএনপি যদি নির্দলীয় সরকারের দাবিতে অনড় অবস্থান বজায় রাখে তবে তাদের ছাড়াই নির্বাচন দেয়া হবে। সে নির্বাচনে সরকার সমর্থক অন্যান্য দল অংশ নেবে। এ ব্যাপারে জাতীয় পার্টি ও অন্যান্য সমমনা দলের সাথে সরকারের একটি সমঝোতাও হয়েছে। সরকারের অনিয়ম ও দুর্নীতির যে বিষয়গুলো বিরোধী দল পুঁজি করে প্রচারণা চালাচ্ছে সে অবস্থায় তাদের নির্বাচনে শরিক করে ঝামেলা বাড়াতে চাইছে না সরকার। সরকারের কাছে যেটাকে সবচেয়ে বড় যুক্তি হিসেবে মনে করা হচ্ছে তা হলো বিরোধীরা আন্দোলনের যে হুমকিই দিক না কেন, বাস্তবে সে সামর্থ্য তাদের নেই। নির্বাচন ঠেকানোর মতো সামর্থ্যও বিরোধী দলের নেই বলে সরকারপক্ষীয়দের ধারণা। আগাম নির্বাচন দিলে বিরোধী দল বিভক্তও হয়ে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে, যা সরকারের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে। সরকারের একাধিক সংস্থা প্রধান বিরোধী দল বিএনপির সহযোগী শক্তি হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকেই মনে করে থাকে। বর্তমানে জামায়াত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের বিষয়েই ব্যস্ত। স্বাভাবিকভাবে সাংগঠনিক কাজ করার সামর্থ্য এখন তাদের সীমিত। এ অবস্থায় নির্বাচন হলে দল দু’টির মধ্যে ব্যবধান বাড়বে বলে সরকারের বিশ্বাস। এ ছাড়া বিএনপির আগের মেয়াদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলনের সময় বিরোধী দলের দাবি মানতে বেগম খালেদা জিয়াকে তার পরামর্শকেরা অনুরোধ করেছিলেন। তেমনিভাবে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দিকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে কিছুটা আগাম নির্বাচন দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। সেসব পরামর্শ উপো করার পরিণতি ভালো হয়নি বলেই বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন। আরো খারাপ পরিণতির আগেই তাই নির্বাচন দেয়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
বিদেশীদের দূতিয়ালি : উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের েেত্র বর্তমান সরকার একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার নীতি গ্রহণ করেছিল। কিন্তু সম্প্রতি সেই ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের ব্যত্যয় দেখা যাচ্ছে। নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে বিরূপ আচরণের কারণে শক্তিশালী দাতা ও সাহায্য সংস্থাগুলো সরকারের ওপর বিরক্ত। এসব সংস্থার অভিভাবক হিসেবে পরিচিতির শক্তিগুলোও বাংলাদেশে মতার পালাবদলে অবাধ ও নিরপে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প।ে সরকারকে তারা বিভিন্নভাবে বিষয়টি জানিয়েও দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের মতার রাজনীতিতে নাক গলানো প্রভাবশালী একটি দেশের সাথে সখ্যের জোরে সরকার সেই শক্তিগুলোর সাথে দরকষাকষি করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থ ছাড় এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রশ্নে সরকার তাই নিজেদের অবস্থান ণে ণে পরিবর্তন করছে। তারা এখন মনে করছে পদত্যাগ করে আগাম নির্বাচন দিলে এক ঢিলে দুই পাখিই মারা যাবে। যতদূর জানা গেছে, এ বিষয়ে প্রতিবেশী দেশের সাথে কোনোরকম সমঝোতা প্রতিষ্ঠার জন্য নেপথ্যে তৎপরতা চলছে।
সরকারের প্রস্তুতি : আগাম নির্বাচনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতিই সরকার নিচ্ছে। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সাথে সচিবদের বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের সচিব বলেছেন, বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তা সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপে হবে। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, এই সরকারের আমলে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে তার সবই অবাধ ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে। কাজেই এই সরকারের অধীনেই নির্বাচন নিরপে ও অবাধ হওয়া সম্ভব। গত সোমবার আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনারও বলেছেন, তারা আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রস্তুত।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সরকারের ভেতরে বর্তমানে নির্বাচন প্রস্তুতি জোরালোভাবে শুরু হয়েছে। সব কাজেই দ্রুততার সাথে তারা এগোচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রশাসনে কয়েক দফা পরিবর্তন আনা হয়েছে। সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, উপসচিব, জেলা প্রশাসক পদে অনেক ওলট পালট করা হয়েছে। সরকারের অতীব আস্থা ও বিশ্বাসভাজন হওয়া সত্ত্বেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। পুলিশ বাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পরিবর্তন আসন্ন বলে জানা গেছে। মাঠপর্যায়েও পুলিশে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বেসামরিক পর্যায়ে এসব পরিবর্তনকে রুটিনমাফিক বলা হলেও তা আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি সামনে রেখেই করা হচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, সচিবদের সাথে বিশেষ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত উপস্থিত ছিলেন। সেখানে নির্বাচনমুখী কথাবার্তাই প্রাধান্য পায়। সচিবরা দু’টি দাবির কথা বলেছেন। এর একটি হচ্ছে সরকারি কর্মকর্তাদের আদালত অবমাননার আইন সংশোধন করে তাদের জন্য দায়মুক্তির বিধান এবং অন্যটি তাদের বেতন বৃদ্ধি। প্রধানমন্ত্রী সেখানে কোনো প্রতিশ্র“তি দেননি। তবে সচিবদের অনেকে প্রধানমন্ত্রীকে তুষ্ট করার মতো কথাবার্তাই বলেছেন।
এ দিকে সদ্য মন্ত্রিপরিষদে যে পরিবর্তন এসেছে সেখানে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা তোফায়েল আহমেদ যোগ দিতে অসম্মত হওয়ার পরও তাকে আবার কেবিনেটে আনার চিন্তাভাবনা চলছে। তোফায়েলকে দলের প্রেসিডিয়ামের সদস্য করে উপদেষ্টা পদমর্যাদা অথবা পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে কেবিনেটে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

আবারও বাড়ল বিদ্যুতের দাম










বাড়তি বিদ্যুত্ বিলের খড়্গ আবার নেমে এসেছে গ্রাহকদের ঘাড়ে। গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম আরও ১৫ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে গ্রাহকদের এ বাড়তি দাম দিতে হবে। বিদ্যুতের পাইকারি দামও বাড়ানো হয়েছে ১৭ শতাংশ।
সরকারি এ সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেন গ্রামাঞ্চলের গ্রাহকরা। পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির (আরইবি) গ্রাহকরা তিনশ ইউনিটের বেশি ব্যবহার করলেই মূল এককের প্রায় দ্বিগুণ বিল দিতে হবে। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি ধাপ পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগের তিনটি ধাপ ভেঙে এখন ৬টি ধাপ করা হয়েছে।
এদিকে বর্তমান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ পর্যন্ত ছয়বার দাম বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে গত মার্চ মাস থেকে ধাপ পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে বিদ্যুতের দাম ক্ষেত্রবিশেষ তিনগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বারবার বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের গ্রাহক। তারা বলেন, দুর্নীতি ও অপব্যয়ের কারণে দেশের ভেঙে পড়া অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সরকার বিদ্যুত্ বিল বাড়িয়েছে। গ্রাহকদের গলা কেটে টাকা নিয়ে সরকার লুটপাটের মাধ্যমে আত্মসাত্ করেছে।
ষষ্ঠবারের মতো দাম বৃদ্ধি : গতকাল বিইআরসি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দেন চেয়ারম্যান সৈয়দ ইউসুফ হোসেন। এ সময় কমিশনের অপর সদস্য ড. সেলিম মাহমুদ, প্রকৌশলী মো. এমদাদুল হক ও দেলোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেয়া হয়েছে, গ্রাহক পর্যায়ে খুচরা দাম ১৫ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটে গড় খুচরা মূল্য ৫ টাকা থেকে বেড়ে হলো ৫ টাকা ৭৫ পয়সা। পাইকারি দাম ৪ টাকা দুই পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়াল ৪ টাকা ৭০ পয়সা।
দাম বৃদ্ধি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, গ্রাহকদের পাশাপাশি সরকারের বিষয়টিও আমাদের দেখতে হয়। দাম বৃদ্ধি না করলে বিদ্যুত্ উত্পাদন ব্যাহত হবে। লোডশেডিং থেকে বাঁচাতেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হচ্ছে বলে জানান তিনি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সময় বিদ্যুতের দাম আর বাড়বে না।
বারবার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে জনগণের জীবনকে দূর্বিষহ করে তোলার দায় বিইআরসি নেবে কি না—সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ ইউসুফ হোসেন বলেন, সরকার আরও বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। আমরা অনেক হিসাব-নিকাশ করেই সহনীয়ভাবে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছি। আশা করছি, জনগণ এটা মেনে নেবে।
চেয়ারম্যানের উদ্দেশে এক সাংবাদিক প্রশ্ন রেখে বলেন, কথিত আছে নিজাম ডাকাত একসময় ধনীদের বাড়ি লুট করে গরিব ও অসহায় লোকদের মধ্যে বিলিয়ে দিত; কিন্তু আপনি বারবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর নামে গরিবদের গলা কেটে সরকারের হাতে টাকা তুলে দিচ্ছেন। গরিবদের আশীর্বাদে নিজাম ডাকাত নিজামউদ্দিন আউলিয়া হতে পারলে গরিবদের বদদোয়ায় আপনি কী হবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা গরিবদের গলা কাটি না। ধাপ পদ্ধতিতে কিছুটা পরিবর্তন করায় সবাই বিপাকে পড়েছিল। এখন ঠিক করে ফেলেছি। আমাদের একটু ভুল হয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন, আমি কোথাও গেলে সবাই আমাকে ধরে বলত, কী ভাই, এক হাজার টাকার বিল এখন চার হাজার টাকা দিতে হয়। এ নিয়ে আমিও বিপাকে পড়তাম।
ছয় ধাপ : প্রথম ধাপে শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত আরইবির গ্রাহকদের জন্য ইউনিটপ্রতি ৩ টাকা ৬৬ পয়সা এবং অন্য সব সংস্থার গ্রাহকদের জন্য ৩ টাকা ৩৩ পয়সা। দ্বিতীয় ধাপে ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত আরইবিতে দাম পড়বে ৪ টাকা ৩৭ পয়সা এবং অন্যান্য সংস্থার গ্রাহকের জন্য দাম পড়বে ৪ টাকা ৭৩ পয়সা। তৃতীয় ধাপে ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত আরইবির গ্রাহকদের জন্য ইউনিটপ্রতি দাম ৪ টাকা ৫১ পয়সা এবং অন্য সব সংস্থার গ্রাহকের জন্য ৪ টাকা ৮৩ পয়সা। চতুর্থ ধাপে ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিট পর্যন্ত আরইবির গ্রাহকদের জন্য ৭ টাকা ১০ পয়সা এবং অন্য সংস্থার গ্রাহকদের জন্য ৪ টাকা ৯৩ পয়সা। পঞ্চম ধাপে ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিট পর্যন্ত আরইবির গ্রাহকদের জন্য ৭ টাকা ৪০ পয়সা এবং অন্যান্য সংস্থার গ্রাহকের জন্য পড়বে ৭ টাকা ৯৮ পয়সা। ষষ্ঠ ধাপে ৬০০ ইউনিট থেকে শুরু করে এর বেশি বিদ্যুত্ ব্যবহারের জন্য আরইবিসহ সব সংস্থার গ্রাহকের ইউনিটপ্রতি দাম পড়বে ৯ টাকা ৩৮ পয়সা। সব গ্রাহকই এই ধাপ সুবিধা পাবেন বলে জানান বিইআরসি চেয়ারম্যান।
ছয়বার দাম বাড়িয়ে রেকর্ড সৃষ্টি : বর্তমান সরকার ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে শুধু আরইবি গ্রাহকদের বিদ্যুতের মূল্য ৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ বাড়ায়। এরপর ২০১০ সালের মার্চে আরইবি ছাড়া অন্যান্য সংস্থার গ্রাহকের গড়ে ৬ দশমিক ৩২ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়। ১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে শতকরা ৫ ভাগ খুচরা দাম বাড়ানো হয়। একই বছরের ডিসেম্বর মাসে ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ বাড়ানো হয়। চলতি বছরে ফেব্রুয়ারি মাসে ৭ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ, ১ মার্চ ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং সর্বশেষ গতকাল খুচরা দাম আরও ১৫ শতাংশ বাড়ানো হয়।
প্রতিবাদ : বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির নিন্দা ও প্রতিবাদ করেছে ব্যবসায়ী সংগঠন ও বিভিন্ন পর্যায়ের গ্রাহক। এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ায় রফতানিমুখী শিল্পের জন্য সমস্যার সৃষ্টি হবে; উন্নয়ন ও উত্পাদন ব্যাহত করবে। তিনি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেন।
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ঘোষণায় টেলিফোনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে আবুল কাশেম বলেন, ভাই একটু লেখেন। আমরা আর পারছি না। সরকার পাইছে কী? যখন-তখন বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। আসলে চুরি-চামারির টাকা জোগাড় করতেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হচ্ছে।