Saturday, October 6, 2012

'বিশ্বচোর, বিশ্ববেহায়ার হাতে দেশ'




বর্তমান সরকারকে ‘বিশ্বচোর’ এবং এরশাদকে ‘বিশ্ববেহায়া’ আখ্যায়িত করে তাদের হাত থেকে দেশ রক্ষায় ঈদের পর আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, আন্দোলনে বাধা দেয়ার পরিণতি শুভ হবে না।

শনিবার বিকালে হবিগঞ্জে ১৮ দলীয় জোটের জনসভায় বিরোধী দলীয় নেতা এসব কথা বলেন।

খালেদা বলেন, “আজ বিশ্বচোর ও বিশ্ববেহায়া এক হয়েছে। এদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করে গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করতে হবে। সামনে ঈদের পর আমরা নির্ভয়ে- নির্বিঘেœ আন্দোলন শুরু করব। সরকার বাধা দিলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ ও কঠিন।”

সবাইকে এ আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “ইনশাল্লাহ আন্দোলনে রাজপথে আপনাদের সঙ্গে আমার দেখা হবে।”

নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি পূরণে জনমত গঠনের অংশ হিসেবে হবিগঞ্জে এই জনসভা করেন বিরোধী দলীয় নেতা। এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর দিনাজপুরের গোর-ই-শহীদ ময়দানে জনসভা করেছিলেন তিনি। সর্বশেষ ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে হবিগঞ্জের পৌরসভা মাঠে খালেদা জিয়া জনসভা করেছিলেন।

শনিবার দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে জনসভাস্থল ছিল কানায় কানায় পূর্ণ।

বিকাল পৌনে ৪টা ৫৫ মিনিট থেকে শুরু হওয়া ৪৫ মিনিট স্থায়ী বক্তব্যে বিরোধী দলীয় নেতা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক অবস্থা, দুর্নীতি, পদ্মাসেতু প্রকল্প, বৌদ্ধ বিহারে হামলাসহ সরকারের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরেন।

নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরে খালেদা বলেন, “আওয়ামী লীগের অধীনে এ যাবৎকালে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। তাই তাদের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না বলে আমরা মনে করি। সরকারকে বলব, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে প্রমাণ করুন আপনাদের জনপ্রিয়তা আছে।”

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পটভূমি তুলে ধরে তিনি বলেন, “১৯৯৬ সালে বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, তখন আওয়ামী লীগের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন ছিল। এখন তারা ক্ষমতায়, তাই তাদের এখন আর সেই সরকারের প্রয়োজন নেই।”

বক্তৃতায় বিএনপি চেয়ারপারসন নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন।

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, “নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নয়। তারা আওয়ামী লীগের সুরে কথা বলে। তাই এই আজ্ঞাবহ কমিশনের অধীনে কোনো অবাধ ও সুষ্ঠু হতে পারে না।”

বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়াই বর্তমান দুর্নীতি দমন কমিশনের কাজ বলে অভিযোগ করেন খালেদা জিয়া।

দুদকের কর্মকা- তুলে ধরে তিনি বলেন, “দুর্নীতি দমন কমিশনের কাজ হচ্ছে- কুমীর, রাঘব- বোয়াল ও তিমি মাছ ধরা। কিন্তু তা না করে তারা বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছে। সরকারি দলের দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।”

দুদককে হুঁশিয়ার করে দিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এভাবে দুর্নীতিবাজকে ধরা না হলে ভবিষ্যতে দুদককে ধরা হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।”

অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা

অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসার সঙ্গে মন্ত্রী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা জড়িত রয়েছে- এমন অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, “সরকারের মন্ত্রী ও এমপিরা এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হয়ে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার লুট করে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। এ ব্যবসার সঙ্গে কেবল মন্ত্রীদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যরা জড়িত হয়ে গেছে।’’

হাসানুল হক ইনুর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “নাম না-ই বললাম। সদ্য মন্ত্রী হওয়ায় এই বাম নেতার ছেলে ভিওআইপি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হয়েছেন। বিটিআরসি মন্ত্রীর ছেলে বলে কোনো ব্যবস্থাও নিতে পারছে না। ওই বাম নেতা মুখে অনেক বড় বড় কথা বলেন।”

রামুতে বৌদ্ধ বিহারে হামলা

খালেদা জিয়া কক্সবাজারের রামু, উখিয়ায় বৌদ্ধ বিহার ও বসতঘরে হামলার জন্য সরকার ও সরকার দলীয় লোকজনকে অভিযুক্ত করে বলেন, “তাদের ধরা হচ্ছে না। উল্টো বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।”

দেশে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে সরকার এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবি করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

আওয়ামী লীঘই জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক

খালেদা জিয়া বলেন, “আজ বিরোধীদলকে জঙ্গিবাদের সঙ্গে দোষারোপ করা হচ্ছে। এটা ঠিক নয়। বিএনপি কখনোই জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী নয়। বরং আওয়ামী লীগ আমলেই দেশে সর্বত্র বোমাবাজি ও জঙ্গিবাদের ঘটনা ঘটেছিলো।”

“বরং আমরাই বাংলা ভাই, জাতীয় দুলাভাই শায়খ আবদুর রহমানসহ বড় বড় জঙ্গিদের গ্রেপ্তার করে তাদের বিচারের আওতায় এনেছিলাম।”

রেলমন্ত্রির অর্থ কেলেঙ্কারি

বিএনপি চেয়ারপারসন অভিযোগ করেন, শুধু সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত নয়, অন্যান্য মন্ত্রীরাও দুর্নীতি করছে। “আর প্রধানমন্ত্রীর পরিবার তো সব জায়গায় আছেনই।”

বিচার বিভাগে দলীয়করণের অভিযোগ করে তিনি বলেন, “আজ বিচারপতিরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। উপর থেকে কাকে রিমান্ডে নিতে হবে, কাকে জেলে নিতে হবে ইত্যাদি সব নিদের্শনা দেয়া হচ্ছে। বিচারকরা অসহায়। তাই বিচার বিভাগে জনগণ ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।”

মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করার সমালোচনা করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

খালেদা জিয়া বলেন, “১/১১ তে দুর্নীতির অভিযোগে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ১৭ বছরের জেল হয়েছিল। তাকে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়ায় তিনি এখন সব জায়গা থেকে চাঁদা তুলবেন।”

বর্তমান সরকারের আমলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বিরোধী দলীয় নেতা।

তিনি বলেন, “১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগ ৪টি পত্রিকার রেখে সব পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছে। এখন তারা সেই পথ অনুসরণ করছে না; তবে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ও পত্রিকায় কোন নিউজটা যাবে, কোনটা যাবে না, তা বলে দেয়া হয়।”

জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সলের সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, সহসভাপতি শমসের মবিন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ডাঃ সাখাওয়াত হাসান জীবন, বিরোধী দলীয় প্রধান হুইপ জয়নুল আবেদিন ফারুক, সাংসদ শেখ সুজাত মিয়া, শাম্মী আখতার, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র জি কে গউছসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।

১৮ দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মজিবুর রহমান, খেলাফত মজলিশের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইসহাক, মহাসচিব আহমেদ আবদুল কাদের, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি অলি আহমেদ, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমীর মাওলানা মুখলেছুর রহমান, খেলাফত মজলিশের জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল বাসেত আজাদ প্রমুখ।

জনসভা শেষ করে খালেদা জিয়া সার্কিট হাউজে যান। সেখানে কিছুসময় থেকে রাত ৮টার দিকে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।

Friday, October 5, 2012

ফরাজিকান্দির পীর সাহেবের শোকসভায় অগণিত ভক্তের উপস্থিতি
মতলব উত্তরের ফরাজিকান্দি আল-উয়েসিয়া দরবার শরীফের পীর সাহেব, নেদায়ে ইসলামের চেয়ারম্যান আলস্নামা শায়খ ড. মানযূর আহমাদ রেফায়ী (রঃ)-এর শোকসভা ও মিলাদ মাহফিল গতকাল শুক্রবার দরবার শরীফ কমপেস্নঙ&ধসঢ়; েঅনুষ্ঠিত হয়| দরবার শরীফের অসংখ্য ভক্ত-মুরীদ ও আশেকান এতে অংশ নেয়| অসংখ্য-অগণিত ভক্ত একদিকে যেমন তাদের প্রাণপ্রিয় পীর কেবলাকে হারিয়ে শোকাহত ছিলো, আবার অন্যদিকে তারা মহা আনন্দিতও ছিলো| ভক্তরা মহা খুশি এ জন্য যে, ফরাজিকান্দি দরবার শরীফের কর্ণধার, তাদের প্রাণপ্রিয় মোর্শেদ নবী করিম (দঃ)-এর রওজা পাকের সনি&ধসঢ়;নকটে জান্নাতুল বাকীতে চির নিদ্রায় শায়িত হওয়ায় এখন এ দদ্যোগে শোকসভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়| এ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দরবার শরীফের ভক্ত ও মুরীদরা আসতে থাকে| গতকাল সকাল থেকে ভক্তদের ঢল নামে দরবার শরীফে| দরবার শরীফের ফাতেমাতুজ&ধসঢ়; জোহরা জামে মসজিদে এ শোকসভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়| জুমার নামাজের আগেই পুরো মসজিদ ছাপিয়ে সামনে বিশাল ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়| ছুটে রবারের ঠিকানা হয়ে গেলো মদিনাতুল মোনাওয়ারায় জান্নাতুল বাকীতে| হুজুর কেবলা জান্নাতুল বাকীর বাসিন্দা হয়ে প্রমাণ করলেন সত্যিই তিনি একজন খাঁটি রাসূল প্রেমিক ছিলেন| এর চেয়ে সৌভাগ্য এবং পরম পাওয়া এ দরবারের ভক্তদের জন্য আর কী হতে পারে| গতকাল ফরাজিকান্দি দরবার শরীফে আসা অগণিত ভক্ত ও মুরীদ এভাবেই তাদের আবেগ ও অনুভূতি প্রকাশ করলেন|

গত ১ অক্টোবর সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় শায়খ মানযূর আহমাদ রেফায়ী (রঃ) মদিনা শরীফে ইন্তেকাল করেন| ওইদিন বাদ আছর তাঁকে নবীজীর রওজা পাকের কাছে জান্নাতুল বাকীতে সমাহিত করা হয়| গতকাল শুক্রবার ফরাজিকান্দি আল-উয়েসিয়া দরবার শরীফের উ আসেন সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া (বীর বিক্রম) ও মোঃ নূরুল হুদাসহ দলমত নির্বিশেষে এ দরবারের ভক্ত রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, ডাক্তার, আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিগণ|

ফজর নামাজের পর থেকেই মিলাদ মাহফিলের কার্যক্রম শুরু হয়| পবিত্র কোরআন খতম, তরিকতের বিভিন্ন খতম, নাতে রাসূল (দঃ) ও শানে মুর্শিদী পাঠ চলতে থাকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত| এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে শোকসভার কার্যক্রম শুরু হয়| পীর সাহেব হুজুরের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন মেজর জেনারেল এহতেশাম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া (বীর বিক্রম), সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হুদা, মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান, নেদায়ে ইসলামের কর্মকর্তা আলহাজ্ব রহমত উলস্না, ডাঃ আমিরুল ইসলাম, আলহাজ্ব মোঃ মাহবুবুল হক পাটওয়ারী, মাওঃ মোঃ আতাউর রহমান, মাওঃ মোঃ আবুল কালাম, আলহাজ্ব সুফি মোঃ মিজানুর রহমান, মোঃ সাইফুল ইসলাম, আলহাজ্ব কাজী মোঃ কিবরিয়া, আলহাজ্ব মাওঃ তাজুল ইসলাম, মতলব উত্তর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূরুল হক সরকার, ফরাজিকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দানেশ, মরহুম পীর সাহেবের ভগি&ধসঢ়;নপতি আলী আজগর, ছোট ভাই মোকাদ্দেছ প্রমুখ| উপস্থিত ছিলেন মতলব দক্ষিণ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ শুক্কুর পাটওয়ারী, মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু আলী মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, থানার অফিসার ইনচার্জ রুস্তম আলী শিকদার পিপিএম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডঃ রুহুল আমিন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সম্পাদক অ্যাডঃ নুরুল আমিন রুহুল, জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মঞ্জুর আহমেদ মঞ্জু, মরহুম পীর সাহেব হুজুরের ছোট ছেলে মাওঃ মাসউদ আহমাদ, হুজুরের ভাগিনা হাসিমপুর দরবার শরীফের পীর মাওঃ আশফাক আহমাদ, নওগাঁও ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওঃ জাকারিয়া আল মাদানী, চাঁদপুর জেলা ইসলামী ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মাওঃ আবু জাফর মোঃ মাঈনুদ্দিন, সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ মাওঃ মোঃ জসিম উদ্দিন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আইয়ুব আলীসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ| অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ডাঃ ইসমাইল হোসেন মিয়াজী ও মোঃ দেলোয়ার হোসেন|

জুমার নামাজের পর মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়| মিলাদ ও দোয়া পরিচালনা করেন ফাতেমাতুজ&ধসঢ়; জোহরা জামে মসজিদের খতিব মাওঃ সিরাজ-উদ&ধসঢ়;-দৌলা| উল্লেখ্য, শায়খ মানযূর আহমাদ (রাঃ)-এর ওছিয়ত অনুযায়ী ফরাজিকান্দি দরবার শরীফের গদ্দীনশীন পীরের দায়িত্ব দেয়া হয় পীর সাহেব হুজুরের ছোট ভাই আলস্নামা মোস্তাক আহমাদকে| তিনি বর্তমানে আমেরিকায় অবস্থান করছেন| গতকাল শোকসভা ও মিলাদ অনুষ্ঠানে দোয়ার আগে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে তিনি সংক্ষিপ্ত বয়ান রাখেন| এ সময় তিনি দরবারের ঐতিহ্য ধরে রাখতে এবং এর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনায় সকলের সহযোগিতা চান| সবশেষে তবররুক বিতরণ করা হয়|

Thursday, October 4, 2012



শিক্ষকদের মিছিলে পুলিশের টিয়ারশেল : রক্ত ঝরল শিক্ষকদের, আহত অর্ধশত, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি, আলোচনায় বসতে চান প্রধানমন্ত্রী












পুলিশের লাঠিপেটায় রক্ত ঝরল নন-এমপিও শিক্ষকদের। একইসঙ্গে তাদের ওপর ছোড়া হয়েছে কাঁদানে গ্যাসের শেল। পুলিশের হামলায় প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষক আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিক্ষককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে শিক্ষকরা জানিয়েছেন।
গতকাল বেলা ১১টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের অর্ধশতাধিক টিয়ারশেল নিক্ষেপে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। দুর্ভোগে পড়ে মানুষজন।
এদিকে এমপিওভুক্তির দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলোচনায় বসতে চেয়েছেন বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তাদের জানানো হয়েছে। নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি মো. এশারত আলী এ তথ্য জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস পাওয়ার পর শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসে আজ শুক্রবারের বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। তিনি জানান, আগামী সোমবার প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে বসবেন বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে।
ঐক্যজোটের সাধারণ সম্পাদক তাপস কুমার কুণ্ডু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আমাকে ফোন করে জানানো হয়েছে, সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে বসতে চেয়েছেন। আগামী রোববার বা সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষকদের বৈঠক হতে পারে।
এমপিওভুক্তির (বেতন-ভাতার সরকারি অংশ) দাবিতে বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা চারদিন ধরে কাফনের কাপড় পরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছিলেন। আন্দোলনরত শিক্ষকদের অভিযোগ, তাদের লাঠিপেটা করে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে ন্যক্কারজনকভাবে সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি পণ্ড করে দিয়েছে পুলিশ। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সচিবালয় ঘেরাওয়ের জন্য প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে এগোতে গেলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে তারা হাইকোর্ট এলাকায় কদম ফোয়ারার সামনে দিয়ে যেতে চাইলে পুলিশ কাঁটাতারের বাধা সৃষ্টি করে শিক্ষকদের আটকায়। একপর্যায়ে শিক্ষকরা এই বাধা ভেঙে এগোতে গেলে পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষক আহত হন। তাদের মধ্যে নুরুজ্জামান, সুব্রত কুমার, মনিরুজ্জামান, বাহারুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শিক্ষকরা প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।
এ ঘটনায় প্রেস ক্লাবের সামনে দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজটের। পাঁচ দফা দাবিতে ‘নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটে’র ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষক-কর্মচারীরা কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ করছেন। ঐক্যজোটের সভাপতি মো. এশারত আলীর নেতৃত্বে গত বুধবার পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি দেয়। স্মারকলিপিতে শিক্ষকরা পাঁচ দফা দাবির কথা উল্লেখ করেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে— চলতি অর্থবছরে স্বীকৃতি পাওয়া সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা, স্বীকৃতির সময়কাল থেকে চাকরির বয়স গণনা করা, এমপিওর ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের ডিও লেটার দেয়ার প্রয়োজন বিলুপ্ত করা, এমপিও প্রদানে অনিয়ম, ঘুষ ও দুর্নীতি বন্ধ করা এবং স্বীকৃতি পাওয়া সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন না দেয়া।
আন্দোলনরত শিক্ষকরা জানান, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ৪ হাজার ৪৮৪টি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্তির দাবি জানিয়ে আসছেন। শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা সচিবের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনায় বসেও কোনো আশ্বাস মেলেনি। সর্বশেষ ২৩ সেপ্টেম্বর শিক্ষকরা শিক্ষা সচিবের সঙ্গে বসলেও তিনি সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত জানাতে পারেননি।
নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি এশারত আলী অভিযোগ করে বলেন, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ হামলা চালিয়েছে। সরকার এমপিওভুক্তির ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত রাস্তা ছেড়ে ঘরে ফিরে যাবেন না বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশেই প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষককে পিটিয়েছে পুলিশ। শিক্ষকদের অধিকারকে পদদলিত করতে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তিনি জানান, শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্তির দাবি করে আসছেন। তাদের প্রতিবাদের অংশ হিসেবে গতকাল সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি ছিল। এ সময় পুলিশ শিক্ষকদের ওপর হামলা চালায়।
পুলিশের রমনা জোনের এসি শিবলী নোমান বলেন, সচিবালয়ের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ব্যারিকেড দিয়েছিল। শিক্ষকরা নিয়ম ভেঙে দুপুর ১২টার দিকে তা সরাতে যায়। এ সময় নিয়ম মেনে তাদের সরিয়ে দেয়া হয়। কারও ওপর হামলার কোনো প্রশ্নই আসে না।
তবে রমনা বিভাগের পুলিশের উপ-কমিশনার সৈয়দ নুরুল ইসলাম জানান, গতকাল বেলা ১১টার দিকে শিক্ষকরা মিছিল নিয়ে সচিবালয়ের দিকে এগোলে তাদের বাধা দেয়া হয়। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষকরা বাধা ডিঙিয়ে সামনের দিকে যেতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এক পর্যায়ে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়তে বাধ্য হয়।
প্রসঙ্গত, এমপিওভুক্তির দাবিতে গত সোমবার নতুন করে এ আন্দোলন শুরু করেন নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা। মঙ্গলবারও তারা দিনভর প্রেস ক্লাব ও শাহবাগ এলাকায় বিক্ষোভ করেন এবং বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেন।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চান শিক্ষকরা : নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের পূর্বঘোষিত সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে পুলিশি মারধরের শিকার হয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন। তারা বলছেন, টানা চারদিন ধরে তারা আন্দোলন করছেন। তাদের দাবির বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে কোনো প্রকার যোগাযোগ করা হয়নি। উল্টো তাদের ওপর পুলিশ টিয়ারশেল ছুড়েছে। এ ঘটনার পর বেলা ২টার দিকে শিক্ষকরা সচিবালয় ও প্রেস ক্লাবের মাঝখানের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে নানা স্লেম্লাগান দেন। তাদের অভিযোগ, শিক্ষামন্ত্রী এ পর্যন্ত এমপিওভুক্তি নিয়ে স্পষ্ট কোনো কথা বলেননি।
দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান মিজানুরের : আন্দোলনরত শিক্ষকদের দাবি মেনে নিতে সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান। গতকাল বিকালে শিক্ষকদের সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমি নিজেও শিক্ষক। শিক্ষকদের ব্যথায়, মর্মবেদনায়, আন্দোলনে সহমর্মিতা প্রকাশ করা ছাড়া আমার কোনো গতি নেই। শিক্ষকদের হেয় করে কোনো জাতি কখনও বড় হতে পারে না। যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষকদের দাবি মেনে নেয়ারও দাবি জানান তিনি।

Wednesday, October 3, 2012

বিদ্যুতে সরাসরি বিনিয়োগ করতে চায় জিই


 
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহত্তম কোম্পানি জেনারেল ইলেকট্রিক (জিই) বাংলাদেশে বিদ্যুৎ খাতে সরাসরি বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

বুধবার বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতিবিনিময় সভায় এ আগ্রহের কথা জানান ঢাকা সফরে আসা কোম্পানিটির চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেফরি ইমেল্ট।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেও একই আগ্রহের কথা জানিয়েছেন জেফরি ইমেল্ট। ইমেল্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কর্মসংস্থান ও কার্যসক্ষমতা বিষয়ক পরামর্শক।

জিই সরাসরি বিনিয়োগ করবে কিনা- এক সম্পাদকের এ প্রশ্নের উত্তরে জেফরি ইমেল্ট বলেন, “বাংলাদেশ সরকার ২০২১ সালের মধ্যে ২০ হাজার মেগাওয়ার্ট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। সে বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা এই দেশে এই খাতে বড় বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।” 


জিই বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য গ্যাস টারবাইন সরবরাহ করে। কোম্পানিটি স্বাস্থ্য ও বিমান উপকরণের ব্যবসাও করে থাকে।

জিই চেয়ারম্যান বলেন, “গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি লক্ষ্য করার মতো। জিই এই দেশের মানুষের উন্নত ও সমৃদ্ধ জীবন-যাপন কামনা করে। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটাতে সরকার ও আমাদের গ্রাহকদের (জিই গ্রাহক) প্রযুক্তিগত সহায়তার পাশাপাশি সরসরি বিনিয়োগও করতে চাই।”

বাংলাদেশে রাশিয়ার সহায়তা পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিষয়ে এক সম্পাদকের প্রশ্নের জবাবে মৃদু হেসে ইমেল্ট বলেন, “আমরাও রিঅ্যাক্টর তৈরি করি। বিষয়টি আমাদের খেয়ালে আছে।” 


গ্যাস টারবাইন সরবরাহের চুক্তি

রাজধানীর একটি হোটেলে মতবিনিময় সভার আগে জিই বাংলাদেশে ৮৯ মিলিয়ন ডলার মূল্যের দুটি গ্যাস টারবাইন সরবরাহের চুক্তি করেছে। এই টারবাইন দুটি নতুন বিদ্যুৎ প্রকল্পে ব্যবহৃত হবে, যা থেকে ৬৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে।

বাংলাদেশে এই প্রথম জিইর উচ্চমান সম্পন্ন গ্যাস টারবাইন ব্যবহৃত হচ্ছে।

জিই পাওয়ার অ্যান্ড ওয়াটার একটি ৯ এফ-থ্রি সিরিজের গ্যাস টারবাইন ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ করবে স্পেনের প্রতিষ্ঠান আইসোলাক্স ইনজেনারিয়া এসএকে। আইসোলাক্স সিদ্ধিরগঞ্জে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছে। 

দ্বিতীয় গ্যাস টারবাইনটি ব্যবহৃত হবে সামিট কর্পোরেশনের বিবিয়ানাতে নির্মীয়মান বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী এনামুল হক, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি ও বিদ্যুৎ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক ইলাহি চৌধুরী, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা, সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজিজ খান, আইসোলাক্সের চেয়ারম্যান লুইস ডেলসো ও জিই ভারত -এর সিইও জন ফ্ল্যানেরি উপস্থিত ছিলেন।

তৌফিক ইলাহি চৌধুরী বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকারের লক্ষ্য পূরণ করতে গুরুত্বপুর্ন দুটি পদক্ষেপ হচ্ছে সিদ্ধিরগঞ্জ ও বিবিয়ানা প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন। জিই-এর সঙ্গে এই সহযোগিতা চুক্তি পুরো দেশকেই অনেকদুর এগিয়ে দেবে বলে আমার ধারনা।”

সিদ্ধিরগঞ্জ ও বিবিয়ানা প্রকল্প যথাক্রমে ২০১৪ ও ২০১৫ সাল থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেফরি ইমেল্টের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি ঢাকায় আসে। বুধবার রাতে তারা ফিরে গেছেন। 

আলালসহ ২২ বিএনপি নেতাকর্মী রিমান্ডে

 
বিজয়নগর এলাকা থেকে বুধবার যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাচ্ছে ডিবি পুলিশ সমকাল
















রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি এবং মালিবাগে জামায়াত নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে। পল্টন থানার দুই মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে। এসব মামলায় যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ ২৫ জনকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। বিকেলে দুই মামলায় আলালসহ ২২ জনের দু'দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ঘটনার পর থেকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় পুলিশ অবরুদ্ধ করে রাখে।
মামলা এবং গ্রেফতারের প্রতিবাদে ৮ অক্টোবর সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বুধবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কক্সবাজারের রামু-উখিয়া-পটিয়াতে বৌদ্ধবিহার ও মঙ্গলবার দলীয় সমাবেশে হামলার ঘটনা একসূত্রে গাঁথা। গ্রেফতারের পর বরিশাল, ভোলা, খুলনা, ঝালকাঠি, জামালপুর ও ঢাকার ধামরাইয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে যুবদল। ফেনীতে বিক্ষোভকারীরা একটি
গাড়িতে অগি্নসংযোগ করে। ঘটনার পর থেকে আধাঘণ্টা পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।
নয়াপল্টনের কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষের ঘটনায় মঙ্গলবার মধ্যরাতে পল্টন থানায় দায়ের করা দুটি মামলার মধ্যে একটিতে গাড়ি ভাংচুর, পুলিশকে মারধর ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্য মামলাটি করা হয়েছে দ্রুত বিচার আইনে। এ দুই মামলায় ৪৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও আড়াই হাজার নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। মালিবাগে সংঘর্ষের ঘটনায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে রমনা থানায়। এতে বেআইনি সমাবেশ ও ভাংচুরের অভিযোগ এনেছেন মামলার বাদী উপপরিদর্শক আজম উদ্দিন। এতে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়।
এদিকে ঘটনার পর থেকেই কার্যালয়ে দু'শতাধিক নেতাকর্মী আটকা পড়েন। কার্যালয় পুলিশ ঘিরে রাখে। বাইরে র‌্যাবসহ সাদা পোশাকধারী পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের একাধিক মাইক্রোবাস নিয়ে অবস্থান করতে দেখা গেছে। সংঘর্ষের পর মঙ্গলবার রাতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকতউল্লা বুলু এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক খাবার নিয়ে যান। রাতে থানা এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের কয়েকজন কর্মী বের হলে তাদের আটক করা হয়। গতকাল সকালে কর্মীরা নির্বিঘ্নে কার্যালয় ত্যাগ করলেও নেতাদের বাধা দেওয়া হয়েছে। কয়েকবার চেষ্টা করেও পুলিশের সতর্ক পাহারার কারণে তারা বের হতে পারেননি।
গ্রেফতার এড়াতে অবরুদ্ধ কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থান করছেন মামলার আসামি স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজিজুল বারী হেলাল, ছাত্রদল সভাপতি আবদুল কাদের ভঁূইয়া জুয়েল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সভাপতি মুহিদুল হাসান হীরুসহ কয়েকজন।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ অভিযোগ করেন, তাদের নেতাকর্মীদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। কেউ বের হলেই গ্রেফতার করা হচ্ছে। এভাবে মামলা-ঘেরাও করে আন্দোলন দমানো যাবে না। অবশ্য মতিঝিল জোনের এডিসি মেহেদী হাসান সাংবাদিকদের বলেন, তারা রুটিন ডিউটি পালন করছেন। নিরাপত্তার জন্য বিএনপি কার্যালয়ের সামনে পুলিশ রয়েছে। কাউকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়নি।
এর আগে সকালে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন, সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি জয়নুল আবেদীন, সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, রেহানা আক্তার রানু, আশিফা আশরাফী পাপিয়া, রাশেদা বেগম হীরাসহ সিনিয়র নেতারা কার্যালয়ে যান। এর একটু পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকাও কার্যালয়ে আসেন। পরে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলাল কার্যালয় থেকে বের হয়ে এক আইনজীবীর গাড়িতে উঠলে পুলিশ তাকে আটক করতে চায়। এ সময় দলীয় এমপিরা তাতে বাধা দেন। কার্যালয় থেকে গাড়ি বিজয়নগর মোড়ে গেলে সেখানে ডিবি পুলিশ আলালকে গ্রেফতার করে। এ সময় আইনজীবীদের সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডা হয়। অবশ্য, আগের রাতে মামলার আসামি যুবদল সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নীরবসহ কয়েকজন পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে কার্যালয় থেকে বের হয়ে যান।
তিন মামলায় উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন_ স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশীদ হাবিব, সিনিয়র সহসভাপতি বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ, যুগ্ম সম্পাদক ওবায়দুল হক নাসির, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজীব আহসান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদল সভাপতি হামিদুর রহমান হামিদ, রফিকুল আলম মজনু, ছাত্রদল দক্ষিণ সভাপতি ইসহাক সরকার, সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক এনাম প্রমুখ।
নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেন, তাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ পণ্ড করতে পুলিশ হামলা চালিয়েছে। কক্সবাজারের রামু, উখিয়া ও পটিয়াতে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও মৎস্যজীবী লীগের লোকজন বৌদ্ধবিহারে হামলা করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করেছে। তারা আশঙ্কা করছে, সরকার দেশে অস্থিতিশীল ও সংঘাতময় পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য এ ধরনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
ছাত্রদলের কর্মসূচি স্থগিত : পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বুধবার বিকেল ৪টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ছাত্রদলের সমাবেশ স্থগিত করা হয়েছে। দলের সভাপতি আবদুল কাদের ভূঁইয়া জানান, পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় এ কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।
আদালত প্রতিবেদক জানান, দ্রুত বিচার আইনের মামলায় যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের ২২ নেতাকর্মীর দু'দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম শাহরিয়ার মাহমুদ আদনান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আলালসহ গ্রেফতার ২৫ আসামির মধ্যে তিনজন আইনজীবী হওয়ায় তাদের দুই মামলাতেই রিমান্ড বাতিল করে জামিন দেন বিচারক। জামিন পাওয়া ওই তিন আইনজীবী হলেন_ মোশাররফ, সোহাগ ও মানিক।