Saturday, September 29, 2012
Friday, September 28, 2012
বিশ্বব্যাংকের সংস্কার চাইলেন শেখ হাসিনা : বিএনপি-জামায়াতের মদদে জঙ্গিবাদ বিস্তারের অভিযোগ
বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ বহুজাতিক দাতা সংস্থাগুলোর সংস্কারের আহ্বান
জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পদ্মা সেতু কেলেঙ্কারি নিয়ে বর্তমান
সরকারের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের টানাপড়েনের মধ্যেই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের
ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান। পাশাপাশি জাতিসংঘের সংস্কারেরও দাবি করেন
প্রধানমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার) নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বিশ্বনেতাদের এই সভায় ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদে মদত দেয়ার অভিযোগ তোলেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশে সংঘটিত কয়েকটি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের কাছে নালিশ জানালেন যে, দেশ থেকে অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল এবং তাদের নেতাকর্মীদের নিশ্চিহ্ন করার জন্যই বিএনপি-জামায়াত জোট এসব বোমা হামলা ঘটিয়েছে। বহুল আলোচিত একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনাও জাতিসংঘে তুলেছেন তিনি।
ভাষণে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি জাতিসংঘের অধিকাংশ সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে জাতিসংঘ, ব্রেটন উডস্ ইনস্টিটিউশনস্ ও অন্যান্য বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান সংস্কারের বিষয়ে পুনরায় গুরুত্ব আরোপ করছি।’ সংস্কারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এসব প্রতিষ্ঠানের কাঠামো ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ৬০ বছরের পুরনো ক্ষমতার সমীকরণের প্রতিফলন। অধিকাংশ দেশের স্বার্থ উপেক্ষিত থাকে এবং কয়েকটি বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত দেশের স্বার্থ রক্ষা হয়।’
উল্লেখ্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর সময়ে বিশ্ব অর্থনীতিকে পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে জাতিসংঘ আয়োজিত ‘ব্রেটন উডস্ কনফারেন্স’ নামের এক সম্মেলনে ১৯৪৪ সালে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৭তম অধিবেশনে ভাষণ দানকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাবার হত্যাকাণ্ড, পরিবারের ১৮ জন সদস্যকে হত্যা এবং তাদের দু’বোনের বেঁচে যাওয়ার ঘটনা উল্লেখ করেন। এসব বোমাবাজি ও হত্যাকাণ্ডের কারণেই তার সরকার সন্ত্রাস ও সব ধরনের চরমপন্থার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বলেও বিশ্বনেতাদের জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ইসরাইলের নগ্ন অবিচার, হত্যা, নির্যাতন ও অবমাননাকে মানব ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করে এসব ঘটনা সন্ত্রাসবাদকে উসকে দিচ্ছে বলে মতপ্রকাশ করেন। ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ফিলিস্তিনি সমস্যা ও একই ধরনের জ্বলন্ত ইস্যুগুলোর আশু সমাধান জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সন্ধ্যা ৭টা ১২ মিনিট থেকে ৭টা ৩৫ পর্যন্ত বাংলায় ২৩ মিনিটের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের বিভিন্ন বিষয়ে সাফল্য দাবি করে বলেন, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশন শক্তিশালী করেছি। জনগণের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে মানবাধিকার, জবাবদিহিতা, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সংখ্যালঘুদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং আঞ্চলিক মাল্টি-মোডাল সংযোগ নিয়ে অগ্রসর হচ্ছি। নির্বাচন কমিশন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হওয়ায় এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ৫ হাজার ১৮২টি নির্বাচন সম্পূর্ণ অবাধ ও বিশ্বাসযোগ্য হয়েছে বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে মিডিয়া এখন সম্পূর্ণ স্বাধীন। এ প্রসঙ্গে তিনি দেশে কতটি টিভি চ্যানেল, বার্তা সংস্থা, পত্রিকা, এফএম রেডিও এবং কমিউনিটি রেডিও স্টেশন রয়েছে তারও পরিসংখ্যান জাতিসংঘে পেশ করেন। রীতি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ তাত্ক্ষণিক ইংরেজিতে অনুবাদ করা হয় যা এয়ারফোনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা শুনতে পান।
ভাষণের সময় বাংলাদেশ থেকে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়ে আসা শতাধিক প্রতিনিধি ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা দর্শক-শ্রোতার সারিতে বসে মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে অভিনন্দিত করেন। তবে জাতিসংঘের মতো ফোরামে প্রদত্ত ভাষণে জনসভার বক্তৃতার আদলে নজিরবিহীনভাবে নিজ দেশের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নাম ধরে বিষোদ্গার করা, সরকারের ‘সাফল্যে’র ফিরিস্তি দেয়ার সমালোচনা করতে শোনা গেছে অধিবেশনের সংবাদ সংগ্রহ করতে আসা বাংলাদেশী সাংবাদিকসহ অনেককে। এর আগে কখনোই এমন ঘটনা ঘটেনি বলে উল্লেখ করেন বহুবার জাতিসংঘ অধিবেশনের সংবাদ কভারকারী নিউইয়র্কে কর্মরত বাংলাদেশী একাধিক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক।
এদিকে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ উপলক্ষে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে জাতিসংঘ সদর দফতরের কাছে বিক্ষোভ করেছে বিএনপি। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এ বিক্ষোভকালে বিএনপি নেতাকর্মীরা ‘চোর চোর বিশ্বচোর, শেখ হাসিনার গোষ্ঠী চোর’, ‘হাসিনা চোর রেহানা চোর—শেখ হাসিনার গোষ্ঠী চোর’, ‘জয় চোর পুতুল চোর—শেখ হাসিনার গোষ্ঠী চোর’, ‘পদ্মা সেতুর টাকা চোর’, ‘সোনালী ব্যাংকের টাকা চোর’ ‘শেভরনের ঘুষখোর’ ইত্যাদি স্লোগানে গোটা এলাকা প্রকম্পিত করে তোলেন। অন্যদিকে অদূরেই কিছু সময়ের জন্য আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে মিছিল-সমাবেশ করেন। উভয়পক্ষ যাতে মুখোমুখি না হয়, সেজন্য বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী ভাষণ শেষে ম্যানহাটনের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে প্রবেশের সময় আল্লামা সাঈদী মুক্তি পরিষদের নামে হোটেলের সামনে বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী ফিলিস্তিনে হত্যা-নির্যাতনের প্রতিবাদের সঙ্গে যুক্ত করে বিএনপি-জামায়াতের বিগত শাসনে জঙ্গিবাদ বিস্তারের অভিযোগ করতে গিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশও ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত সন্ত্রাসীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছিল। তখন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের প্রত্যক্ষ মদতে আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ জেএমবি, হরকাতুল জিহাদ, হিযবুত তাহ্রীর, লস্কর-ই-তৈয়বাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী প্রায় প্রতিদিনই বোমা ও গ্রেনেড হামলা চালাত। এসব হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল দেশ থেকে অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল এবং তাদের নেতাকর্মীদের নিশ্চিহ্ন করা। এসব সন্ত্রাসী হামলার মধ্যে আছে, ২০০২ সালের ৫ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের পাঁচটি সিনেমা হলে বোমা হামলায় ১৯ জন নিহত, ২০০৪ সালের ২১ মে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ওপর গ্রেনেড হামলা, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট আধাঘণ্টায় দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬৩ জেলার পাঁচশ’ স্থানে বোমা বিস্ফোরণ। গ্রেনেড ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে আমাদের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী ও এসকাপের প্রাক্তন নির্বাহী পরিচালক এসএএমএস কিবরিয়া এমপি, শ্রমিক নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টার এমপি, মমতাজ উদ্দিন এমপি ও কোর্ট চত্বরে দু’জন জনপ্রিয় বিচারক হত্যা।’
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমিও ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর এক ভয়াবহ গ্রেনেড আক্রমণের শিকার হই। তখন আমি ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ওপর গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দিচ্ছিলাম। এতে ২৪ জন নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। প্রায় পাঁচশ’ জন আহত হয়েছেন। আমি অলৌকিকভাবে বেঁচে যাই।’
শেখ হাসিনা সব দেশে শ্রমিকের অবাধ চলাচল নিশ্চিতের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার কথা বলেন। শ্রমিক প্রেরণকারী ও গ্রহণকারী দেশগুলোর সুবিধা নিশ্চিতে ডব্লিউটিও’র চুক্তি জিএটিএস দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদও দেন তিনি। তিনি বলেন, নিরাপদ অভিবাসন এবং নারীসহ অভিবাসী কর্মজীবীদের অধিকার সংরক্ষণে অভিবাসী প্রেরণকারী ও গ্রহণকারী দেশগুলোর যৌথ দায়িত্ব ডব্লিউটিও নীতির অংশ করা উচিত।
শেখ হাসিনা মনে করেন, নতুন সহস্রাব্দে বেশকিছু রাষ্ট্র এবং বিশ্বায়ন একটি পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থা গড়ার সুযোগ এনে দিয়েছে। জাতিসংঘে উপস্থিত বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান বলেন, ‘আজ আমরা ন্যায়বিচার, সমতা, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, মানবাধিকার, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের কথা দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারছি। এ সবই আমাদের অগ্রাধিকার। এজন্য অতীতের অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতা ভুলে সবাইকে এক লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।
জাতিসংঘের ৬৭তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনা শুরুতেই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৬৬তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দেয়ার জন্য নাসির আবদুল আজিজ আল-নাসেরকে এবং জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুনকে ধন্যবাদ জানান। বিশ্ব গণজাগরণ, আন্তঃদেশীয় সংঘর্ষ, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ, বৈশ্বিক আর্থিক সঙ্কট, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন, সন্ত্রাসবাদের মতো সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে জাতিসংঘের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা এবারের আলোচনার মূল প্রতিপাদ্য ‘শান্তিপূর্ণ উপায়ে আন্তর্জাতিক বিরোধ বা পরিস্থিতি নিষ্পত্তিকরণ’-এর প্রশংসা করেন।
শেখ হাসিনা তার বাবা শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করে বলেন, ‘আজ থেকে ৩৮ বছর আগে এ মঞ্চে দাঁড়িয়েই ‘সকলের প্রতি বন্ধুত্ব, কারো প্রতি বৈরিতা নয়’, ‘সকল বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান’, ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বলপ্রয়োগের অবসান’ এবং ‘বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় অবদান’-এর ঘোষণা দিয়েছিলেন।’ বাবার এই নীতিই তাকে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি সম্পাদনে এবং ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে বর্ডার গার্ড বিদ্রোহ সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রেরণা জুগিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। সমুদ্রসীমা নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের ৪১ বছরের পুরনো বিরোধের শান্তিপূর্ণ মীমাংসার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
ভাষণে শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমাদের উন্নয়ন উদ্যোগগুলো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে দারিদ্র্য, সম্পদহানি ও মানব স্থানচ্যুতি হচ্ছে, যা সন্ত্রাসবাদকে উসকে দিচ্ছে। সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে স্থানচ্যুত অভিবাসীরা গণআন্দোলন সৃষ্টি করতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি একটি নতুন ‘আইনগত ব্যবস্থা’ গ্রহণের তাগিদ দেন যা জলবায়ু অভিবাসীদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা ও অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ইত্যাদি কর্মকাণ্ডের জন্য ‘গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডে’র দ্রুত বাস্তবায়নেরও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বনেতাদের তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ব্যাপক অশান্তির সৃষ্টি করতে পারে, যা স্বল্পোন্নত দেশগুলোর ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এজন্য উন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বের বাজারে এলডিসি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার এবং ওডিএ প্রতিশ্রুতি পূরণ জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শান্তির প্রতি আমাদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের আরেকটি প্রমাণ হচ্ছে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে আমরা অন্যতম সর্বাধিক শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ। তার ভাষায়, একমাত্র ন্যায়বিচারের মাধ্যমেই শান্তি নিশ্চিত করা সম্ভব, যা উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণতন্ত্রের পর্যায়ক্রমিক অনুপস্থিতিকে সামাজিক অবিচার, দারিদ্র্য, বৈষম্য, বঞ্চনা এবং অসহায়ত্বের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটি চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদের জন্ম দেয়।’
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার) নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বিশ্বনেতাদের এই সভায় ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদে মদত দেয়ার অভিযোগ তোলেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশে সংঘটিত কয়েকটি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের কাছে নালিশ জানালেন যে, দেশ থেকে অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল এবং তাদের নেতাকর্মীদের নিশ্চিহ্ন করার জন্যই বিএনপি-জামায়াত জোট এসব বোমা হামলা ঘটিয়েছে। বহুল আলোচিত একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনাও জাতিসংঘে তুলেছেন তিনি।
ভাষণে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি জাতিসংঘের অধিকাংশ সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে জাতিসংঘ, ব্রেটন উডস্ ইনস্টিটিউশনস্ ও অন্যান্য বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান সংস্কারের বিষয়ে পুনরায় গুরুত্ব আরোপ করছি।’ সংস্কারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এসব প্রতিষ্ঠানের কাঠামো ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ৬০ বছরের পুরনো ক্ষমতার সমীকরণের প্রতিফলন। অধিকাংশ দেশের স্বার্থ উপেক্ষিত থাকে এবং কয়েকটি বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত দেশের স্বার্থ রক্ষা হয়।’
উল্লেখ্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর সময়ে বিশ্ব অর্থনীতিকে পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে জাতিসংঘ আয়োজিত ‘ব্রেটন উডস্ কনফারেন্স’ নামের এক সম্মেলনে ১৯৪৪ সালে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৭তম অধিবেশনে ভাষণ দানকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাবার হত্যাকাণ্ড, পরিবারের ১৮ জন সদস্যকে হত্যা এবং তাদের দু’বোনের বেঁচে যাওয়ার ঘটনা উল্লেখ করেন। এসব বোমাবাজি ও হত্যাকাণ্ডের কারণেই তার সরকার সন্ত্রাস ও সব ধরনের চরমপন্থার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বলেও বিশ্বনেতাদের জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ইসরাইলের নগ্ন অবিচার, হত্যা, নির্যাতন ও অবমাননাকে মানব ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করে এসব ঘটনা সন্ত্রাসবাদকে উসকে দিচ্ছে বলে মতপ্রকাশ করেন। ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ফিলিস্তিনি সমস্যা ও একই ধরনের জ্বলন্ত ইস্যুগুলোর আশু সমাধান জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সন্ধ্যা ৭টা ১২ মিনিট থেকে ৭টা ৩৫ পর্যন্ত বাংলায় ২৩ মিনিটের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের বিভিন্ন বিষয়ে সাফল্য দাবি করে বলেন, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশন শক্তিশালী করেছি। জনগণের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে মানবাধিকার, জবাবদিহিতা, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সংখ্যালঘুদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং আঞ্চলিক মাল্টি-মোডাল সংযোগ নিয়ে অগ্রসর হচ্ছি। নির্বাচন কমিশন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হওয়ায় এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ৫ হাজার ১৮২টি নির্বাচন সম্পূর্ণ অবাধ ও বিশ্বাসযোগ্য হয়েছে বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে মিডিয়া এখন সম্পূর্ণ স্বাধীন। এ প্রসঙ্গে তিনি দেশে কতটি টিভি চ্যানেল, বার্তা সংস্থা, পত্রিকা, এফএম রেডিও এবং কমিউনিটি রেডিও স্টেশন রয়েছে তারও পরিসংখ্যান জাতিসংঘে পেশ করেন। রীতি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ তাত্ক্ষণিক ইংরেজিতে অনুবাদ করা হয় যা এয়ারফোনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা শুনতে পান।
ভাষণের সময় বাংলাদেশ থেকে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়ে আসা শতাধিক প্রতিনিধি ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা দর্শক-শ্রোতার সারিতে বসে মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে অভিনন্দিত করেন। তবে জাতিসংঘের মতো ফোরামে প্রদত্ত ভাষণে জনসভার বক্তৃতার আদলে নজিরবিহীনভাবে নিজ দেশের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নাম ধরে বিষোদ্গার করা, সরকারের ‘সাফল্যে’র ফিরিস্তি দেয়ার সমালোচনা করতে শোনা গেছে অধিবেশনের সংবাদ সংগ্রহ করতে আসা বাংলাদেশী সাংবাদিকসহ অনেককে। এর আগে কখনোই এমন ঘটনা ঘটেনি বলে উল্লেখ করেন বহুবার জাতিসংঘ অধিবেশনের সংবাদ কভারকারী নিউইয়র্কে কর্মরত বাংলাদেশী একাধিক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক।
এদিকে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ উপলক্ষে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে জাতিসংঘ সদর দফতরের কাছে বিক্ষোভ করেছে বিএনপি। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এ বিক্ষোভকালে বিএনপি নেতাকর্মীরা ‘চোর চোর বিশ্বচোর, শেখ হাসিনার গোষ্ঠী চোর’, ‘হাসিনা চোর রেহানা চোর—শেখ হাসিনার গোষ্ঠী চোর’, ‘জয় চোর পুতুল চোর—শেখ হাসিনার গোষ্ঠী চোর’, ‘পদ্মা সেতুর টাকা চোর’, ‘সোনালী ব্যাংকের টাকা চোর’ ‘শেভরনের ঘুষখোর’ ইত্যাদি স্লোগানে গোটা এলাকা প্রকম্পিত করে তোলেন। অন্যদিকে অদূরেই কিছু সময়ের জন্য আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে মিছিল-সমাবেশ করেন। উভয়পক্ষ যাতে মুখোমুখি না হয়, সেজন্য বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী ভাষণ শেষে ম্যানহাটনের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে প্রবেশের সময় আল্লামা সাঈদী মুক্তি পরিষদের নামে হোটেলের সামনে বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী ফিলিস্তিনে হত্যা-নির্যাতনের প্রতিবাদের সঙ্গে যুক্ত করে বিএনপি-জামায়াতের বিগত শাসনে জঙ্গিবাদ বিস্তারের অভিযোগ করতে গিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশও ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত সন্ত্রাসীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছিল। তখন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের প্রত্যক্ষ মদতে আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ জেএমবি, হরকাতুল জিহাদ, হিযবুত তাহ্রীর, লস্কর-ই-তৈয়বাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী প্রায় প্রতিদিনই বোমা ও গ্রেনেড হামলা চালাত। এসব হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল দেশ থেকে অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল এবং তাদের নেতাকর্মীদের নিশ্চিহ্ন করা। এসব সন্ত্রাসী হামলার মধ্যে আছে, ২০০২ সালের ৫ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের পাঁচটি সিনেমা হলে বোমা হামলায় ১৯ জন নিহত, ২০০৪ সালের ২১ মে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ওপর গ্রেনেড হামলা, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট আধাঘণ্টায় দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬৩ জেলার পাঁচশ’ স্থানে বোমা বিস্ফোরণ। গ্রেনেড ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে আমাদের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী ও এসকাপের প্রাক্তন নির্বাহী পরিচালক এসএএমএস কিবরিয়া এমপি, শ্রমিক নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টার এমপি, মমতাজ উদ্দিন এমপি ও কোর্ট চত্বরে দু’জন জনপ্রিয় বিচারক হত্যা।’
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমিও ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর এক ভয়াবহ গ্রেনেড আক্রমণের শিকার হই। তখন আমি ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ওপর গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দিচ্ছিলাম। এতে ২৪ জন নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। প্রায় পাঁচশ’ জন আহত হয়েছেন। আমি অলৌকিকভাবে বেঁচে যাই।’
শেখ হাসিনা সব দেশে শ্রমিকের অবাধ চলাচল নিশ্চিতের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার কথা বলেন। শ্রমিক প্রেরণকারী ও গ্রহণকারী দেশগুলোর সুবিধা নিশ্চিতে ডব্লিউটিও’র চুক্তি জিএটিএস দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদও দেন তিনি। তিনি বলেন, নিরাপদ অভিবাসন এবং নারীসহ অভিবাসী কর্মজীবীদের অধিকার সংরক্ষণে অভিবাসী প্রেরণকারী ও গ্রহণকারী দেশগুলোর যৌথ দায়িত্ব ডব্লিউটিও নীতির অংশ করা উচিত।
শেখ হাসিনা মনে করেন, নতুন সহস্রাব্দে বেশকিছু রাষ্ট্র এবং বিশ্বায়ন একটি পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থা গড়ার সুযোগ এনে দিয়েছে। জাতিসংঘে উপস্থিত বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান বলেন, ‘আজ আমরা ন্যায়বিচার, সমতা, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, মানবাধিকার, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের কথা দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারছি। এ সবই আমাদের অগ্রাধিকার। এজন্য অতীতের অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতা ভুলে সবাইকে এক লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।
জাতিসংঘের ৬৭তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনা শুরুতেই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৬৬তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দেয়ার জন্য নাসির আবদুল আজিজ আল-নাসেরকে এবং জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুনকে ধন্যবাদ জানান। বিশ্ব গণজাগরণ, আন্তঃদেশীয় সংঘর্ষ, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ, বৈশ্বিক আর্থিক সঙ্কট, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন, সন্ত্রাসবাদের মতো সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে জাতিসংঘের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা এবারের আলোচনার মূল প্রতিপাদ্য ‘শান্তিপূর্ণ উপায়ে আন্তর্জাতিক বিরোধ বা পরিস্থিতি নিষ্পত্তিকরণ’-এর প্রশংসা করেন।
শেখ হাসিনা তার বাবা শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করে বলেন, ‘আজ থেকে ৩৮ বছর আগে এ মঞ্চে দাঁড়িয়েই ‘সকলের প্রতি বন্ধুত্ব, কারো প্রতি বৈরিতা নয়’, ‘সকল বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান’, ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বলপ্রয়োগের অবসান’ এবং ‘বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় অবদান’-এর ঘোষণা দিয়েছিলেন।’ বাবার এই নীতিই তাকে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি সম্পাদনে এবং ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে বর্ডার গার্ড বিদ্রোহ সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রেরণা জুগিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। সমুদ্রসীমা নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের ৪১ বছরের পুরনো বিরোধের শান্তিপূর্ণ মীমাংসার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
ভাষণে শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমাদের উন্নয়ন উদ্যোগগুলো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে দারিদ্র্য, সম্পদহানি ও মানব স্থানচ্যুতি হচ্ছে, যা সন্ত্রাসবাদকে উসকে দিচ্ছে। সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে স্থানচ্যুত অভিবাসীরা গণআন্দোলন সৃষ্টি করতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি একটি নতুন ‘আইনগত ব্যবস্থা’ গ্রহণের তাগিদ দেন যা জলবায়ু অভিবাসীদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা ও অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ইত্যাদি কর্মকাণ্ডের জন্য ‘গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডে’র দ্রুত বাস্তবায়নেরও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বনেতাদের তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ব্যাপক অশান্তির সৃষ্টি করতে পারে, যা স্বল্পোন্নত দেশগুলোর ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এজন্য উন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বের বাজারে এলডিসি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার এবং ওডিএ প্রতিশ্রুতি পূরণ জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শান্তির প্রতি আমাদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের আরেকটি প্রমাণ হচ্ছে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে আমরা অন্যতম সর্বাধিক শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ। তার ভাষায়, একমাত্র ন্যায়বিচারের মাধ্যমেই শান্তি নিশ্চিত করা সম্ভব, যা উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণতন্ত্রের পর্যায়ক্রমিক অনুপস্থিতিকে সামাজিক অবিচার, দারিদ্র্য, বৈষম্য, বঞ্চনা এবং অসহায়ত্বের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটি চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদের জন্ম দেয়।’
নির্দলীয় সরকার পুনর্বহাল না হলে ১/১১-র চেয়েও ভয়াবহ অবস্থা হতে পারে : ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া
নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন না হলে ওয়ান-ইলেভেনের চেয়েও
ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে বলে সরকারকে হুশিয়ার করেছেন বিএনপির স্থায়ী
কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া।
‘দেশ আর এক-এগারোতে ফিরে যেতে চায় না’—নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় গতকাল সকালে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের পরের সরকার তত্ত্বাবধায়ক ছিল না, তা ছিল সেনা সমর্থিত সরকার। তাই ওই সময়ের অবস্থা আর যাতে না হয়, সেজন্য অবিলম্বে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের দাবি মেনে নিন। নইলে এক-এগারোর চেয়ে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। আমরা গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক শাসন বলবত্ রাখতে চাই। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদ শেষে লগি-বৈঠা দিয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস সৃষ্টি ও সব শেষে নির্বাচন বর্জনে দেশে রাজনৈতিক অচলাবস্থার সৃষ্টি হলে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনাবাহিনীর সমর্থনে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয় ড. ফখরুদ্দীন নেতৃত্বাধীন সরকার। ওই সরকারের দুই বছরে দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতা খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাসহ বহু রাজনীতিবিদকে কারাগারে যেতে হয়।
সে সময়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার নিউইয়র্কে এক নাগরিক সংবর্ধনায় বলেন, দেশের মানুষ আর ওয়ান-ইলেভেনের অবস্থায় ফিরে যেতে চায় না। ওই সময়ে ফখরুদ্দীন আহমদের সরকার ক্ষমতা আকড়ে রাখতে চেয়েছিল। এজন্য তারা অনেক ষড়যন্ত্র করেছে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপে তারা নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়েছে।
জাতীয় প্রেস ক্লাবে স্বদেশ জাগরণ পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচন না হলে জনগণ তা মানবে না।
সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলে সুপ্রিমকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের সমালোচনা করে আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিকুল বলেন, সংক্ষিপ্ত রায়ের সঙ্গে ১৬ মাস পরে দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ের কোনো মিল নেই। এ রকমভাবে রায় পাল্টানোর নজির বিশ্বে নেই। এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতাও খর্ব হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিধান সরকার সংবিধানে সংযোগ করেছে। এ বিধানে নির্বাচন জনগণ মেনে নেবে না।
‘প্রতিহিংসার রাজনীতি : অতীত ও বর্তমান প্রেক্ষাপটে নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বদেশ জাগরণ পরিষদের সভাপতি কামরুজ্জামান সেলিম। এতে আরও আলোচনা করেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আ ন হ এহছানুল হক মিলন, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, সাবেক সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান প্রমুখ।
নির্দলীয় সরকারের দাবি না মানলে আন্দোলনেই ফয়সালা : জাতীয় প্রেস ক্লাবের সম্মেলন কক্ষে যুব জাগপার উদ্যোগে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার, বিচারিক রায়, নির্বাচনের ভবিষ্যত্ : দেশ আজ কোনো পথে’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ বলেন, নির্দলীয় সরকারের দাবি সরকার না মানলে আন্দোলনেই এর ফয়সালা হবে।
তিনি বলেন, এ সরকারকে জনগণ সমুচিত জবাব দেবে।
জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান বলেন, ব্রিটিশ আদালতের রায়ে পাকিস্তান হয়নি; তেমনি পাকিস্তান আদালতের সম্মতিতেও বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়নি। রাজনীতির ফয়সালা ইনশাল্লাহ রাজনীতির ময়দানেই হবে। সরকারকে নির্দলীয় সরকারের দাবি মানতে বাধ্য করা হবে।
সংগঠনের সভাপতি ইনসান আলম আক্কাসের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তৃতা করেন জাগপা সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুত্ফর রহমান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মহাসচিব ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাগপা সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন বাবলু, আবু মোজাফফর মোহাম্মদ আনাস, আসাদুর রহমান খান, ইকবাল হোসেন প্রমুখ।
‘দেশ আর এক-এগারোতে ফিরে যেতে চায় না’—নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় গতকাল সকালে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের পরের সরকার তত্ত্বাবধায়ক ছিল না, তা ছিল সেনা সমর্থিত সরকার। তাই ওই সময়ের অবস্থা আর যাতে না হয়, সেজন্য অবিলম্বে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের দাবি মেনে নিন। নইলে এক-এগারোর চেয়ে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। আমরা গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক শাসন বলবত্ রাখতে চাই। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদ শেষে লগি-বৈঠা দিয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস সৃষ্টি ও সব শেষে নির্বাচন বর্জনে দেশে রাজনৈতিক অচলাবস্থার সৃষ্টি হলে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনাবাহিনীর সমর্থনে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয় ড. ফখরুদ্দীন নেতৃত্বাধীন সরকার। ওই সরকারের দুই বছরে দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতা খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাসহ বহু রাজনীতিবিদকে কারাগারে যেতে হয়।
সে সময়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার নিউইয়র্কে এক নাগরিক সংবর্ধনায় বলেন, দেশের মানুষ আর ওয়ান-ইলেভেনের অবস্থায় ফিরে যেতে চায় না। ওই সময়ে ফখরুদ্দীন আহমদের সরকার ক্ষমতা আকড়ে রাখতে চেয়েছিল। এজন্য তারা অনেক ষড়যন্ত্র করেছে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপে তারা নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়েছে।
জাতীয় প্রেস ক্লাবে স্বদেশ জাগরণ পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচন না হলে জনগণ তা মানবে না।
সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলে সুপ্রিমকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের সমালোচনা করে আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিকুল বলেন, সংক্ষিপ্ত রায়ের সঙ্গে ১৬ মাস পরে দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ের কোনো মিল নেই। এ রকমভাবে রায় পাল্টানোর নজির বিশ্বে নেই। এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতাও খর্ব হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিধান সরকার সংবিধানে সংযোগ করেছে। এ বিধানে নির্বাচন জনগণ মেনে নেবে না।
‘প্রতিহিংসার রাজনীতি : অতীত ও বর্তমান প্রেক্ষাপটে নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বদেশ জাগরণ পরিষদের সভাপতি কামরুজ্জামান সেলিম। এতে আরও আলোচনা করেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আ ন হ এহছানুল হক মিলন, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, সাবেক সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান প্রমুখ।
নির্দলীয় সরকারের দাবি না মানলে আন্দোলনেই ফয়সালা : জাতীয় প্রেস ক্লাবের সম্মেলন কক্ষে যুব জাগপার উদ্যোগে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার, বিচারিক রায়, নির্বাচনের ভবিষ্যত্ : দেশ আজ কোনো পথে’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ বলেন, নির্দলীয় সরকারের দাবি সরকার না মানলে আন্দোলনেই এর ফয়সালা হবে।
তিনি বলেন, এ সরকারকে জনগণ সমুচিত জবাব দেবে।
জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান বলেন, ব্রিটিশ আদালতের রায়ে পাকিস্তান হয়নি; তেমনি পাকিস্তান আদালতের সম্মতিতেও বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়নি। রাজনীতির ফয়সালা ইনশাল্লাহ রাজনীতির ময়দানেই হবে। সরকারকে নির্দলীয় সরকারের দাবি মানতে বাধ্য করা হবে।
সংগঠনের সভাপতি ইনসান আলম আক্কাসের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তৃতা করেন জাগপা সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুত্ফর রহমান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মহাসচিব ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাগপা সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন বাবলু, আবু মোজাফফর মোহাম্মদ আনাস, আসাদুর রহমান খান, ইকবাল হোসেন প্রমুখ।
Thursday, September 27, 2012
প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের বাইরে ‘চোর চোর’ স্লোগান, বিক্ষোভ : দীপু মনিকে ১০ মিনিট আটকে রাখল নিরাপত্তা কর্মীরা
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগদানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সফররত
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ‘নাগরিক সংবর্ধনা’
দেয়া হয়েছে। নিউইয়র্কের ব্যস্ততম টাইম স্কয়ার-সংলগ্ন অভিজাত হোটেল মেরিয়ট
মার্কুইসে স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত সংবর্ধনার সময় হোটেলের
বাইরে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছেন বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা।
হোটেলের গ্রান্ড বলরুমে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতারা যখন প্রধানমন্ত্রীর সাফল্যগাথা বর্ণনা ও স্তূতিতে ব্যস্ত, তখন হোটেলের বাইরে টাইম স্কয়ারের বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের নাম উল্লেখ করে ‘চোর’ ‘চোর’ ধনি তোলেন। এদিকে অনুষ্ঠানে প্রবেশের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি অবাঞ্ছিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। ভ্যানিটি ব্যাগ চেক করতে না দেয়ায় হোটেল মেরিয়টের নিরাপত্তা কর্মীরা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রায় ১০ মিনিট আটকে রাখেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আবারও তার সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা উল্লেখ করে বলেন, কোনো অবস্থাতেই অনির্বাচিতদের হাতে ক্ষমতা দেয়া হবে না। একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, দুর্নীতি না পেয়ে পদ্মা সেতুতে অর্থায়নের জন্য বিশ্বব্যাংক ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে। রাজধানীসহ সারাদেশে ব্যাপক লোডশেডিং চললেও জয় দাবি করেন ৪০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ এখন বিদ্যুতের লোডশেডিং মুক্ত। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কংগ্রেসওম্যান ক্যারোলিন ম্যালোনি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সজীব ওয়াজেদ জয়সহ আওয়ামী লীগ ও দলের অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতারা সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচন ছাড়া সরকার পরিবর্তনের বিকল্প কোনো পথ নেই। দেশে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনসহ সর্বস্তরের প্রশাসনিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশে জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার নিশ্চিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোটের মালিক দেশের জনগণ। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে আগামীতে কে ক্ষমতায় আসবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ আর বাংলা ভাইদের মুক্ত করতে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ফের নির্বাচিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্ম দিন উপলক্ষে বাংলাদেশ যুবলীগ কর্তৃক প্রকাশিত ‘রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার দর্শন’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে মূল মঞ্চে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি ও ইউনিসেফ কর্মকর্তা ইরিনা জর্জিবা। এ সময় কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনজুর আলম শাহীন, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ সভাপতি মিসবাহ আহমেদসহ যুবলীগের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরে বলেন, আমরা সাগর জয় করেছি। রমজান মাসে বিদ্যুতের কোনো লোডশেডিং হয়নি, শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক সাফল্য অর্জিত হয়েছে, দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, গ্রাম পর্যায়ে তথ্য আর কম্পিউটার সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেবে। আমরা আরও যা যা করেছি সব বন্ধ করে দেশকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে সভায় এক বক্তা তার হাজার বছর দীর্ঘায়ু কামনা করেন। আরেক বক্তা কামনা করেন আরও ১০০ বছর আয়ু। সবশেষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়কারী নিজাম চৌধুরী কামনা করেন আরও ৬৫ বছর আয়ু। একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে সামনে রেখে এমন বক্তব্যে উপস্থিত সবাই হাসির খোরাক পান। কেউ কেউ মন্তব্য করেন হাজার বছর থেকে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা হলো, শেষ হলো ৬৫ বছরে।
বিএনপির বিক্ষোভ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবর্ধনা স্থলের বাইরে বিক্ষোভ করেছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও জামায়াত (মুসলিম উম্মা অব নর্থ আমেরিকা)। ২৬ সেপ্টেম্বর বুধবার সন্ধ্যায় (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা) নিউইয়র্কের টাইম স্কয়ার সংলগ্ন মেরিয়ট মার্কুইসে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ কর্তৃক প্রধানমন্ত্রীকে নাগরিক সংবর্ধনা দেয়ার সময় তারা এ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
প্রধানমন্ত্রী সংবর্ধনাস্থলে আসার আধা ঘণ্টা আগ থেকেই মার্কুইস হোটেল পাশে ব্রডওয়েতে বিএনপির দুই গ্রুপ ও আল্লামা সাঈদীর মুক্তি পরিষদের ব্যানারে পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনকালে তারা ‘শেখ হাসিনা চোর’ ‘মহাজোট সরকার মহাচোর’ বলে স্লোগান দেন। সংবর্ধনাস্থলের পাশে ২ ঘণ্টা বিক্ষোভ করেন তারা।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির ব্যানারে পৃথক দুই গ্রুপ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির একাংশের সাবেক সভাপতি আবদুল লতিফ সম্রাট, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামাল পাশা বাবুল, যুগ্ম সম্পাদক আকতার হোসেন বাদল, বাবর উদ্দিন ও শাহ ইমরানসহ শতাধিক নেতাকর্মী।
বিএনপির অপর অংশের বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বেলাল মাহমুদ, জসিম উদ্দিন, নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সভাপতি মাওলানা অলিউল্লাহ আতিকুর রহমান, সহসভাপতি খালেক আকন্দ প্রমুখ। বিএনপি নেতা কাজী আজম, সাঈদুর রহমান সাঈদ, নিরা রাব্বানি ও দেওয়ান কাউসারসহ শতাধিক নেতাকর্মী এ সময় উপস্থিত ছিলেন। বিক্ষোভের সময় ব্যস্ততম ম্যানহাটন এলাকার আমেরিকান ও বিদেশি পথচারীরা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অনেক বিদেশি বিক্ষোভের কারণ জানতে চেয়েছে বিক্ষোভকারীদের কাছে। বিক্ষোভ কর্মসূচির সময় নিউইয়র্ক পুলিশও বেশ তত্পর ছিল।
বিক্ষোভে বিএনপি নেতারা বলেন, স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশকে কারাগারে পরিণত করেছে। বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের গুম-হত্যা, অত্যাচার নির্যাতন করছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে দলীয় সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন দিয়ে অবৈধ পথে ক্ষমতায় আসার ষড়যন্ত্র করছে আওয়ামী লীগ। বিক্ষোভ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বহাল করে দ্রুত নির্বাচন দেয়ার দাবি জানান বিএনপি নেতারা।
আল্লামা সাঈদী মুক্তি পরিষদের বিক্ষোভ : এদিকে আল্লামা সাঈদী মুক্তি পরিষদের ব্যানারে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ৩ শতাধিক লোক নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়। বিক্ষোভের সময় আল্লামা সাঈদীসহ কারাবন্দি জামায়াত নেতাদের ছবিসহ প্লাকার্ড হাতে নিয়ে সরকার বিরোধী স্লোগান দেয় নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভে বিপুলসংখ্যক নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণী ও মহিলা উপস্থিত ছিলেন। বিক্ষোভে নেতারা বলেন, দেশের শীর্ষ স্থানীয় আলেমদের যুক্তরাষ্ট্রের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে বন্দি রেখেছে সরকার। বিক্ষোভ থেকে তারা অধ্যাপক গোলাম আযম, মাওলানা নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মাওলানা সাঈদী ও মীর কাসেম আলীসহ সব জামায়াত নেতার মুক্তির দাবি করেছেন।
দীপু মনিকে ১০ মিনিট আটকে রাখল হোটেল সিকিউরিটি : হ্যান্ড ব্যাগ চেক করতে দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে ১০ মিনিট আটকে রাখে হোটেল মেরিয়ট মার্কুইসের নিরাপত্তাকর্মীরা। গতকাল নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে হোটেল মেরিয়ট মার্কুইসে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ কর্তৃক প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। রাত ৮টায় সংবর্ধনাস্থল হোটেলের বলরুমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রবেশ করেন। এ সময় তার পেছনে ছিলেন ডা. দীপু মনি।
দীপু মনির হাতে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগটি সিকিউরিটি চেক করার অনুমতি চাইলে তিনি তাতে অস্বীকৃতি জানান। সিকিউরিটিও কোনোভাবে তার ব্যাগ চেক করা ছাড়া বলরুমে ঢুকতে দিতে অপারগতা জানায়। এ সময় দীপু মনি নিজেকে বাংলাদেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিচয় দেন, তারপরও সিকিউরিটি সদস্যরা তাদের অবস্থানে অটল থাকেন। এ সময় বলরুমে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ব্যস্ত থাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ মিশন বা অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা আওয়ামী লীগ নেতারা ছিলেন না। প্রায় ১০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকার পর ব্যাগের বাইরে থেকে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে চেক করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সংবর্ধনাস্থলে ঢুকতে দেয়।
হোটেলের গ্রান্ড বলরুমে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতারা যখন প্রধানমন্ত্রীর সাফল্যগাথা বর্ণনা ও স্তূতিতে ব্যস্ত, তখন হোটেলের বাইরে টাইম স্কয়ারের বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের নাম উল্লেখ করে ‘চোর’ ‘চোর’ ধনি তোলেন। এদিকে অনুষ্ঠানে প্রবেশের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি অবাঞ্ছিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। ভ্যানিটি ব্যাগ চেক করতে না দেয়ায় হোটেল মেরিয়টের নিরাপত্তা কর্মীরা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রায় ১০ মিনিট আটকে রাখেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আবারও তার সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা উল্লেখ করে বলেন, কোনো অবস্থাতেই অনির্বাচিতদের হাতে ক্ষমতা দেয়া হবে না। একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, দুর্নীতি না পেয়ে পদ্মা সেতুতে অর্থায়নের জন্য বিশ্বব্যাংক ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে। রাজধানীসহ সারাদেশে ব্যাপক লোডশেডিং চললেও জয় দাবি করেন ৪০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ এখন বিদ্যুতের লোডশেডিং মুক্ত। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কংগ্রেসওম্যান ক্যারোলিন ম্যালোনি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সজীব ওয়াজেদ জয়সহ আওয়ামী লীগ ও দলের অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতারা সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচন ছাড়া সরকার পরিবর্তনের বিকল্প কোনো পথ নেই। দেশে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনসহ সর্বস্তরের প্রশাসনিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশে জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার নিশ্চিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোটের মালিক দেশের জনগণ। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে আগামীতে কে ক্ষমতায় আসবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ আর বাংলা ভাইদের মুক্ত করতে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ফের নির্বাচিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্ম দিন উপলক্ষে বাংলাদেশ যুবলীগ কর্তৃক প্রকাশিত ‘রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার দর্শন’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে মূল মঞ্চে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি ও ইউনিসেফ কর্মকর্তা ইরিনা জর্জিবা। এ সময় কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনজুর আলম শাহীন, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ সভাপতি মিসবাহ আহমেদসহ যুবলীগের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরে বলেন, আমরা সাগর জয় করেছি। রমজান মাসে বিদ্যুতের কোনো লোডশেডিং হয়নি, শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক সাফল্য অর্জিত হয়েছে, দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, গ্রাম পর্যায়ে তথ্য আর কম্পিউটার সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেবে। আমরা আরও যা যা করেছি সব বন্ধ করে দেশকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে সভায় এক বক্তা তার হাজার বছর দীর্ঘায়ু কামনা করেন। আরেক বক্তা কামনা করেন আরও ১০০ বছর আয়ু। সবশেষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়কারী নিজাম চৌধুরী কামনা করেন আরও ৬৫ বছর আয়ু। একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে সামনে রেখে এমন বক্তব্যে উপস্থিত সবাই হাসির খোরাক পান। কেউ কেউ মন্তব্য করেন হাজার বছর থেকে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা হলো, শেষ হলো ৬৫ বছরে।
বিএনপির বিক্ষোভ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবর্ধনা স্থলের বাইরে বিক্ষোভ করেছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও জামায়াত (মুসলিম উম্মা অব নর্থ আমেরিকা)। ২৬ সেপ্টেম্বর বুধবার সন্ধ্যায় (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা) নিউইয়র্কের টাইম স্কয়ার সংলগ্ন মেরিয়ট মার্কুইসে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ কর্তৃক প্রধানমন্ত্রীকে নাগরিক সংবর্ধনা দেয়ার সময় তারা এ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
প্রধানমন্ত্রী সংবর্ধনাস্থলে আসার আধা ঘণ্টা আগ থেকেই মার্কুইস হোটেল পাশে ব্রডওয়েতে বিএনপির দুই গ্রুপ ও আল্লামা সাঈদীর মুক্তি পরিষদের ব্যানারে পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনকালে তারা ‘শেখ হাসিনা চোর’ ‘মহাজোট সরকার মহাচোর’ বলে স্লোগান দেন। সংবর্ধনাস্থলের পাশে ২ ঘণ্টা বিক্ষোভ করেন তারা।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির ব্যানারে পৃথক দুই গ্রুপ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির একাংশের সাবেক সভাপতি আবদুল লতিফ সম্রাট, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামাল পাশা বাবুল, যুগ্ম সম্পাদক আকতার হোসেন বাদল, বাবর উদ্দিন ও শাহ ইমরানসহ শতাধিক নেতাকর্মী।
বিএনপির অপর অংশের বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বেলাল মাহমুদ, জসিম উদ্দিন, নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সভাপতি মাওলানা অলিউল্লাহ আতিকুর রহমান, সহসভাপতি খালেক আকন্দ প্রমুখ। বিএনপি নেতা কাজী আজম, সাঈদুর রহমান সাঈদ, নিরা রাব্বানি ও দেওয়ান কাউসারসহ শতাধিক নেতাকর্মী এ সময় উপস্থিত ছিলেন। বিক্ষোভের সময় ব্যস্ততম ম্যানহাটন এলাকার আমেরিকান ও বিদেশি পথচারীরা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অনেক বিদেশি বিক্ষোভের কারণ জানতে চেয়েছে বিক্ষোভকারীদের কাছে। বিক্ষোভ কর্মসূচির সময় নিউইয়র্ক পুলিশও বেশ তত্পর ছিল।
বিক্ষোভে বিএনপি নেতারা বলেন, স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশকে কারাগারে পরিণত করেছে। বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের গুম-হত্যা, অত্যাচার নির্যাতন করছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে দলীয় সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন দিয়ে অবৈধ পথে ক্ষমতায় আসার ষড়যন্ত্র করছে আওয়ামী লীগ। বিক্ষোভ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বহাল করে দ্রুত নির্বাচন দেয়ার দাবি জানান বিএনপি নেতারা।
আল্লামা সাঈদী মুক্তি পরিষদের বিক্ষোভ : এদিকে আল্লামা সাঈদী মুক্তি পরিষদের ব্যানারে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ৩ শতাধিক লোক নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়। বিক্ষোভের সময় আল্লামা সাঈদীসহ কারাবন্দি জামায়াত নেতাদের ছবিসহ প্লাকার্ড হাতে নিয়ে সরকার বিরোধী স্লোগান দেয় নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভে বিপুলসংখ্যক নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণী ও মহিলা উপস্থিত ছিলেন। বিক্ষোভে নেতারা বলেন, দেশের শীর্ষ স্থানীয় আলেমদের যুক্তরাষ্ট্রের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে বন্দি রেখেছে সরকার। বিক্ষোভ থেকে তারা অধ্যাপক গোলাম আযম, মাওলানা নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মাওলানা সাঈদী ও মীর কাসেম আলীসহ সব জামায়াত নেতার মুক্তির দাবি করেছেন।
দীপু মনিকে ১০ মিনিট আটকে রাখল হোটেল সিকিউরিটি : হ্যান্ড ব্যাগ চেক করতে দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে ১০ মিনিট আটকে রাখে হোটেল মেরিয়ট মার্কুইসের নিরাপত্তাকর্মীরা। গতকাল নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে হোটেল মেরিয়ট মার্কুইসে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ কর্তৃক প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। রাত ৮টায় সংবর্ধনাস্থল হোটেলের বলরুমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রবেশ করেন। এ সময় তার পেছনে ছিলেন ডা. দীপু মনি।
দীপু মনির হাতে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগটি সিকিউরিটি চেক করার অনুমতি চাইলে তিনি তাতে অস্বীকৃতি জানান। সিকিউরিটিও কোনোভাবে তার ব্যাগ চেক করা ছাড়া বলরুমে ঢুকতে দিতে অপারগতা জানায়। এ সময় দীপু মনি নিজেকে বাংলাদেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিচয় দেন, তারপরও সিকিউরিটি সদস্যরা তাদের অবস্থানে অটল থাকেন। এ সময় বলরুমে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ব্যস্ত থাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ মিশন বা অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা আওয়ামী লীগ নেতারা ছিলেন না। প্রায় ১০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকার পর ব্যাগের বাইরে থেকে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে চেক করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সংবর্ধনাস্থলে ঢুকতে দেয়।
আরেকটি ওয়ান-ইলেভেন চাই না:
হাসিনা
|
||||
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জরুরি অবস্থা সৃষ্টির মতো পরিস্থিতি আওয়ামী লীগ চায় না।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি নিয়ে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মুখোমুখি অবস্থানের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন মহলের আশঙ্কার মধ্যে বুধবার নিউ ইয়র্কে প্রবাসীদের দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনের ফলে এখন নির্বাচিত সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। তবে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না দাবি করে তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আসছে বিরোধী দল।
২০০৭ সালের মতো জরুরি অবস্থা জারির মধ্য দিয়ে অনির্বাচিতদের ক্ষমতা দখলের পথ বন্ধ করতেই সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে বলে দাবি করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, “যে কারণে ওয়ান-ইলেভেন এসেছিল, তেমন কোনো পরিস্থিতির মুখে বাংলাদেশকে আমরা ঠেলে দিতে চাই না। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং তা অক্ষুন্ন রেখেই রাজনৈতিক অঙ্গনে অবস্থান করতে চাই।”
সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে রাজনীতিকদের নির্যাতনের অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা চাই না, কেয়ারটেকার সরকারের নামে দানবের আগমন ঘটুক এবং দেশের অসহায় ব্যবসায়ী-পেশাজীবী এবং রাজনীতিকদের নির্যাতন করুক।”
বুধবার রাতে (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল) টাইমস স্কোয়ার সংলগ্ন মারিয়ট মার্কেস হোটেলের বলরুমে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে ২৩ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে এসেছেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকালে তিনি সাধারণ পরিষদে বক্তব্য রাখবেন।
প্রধানমন্ত্রীকে প্রবাসীদের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের দেয়া এই অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মসিউর রহমান, শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ও বক্তব্য রাখেন।
আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক একটি নৌকার ওপর বিশাল মঞ্চে বক্তব্য রাখেন শেখ হাসিনা। বক্তব্যে তিনি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সরকারের অর্জন তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের ভূমিকার কথাও বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, “ওয়ান-ইলেভেনে গঠিত কেয়ারটেকার সরকারের চালিকাশক্তি জেনারেল মইন প্রেসিডেন্ট হয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে চেয়েছিলেন।
“জেনারেল মইনের খায়েশ হয়েছিল রাষ্ট্রপতি হওয়ার এবং অনির্দিষ্টকাল ক্ষমতায় থাকার। তার সে অভিলাষ পূরণে সহায়ক একটি ফতোয়া দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একজন আইনজীবী। সেই আইনজীবী বলেছিলেন যে, কেয়ারটেকার সরকার কতদিন ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে, সেটি নেই সংবিধানে।”
“কিন্তু প্রবাসে সৃষ্ট তুমুল আন্দোলন এবং দেশের ভেতরের গণরোষ তার সে আকাক্সক্ষা সফল হতে দেয়নি,” বলেন তিনি।
নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করায় দেশে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি রয়েছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গত সাড়ে ৩ বছরে স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচন এবং জাতীয় সংসদের কয়েকটি উপ-নির্বাচনের দিকে গভীরভাবে মনোযোগ দিলেই অনুধাবন করা সম্ভব হবে যে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রভাব ছিল না।”
“আগামী সাধারণ নির্বাচনেও ভোটারের মনোভাবেরই প্রতিফলন ঘটবে, এতে কারো সন্দেহ থাকা উচিত নয়। ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনের রেজাল্ট পাল্টিয়েছে, এমন নজির অনেক রয়েছে। কিন্তু মহাজোট সরকারের আমলে তেমন ঘটনা ঘটেনি,” বলেন তিনি।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, জঙ্গিবাদ নির্মূলে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০২১ সালে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এমন একটি পরিবেশে করতে চাই, যেখানে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য থাকবে না, লোডশেডিং থাকবে না, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে পরমতসহিষ্ণুতা বাড়বে।”
বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, “গত পৌনে চার বছরে আমরা ৫৪টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করেছি। আরো ২৩টি নির্মাণের কাজ সমাপ্তির পথে। তাহলে বিএনপি কি এগুলো গুঁড়িয়ে দেবে?
“প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে ইনফরমেশন সেন্টার স্থাপন এবং ১৩ হাজার কমিউনিটি হেল্থ সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে। এগুলোও কি নিষিদ্ধ হয়ে যাবে? তাহলে কি আবার হাওয়া ভবন এবং খোয়াব ভবন খোলা হবে?”
মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমার বিরোধের মামলায় জয়ের তথ্য তুলে ধরে আগামীতে ভারতের সঙ্গে বিরোধেও একই ফল আশা করেন শেখ হাসিনা।
প্রবাসীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনাদের পাঠানো রেমিট্যান্স হচ্ছে বাংলাদেশের অন্যতম চালিকা শক্তি। রেমিট্যান্স এবং দক্ষ প্রশাসনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ব মন্দা মোকাবেলা করে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।”
সজীব ওয়াজেদ তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, প্রত্যেক ইউনিয়নে একটি করে তথ্যকেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে কম্পিউটারের অভাব পূরণ হয়েছে গোটা দেশে। দুর্গম অঞ্চলের লোকজনকেও এখন আর শহরে যেতে হয় না।
“এভাবেই বাংলাদেশ সারাবিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। পদ্মা সেতুতে বিশ্ব ব্যাংক ফিরতে বাধ্য হয়েছে। কারণ, আমরা দুর্নীতি করিনি,” বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য ক্যারলিন মেলনী, ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ইরিনা জি বোকোভাও উপস্থিত ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ, যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরী, আকতার হোসেন, আব্দুস সামাদ আজাদ, নজমুল ইসলাম, এন আমিন, নূরনবী কমান্ডার, জাকারিয়া চৌধুরী, ইমদাদুর রহমান চৌধুরী, শাহীন আজমল প্রমুখ।
বিএনপির বিক্ষোভ
শেখ হাসিনার নাগরিক সংবর্ধনাস্থলের বাইরে বেশ কিছু প্রবাসী বিএনপি-জামায়াত জোটের ব্যানারে বিক্ষোভ করেছেন।
‘যেখানে হাসিনা সেখানেই প্রতিরোধ’ এই স্লোগানে সিটি প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই তারা বিক্ষোভ করেন।
বিক্ষোভকারীদের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সভাপতি আব্দুল লতিফ সম্রাট, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল, তারেক পরিষদ আন্তর্জাতিক কমিটির চেয়ারম্যান আকতার হোসেন বাদল প্রমুখ।
বক্তব্যে তারা শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের কার্যক্রমের কঠোর সমালোচনা করেন।
Wednesday, September 26, 2012
| পদ্মাসেতু প্রকল্পে ফিরেনি বিশ্বব্যাংক: সরকারি কর্মকর্তারা ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছে |
‘বাংলাদেশের সার্বিক দুর্নীতি
পরিস্থিতিতে বিশেষ করে পদ্মা সেতু প্রকল্পের দুর্নীতি বিষয়ে বিশ্বব্যাংক
উদ্বিগ্ন। আর এর জন্যই আমরা বাংলাদেশ সরকারকে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি
যে, এই প্রকল্পে নতুন করে যুক্ত হওয়ার জন্য নতুন ‘বাস্তবায়ন ব্যবস্থাপনা’
(ইম্পলিমেন্টেশন এরেইঞ্জমেন্টস) প্রয়োজন, যাতে করে প্রকল্পের ক্রয়
সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় বিশ্বব্যাংক ও সহযোগী ঋণদাতাদের অধিকতর তদারকির সুযোগ
থাকে।
কেবল উপরোল্লিখিত সম্মত বিষয়াবলীর সন্তোষজনক বাস্তবায়নের পরই এবং এ বিষয়ে (গৃহীত সরকারি পদক্ষেপ সম্পর্কে) আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্বাধীন বিশেষজ্ঞ প্যানেলের পক্ষ থেকে ইতিবাচক প্রতিবেদন পাওয়া সাপেক্ষে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন করবে’ বলে ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১২ ওয়াশিংটন সময় বিকালে প্রদত্ত এক নতুন বিবৃতিতে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। উল্লেখ্য যে, পদ্মা সেতু বিষয়ে গত ২০শে সেপ্টেম্বর ২০১২ তারিখে প্রদত্ত বিশ্বব্যাংকের বিবৃতিটি বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। দেশের সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তাগণ সংবাদ মাধ্যমে বিশ্বব্যাংকের বিবৃতির ভুল ব্যাখ্যার মাধ্যমে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছেন বলে অভিযোগ করেছে বিশ্বব্যাংক। সম্প্রতি এ বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে ইআরডি সচিব সাংবাদিকদের জানান, ‘বিশ্বব্যাংক নতুন কোন শর্ত দেয়নি, বরং ইতিমধ্যেই সব শর্ত পূরণ হওয়ায় পদ্মা সেতু প্রকল্পে ফিরতে রাজি হয়েছে’। অর্থমন্ত্রী উল্টো পদ্মা সেতু নির্মাণের দিন তারিখ নির্ধারণ করে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘আমি যেভাবে হিসাব করেছি ফর ব্রিজ কনস্ট্রাকশন, বিশ্বব্যাংক ইতিমধ্যে এগ্রি করেছে। আরও কিছু টেন্ডার ডকুমেন্ট তাদের কাছে আছে। সেগুলো তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। উই শুড গো ফর টেন্ডার। আগামী অক্টোবরে পদ্মা সেতুর জন্য দরপত্র আহ্বান করে এপ্রিল-মে মাসে ব্রিজের ফাউন্ডেশন করবো আমরা’। সর্বোপরি দেশের প্রধানমন্ত্রী গতকাল নিউইয়র্কে এক দলীয় সমাবেশে বক্তৃতা কালে পদ্মা সেতু প্রকল্পে কোন দুর্নীতি হয়নি, দুর্নীতি হলে বিশ্বব্যাংক ফিরে আসতো না’ বলে মন্তব্য করেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকের সুস্পষ্ট অবস্থান জানতে গতকাল দুপুরে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক এক্সটার্নাল এফেয়ার্স ম্যানেজার এঞ্জেলা ওয়াকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি জানান, ‘বিষয়টি ব্যাংকের নজরে এসেছে এবং এ বিষয়ে আজকের কর্মদিবস শেষে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে ব্যাংকের অবস্থান আরও সুস্পষ্ট করা হবে’। এরপর ওয়াশিংটন সময় বিকাল চারটায় বিশ্বব্যাংকের ওয়েবসাইটে বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেশটির সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তাগণ পদ্মা সেতু বিষয়ক বিশ্বব্যাংকের বিবৃতিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন (মিসরিপ্রেজেন্ট) করায় এ বিষয়ে একটি ব্যাখ্যামূলক বিবৃতির মাধ্যমে ব্যাংকের অবস্থান সুস্পষ্ট করা বাধ্যবাধকতার পর্যায়ে পড়ে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক’। বিশ্বব্যাংকের নতুন বিবৃতি: ‘পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন নিয়ে সরকারের সিনিয়র কর্মকর্তাগণের দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি বিশ্বব্যাংক ‘গ্রহণযোগ্য তথ্যপ্রমাণ’ সহ বার বার বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়েছে। এ সব বিষয়ে সরকার কোন উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ না নেয়ায় বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের ঋণ বাতিল করে। গত ২০শে সেপ্টেম্বর ২০১২ বাংলাদেশ সরকার পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ জানিয়ে নিম্নলিখিত বিষয়ে সরকারের সম্মতি জানায়: ১. ‘দুর্নীতি বিষয়ক তদন্ত পূর্ণাঙ্গভাবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত সন্দেহভাজন সরকারি কর্মকর্তাদের সরকারি চাকরি থেকে ছুটিতে পাঠানো ; ২. দুর্নীতি দমন কমিশনে (পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য) বিশেষ ‘ইনক্যুইরী এন্ড প্রসিকিউশন’ টিম গঠন করা; ৩. দুর্নীতি বিষয়ক তদন্তের সমস্ত তথ্য উপাত্তে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি স্বাধীন বিশেষজ্ঞ প্যানেল এর প্রবেশ থাকবে, যাতে তারা বিশ্বব্যাংক এবং সহযোগী ঋণদাতাদের সরকারি তদন্তের গ্রহণযোগ্যতা বিষয়ে মতামত দিতে পারেন। বাংলাদেশের সার্বিক দুর্নীতি পরিস্থিতিতে বিশেষ করে পদ্মা সেতু প্রকল্পের দুর্নীতি বিষয়ে বিশ্বব্যাংক উদ্বিগ্ন। আর এর জন্যই আমরা বাংলাদেশ সরকারকে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি যে, এই প্রকল্পে নতুন করে যুক্ত হওয়ার জন্য নতুন ‘বাস্তবায়ন ব্যবস্থাপনা’ (ইম্পলিমেন্টেশন এরেইঞ্জমেন্টস) প্রয়োজন, যাতে করে প্রকল্পের ক্রয় সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় বিশ্বব্যাংক ও সহযোগী ঋণদাতাদের অধিকতর তদারকির সুযোগ থাকে। কেবল উপরোল্লিখিত সম্মত বিষয়াবলীর সন্তোষজনক বাস্তবায়নের পরই এবং এ বিষয়ে (গৃহীত সরকারি পদক্ষেপ সম্পর্কে) আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্বাধীন বিশেষজ্ঞ প্যানেলের পক্ষ থেকে ইতিবাচক প্রতিবেদন পাওয়া সাপেক্ষে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন করবে’। একটি পরিচ্ছন্ন পদ্মা ব্রিজ বাংলাদেশের মানুষের ন্যায্য দাবি। আর এ দাবি নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা (এ বিবৃতির মাধ্যমে) আবারও বাংলাদেশ সরকারকে অত্যন্ত জোরালোভাবে একটি গ্রহণযোগ্য তদন্ত শুরুর জন্য বলছি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সব প্রক্রিয়া এমনভাবে অনুসরণ করার কথা বলছি, যাতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ্তা ও অধিকতর জবাবদিহিতার বিষয়টি নিশ্চিত হয়’। |
Tuesday, September 25, 2012
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকার জনগণের মৌলিক চাহিদা
পূরণের পাশাপাশি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্র আরও সুসংহত করতে
নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
স্থানীয় সময় রোববার সন্ধ্যায় হোটেল স্যুটে মার্কিন সিনেটর পিটার ডব্লিউ গলব্রেইথ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে এলে তিনি এ কথা বলেন। সাক্ষাতের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, জাতীয় সংসদ, নির্বাচন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হয়েছে। এছাড়া সরকার বাস্তবমুখী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করায় জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বর্তমান সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সব সংসদীয় কমিটি গঠনের কথা উল্লেখ করেন।
এছাড়া তিনি এই সরকারের বিগত সাড়ে তিন বছরে সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে ছয় হাজার নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ও নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে তার সরকারের বিভিন্ন সফলতা তুলে ধরেন। সাক্ষাত্কালে মার্কিন সিনেটর শেখ হাসিনার গতিশীল ও দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার ক্ষেত্রে তার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার দৃঢ় অবস্থানেরও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় গণতান্ত্রিক সংস্কারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সোচ্চার।
বর্তমান সরকার ১৯৭১ সালে দেশের মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখার জন্য ‘ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ অ্যাওয়ার্ড’ দিয়ে পিটার ডব্লিউ গলব্রেইথকে সম্মানিত করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন রাজ্যের আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংস্থার নেতারা হোটেল স্যুটে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন।
এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ এম জিয়াউদ্দিন, প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. আবদুস সোবহান গোলাপ উপস্থিত ছিলেন। শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৬৭তম অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্ক রয়েছেন।
স্থানীয় সময় রোববার সন্ধ্যায় হোটেল স্যুটে মার্কিন সিনেটর পিটার ডব্লিউ গলব্রেইথ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে এলে তিনি এ কথা বলেন। সাক্ষাতের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, জাতীয় সংসদ, নির্বাচন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হয়েছে। এছাড়া সরকার বাস্তবমুখী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করায় জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বর্তমান সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সব সংসদীয় কমিটি গঠনের কথা উল্লেখ করেন।
এছাড়া তিনি এই সরকারের বিগত সাড়ে তিন বছরে সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে ছয় হাজার নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ও নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে তার সরকারের বিভিন্ন সফলতা তুলে ধরেন। সাক্ষাত্কালে মার্কিন সিনেটর শেখ হাসিনার গতিশীল ও দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার ক্ষেত্রে তার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার দৃঢ় অবস্থানেরও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় গণতান্ত্রিক সংস্কারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সোচ্চার।
বর্তমান সরকার ১৯৭১ সালে দেশের মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখার জন্য ‘ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ অ্যাওয়ার্ড’ দিয়ে পিটার ডব্লিউ গলব্রেইথকে সম্মানিত করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন রাজ্যের আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংস্থার নেতারা হোটেল স্যুটে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন।
এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ এম জিয়াউদ্দিন, প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. আবদুস সোবহান গোলাপ উপস্থিত ছিলেন। শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৬৭তম অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্ক রয়েছেন।
Subscribe to:
Posts (Atom)