Thursday, September 27, 2012

প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের বাইরে ‘চোর চোর’ স্লোগান, বিক্ষোভ : দীপু মনিকে ১০ মিনিট আটকে রাখল নিরাপত্তা কর্মীরা

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগদানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ‘নাগরিক সংবর্ধনা’ দেয়া হয়েছে। নিউইয়র্কের ব্যস্ততম টাইম স্কয়ার-সংলগ্ন অভিজাত হোটেল মেরিয়ট মার্কুইসে স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত সংবর্ধনার সময় হোটেলের বাইরে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছেন বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা।
হোটেলের গ্রান্ড বলরুমে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতারা যখন প্রধানমন্ত্রীর সাফল্যগাথা বর্ণনা ও স্তূতিতে ব্যস্ত, তখন হোটেলের বাইরে টাইম স্কয়ারের বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের নাম উল্লেখ করে ‘চোর’ ‘চোর’ ধনি তোলেন। এদিকে অনুষ্ঠানে প্রবেশের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি অবাঞ্ছিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। ভ্যানিটি ব্যাগ চেক করতে না দেয়ায় হোটেল মেরিয়টের নিরাপত্তা কর্মীরা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রায় ১০ মিনিট আটকে রাখেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আবারও তার সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা উল্লেখ করে বলেন, কোনো অবস্থাতেই অনির্বাচিতদের হাতে ক্ষমতা দেয়া হবে না। একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, দুর্নীতি না পেয়ে পদ্মা সেতুতে অর্থায়নের জন্য বিশ্বব্যাংক ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে। রাজধানীসহ সারাদেশে ব্যাপক লোডশেডিং চললেও জয় দাবি করেন ৪০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ এখন বিদ্যুতের লোডশেডিং মুক্ত। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কংগ্রেসওম্যান ক্যারোলিন ম্যালোনি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সজীব ওয়াজেদ জয়সহ আওয়ামী লীগ ও দলের অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতারা সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচন ছাড়া সরকার পরিবর্তনের বিকল্প কোনো পথ নেই। দেশে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনসহ সর্বস্তরের প্রশাসনিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশে জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার নিশ্চিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোটের মালিক দেশের জনগণ। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে আগামীতে কে ক্ষমতায় আসবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ আর বাংলা ভাইদের মুক্ত করতে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ফের নির্বাচিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্ম দিন উপলক্ষে বাংলাদেশ যুবলীগ কর্তৃক প্রকাশিত ‘রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার দর্শন’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে মূল মঞ্চে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি ও ইউনিসেফ কর্মকর্তা ইরিনা জর্জিবা। এ সময় কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনজুর আলম শাহীন, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ সভাপতি মিসবাহ আহমেদসহ যুবলীগের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরে বলেন, আমরা সাগর জয় করেছি। রমজান মাসে বিদ্যুতের কোনো লোডশেডিং হয়নি, শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক সাফল্য অর্জিত হয়েছে, দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, গ্রাম পর্যায়ে তথ্য আর কম্পিউটার সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেবে। আমরা আরও যা যা করেছি সব বন্ধ করে দেশকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে সভায় এক বক্তা তার হাজার বছর দীর্ঘায়ু কামনা করেন। আরেক বক্তা কামনা করেন আরও ১০০ বছর আয়ু। সবশেষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়কারী নিজাম চৌধুরী কামনা করেন আরও ৬৫ বছর আয়ু। একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে সামনে রেখে এমন বক্তব্যে উপস্থিত সবাই হাসির খোরাক পান। কেউ কেউ মন্তব্য করেন হাজার বছর থেকে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা হলো, শেষ হলো ৬৫ বছরে।
বিএনপির বিক্ষোভ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবর্ধনা স্থলের বাইরে বিক্ষোভ করেছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও জামায়াত (মুসলিম উম্মা অব নর্থ আমেরিকা)। ২৬ সেপ্টেম্বর বুধবার সন্ধ্যায় (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা) নিউইয়র্কের টাইম স্কয়ার সংলগ্ন মেরিয়ট মার্কুইসে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ কর্তৃক প্রধানমন্ত্রীকে নাগরিক সংবর্ধনা দেয়ার সময় তারা এ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
প্রধানমন্ত্রী সংবর্ধনাস্থলে আসার আধা ঘণ্টা আগ থেকেই মার্কুইস হোটেল পাশে ব্রডওয়েতে বিএনপির দুই গ্রুপ ও আল্লামা সাঈদীর মুক্তি পরিষদের ব্যানারে পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনকালে তারা ‘শেখ হাসিনা চোর’ ‘মহাজোট সরকার মহাচোর’ বলে স্লোগান দেন। সংবর্ধনাস্থলের পাশে ২ ঘণ্টা বিক্ষোভ করেন তারা।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির ব্যানারে পৃথক দুই গ্রুপ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির একাংশের সাবেক সভাপতি আবদুল লতিফ সম্রাট, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামাল পাশা বাবুল, যুগ্ম সম্পাদক আকতার হোসেন বাদল, বাবর উদ্দিন ও শাহ ইমরানসহ শতাধিক নেতাকর্মী।
বিএনপির অপর অংশের বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বেলাল মাহমুদ, জসিম উদ্দিন, নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সভাপতি মাওলানা অলিউল্লাহ আতিকুর রহমান, সহসভাপতি খালেক আকন্দ প্রমুখ। বিএনপি নেতা কাজী আজম, সাঈদুর রহমান সাঈদ, নিরা রাব্বানি ও দেওয়ান কাউসারসহ শতাধিক নেতাকর্মী এ সময় উপস্থিত ছিলেন। বিক্ষোভের সময় ব্যস্ততম ম্যানহাটন এলাকার আমেরিকান ও বিদেশি পথচারীরা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অনেক বিদেশি বিক্ষোভের কারণ জানতে চেয়েছে বিক্ষোভকারীদের কাছে। বিক্ষোভ কর্মসূচির সময় নিউইয়র্ক পুলিশও বেশ তত্পর ছিল।
বিক্ষোভে বিএনপি নেতারা বলেন, স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশকে কারাগারে পরিণত করেছে। বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের গুম-হত্যা, অত্যাচার নির্যাতন করছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে দলীয় সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন দিয়ে অবৈধ পথে ক্ষমতায় আসার ষড়যন্ত্র করছে আওয়ামী লীগ। বিক্ষোভ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বহাল করে দ্রুত নির্বাচন দেয়ার দাবি জানান বিএনপি নেতারা।
আল্লামা সাঈদী মুক্তি পরিষদের বিক্ষোভ : এদিকে আল্লামা সাঈদী মুক্তি পরিষদের ব্যানারে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ৩ শতাধিক লোক নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়। বিক্ষোভের সময় আল্লামা সাঈদীসহ কারাবন্দি জামায়াত নেতাদের ছবিসহ প্লাকার্ড হাতে নিয়ে সরকার বিরোধী স্লোগান দেয় নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভে বিপুলসংখ্যক নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণী ও মহিলা উপস্থিত ছিলেন। বিক্ষোভে নেতারা বলেন, দেশের শীর্ষ স্থানীয় আলেমদের যুক্তরাষ্ট্রের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে বন্দি রেখেছে সরকার। বিক্ষোভ থেকে তারা অধ্যাপক গোলাম আযম, মাওলানা নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মাওলানা সাঈদী ও মীর কাসেম আলীসহ সব জামায়াত নেতার মুক্তির দাবি করেছেন।
দীপু মনিকে ১০ মিনিট আটকে রাখল হোটেল সিকিউরিটি : হ্যান্ড ব্যাগ চেক করতে দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে ১০ মিনিট আটকে রাখে হোটেল মেরিয়ট মার্কুইসের নিরাপত্তাকর্মীরা। গতকাল নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে হোটেল মেরিয়ট মার্কুইসে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ কর্তৃক প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। রাত ৮টায় সংবর্ধনাস্থল হোটেলের বলরুমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রবেশ করেন। এ সময় তার পেছনে ছিলেন ডা. দীপু মনি।
দীপু মনির হাতে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগটি সিকিউরিটি চেক করার অনুমতি চাইলে তিনি তাতে অস্বীকৃতি জানান। সিকিউরিটিও কোনোভাবে তার ব্যাগ চেক করা ছাড়া বলরুমে ঢুকতে দিতে অপারগতা জানায়। এ সময় দীপু মনি নিজেকে বাংলাদেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিচয় দেন, তারপরও সিকিউরিটি সদস্যরা তাদের অবস্থানে অটল থাকেন। এ সময় বলরুমে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ব্যস্ত থাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ মিশন বা অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা আওয়ামী লীগ নেতারা ছিলেন না। প্রায় ১০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকার পর ব্যাগের বাইরে থেকে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে চেক করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সংবর্ধনাস্থলে ঢুকতে দেয়।
আরেকটি ওয়ান-ইলেভেন চাই না:
হাসিনা


 



প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জরুরি অবস্থা সৃষ্টির মতো পরিস্থিতি আওয়ামী লীগ চায় না।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি নিয়ে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মুখোমুখি অবস্থানের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন মহলের আশঙ্কার মধ্যে বুধবার নিউ ইয়র্কে প্রবাসীদের দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনের ফলে এখন নির্বাচিত সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। তবে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না দাবি করে তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আসছে বিরোধী দল।

২০০৭ সালের মতো জরুরি অবস্থা জারির মধ্য দিয়ে অনির্বাচিতদের ক্ষমতা দখলের পথ বন্ধ করতেই সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে বলে দাবি করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “যে কারণে ওয়ান-ইলেভেন এসেছিল, তেমন কোনো পরিস্থিতির মুখে বাংলাদেশকে আমরা ঠেলে দিতে চাই না। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং তা অক্ষুন্ন রেখেই রাজনৈতিক অঙ্গনে অবস্থান করতে চাই।”

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে রাজনীতিকদের নির্যাতনের অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা চাই না, কেয়ারটেকার সরকারের নামে দানবের আগমন ঘটুক এবং দেশের অসহায় ব্যবসায়ী-পেশাজীবী এবং রাজনীতিকদের নির্যাতন করুক।”

বুধবার রাতে (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল) টাইমস স্কোয়ার সংলগ্ন মারিয়ট মার্কেস হোটেলের বলরুমে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে ২৩ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে এসেছেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকালে তিনি সাধারণ পরিষদে বক্তব্য রাখবেন।

প্রধানমন্ত্রীকে প্রবাসীদের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের দেয়া এই অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মসিউর রহমান, শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ও বক্তব্য রাখেন।

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক একটি নৌকার ওপর বিশাল মঞ্চে বক্তব্য রাখেন শেখ হাসিনা। বক্তব্যে তিনি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সরকারের অর্জন তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের ভূমিকার কথাও বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, “ওয়ান-ইলেভেনে গঠিত কেয়ারটেকার সরকারের চালিকাশক্তি জেনারেল মইন প্রেসিডেন্ট হয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে চেয়েছিলেন।

“জেনারেল মইনের খায়েশ হয়েছিল রাষ্ট্রপতি হওয়ার এবং অনির্দিষ্টকাল ক্ষমতায় থাকার। তার সে অভিলাষ পূরণে সহায়ক একটি ফতোয়া দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একজন আইনজীবী। সেই আইনজীবী বলেছিলেন যে, কেয়ারটেকার সরকার কতদিন ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে, সেটি নেই সংবিধানে।”

“কিন্তু প্রবাসে সৃষ্ট তুমুল আন্দোলন এবং দেশের ভেতরের গণরোষ তার সে আকাক্সক্ষা সফল হতে দেয়নি,” বলেন তিনি।

নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করায় দেশে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি রয়েছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গত সাড়ে ৩ বছরে স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচন এবং জাতীয় সংসদের কয়েকটি উপ-নির্বাচনের দিকে গভীরভাবে মনোযোগ দিলেই অনুধাবন করা সম্ভব হবে যে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রভাব ছিল না।”

“আগামী সাধারণ নির্বাচনেও ভোটারের মনোভাবেরই প্রতিফলন ঘটবে, এতে কারো সন্দেহ থাকা উচিত নয়। ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনের রেজাল্ট পাল্টিয়েছে, এমন নজির অনেক রয়েছে। কিন্তু মহাজোট সরকারের আমলে তেমন ঘটনা ঘটেনি,” বলেন তিনি।

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, জঙ্গিবাদ নির্মূলে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০২১ সালে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এমন একটি পরিবেশে করতে চাই, যেখানে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য থাকবে না, লোডশেডিং থাকবে না, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে পরমতসহিষ্ণুতা বাড়বে।”

বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, “গত পৌনে চার বছরে আমরা ৫৪টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করেছি। আরো ২৩টি নির্মাণের কাজ সমাপ্তির পথে। তাহলে বিএনপি কি এগুলো গুঁড়িয়ে দেবে?

“প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে ইনফরমেশন সেন্টার স্থাপন এবং ১৩ হাজার কমিউনিটি হেল্থ সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে। এগুলোও কি নিষিদ্ধ হয়ে যাবে? তাহলে কি আবার হাওয়া ভবন এবং খোয়াব ভবন খোলা হবে?”

মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমার বিরোধের মামলায় জয়ের তথ্য তুলে ধরে আগামীতে ভারতের সঙ্গে বিরোধেও একই ফল আশা করেন শেখ হাসিনা।

প্রবাসীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনাদের পাঠানো রেমিট্যান্স হচ্ছে বাংলাদেশের অন্যতম চালিকা শক্তি। রেমিট্যান্স এবং দক্ষ প্রশাসনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ব মন্দা মোকাবেলা করে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।”

সজীব ওয়াজেদ তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, প্রত্যেক ইউনিয়নে একটি করে তথ্যকেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে কম্পিউটারের অভাব পূরণ হয়েছে গোটা দেশে। দুর্গম অঞ্চলের লোকজনকেও এখন আর শহরে যেতে হয় না।

“এভাবেই বাংলাদেশ সারাবিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। পদ্মা সেতুতে বিশ্ব ব্যাংক ফিরতে বাধ্য হয়েছে। কারণ, আমরা দুর্নীতি করিনি,” বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য ক্যারলিন মেলনী, ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ইরিনা জি বোকোভাও উপস্থিত ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ, যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরী, আকতার হোসেন, আব্দুস সামাদ আজাদ, নজমুল ইসলাম, এন আমিন, নূরনবী কমান্ডার, জাকারিয়া চৌধুরী, ইমদাদুর রহমান চৌধুরী, শাহীন আজমল প্রমুখ।

বিএনপির বিক্ষোভ

শেখ হাসিনার নাগরিক সংবর্ধনাস্থলের বাইরে বেশ কিছু প্রবাসী বিএনপি-জামায়াত জোটের ব্যানারে বিক্ষোভ করেছেন।

‘যেখানে হাসিনা সেখানেই প্রতিরোধ’ এই স্লোগানে সিটি প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই তারা বিক্ষোভ করেন।

বিক্ষোভকারীদের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সভাপতি আব্দুল লতিফ সম্রাট, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল, তারেক পরিষদ আন্তর্জাতিক কমিটির চেয়ারম্যান আকতার হোসেন বাদল প্রমুখ।

বক্তব্যে তারা শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের কার্যক্রমের কঠোর সমালোচনা করেন।

Wednesday, September 26, 2012

পদ্মাসেতু প্রকল্পে ফিরেনি বিশ্বব্যাংক: সরকারি কর্মকর্তারা ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছে


 
‘বাংলাদেশের সার্বিক দুর্নীতি পরিস্থিতিতে বিশেষ করে পদ্মা সেতু প্রকল্পের দুর্নীতি বিষয়ে বিশ্বব্যাংক উদ্বিগ্ন। আর এর জন্যই আমরা বাংলাদেশ সরকারকে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি যে, এই প্রকল্পে নতুন করে যুক্ত হওয়ার জন্য নতুন ‘বাস্তবায়ন ব্যবস্থাপনা’ (ইম্পলিমেন্টেশন এরেইঞ্জমেন্টস) প্রয়োজন, যাতে করে প্রকল্পের ক্রয় সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় বিশ্বব্যাংক ও সহযোগী ঋণদাতাদের অধিকতর তদারকির সুযোগ থাকে।

কেবল উপরোল্লিখিত সম্মত বিষয়াবলীর সন্তোষজনক বাস্তবায়নের পরই এবং এ বিষয়ে (গৃহীত সরকারি পদক্ষেপ সম্পর্কে) আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্বাধীন বিশেষজ্ঞ প্যানেলের পক্ষ থেকে ইতিবাচক প্রতিবেদন পাওয়া সাপেক্ষে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন করবে’ বলে ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১২ ওয়াশিংটন সময় বিকালে প্রদত্ত এক নতুন বিবৃতিতে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
উল্লেখ্য যে, পদ্মা সেতু বিষয়ে গত ২০শে সেপ্টেম্বর ২০১২ তারিখে প্রদত্ত বিশ্বব্যাংকের বিবৃতিটি বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি।

দেশের সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তাগণ সংবাদ মাধ্যমে বিশ্বব্যাংকের বিবৃতির ভুল ব্যাখ্যার মাধ্যমে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছেন বলে অভিযোগ করেছে বিশ্বব্যাংক।

সম্প্রতি এ বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে ইআরডি সচিব সাংবাদিকদের জানান, ‘বিশ্বব্যাংক নতুন কোন শর্ত দেয়নি, বরং ইতিমধ্যেই সব শর্ত পূরণ হওয়ায় পদ্মা সেতু প্রকল্পে ফিরতে রাজি হয়েছে’। অর্থমন্ত্রী উল্টো পদ্মা সেতু নির্মাণের দিন তারিখ নির্ধারণ করে বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, ‘আমি যেভাবে হিসাব করেছি ফর ব্রিজ কনস্ট্রাকশন, বিশ্বব্যাংক ইতিমধ্যে এগ্রি করেছে। আরও কিছু টেন্ডার ডকুমেন্ট তাদের কাছে আছে। সেগুলো তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। উই শুড গো ফর  টেন্ডার।

আগামী অক্টোবরে পদ্মা সেতুর জন্য দরপত্র আহ্বান করে এপ্রিল-মে মাসে ব্রিজের ফাউন্ডেশন করবো আমরা’। সর্বোপরি দেশের প্রধানমন্ত্রী গতকাল নিউইয়র্কে এক দলীয় সমাবেশে বক্তৃতা কালে  পদ্মা সেতু প্রকল্পে কোন দুর্নীতি হয়নি, দুর্নীতি হলে বিশ্বব্যাংক ফিরে আসতো না’ বলে মন্তব্য করেন।

এ পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকের সুস্পষ্ট অবস্থান জানতে গতকাল দুপুরে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক এক্সটার্নাল এফেয়ার্স ম্যানেজার এঞ্জেলা ওয়াকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি জানান, ‘বিষয়টি ব্যাংকের নজরে এসেছে এবং এ বিষয়ে আজকের কর্মদিবস শেষে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে ব্যাংকের অবস্থান আরও সুস্পষ্ট করা হবে’। এরপর ওয়াশিংটন সময় বিকাল চারটায় বিশ্বব্যাংকের ওয়েবসাইটে বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেশটির সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তাগণ পদ্মা সেতু বিষয়ক বিশ্বব্যাংকের বিবৃতিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন (মিসরিপ্রেজেন্ট) করায় এ বিষয়ে একটি ব্যাখ্যামূলক বিবৃতির মাধ্যমে ব্যাংকের অবস্থান সুস্পষ্ট করা বাধ্যবাধকতার পর্যায়ে পড়ে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক’।

বিশ্বব্যাংকের নতুন  বিবৃতি:

‘পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন নিয়ে সরকারের সিনিয়র কর্মকর্তাগণের দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি বিশ্বব্যাংক ‘গ্রহণযোগ্য তথ্যপ্রমাণ’ সহ বার বার বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়েছে। এ সব বিষয়ে সরকার কোন উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ না নেয়ায় বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের ঋণ বাতিল করে।

গত ২০শে সেপ্টেম্বর ২০১২ বাংলাদেশ সরকার পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ জানিয়ে নিম্নলিখিত বিষয়ে সরকারের সম্মতি জানায়:

১. ‘দুর্নীতি বিষয়ক তদন্ত পূর্ণাঙ্গভাবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত সন্দেহভাজন সরকারি কর্মকর্তাদের সরকারি চাকরি থেকে ছুটিতে পাঠানো ;

২. দুর্নীতি দমন কমিশনে (পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য) বিশেষ ‘ইনক্যুইরী এন্ড প্রসিকিউশন’ টিম গঠন করা;

৩. দুর্নীতি বিষয়ক তদন্তের সমস্ত তথ্য উপাত্তে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি স্বাধীন বিশেষজ্ঞ প্যানেল এর প্রবেশ থাকবে, যাতে তারা বিশ্বব্যাংক এবং সহযোগী ঋণদাতাদের সরকারি তদন্তের গ্রহণযোগ্যতা বিষয়ে মতামত দিতে পারেন।

বাংলাদেশের সার্বিক দুর্নীতি পরিস্থিতিতে বিশেষ করে পদ্মা সেতু প্রকল্পের দুর্নীতি বিষয়ে বিশ্বব্যাংক উদ্বিগ্ন। আর এর জন্যই আমরা বাংলাদেশ সরকারকে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি যে, এই প্রকল্পে নতুন করে যুক্ত হওয়ার জন্য নতুন ‘বাস্তবায়ন ব্যবস্থাপনা’ (ইম্পলিমেন্টেশন এরেইঞ্জমেন্টস) প্রয়োজন, যাতে করে প্রকল্পের ক্রয় সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় বিশ্বব্যাংক ও সহযোগী ঋণদাতাদের অধিকতর তদারকির সুযোগ থাকে।

কেবল উপরোল্লিখিত সম্মত বিষয়াবলীর সন্তোষজনক বাস্তবায়নের পরই এবং এ বিষয়ে (গৃহীত সরকারি পদক্ষেপ সম্পর্কে) আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্বাধীন বিশেষজ্ঞ প্যানেলের পক্ষ থেকে ইতিবাচক প্রতিবেদন পাওয়া সাপেক্ষে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন করবে’।

একটি পরিচ্ছন্ন পদ্মা ব্রিজ বাংলাদেশের মানুষের ন্যায্য দাবি। আর এ দাবি নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা (এ বিবৃতির মাধ্যমে) আবারও বাংলাদেশ সরকারকে অত্যন্ত জোরালোভাবে একটি গ্রহণযোগ্য তদন্ত শুরুর জন্য বলছি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সব প্রক্রিয়া এমনভাবে অনুসরণ করার কথা বলছি, যাতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ্তা ও অধিকতর জবাবদিহিতার বিষয়টি নিশ্চিত হয়’।

Tuesday, September 25, 2012

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকার জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্র আরও সুসংহত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
স্থানীয় সময় রোববার সন্ধ্যায় হোটেল স্যুটে মার্কিন সিনেটর পিটার ডব্লিউ গলব্রেইথ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে এলে তিনি এ কথা বলেন। সাক্ষাতের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, জাতীয় সংসদ, নির্বাচন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হয়েছে। এছাড়া সরকার বাস্তবমুখী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করায় জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বর্তমান সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সব সংসদীয় কমিটি গঠনের কথা উল্লেখ করেন।
এছাড়া তিনি এই সরকারের বিগত সাড়ে তিন বছরে সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে ছয় হাজার নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ও নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে তার সরকারের বিভিন্ন সফলতা তুলে ধরেন। সাক্ষাত্কালে মার্কিন সিনেটর শেখ হাসিনার গতিশীল ও দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার ক্ষেত্রে তার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার দৃঢ় অবস্থানেরও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় গণতান্ত্রিক সংস্কারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সোচ্চার।
বর্তমান সরকার ১৯৭১ সালে দেশের মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখার জন্য ‘ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ অ্যাওয়ার্ড’ দিয়ে পিটার ডব্লিউ গলব্রেইথকে সম্মানিত করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন রাজ্যের আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংস্থার নেতারা হোটেল স্যুটে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন।
এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ এম জিয়াউদ্দিন, প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. আবদুস সোবহান গোলাপ উপস্থিত ছিলেন। শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৬৭তম অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্ক রয়েছেন।

Monday, September 24, 2012

বিশ্বব্যাংককে ফেরানোর নেপথ্য কথা

গওহর রিজভীর সাক্ষাৎকার
'দুর্নীতির ষড়যন্ত্র হয়েছে'_ এই অভিযোগ এনে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পে ঋণদানের চুক্তি বাতিল করায় সারাদেশে যখন তোলপাড়, স্বপ্নের সেতুর বাস্তবায়ন যখন গভীর অনিশ্চয়তায়, তখন প্রায় অসম্ভবকে সম্ভব করতে যারা নেপথ্যে থেকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তাদের অন্যতম গওহর রিজভী_ প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও যিনি নেপথ্যচারী, যারা কাজ কম করে কথা বেশি বলেন_ তাদের থেকে যিনি সম্পূর্ণ আলাদা তিনি এই গওহর রিজভী। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত রোববার সমকালকে প্রদত্ত এক সাক্ষাৎকারে অকপটে স্বীকার করেছেন, গওহর রিজভীই বিশ্বব্যাংককে ফিরিয়ে আনার অন্যতম নেপথ্য নায়ক। গতকাল সোমবার রাতে গওহর রিজভীকে এ কথা বললে তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে বললেন, অর্থমন্ত্রী অত্যন্ত সজ্জন এবং বিনয়ী বলে এ কথা বলেছেন। আমি নই, তিনিই এ ব্যাপারে আমাদের টিম লিডার। আমি নেপথ্যে থেকে তারই পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করেছি।
গওহর রিজভী সমকালকে এক সাক্ষাৎকারে বললেন, আমি একা নই, একটি টিম কাজ করেছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বুঝতে পেরেছেন, নিজের অর্থে এই সেতু নির্মাণ করতে দীর্ঘ সময় লাগবে। দেশের গায়ে লেগে থাকবে দুর্নীতির তকমা। তাই অর্থমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নিলেন বিশ্বব্যাংককে ফিরিয়ে আনতে হবে। তার নেতৃত্বে আমরা বিশ্বব্যাংককে ফেরানোর উদ্যোগ নিলাম।
গওহর রিজভী বলেন, নানা কারণে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আমাদের ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। অনেকের মুখের কথা
শুনে বিশ্বব্যাংক মনে করেছে, পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে। আমরা বিশ্বব্যাংককে বোঝালাম, কোনো কন্ট্রাক্ট হয়নি, টেন্ডার হয়নি, দুর্নীতি কোথা থেকে হবে। তারা কিছু তথ্য দিল। কিছু নাম দিল। এটা কোনো প্রমাণ নয়। আমরা পুরোপুরি তদন্ত করতে শুরু করলাম। দ্বিতীয় যে কাজটি আমরা (সরকার) করেছি, আমরা কিছু আন্তর্জাতিক বন্ধুকে সঙ্গে নিলাম। এই বন্ধুরা আমাদের শুধু সমর্থনই করল না, বিশ্বব্যাংকের ভুল ধারণা ভাঙতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করল। জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, চীন_ এই দেশগুলো বিরাট সহযোগিতা করেছে। তারা বিশ্বব্যাংকের বড় শেয়ারহোল্ডার।
ভারতীয় অর্থমন্ত্রী, জাপানের অর্থমন্ত্রী ও উপ-অর্থমন্ত্রী, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী, যুক্তরাজ্যের ডিএফআইডি মন্ত্রী_ তারা সবাই আমাদের সমর্থন দিলেন। তাতে আমাদের হাত মজবুত হয়ে গেল। ওরা বিশ্বব্যাংককে চাপ দিল। আমাদেরও বোঝাল, একটা সমঝোতা করো। কিছু শর্ত আমরা মানলাম, কিছু মানিনি।
গওহর রিজভী বললেন, আমরা বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তাদের জানালাম, ঋণের জন্য আবেদন করব না। আগের চুক্তি বহাল করো। বিশ্বব্যাংক বলল, ব্যাংকের ইতিহাসে এমন ঘটনা নেই। আমরা বললাম, ইতিহাসে নেই বলে যে ভবিষ্যতে হবে না_ এমন তো নয়। ওরা রাজি হলো। আরেকটি কাজ করেছি। সেতুর কাজে চারটি সংস্থা, একটা দেশ যুক্ত_ বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকা, আইডিবি ও বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ৩০ শতাংশ সেতুর খরচ দিচ্ছে। সবাই মিলে একটা কমিটি করব। যৌথভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
বিশ্বব্যাংকের দাবি অনুযায়ী যারা পদত্যাগ করলেন তাদের কীভাবে রাজি করালেন জানতে চাইলাম। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা বললেন, সবাই স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। মন্ত্রী, সচিব সবাই স্বেচ্ছায় চলে গেছেন। মসিউর রহমানের একটা সন্দেহ ছিল যে, তিনি সরে গেলেও বিশ্বব্যাংকের এ ঋণ আমরা পাব না। যখন তাকে বোঝানো হলো, তিনি নিজের থেকে সরে গেলেন।
পদ্মা সেতু প্রকল্পকে ভবিষ্যতে দুর্নীতির অভিযোগমুক্ত রাখবেন কীভাবে_ প্রশ্ন ছিল গওহর রিজভীর কাছে। তার জবাব, আমরা সতর্ক থাকব। সবাই মিলেমিশে টেন্ডার করবে, সব কাজ করবে। বাংলাদেশ সরকার একটি স্টিয়ারিং কমিটি করে দেবে। তারা সবই দেখবে। দুর্নীতির যে অভিযোগ তার তদন্ত করবে দুর্নীতি দমন কমিশন। বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষক বা উপদেষ্টার ভূমিকা থাকবে। তদন্ত হবে আমাদের দেশের আইনে।
কবে নাগাদ নির্মাণ কাজ শুরু করতে চায় সরকার_ জানতে চাইলে গওহর রিজভী বলেন, ভেবেচিন্তে ঠিক করতে হবে। সুইচ টিপলেই হবে না। সরকারের ইচ্ছা, এপ্রিল-মে মাসে শুরু করবে। গওহর রিজভী জানান, পহেলা অক্টোবর দাতাদের ১০ সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধি দল আসবে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরা ওয়াশিংটন, এডিবির প্রতিনিধিরা ম্যানিলা, জাইকার প্রতিনিধিরা টোকিও থেকে আসবেন। ১০ জনকে একত্র হতে হবে। আজকালই প্রতিনিধি দল আসবে বলে সংবাদপত্রে যে খবর বেরিয়েছে তা ঠিক নয়। এই প্রতিনিধি দল কাজের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেবে।
গওহর রিজভী বললেন, বিশ্বব্যাংককে পদ্মায় ফেরাতে আমরা একটি টিম হিসেবে কাজ করেছি। এই টিমের নেতা অর্থমন্ত্রী। সেই টিমে আমিসহ ইআরডির সিনিয়র সচিব ইকবাল মাহমুদ ছিলেন। গওহর রিজভী বলেন, বিশ্বব্যাংকের ঋণ না পেলে নিজের অর্থে পদ্মা সেতু করলে দেশের শিক্ষা, পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, স্বাস্থ্য সব খাতের অর্থ কাটা পড়ত। বিশ্বব্যাংকের ঋণ পরিশোধের শর্ত খুবই সহজ। ১০ বছরে কোনো সুদ দিতে হবে না। তারপর সুদ মাত্র শূন্য দশমিক সাত শতাংশ। ৪০ বছরে পরিশোধ করতে হবে এ ঋণ। এটাকে ঋণ বলা যায় না_ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তা (আইডিএ) বলা হয়। এর মতো সহজ শর্তে পৃথিবীতে কেউ অর্থ দিতে পারে না। পদ্মা সেতু হলে মংলা বন্দর, আঞ্চলিক কানেকটিভিটি, অপরাপর সেতু সবই বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হবে। তিনি সবার প্রতি আবেদন জানিয়ে বলেন, বহু কষ্টে এ ঋণ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। কেউ যেন এমন কোনো কিছু না করেন, এমন কিছু না বলেন কিংবা এমন কোনো কিছু না লেখেন, যাতে আবার সমস্যা দেখা দেয়। পদ্মা সেতু কোনো সরকারের নয়, সমগ্র জাতির স্বপ্ন। সকলে মিলে এ স্বপ্ন সফল করতে হবে।



জঙ্গিবাদের জুজু নিয়ে অপপ্রচারে নেমেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

ইসলামী জঙ্গিবাদের জুজু নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অপপ্রচারে নেমেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ‘বিগত বিএনপি সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় মদতে বাংলাদেশে ইসলামী জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটে। আল কায়দার সঙ্গে এসব জঙ্গিগোষ্ঠীর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। জঙ্গিরা প্রকাশ্যে শত শত মানুষকে হত্যা করেছে।’—এমন সব তথ্যসংবলিত একটি গোপন নোট সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দফতর থেকে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোতে পাঠানো হয়েছে। এই নোটের বিষয়বস্তু বিভিন্ন দেশের সরকার, কূটনীতিক এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তাদের কাছে তুলে ধরার জন্য বলা হয়েছে। গত ২০ জুলাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির দফতরের পরিচালক আন্দালিব ইলিয়াস বিএনপি-জামায়াতের অপশাসন শিরোনামের এই গোপন নোটটি পাঠিয়েছেন। তিনি তার নোটে বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে এই নোট পাঠাতে বলেছেন।
নোটের বিষয়বস্তু হোস্ট কান্ট্রির পদস্থ কর্মকর্তা, সেখানে অবস্থিত অন্যান্য দূতাবাসের কূটনীতিক এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তাদের কাছে তুলে ধরার জন্য অনুরোধ জানানো হলো।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দফতরের এই গোপন নোটে ইসলামী জঙ্গিবাদসহ মানবাধিকার ও দুর্নীতির মতো ইস্যুগুলো তুলে ধরা হয়েছে। নোটে অনেক ক্ষেত্রে মিথ্যা তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি এমন সব স্পর্শকাতর মন্তব্য করা হয়েছে, যা দেশের জন্য আত্মঘাতী বলে মনে করছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দফতরের এই গোপন নোটে বলা হয়, বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় মদতে ইসলামী জঙ্গিগোষ্ঠীর উত্থান ঘটে। আল কায়দার সঙ্গে এসব জঙ্গিগোষ্ঠীর সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। হরকাতুল জিহাদ বা জেএমবির মতো জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো আল কায়দা এবং পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। বিগত জোট সরকারের আমলে এসব জঙ্গিগোষ্ঠী সরকারের সমান্তরাল শক্তি হিসেবে দেশ শাসন করেছে। তারা প্রকাশ্যে মানুষের ওপর নির্যাতন চালাত। জঙ্গিরা শত শত মানুষকে হত্যা করেছে বলে এই গোপন নোটে দাবি করা হয়েছে। জঙ্গিদের হাতে নিহতদের বেশিরভাগই তত্কালীন বিরোধী দলের (আওয়ামী লীগ) নেতাকর্মী বলে উল্লেখ করা হয়েছে নোটে।
জঙ্গিবাদের উত্থান সম্পর্কে গোপন এই নোটে আরও বলা হয়েছে, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ধর্মীয় জঙ্গিবাদের উত্থান এক নজিরবিহীন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছায়। পুলিশের সহযোগিতায় বাংলা ভাই, শায়েখ আবদুর রহমান ও মুফতি হান্নানের মতো জঙ্গিরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল শাসন করতে থাকে।
এসব জঙ্গি এবং বিএনপি-সমর্থিত সন্ত্রাসীরা তত্কালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর বোমা হামলা চালায়। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলাসহ গোপালগঞ্জে গির্জায় হামলার জন্যও জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো দায়ী বলে নোটে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিএনপির তীব্র সমালোচনা করে নোটে বলা হয়—ভোট চুরি, নারী ধর্ষণ, সাংবাদিক নির্যাতন, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হত্যা, হিন্দু এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়সহ সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ছিল বিএনপির শাসনামলের চিত্র।
বিএনপি আমলে সন্ত্রাসী এবং জঙ্গিদের হাতে আওয়ামী লীগের ২৪ হাজার নেতাকর্মী নিহত হয়েছে বলে এই গোপন নোটে দাবি করা হয়।
বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ইসলামী জঙ্গিবাদ কঠোরভাবে দমন করছে। এছাড়া জঙ্গিবাদের শিকড় উপড়ে ফেলতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে নোটে উল্লেখ করা হয়েছে।
জঙ্গিবাদ সম্পর্কে নোটে আরও বলা হয়, বিএনপি সরকারের মদতে জঙ্গিরা ৬৩টি জেলায় একযোগে বোমা হামলা চালায়। এছাড়া বিগত সরকারের আমলে ১০ ট্রাক অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। এই অবৈধ অস্ত্রের চালান আসার সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা জড়িত ছিল।
জঙ্গিবাদের পাশাপাশি আরও কিছু প্রসঙ্গ তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দফতরের এই গোপন নোটে বলা হয়েছে, বিএনপি সরকারের আমলে দুর্নীতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছায় এবং বিশ্বের এক নম্বর দুর্নীতিগ্রস্থ দেশে পরিণত হয়। বাংলাদেশ প্রতিটি ক্ষেত্রে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়ে। বিদ্যুত্ সংযোগ দেয়ার নামে তারা কোটি কোটি ডলার লুট করে। গণমাধ্যম এবং সাংবাদিকদের স্বাধীনতা হরণ করে। বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা ১৩ সাংবাদিককে হত্যা করে। নোটে বলা হয়, বিএনপি সরকার মানবাধিকারের প্রতি কোনো ধরনের শ্রদ্ধাশীল ছিল না। জুডিশিয়াল প্রসেস বা বিচারিক প্রক্রিয়াকে তারা নানাভাবে বাধাগ্রস্ত করেছে। ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবিরকে সন্ত্রাসী বাহিনী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এই গোপন নোটে।
এদিকে এই গোপন নোটে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলা হয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশনকে পুনর্গঠন করা হয়েছে এবং অতীতের তুলনায় দুর্নীতি দমন কমিশন এখন অনেক স্বাধীনভাবে কাজ করছে। দুর্নীতি এখন অনেক কমে এসেছে। সরকার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠন করেছে। গণমাধ্যম এবং সাংবাদিকরা এখন অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করছে। এছাড়া বিচার বিভাগ এখন পুরোপুরি স্বাধীনভাবে কাজ করছে বলে গোপন নোট দাবি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বর্তমান সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম, হত্যা, বিচার বিভাগ দলীয়করণ, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা, বিশেষ করে সাগর-রুনি হত্যার মতো ইস্যু নিয়ে দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।