Wednesday, October 10, 2012

পদ্মা সেতু দুর্নীতি 

বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক প্যানেল আসছে ১৪ অক্টোবর


পদ্মা সেতুর প্রকল্পে দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে বিশ্বব্যাংকের তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেল আগামী ১৪ অক্টোবর (রোববার) ঢাকায় আসছেন। তারা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করবেন।

বুধবার বিকেলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় থেকে পাঠানো বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমানও তাদের আগমনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, বেশ কয়েকটি ধারাবাহিক পরিদর্শনের মধ্যে এই সফর প্রাথমিক পর্যায়ের।

তিন সদস্যের এই প্যানেলে আছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সাবেক প্রধান কৌঁসুলি লুই গ্যাব্রিয়েল মোরেনো ওকাম্পো, হংকংয়ের দুর্নীতিবিরোধী স্বাধীন কমিশনের সাবেক কমিশনার টিমোথি টং ও যুক্তরাজ্যের সিরিয়াস ফ্রড অফিসের সাবেক পরিচালক রিচার্ড এল্ডারম্যান। এ প্যানেলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মোরেনো ওকাম্পো।

পদ্মা সেতুর দুর্নীতি তদন্তে গত ৫ অক্টোবর আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তিন সদস্যের প্যানেল গঠনের ঘোষণা দেয় বিশ্বব্যাংক।

বিবৃতিতে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, মোরেনো ওকাম্পো নেতৃত্বাধীন প্যানেল পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি পর্যবেক্ষণে দুদকের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করবে। তারা একটি প্রতিবেদন বিশ্বব্যাংক সদর দপ্তরে দাখিল করার পাশাপাশি সরকারকে তাদের পাওয়া পর্যবেক্ষণ অবহিত করবে। একই সঙ্গে অন্য অর্থায়নকারী দাতাদের বিষয়টি অবহিত করা হবে।

এদিকে, দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বাংলানিউজকে বলেন, “বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তাদের একাধিকবার আমার কথা হয়েছে। তারা ১৪ অক্টোবর আসছেন। ১৪ বা ১৫ অক্টোবরের যে কোনো দিন আমরা একসঙ্গে বসব।”

প্রসঙ্গত, বিশ্বব্যাংক ছাড়াও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাপানি সংস্থা জাইকা ও ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) এই প্রকল্পের অংশীদার।

তথ্য মতে, এই প্যানেলের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করছে পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করবে কিনা।

দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গত জুন মাসে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের বহু প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতু প্রকল্পে ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি বাতিল করেছিল।

তবে সরকারের বহুমুখী তৎপরতায় বিশ্বব্যাংক গত মাসে পদ্মা প্রকল্পে ফেরার ঘোষণা দেয়। জানা গেছে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাংক ঋণসহায়তার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এ ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত আরোপ করে। এগুলোর অন্যতম হচ্ছে একটি বিশেষজ্ঞ দলের মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে পরিচালিত তদন্তের গ্রহণযোগ্যতা পর্যালোচনা করে দেখা।

আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেল ঘোষণার পর বহুজাতিক সংস্থাটি বলেছিলো, “এই প্যানেলের পর্যবেক্ষণ বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটি বড় সুযোগ, যা তদন্তের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার বাড়বে।”

চুক্তি বাতিলের পর অবশ্য শর্ত পূরণে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন পদত্যাগ করেন। ছুটিতে পাঠানো হয় প্রকল্পের ইন্টিগ্রিটি অ্যাডভাইজার ও প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মসিউর রহমান ও সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশারররফ হোসেন ভূঁইয়াকে।

পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত পর্যবেক্ষণ করতে দিতেও রাজি হয় সরকার, যার ফলে প্রকল্পে সম্পৃক্ত হবার ঘোষণা দেয় বিশ্বব্যাংক।

প্রসঙ্গত, পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ পেতে কানাডাভিত্তিক প্রকৌশল কোম্পানি এসএনসি-লাভালিন গ্রুপ কয়েকজনকে ঘুষ দিয়েছে মর্মে অভিযোগ তোলার পরই বিশ্বব্যাংক তার ঋণ প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসে।

Tuesday, October 9, 2012

হত্যাকারীদের বাঁচাতে চার চোরের কথা বলছে সরকার : ড. মোশাররফ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন,‘রামুসহ কয়েকটি এলাকায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বিদের ওপর হামলার ঘটনায় সরকার নিজে জড়িত থেকে এখন উদোর পিন্ডি বুধোর ঘারে চাপানোর চেষ্টা করছে। সরকারের সবক্ষেত্রে ব্যর্থতা ও পাহাড় সমান দুর্নীতি কারণে চারদিকে যখন মানুষ ক্ষোভে ফুসে উঠছে তখনই জনগনের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার অপচেষ্টায়বৌদ্ধদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রীর মত গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে শেখ হাসিনা তদন্তের আগেই স্থানীয় বিএনপি এমপির ঘারে এর দোষ চাপালেন। তা হলে আর তদন্তের কী দরকার?’ তিনি বলেন, সাংবাদিক দম্পতি সাগর রুনি হত্যার ঘটনায় চারজন চোরকে জড়িত বলে জানাচ্ছে সরকার। এটা ওই ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার অপচেষ্টা বলেই সবাই মনে করছে।

জাতীয়তাবাদী যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আজ মঙ্গলবার নয়া পল্টনে যুবদল আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকারের সর্বব্যাপী ব্যর্থতার কারণে দেশের সবক্ষেত্রে ধস নেমেছে। দ্রব্যমূল্য আকাশ ছুয়েছে, আইনশৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। সরকারের পাহাড় সমান দুর্নীতির কথা এখন সবখানে সমালোচিত হচ্ছে। এ অবস্থায় জনগনের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই সরকার অসাম্প্রাদায়িক বাংলাদেশে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বিদের ওপর হামলার ঘৃন্য ঘটনা ঘটিয়েছে। এসব হামলার সাথে আওয়ামী লীগের লোকেরা জড়িত। অথচ সরকার এখন উদোর পিন্ডি বুধোর ঘারে চাপাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর মত গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে শেখ হাসিনা তদন্তাধীন ওই ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির এমপি লুতফুর রহমান কাজলকে দায়ী করে বক্তব্য দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্যের পর তা হলে আর তদন্তের কী প্রয়োজন থাকতে পারে?’

বিএনপি নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ এখন শেষ সময়ে পড়ন্ত বেলায় মিথ্যা মামলা দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করছে।

শেয়ারবাজার, হলমার্ক, পদ্মাসেতু দুর্নীতি, রামুর ঘটনা সব কিছুই সরকার ধামাচাপা দিতে চাচ্ছে। হলমার্কের এমডি পুলিশকে বলেছে তারা কাকে হাজার কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছে।

তিনি বলেন, সাংবাদিক দম্পতি সাগর রুনি হত্যার ঘটনায় চারজন চোরকে জড়িত বলে জানাচ্ছে সরকার। এটা ওই ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার অপচেষ্টা বলেই সবাই মনে করছে।

ড. মোশাররফ আরো বলেন, এই ব্যর্থ সরকার বিদ্যুত, দ্রব্যমূল্য, আইনশৃংখলা পরিস্থিতিসহ কোন সমস্যারই সমাধান করতে পারবে না।

এখন বেগম খালেদা জিয়ার আহ্বানে চুড়ান্ত আন্দোলনে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে রাজপথে ঝাপিয়ে পড়তে হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, নেত্রকোনায় প্রশাসনের কাছ থেকে পূর্বানুমতি নেয়া সত্ত্বেও বিএনপির সমাবেশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। এসপির পরামর্শে এর বাইরে জনসভা করতে গেলে সেখানেও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। অন্যস্থানে সমাবেশ মঞ্চ পুলিশে ভেঙে দেয়। এই অবিচারের বিচার একদিন হবে। সব বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের সামনে ছাত্রলীগ অস্ত্র হাতে গুলি ছোড়ে, রামুতে আওয়ামী লীগ বৌদ্ধদের ওপর হামলা করে কিন্তু পুলিশ তাদের ধরে না। পুলিশ ধরে নির্দোষ বিএনপি নেতাকর্মীদের।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এখন বিএনপির নেতাদের জেলে পুরে একটি কালো  উদ্দেশ্য পুরণ করতে চায়। তা হল একদলীয় নির্বাচন দিয়ে বাকশাল পুনর্গঠন করা। কিন্তু তা সম্ভব হবে না।

যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদের সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু, রুহুল কবির রিজভী, যুবদল সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নীরব, যুবদল নেতা মোরতাজুল করিম বাদরু, মামুন হাসান, আ: বারী ড্যানি, সেলিমুজ্জামান সেলিম, জাকারিয়া মঞ্জুর, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, ইউসুফ বিন জলিল প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন যুবদল নেতা রফিকুল আলম মজনু। নেতৃবৃন্দ আলালসহ কারাবন্দি সব নেতাকর্মীর মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

Monday, October 8, 2012


সুরঞ্জিতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি বিএনপির

দফতরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদ করতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
তিনি গতকাল নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে এক বিক্ষোভ সমাবেশে বলেন, সুরঞ্জিতের দুর্নীতির কালো বিড়াল বের হয়ে পড়েছে। তার এপিএসের গাড়িচালক আলী আজম খান সব বলে দিয়েছে। সে যা বলেছে, তার একবর্ণও মিথ্যে নয়। রেলের ১০ কোটি টাকা দুর্নীতি ঘটনায় সুরঞ্জিত জড়িত। কিন্তু জনগণকে বিভ্রান্ত করতে তিনি নানা কথার জাল বুনে চলেছেন। এ বিষয়ে দুদককে শিগগিরই ব্যবস্থা নিতে হবে। নইলে দুদকের ওপর মানুষ আর আস্থা রাখতে পারবে না।
সম্প্রতি বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল আরটিভির সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে সুরঞ্জিতের এপিএস ফারুকের গাড়ির ড্রাইভার আলী আজম খান স্বীকার করেছেন, ওইদিন সুরঞ্জিত সেনের বাসার উদ্দেশেই গাড়িতে করে টাকা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কিন্তু সুরঞ্জিত ড্রাইভারের এ দাবিকে নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, ড্রাইভারকে তিনি চেনেন না। এটা মিডিয়ার সৃষ্টি।
গত মঙ্গলবার বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা এবং যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মোশাররফ মঙ্গলবারের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশকে দায়ী করে বলেন, বর্তমান সরকারের স্বৈরাচারী চরিত্রের কথা মানুষ জানে। তারা অন্যায়ভাবে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের তিন দিন অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। এভাবেই জনধিকৃত সরকার গায়ের জোরে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে এভাবেই হামলা-মামলা এবং মানুষ হত্যা করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি।
পদ্মা সেতু দুর্নীতির বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের তদন্ত কমিটি দেশে আসছে। আমার প্রশ্ন, এ খাতে দুর্নীতি যদি না-ই হয়, তাহলে তাদের কমিশন আসছে কেন?
ড. মোশাররফ কক্সবাজারের রামু ও উখিয়ায় বৌদ্ধদের ওপর হামলার ঘটনার জন্য সরকারকে দায়ী করে বলেন, এর সঙ্গে সরকারি দল জড়িত। ঘটনার কাছাকাছি পুলিশের থানা থাকলেও তারা সময়মত ঘটনাস্থলে আসেনি। সময়মত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারত না। বিএনপি অফিস অবরুদ্ধ রাখতে সরকার যেভাবে সক্রিয় ছিল, ওই সাম্প্রদায়িকতার তাণ্ডব দমনে তারা ছিল ততটাই নিষ্ক্রিয়।
তিনি ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় শুধু হলমার্ক কর্মকর্তা নয়, সোনালী ব্যাংকের এমডি এবং পরিচালনা পর্ষদসহ জড়িত সরকারদলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, শুধু হলমার্কের এমডিসহ ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু এত বড় জালিয়াতি পরিচালনা পর্ষদ ছাড়া সম্ভব নয়। এর আগে শেয়ারবাজার জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত তাদের দলের লোকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি ক্ষমতাসীনরা। কারণ এসব দুর্নীতির সঙ্গে সরকারের প্রধান, তার আত্মীয়স্বজন, মন্ত্রী এবং সরকারি দলের নেতারা জড়িত।
তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, সরকারের দুর্নীতি, অযোগ্যতা ও সমন্বয়হীনতার কারণে দেশের অবস্থা নাজুক। দুর্নীতির কারণে ব্যাংকিং ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। কারণ প্রতিটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে সরকার তাদের দলীয় এমন লোকদের বসিয়েছে, যাদের ব্যাংকিং সম্পর্কে কোনো জ্ঞান নেই।
স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এমপি বলেন, রামুর ঘটনা বাংলাদেশের জন্য কলঙ্কজনক। বিএনপির প্রতিনিধি দল সেখানে দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে তদন্ত করেনি; নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করেছে। প্রকৃত তথ্য দেশবাসীকে শিগগিরই জানানো হবে।
তিনি বিশ্বব্যাংকের তদন্ত দলের ঢাকায় এসে দুর্নীতির তদন্ত করাকে দেশের জন্য লজ্জাজনক বলে মনে করেন। বলেন, এর থেকে লজ্জাজনক ঘটনা আর হতে পারে না। সরকারের লজ্জা থাকলে এতদিনে পতদ্যাগ করত। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের কালো বিড়াল বের হয়েছে। এই দুর্নীতির বিচার করতে হবে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, আওয়ামী লীগে এখন অনেক সুরঞ্জিত রয়েছেন। একসময় ভারতে সুর উঠেছিল— ‘গলি গলি মে শোর হ্যায়, রাজীব গান্ধী চোর হ্যায়।’ এখন বাংলাদেশেও একই সুর— ‘প্রধানমন্ত্রী চোর হ্যায়।’
ঢাকা মহানগর বিএনপি আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকার সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, বরকতউল্লাহ বুলু, জয়নুল আবদিন ফারুখ, নাজিম উদ্দিন আলম, হাবিব-উন নবী সোহেল, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, শিরিন সুলতানা, আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল প্রমুখ।

Sunday, October 7, 2012

বিচারপতি মানিককে নিয়ে স্পিকারের রুলিং বিতর্ক : সরকার আপিলের অনুমতি পায়নি

বিতর্কিত বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে নিয়ে স্পিকারের রুলিং বেআইনি, অসাংবিধানিক ও ভিত্তিহীন বলে হাইকোর্টের ঘোষিত রায়ের বিরুদ্ধে সরকারপক্ষের দায়ের করা লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) মঞ্জুর করেনি আপিল বিভাগ। আপিলের অনুমতি না দিয়ে কিছু পর্যবেক্ষণসহ সরকারপক্ষের দায়ের করা আবেদনটির নিষ্পত্তি করে দিয়েছে আপিল বিভাগ। দুই পক্ষের শুনানি শেষে গতকাল প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ফুলকোর্ট ‘অর্ডার ইজ ডিসপোজাল উইথ সাম অবজারভেশন’ বলে রায় ঘোষণা করেন। ফলে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অনুমতি মিলল না সরকারের। আপিল বিভাগের নিয়মানুযায়ী পূর্ণাঙ্গ আদেশ পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হয়। আইনজ্ঞরা বলছেন, রায় প্রকাশ হওয়ার পর বোঝা যাবে আপিল বিভাগ এ বিষয়ে কী পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। রায় প্রকাশ হওয়ার আগে পর্যবেক্ষণ জানার কোনো সুযোগ নেই। গত বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে শুনানি শেষে রোববার আদেশের জন্য ধার্য করা হয়েছিল। এদিন আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় শীর্ষে ছিল মামলাটি। সকালে বিচারপতিরা এজলাসে বসার পর আইনজীবীরা বিভিন্ন মামলা উপস্থাপন করেন। এরপর প্রধান বিচারপতি একবাক্যে এ মামলার আদেশ দেন।
আদেশের পর এক প্রতিক্রিয়ায় রিটকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার আখতার ইমাম বলেন, এ রায়ের ফলে হাইকোর্টের আদেশই বহাল রইল। আপিলের আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ায় হাইকোর্টের আদেশ পরিবর্তন করার আর তেমন সুযোগ নেই বলে আমার মনে হয়। তবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, হাইকোর্টের রায়ে বেশকিছু আপত্তিকর ও অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য দেয়া হয়েছে। শুনানিতে আমরা সেগুলোর ব্যাপারে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আদালত আমাদের ‘অ্যাপ্রিসিয়েট’ করে। আশা করি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর সব বিতর্কের অবসান হবে। হাইকোর্ট বিভাগের রায়ে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে। হাইকোর্টের মূল রিটের বেলায়ও প্রথমে পর্যবেক্ষণসহ সংক্ষিপ্ত আদেশ দেয়া হয়েছিল। পরে পর্যবেক্ষণের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়।
ব্যারিস্টার আখতার ইমাম সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের করা আপিল গ্রহণ করা হলে এ নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়ত। রাষ্ট্রের প্রধান দুটি ‘অর্গানের’ মধ্যে যেন সংঘাতের সৃষ্টি না হয় সে জন্য আবেদনটি নিষ্পত্তি করে দেয়া হয়েছে। ফলে হাইকোর্টের দেয়া আদেশই বহাল রইল।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, আসলে এ বিষয়টি আদালতে নিয়ে আসাই উচিত হয়নি। রায়ের কোনো কোনো অংশে আমরা ক্ষুব্ধ, কোনো কোনো অংশ রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য নষ্ট করবে তা আমরা আদালতকে বলেছি।
তিনি বলেন, স্পিকার সংসদের প্রধান। তিনি যা বলেন, সংসদে তাই বাস্তবায়িত হয়। হাইকোর্টের রায়ে তার বিরুদ্ধে কোনো কটূক্তি থাকলে নিশ্চয়ই আপিল বিভাগ বিষয়টি বিবেচনা করবে।
প্রধান অ্যাটর্নি বলেন, লিভ টু আপিল আবেদন মঞ্জুর না করেও অতীতে বহু রায় পরিবর্তন করেছে আপিল বিভাগ। আমাদের আবেদনে কয়েকটি বিষয়ে আমরা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। আশা করি এমন কিছু করা হবে না, যাতে এ দুটি অঙ্গের মধ্যে বিতর্ক বাড়ে। আমাদের আবেদনটি খারিজ করা হয়নি কিছু পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি করে দেয়া হয়েছে।
গত ২৩ জুলাই হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিনকে নিয়ে স্পিকারের দেয়া রুলিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট আবেদন করেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী এটিএম সাইফুদ্দীন। ২৪ জুলাই বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এবিএম আলতাফ হোসেন সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ কিছু পর্যবেক্ষণসহ রিট আবেদনটি নিষ্পত্তি করে দেন। ২৭ আগস্ট পর্যবেক্ষণসহ পূর্ণাঙ্গ আদেশ প্রকাশ করা হয়। এর আগে ২২ জুলাই হাইকোর্টের আরেকটি দ্বৈত বেঞ্চ এ রিটের শুনানিতে বিব্রতবোধ করেছিল।
হাইকোর্ট বিভাগের পূর্ণাঙ্গ আদেশে বলা হয়, বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরীকে নিয়ে স্পিকারের রুলিংয়ের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই এবং তা আইনের দৃষ্টিতে অস্থিত্বহীন। স্পিকারের রুলিং সংবিধানের ৯৬(৫) অনুচ্ছেদের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
এ বছরের ১৪ মে সড়ক ভবন নিয়ে আদালত অবমাননা মামলায় বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ একটি আদেশ দেন। এ নিয়ে ২৯ মে সংসদে আলোচনা চলাকালে স্পিকার আবদুল হামিদ কথা প্রসঙ্গে ‘জনগণ ক্ষুব্ধ হলে বিচার বিভাগের প্রতি রুখে দাঁড়াতে পারে’ বলে মন্তব্য করেন।
এরপর ৫ জুন বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ স্পিকার আবদুল হামিদের দেয়া বক্তব্যকে রাষ্ট্রদ্রোহমূলক বলে মন্তব্য করেন। স্পিকারকে নিয়ে আদালতে কটাক্ষমূলক মন্তব্য করেন বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী। ওই দিন সন্ধ্যায় সংসদে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীর সমালোচনা ও অপসারণ দাবি করেন সরকারদলীয় কয়েকজন সংসদ সদস্য। তারা বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মস্তিষ্ক বিকারগ্রস্ত বলে মন্তব্য করেন। এ জন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীকে অপসারণ করতে তিন দিনের আল্টিমেটাম দেয়া হয় জাতীয় সংসদে। পরে ১৮ জুন এ বিষয়ে স্পিকার রুলিং দেন। স্পিকারের রুলিংয়ে বলা হয়, বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের ভার প্রধান বিচারপতির ওপর ন্যস্ত করেন স্পিকার।

অস্ত্রসহ হলমার্কের এমডি তানভীর ও জিএম তুষার আটক


 অস্ত্রসহ হলমার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ ও জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) তুষার আহমেদকে আটক করেছে র‌্যাব। মিরপুর ১০ থেকে রোববার রাত সোয়া ৯টায় তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে জানা গেছে র‌্যাব সূত্রে।

আটকের পর  প্রথম এ তথ্য নিশ্চিত করেন তানভীরের ব্যক্তিগত আইনজীবী ফৌজিয়া ইয়াসমিন মুক্তি।

রাত সাড়ে ৯টায় র্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান লে. কর্নেল জিয়াউল আহসান এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান টিমের সদস্যরাও বাংলানিউজকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আটক হওয়ার সময় তানভীরের কাছ থেকে একটি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয় বলে জানা গেছে। তবে আটককৃত অস্ত্র বৈধ না অবৈধ সে ব্যাপারে কিছু এখনও নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক এম সোহায়েল জানান, তানভীরকে রমনা থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
আটক দুইজনকে সোমবার সকালে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলে জানান র‌্যাব-৪ এর এএসপি তানভীর।

উল্লেখ্য, ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার তানভীরসহ ২৭ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

মামলার এজাহারের উল্লেখ রয়েছে, ভূয়া এলসির মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা শাখা থেকে ফান্ডেড এক হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা আত্মসাত করেছে হলমার্ক গ্রুপ। ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের যোগসাজসে বিপুল
পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করে গ্রুপটি।

বাংলানিউজকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ``ব্যাংকি ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারি করেছে হলমার্ক গ্রুপ। আসামিদের যখন যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই গ্রেফতার করা হবে।``

তিনি বলেন, “মামলার পর থেকেই দুদক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় গ্রেফতার অভিযান চালাচ্ছে।
``অন্য আসামিদেরও আইনের হাতে সোপর্দ করা হবে বলে`` মন্তব্য করেন তিনি।

হলমার্ক গ্রুপের যারা আসামি
গত বৃহস্পতিবার দুদকের হলমার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় প্রথম পর্যায়ে যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হচ্ছেন- হলমার্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ ওরফে তফছীর, তানভীরের স্ত্রী ও গ্রুপের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম, তানভীরের ভায়রা ও গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার (কমার্শিয়াল) তুষার আহমেদ, হলমার্ক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আনোয়ারা স্পিনিং মিলসের স্বত্ত্বাধিকারী মো: জাহাঙ্গীর আলম, ম্যাক্স স্পিনিং মিলসের স্বত্ত্বাধিকারী মীর জাকারিয়া, সেঞ্চুরি ইন্টারন্যাশনালের স্বত্ত্বাধিকারী মো: জিয়াউর রহমান, এ্যাপারেল এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী মো: শহিদুল ইসলাম।

রুপসী বাংলা শাখায় যাদের নামে মামলা
সোনালী ব্যাংক রুপসী বাংলা শাখায় (সাবেক শেরাটন শাখা) মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। এরা হলেন-রুপসী বাংলা শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক ও ডিজিএম (সাময়িক বরখাস্ত) একেএম আজিজুর রহমান, সাবেক এজিএম মো: সাইফুল হাসান (সামায়িক বরখাস্ত), নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল মতিন (সাময়িক বরখাস্ত), অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র অফিসার মো: ওয়াহিদুজ্জামান ও সোনালী ব্যাংক  ধানমন্ডি শাখার বর্তমান সিনিয়র নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেরুন্নেসা মেরী। এদের মধ্যে মেহেরুন্নেসা মেরী রুপসী বাংলা শাখায় কর্মরত ছিলেন।

প্রধান কার্যালয়ের যারা আসামি
সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ূন কবিরসহ সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের জিএম অফিস, আইটিএফডি শাখা, অডিট ও ইন্সপেকশন-২, সিএডি, টিএমডি বিভাগে মোট ১৫ কর্মকর্তাকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন-ডিএমডি মাঈনুল হক(ওএসডি) ও আতিকুর রহমান (ওএসডি)। জিএম আ.ন.ম মাশরুরুল হুদা সিরাজী, ননী গোপাল নাথ (ওএসডি), মীর মহিদুর রহমান (ওএসডি)ও সাবেক জিএম সবিতা সিরাজ। ডিজিএম ভগবতী মজুমদার (সাময়িক বরখাস্ত), শেখ আলতাফ হোসেন (সাময়িক বরখাস্ত), মো: সফিজউদ্দিন আহমেদ (সাময়িক বরখাস্ত) ও কানিজ ফাতেমা চৌধুরী। এজিএম মো: কামরুল হোসেন খান (সাময়িক বরখাস্ত), আশরাফ আলী পাটোয়ারী (সাময়িক বরখাস্ত), মো: আবুল হাসান ও মো: খুরশিদ আলম।

মামলার বাদী যারা
হলমার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় দুদকের ৬ অনুসন্ধান কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলার বাদীরা হলেন- দুদকের প্রধান অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও জ্যেষ্ঠ উপ-পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলী, উপ-পরিচালক এস এম এম আখতার হামিদ ভুঞা, সহকারী পরিচালক মো: মশিউর রহমান, নাজমুচ্ছায়াদাত, উপ-সহকারী পরিচালক মো: মজিবুর রহমান, মো: জয়নুল আবদীন। ৬ সদস্যের এ অনুসন্ধান টিম হলমার্ক ও সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তাদের নামে মামলা দায়ের করেন।

যে ধারায় মামলা
মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ এর (২) ধারায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২) ধারায় এবং দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৯,৪২০ এ ১১৯ ধারায় মামলাগুলো দায়ের করা হয়।

অনুসন্ধানকারী দলে পাঁচজন কর্মকর্তা দুটি করে দশটি এবং দুদকের অনুসন্ধান টিমের প্রধানের একটিসহ মোট এগারটি মামলা দায়ের করা হয়। রমনা মডেল থানায় মামলা নং ৮ থেকে ১৮।

আত্মসাতের ঘটনায় হলমার্কের ৭ এবং সোনালী ব্যাংকের ২০ ব্যক্তি জড়িত থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে এজাহারে।

দুদকের অনুসন্ধান টিম রাতে বাংলানিউজকে জানায়, হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে জড়িত দুদকের মামলার প্রায় সব আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। দুদক র‌্যাবের সহযোগিতায় অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা হোটেল (সাবেক শেরাটন) শাখা থেকে হলমার্ক কর্তৃক আত্মসাৎকৃত ২ হাজার ৬৮৬ কোটি ১৪ লাখ টাকার মধ্যে যে পরিমাণ টাকা এরই মধ্যে স্বীকৃত বিলের বিপরীতে পরিশোধ করা হয়েছে (ফান্ডেড), সেই পরিমাণ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানে প্রমাণিত হওয়ায় ২৭ ব্যক্তির নামে মামলা দায়ের করে দুদক।

জানা গেছে, রূপসী বাংলা শাখা থেকে হলমার্ক গ্রুপসহ ৬টি কোম্পানি আত্মসাৎ করেছে মোট ৩ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে হলমার্ক এককভাবে আত্মসাৎ করেছে ২ হাজার ৬৮৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা।

রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের রুপসী বাংলা শাখা থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকার আত্মসাতের অভিযোগে গত জুন মাসের ১০ তারিখে অনুসন্ধান শুরু করে দুদকের জ্যেষ্ঠ উপ-পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলী।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, আড়াই হাজার নয়, ভুয়া ঋণপত্রসহ জালিয়াতির মাধ্যমে হলমার্ক গ্রুপসহ ৫টি কোম্পানি প্রায় ৩ হাজার ৬শ’ কোটি টাকার আত্মসাৎ করেছে। তখন বিষয়টি জানার পর অনুসন্ধান কমিটির পরিধি বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। জুলাই মাসের ১৫ তারিখে কমিটি পূনর্গঠন করা হয়। কমিটি পূনর্গঠিত হওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদন সংগ্রহ করে এবং ৭৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অনুসন্ধান দল।

এছাড়া সোনালী ব্যাংক থেকে দুদকের মামলায় আসামি করার জন্য ২২ জনের একটি তালিকাও পাঠানো হয় দুর্নীতি দমন কমিশনে।

অনুসন্ধান কমিটি প্রাপ্ত বক্তব্য এবং সোনালী ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত খতিয়ে দেখে এসবের ভিত্তিতে ``শুধু হলমার্কের ফান্ডে টাকা নেয়ার অংশটা জালজালিয়াতি`` বলে উল্লেখ করে কমিটি  কমিশনে রিপোর্ট জমা দেয়। কমিশন রিপোর্ট পর্যালোচনা করে মঙ্গলবার ১১ মামলার অনুমতি দেয়।

Saturday, October 6, 2012

'বিশ্বচোর, বিশ্ববেহায়ার হাতে দেশ'




বর্তমান সরকারকে ‘বিশ্বচোর’ এবং এরশাদকে ‘বিশ্ববেহায়া’ আখ্যায়িত করে তাদের হাত থেকে দেশ রক্ষায় ঈদের পর আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, আন্দোলনে বাধা দেয়ার পরিণতি শুভ হবে না।

শনিবার বিকালে হবিগঞ্জে ১৮ দলীয় জোটের জনসভায় বিরোধী দলীয় নেতা এসব কথা বলেন।

খালেদা বলেন, “আজ বিশ্বচোর ও বিশ্ববেহায়া এক হয়েছে। এদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করে গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করতে হবে। সামনে ঈদের পর আমরা নির্ভয়ে- নির্বিঘেœ আন্দোলন শুরু করব। সরকার বাধা দিলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ ও কঠিন।”

সবাইকে এ আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “ইনশাল্লাহ আন্দোলনে রাজপথে আপনাদের সঙ্গে আমার দেখা হবে।”

নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি পূরণে জনমত গঠনের অংশ হিসেবে হবিগঞ্জে এই জনসভা করেন বিরোধী দলীয় নেতা। এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর দিনাজপুরের গোর-ই-শহীদ ময়দানে জনসভা করেছিলেন তিনি। সর্বশেষ ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে হবিগঞ্জের পৌরসভা মাঠে খালেদা জিয়া জনসভা করেছিলেন।

শনিবার দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে জনসভাস্থল ছিল কানায় কানায় পূর্ণ।

বিকাল পৌনে ৪টা ৫৫ মিনিট থেকে শুরু হওয়া ৪৫ মিনিট স্থায়ী বক্তব্যে বিরোধী দলীয় নেতা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক অবস্থা, দুর্নীতি, পদ্মাসেতু প্রকল্প, বৌদ্ধ বিহারে হামলাসহ সরকারের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরেন।

নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরে খালেদা বলেন, “আওয়ামী লীগের অধীনে এ যাবৎকালে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। তাই তাদের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না বলে আমরা মনে করি। সরকারকে বলব, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে প্রমাণ করুন আপনাদের জনপ্রিয়তা আছে।”

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পটভূমি তুলে ধরে তিনি বলেন, “১৯৯৬ সালে বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, তখন আওয়ামী লীগের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন ছিল। এখন তারা ক্ষমতায়, তাই তাদের এখন আর সেই সরকারের প্রয়োজন নেই।”

বক্তৃতায় বিএনপি চেয়ারপারসন নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন।

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, “নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নয়। তারা আওয়ামী লীগের সুরে কথা বলে। তাই এই আজ্ঞাবহ কমিশনের অধীনে কোনো অবাধ ও সুষ্ঠু হতে পারে না।”

বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়াই বর্তমান দুর্নীতি দমন কমিশনের কাজ বলে অভিযোগ করেন খালেদা জিয়া।

দুদকের কর্মকা- তুলে ধরে তিনি বলেন, “দুর্নীতি দমন কমিশনের কাজ হচ্ছে- কুমীর, রাঘব- বোয়াল ও তিমি মাছ ধরা। কিন্তু তা না করে তারা বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছে। সরকারি দলের দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।”

দুদককে হুঁশিয়ার করে দিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এভাবে দুর্নীতিবাজকে ধরা না হলে ভবিষ্যতে দুদককে ধরা হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।”

অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা

অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসার সঙ্গে মন্ত্রী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা জড়িত রয়েছে- এমন অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, “সরকারের মন্ত্রী ও এমপিরা এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হয়ে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার লুট করে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। এ ব্যবসার সঙ্গে কেবল মন্ত্রীদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যরা জড়িত হয়ে গেছে।’’

হাসানুল হক ইনুর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “নাম না-ই বললাম। সদ্য মন্ত্রী হওয়ায় এই বাম নেতার ছেলে ভিওআইপি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হয়েছেন। বিটিআরসি মন্ত্রীর ছেলে বলে কোনো ব্যবস্থাও নিতে পারছে না। ওই বাম নেতা মুখে অনেক বড় বড় কথা বলেন।”

রামুতে বৌদ্ধ বিহারে হামলা

খালেদা জিয়া কক্সবাজারের রামু, উখিয়ায় বৌদ্ধ বিহার ও বসতঘরে হামলার জন্য সরকার ও সরকার দলীয় লোকজনকে অভিযুক্ত করে বলেন, “তাদের ধরা হচ্ছে না। উল্টো বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।”

দেশে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে সরকার এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবি করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

আওয়ামী লীঘই জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক

খালেদা জিয়া বলেন, “আজ বিরোধীদলকে জঙ্গিবাদের সঙ্গে দোষারোপ করা হচ্ছে। এটা ঠিক নয়। বিএনপি কখনোই জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী নয়। বরং আওয়ামী লীগ আমলেই দেশে সর্বত্র বোমাবাজি ও জঙ্গিবাদের ঘটনা ঘটেছিলো।”

“বরং আমরাই বাংলা ভাই, জাতীয় দুলাভাই শায়খ আবদুর রহমানসহ বড় বড় জঙ্গিদের গ্রেপ্তার করে তাদের বিচারের আওতায় এনেছিলাম।”

রেলমন্ত্রির অর্থ কেলেঙ্কারি

বিএনপি চেয়ারপারসন অভিযোগ করেন, শুধু সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত নয়, অন্যান্য মন্ত্রীরাও দুর্নীতি করছে। “আর প্রধানমন্ত্রীর পরিবার তো সব জায়গায় আছেনই।”

বিচার বিভাগে দলীয়করণের অভিযোগ করে তিনি বলেন, “আজ বিচারপতিরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। উপর থেকে কাকে রিমান্ডে নিতে হবে, কাকে জেলে নিতে হবে ইত্যাদি সব নিদের্শনা দেয়া হচ্ছে। বিচারকরা অসহায়। তাই বিচার বিভাগে জনগণ ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।”

মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করার সমালোচনা করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

খালেদা জিয়া বলেন, “১/১১ তে দুর্নীতির অভিযোগে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ১৭ বছরের জেল হয়েছিল। তাকে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়ায় তিনি এখন সব জায়গা থেকে চাঁদা তুলবেন।”

বর্তমান সরকারের আমলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বিরোধী দলীয় নেতা।

তিনি বলেন, “১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগ ৪টি পত্রিকার রেখে সব পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছে। এখন তারা সেই পথ অনুসরণ করছে না; তবে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ও পত্রিকায় কোন নিউজটা যাবে, কোনটা যাবে না, তা বলে দেয়া হয়।”

জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সলের সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, সহসভাপতি শমসের মবিন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ডাঃ সাখাওয়াত হাসান জীবন, বিরোধী দলীয় প্রধান হুইপ জয়নুল আবেদিন ফারুক, সাংসদ শেখ সুজাত মিয়া, শাম্মী আখতার, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র জি কে গউছসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।

১৮ দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মজিবুর রহমান, খেলাফত মজলিশের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইসহাক, মহাসচিব আহমেদ আবদুল কাদের, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি অলি আহমেদ, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমীর মাওলানা মুখলেছুর রহমান, খেলাফত মজলিশের জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল বাসেত আজাদ প্রমুখ।

জনসভা শেষ করে খালেদা জিয়া সার্কিট হাউজে যান। সেখানে কিছুসময় থেকে রাত ৮টার দিকে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।

Friday, October 5, 2012

ফরাজিকান্দির পীর সাহেবের শোকসভায় অগণিত ভক্তের উপস্থিতি
মতলব উত্তরের ফরাজিকান্দি আল-উয়েসিয়া দরবার শরীফের পীর সাহেব, নেদায়ে ইসলামের চেয়ারম্যান আলস্নামা শায়খ ড. মানযূর আহমাদ রেফায়ী (রঃ)-এর শোকসভা ও মিলাদ মাহফিল গতকাল শুক্রবার দরবার শরীফ কমপেস্নঙ&ধসঢ়; েঅনুষ্ঠিত হয়| দরবার শরীফের অসংখ্য ভক্ত-মুরীদ ও আশেকান এতে অংশ নেয়| অসংখ্য-অগণিত ভক্ত একদিকে যেমন তাদের প্রাণপ্রিয় পীর কেবলাকে হারিয়ে শোকাহত ছিলো, আবার অন্যদিকে তারা মহা আনন্দিতও ছিলো| ভক্তরা মহা খুশি এ জন্য যে, ফরাজিকান্দি দরবার শরীফের কর্ণধার, তাদের প্রাণপ্রিয় মোর্শেদ নবী করিম (দঃ)-এর রওজা পাকের সনি&ধসঢ়;নকটে জান্নাতুল বাকীতে চির নিদ্রায় শায়িত হওয়ায় এখন এ দদ্যোগে শোকসভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়| এ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দরবার শরীফের ভক্ত ও মুরীদরা আসতে থাকে| গতকাল সকাল থেকে ভক্তদের ঢল নামে দরবার শরীফে| দরবার শরীফের ফাতেমাতুজ&ধসঢ়; জোহরা জামে মসজিদে এ শোকসভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়| জুমার নামাজের আগেই পুরো মসজিদ ছাপিয়ে সামনে বিশাল ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়| ছুটে রবারের ঠিকানা হয়ে গেলো মদিনাতুল মোনাওয়ারায় জান্নাতুল বাকীতে| হুজুর কেবলা জান্নাতুল বাকীর বাসিন্দা হয়ে প্রমাণ করলেন সত্যিই তিনি একজন খাঁটি রাসূল প্রেমিক ছিলেন| এর চেয়ে সৌভাগ্য এবং পরম পাওয়া এ দরবারের ভক্তদের জন্য আর কী হতে পারে| গতকাল ফরাজিকান্দি দরবার শরীফে আসা অগণিত ভক্ত ও মুরীদ এভাবেই তাদের আবেগ ও অনুভূতি প্রকাশ করলেন|

গত ১ অক্টোবর সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় শায়খ মানযূর আহমাদ রেফায়ী (রঃ) মদিনা শরীফে ইন্তেকাল করেন| ওইদিন বাদ আছর তাঁকে নবীজীর রওজা পাকের কাছে জান্নাতুল বাকীতে সমাহিত করা হয়| গতকাল শুক্রবার ফরাজিকান্দি আল-উয়েসিয়া দরবার শরীফের উ আসেন সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া (বীর বিক্রম) ও মোঃ নূরুল হুদাসহ দলমত নির্বিশেষে এ দরবারের ভক্ত রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, ডাক্তার, আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিগণ|

ফজর নামাজের পর থেকেই মিলাদ মাহফিলের কার্যক্রম শুরু হয়| পবিত্র কোরআন খতম, তরিকতের বিভিন্ন খতম, নাতে রাসূল (দঃ) ও শানে মুর্শিদী পাঠ চলতে থাকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত| এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে শোকসভার কার্যক্রম শুরু হয়| পীর সাহেব হুজুরের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন মেজর জেনারেল এহতেশাম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া (বীর বিক্রম), সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হুদা, মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান, নেদায়ে ইসলামের কর্মকর্তা আলহাজ্ব রহমত উলস্না, ডাঃ আমিরুল ইসলাম, আলহাজ্ব মোঃ মাহবুবুল হক পাটওয়ারী, মাওঃ মোঃ আতাউর রহমান, মাওঃ মোঃ আবুল কালাম, আলহাজ্ব সুফি মোঃ মিজানুর রহমান, মোঃ সাইফুল ইসলাম, আলহাজ্ব কাজী মোঃ কিবরিয়া, আলহাজ্ব মাওঃ তাজুল ইসলাম, মতলব উত্তর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূরুল হক সরকার, ফরাজিকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দানেশ, মরহুম পীর সাহেবের ভগি&ধসঢ়;নপতি আলী আজগর, ছোট ভাই মোকাদ্দেছ প্রমুখ| উপস্থিত ছিলেন মতলব দক্ষিণ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ শুক্কুর পাটওয়ারী, মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু আলী মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, থানার অফিসার ইনচার্জ রুস্তম আলী শিকদার পিপিএম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডঃ রুহুল আমিন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সম্পাদক অ্যাডঃ নুরুল আমিন রুহুল, জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মঞ্জুর আহমেদ মঞ্জু, মরহুম পীর সাহেব হুজুরের ছোট ছেলে মাওঃ মাসউদ আহমাদ, হুজুরের ভাগিনা হাসিমপুর দরবার শরীফের পীর মাওঃ আশফাক আহমাদ, নওগাঁও ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওঃ জাকারিয়া আল মাদানী, চাঁদপুর জেলা ইসলামী ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মাওঃ আবু জাফর মোঃ মাঈনুদ্দিন, সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ মাওঃ মোঃ জসিম উদ্দিন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আইয়ুব আলীসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ| অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ডাঃ ইসমাইল হোসেন মিয়াজী ও মোঃ দেলোয়ার হোসেন|

জুমার নামাজের পর মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়| মিলাদ ও দোয়া পরিচালনা করেন ফাতেমাতুজ&ধসঢ়; জোহরা জামে মসজিদের খতিব মাওঃ সিরাজ-উদ&ধসঢ়;-দৌলা| উল্লেখ্য, শায়খ মানযূর আহমাদ (রাঃ)-এর ওছিয়ত অনুযায়ী ফরাজিকান্দি দরবার শরীফের গদ্দীনশীন পীরের দায়িত্ব দেয়া হয় পীর সাহেব হুজুরের ছোট ভাই আলস্নামা মোস্তাক আহমাদকে| তিনি বর্তমানে আমেরিকায় অবস্থান করছেন| গতকাল শোকসভা ও মিলাদ অনুষ্ঠানে দোয়ার আগে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে তিনি সংক্ষিপ্ত বয়ান রাখেন| এ সময় তিনি দরবারের ঐতিহ্য ধরে রাখতে এবং এর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনায় সকলের সহযোগিতা চান| সবশেষে তবররুক বিতরণ করা হয়|