Saturday, October 13, 2012

সরকারের প্রতি হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের আসামি পক্ষের আইনজীবীদের হয়রানি বন্ধ করুন

কোনো কারণ উল্লেখ ছাড়াই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আসামি পক্ষের এক প্রখ্যাত আইনজীবীর অফিসে সশস্ত্র পুলিশের হানা দেয়া নিরপেক্ষ বিচারের মৌলিক ধারণার মারাত্মক লঙ্ঘন। বাংলাদেশ সরকারের উচিত হবে আসামি পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের অফিসে হানা দেয়ার নির্দেশ যারা দিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া এবং ওই আইনজীবীরা যে হুমকি ও ভীতি প্রদর্শনের মুখে পড়বেন না, তা নিশ্চিত করা।

নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানাবাধিকার সংস্থা হিউম্যঅন রাইটস ওয়াচ আজ বুধবার তাদের ওয়েব সাইটে এক প্রতিবেদনে এই আহ্বান জানিয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়াবিষয়ক পরিচালক ব্র্র্যাড অ্যাডামস বলেন, যুদ্ধাপরাধ বিচারপ্রক্রিয়াটি ইতোমধ্যে ক্রুটিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এখন কোনো ওয়ারেন্ট বা যুক্তিগ্রাহ্য কারণ ছাড়া আসামি পক্ষের আইনজীবীদের অফিসে সশস্ত্র গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের তল্লাসি ওই প্রক্রিয়াকে মারাত্মক ঝুঁকিগ্রস্ত করবে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ সরকারের উচিত প্রকাশ্যে ওই ব্যবস্থার সমালোচনা করা। নয়তো নিরপেক্ষ বিচার মানদণ্ডের এই মারাত্মক লঙ্ঘনের জন্য দায়ভার তাদের ওপর বর্তাবে।

মানবাধিকার সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ৯ অক্টোবর বিকেলে সাড়ে ৪টার দিকে  গোয়েন্দা সংস্থার (ডিবি) পরিচয়ে ১০/১২ জন পুলিশ কর্মকর্তা তাজুল ইসলামের চেম্বারের বাইরে জড়ো হন। সেখানে উপস্থিত আইনজীবীরা তাদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করলে পুলিশ কর্মকর্তারা প্রথমে চেম্বারের ব্যাপারে আগ্রহ না থাকার কথা জানালেও পরে তারা জানান, তারা সেখানে তল্লাসি চালাতে চান বলে জানান। আইনজীবীরা তাদেরকে সার্চ ওয়ারেন্ট দেখাতে বললে তারা তা দেখাতে ব্যর্থ হন। তারপর পুলিশ সদস্যরা ওই চেম্বারে উপস্থিত স্টাফ ও মক্কেলদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকেন, তাদের ঠিকানা নেন। প্রায় ২০ মিনিট পরে পুলিশ সেখান থেকে চলে যায়।

১০ অক্টোবর আসামি পক্ষ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১ ও ২-এ বিষয়টি অবগত করান। ট্রাইব্যুনাল-২ আসামি পক্ষকে লিখিত আবেদন দাখিল এবং থানায় জিডি করতে বলেন। আর ট্রাইব্যুনাল-১ জানায়, বিষয়টি তাদের আওতাবহির্ভূত।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাইব্যুনালে আসামি পক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুর রাজ্জাককে হয়রানি, হুমকি দেয়া হয়েছে। তার বাড়ি ও চেম্বারের উপর নজরদারি করা হচ্ছে।

আসামি পক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ করছেন, কৌসুলিদের পক্ষে কর্মরত ব্যক্তিদের হুমকি ও ভীতি প্রদর্শনের জন্য তারা অনেক সময়ই সাক্ষীদের আদালতে আনতে পারছেন না।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ওই প্রতিবেদনে অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ত্রুটিগুলো সংশোধনের দাবিও জানিয়েছে। সংস্থাটি উভয় পক্ষের প্রতি সমান আচরণ করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বানও জানায়।

Friday, October 12, 2012

নিরাপত্তা পেলে সামনে আসবেন গাড়িচালক আজম

পালিয়ে বেড়ানো জীবনের অবসান ঘটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চান গাড়িচালক আজম খান। তিনি সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) ওমর ফারুক তালুকদারের গাড়িচালক ছিলেন। আজম চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার নওগাঁও গ্রামের বাসিন্দা।
আজ রোববার দুপুরে ‘প্রথম আলো’র মতলব দক্ষিণ (চাঁদপুর) প্রতিনিধিকে মুঠোফোনে এসব কথা বলেন আজমের বোন সৌদি প্রবাসী সালমা বেগম।
সালমা বেগমের দাবি, তাঁর ভাই আজম গতকাল শনিবার দুপুরে তাঁকে ফোন করেছিলেন। আলাপচারিতায় আজম তাঁকে বলেছেন, রেলের অবৈধ টাকা ধরিয়ে দিয়ে তিনি সঠিক কাজটিই করেছেন। দেশের সবাইকে সত্যটা জানিয়েছেন। তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন, অথচ দোষী ব্যক্তিরা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছেন।
সালমা বেগমের দাবি, আজম তাঁকে বলেছেন, আত্মগোপনে থাকতে থাকতে এখন তিনি (আজম) ক্লান্ত ও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। টিভিতে তাঁর সাক্ষাত্কার প্রচারিত হওয়ার পর তিনি জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত বলে বোনকে জানিয়েছেন। যেকোনো সময় তাঁকে গুম বা হত্যা করা হতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও বোনকে জানিয়েছেন তিনি। সরকার আজমের জীবনের নিরাপত্তা দিলে প্রয়োজনে যেকোনো তদন্ত বা মামলার মুখোমুখি হতে রাজি আছেন তিনি।
সালমা বেগম বলেন, আজম লুকিয়ে থাকায় একমাত্র মেয়েকে নিয়ে তাঁর স্ত্রী স্বপ্না বেগম খুবই অর্থকষ্টে আছেন। অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে গেছে আজমের মেয়ে রিয়ার লেখাপড়া। মতলব থানা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) না নেওয়ায় আজমের পরিবার হতাশ ও উদ্বিগ্ন বলেও সালমা জানান।
রেলের অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনার পর থেকে পলাতক আছেন চালক আজম খান। সম্প্রতি তিনি অজ্ঞাত স্থান থেকে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভিকে সাক্ষাত্কার দেন। তাঁর দেওয়া বক্তব্যের ব্যাপারে নিজের অবস্থান জানিয়ে সংবাদ ব্রিফিং করেন সাবেক রেলমন্ত্রী ও বর্তমানে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

১/১১ খেলোয়াড়রাই আবার খেলছে : শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এক এগারোর সরকারের মতো অনির্বাচিতদের ক্ষমতায় আনার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। আবারও ওয়ান ইলেভেন সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, কিছু মানুষ আছে, যাদের ক্ষমতায় যাওয়ার খায়েশ থাকলেও নির্বাচন করার সাহস নেই। জনগণের সামনে দাঁড়াতে পারেন না। জনগণের ওপর তাদের ভরসা নেই, ভরসা অসাংবিধানিক পথে। অসাংবিধানিক ধারায় ক্ষমতায় যেতে চান। তাদের খায়েশের কারণেই দেশ বারবার বিপদে পড়ে। তারা এখন আবার খেলা শুরু করেছেন।
গতকাল গণভবনে আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির বৈঠকে প্রারম্ভিক বক্তব্যে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতার খায়েশধারীদের কারণে বারবার দেশে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা বারবার অসাংবিধানিক ব্যবস্থাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্নম্ন আইনজীবী বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে এ প্লাস সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন। কীভাবে ওই তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে আরও রাখা যায়, সে ফতোয়া দিয়েছিলেন। তারাই এখন স্বোচ্চার হয়েছেন। তাদের খায়েশ মেটাতে গিয়ে দেশটাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অবশ্য ফতোয়াবাজরা তো অসাংবিধানিক সরকার চাবেনই। কারণ তারা সাংবিধানিক সরকারের সময়ে মূল্য পান না। অসাংবিধানিক সরকার এলে তাদের মূল্য বাড়ে। সে কারণে তারা অসাংবিধানিক সরকার চান।
সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ষড়যন্ত্র চললেও তা নস্যাত্ করে সংবিধান অনুযায়ীই দেশ চলবে। কারণ এক-এগারোর কথা জনগণ ভুলে যায়নি।
শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে জাতীয় সংসদের উপনির্বাচন থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার পর্যায়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি নির্বাচনের সবই সুষ্ঠু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করেছে। মানুষ পছন্দমতো তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। শুধু আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনেই সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে। এরই মধ্যে তা প্রমাণিত হয়েছে।
সুশীল সমাজের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এক শ্রেণীর মানুষ সরকারের কাছ থেকে সুবিধা ভোগ করতে না পেরে মধ্যরাতের টকশো থেকে শুরু করে বিভিন্ন ভাবে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আমরা মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। দেশের অনেক উন্নতি হয়েছে। সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া গ্রামের মানুষ পাচ্ছেন। পাচ্ছেন না শুধু কিছু লোক। তারা (টেলিভিশনের টকশো) মধ্যরাতে জেগে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন। এই রাত জেগে জেগে নাই নাই, এটা হলো না, ওটা হলো না। কিন্তু কোন অবস্থায় ছিল বাংলাদেশ? বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা থেকে কোথায় নিয়ে এসেছি। সেটা তো চোখে দেখেন না তারা। এই যে ঈদ গেল প্রত্যেকটি মানুষকে ১০ কেজি খাবার সাহায্য দিয়েছি। তারা কি একটুও চিন্তা করেন? অবশ্য তারা দেখবেন কীভাবে? চোখে তো তারা ঠুলি পরা।
আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আসা ঠেকাতে বিভিন্নমুখী ষড়যন্ত্রের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রতিবছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে তাদের প্রতিবেদন দিলেও ২০০১ সালে হঠাত্ বলা নেই কওয়া নেই তারা দুর্নীতির রিপোর্ট প্রকাশ করল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ছাড়ার ঠিক আগে তড়িঘড়ি করে এই রিপোর্ট দেয়া হলো, যা ছিল সম্পূর্ণ বানোয়াট। এতেই বোঝা গেছে যে তাদের উদ্দেশ্য আছে। আর না হলে এভাবে নির্বাচনের আগে রিপোর্ট দেবে কেন।
তিনি বলেন, ওই সময় তেল-গ্যাস বিক্রি করতে রাজি হইনি বলেই আওয়ামী লীগ তখন ক্ষমতায় বসতে পারেনি। আমাদের দেশের সম্পদ বেচবে এক দেশ আর কিনবে আরেক দেশ। আমি রাজি হইনি। যার কারণে আমরা ভোট পেয়েও ক্ষমতায় যেতে পারলাম না।
প্রতিটি সাংগঠনিক জেলা থেকে একজন, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য এবং দলীয় প্রধান মনোনীত ২১ জনকে নিয়ে জাতীয় কমিটি গঠিত হয়। দলীয় প্রধানের মনোনীত কোটায় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমদ ও আবদুল জলিলকে সম্প্রতি জাতীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের সর্বশেষ জাতীয় সম্মেলনের পর গতকালই জাতীয় কমিটির প্রথম বৈঠক হলো। তবে এখন থেকে এ কমিটির বৈঠক নিয়মিত হবে বলে জানান দলটির সভানেত্রী।
আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির বর্ধিত মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনুমোদন দিয়েছে দলের জাতীয় কমিটি। এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে কমিটির মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়। গত ২৩ জুলাই আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির তিন বছর মেয়াদ শেষ হয়।
এখন থেকে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি ছয় মাস অন্তর জাতীয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে জানান। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, বৈঠকে জাতীয় কমিটির তৃণমূল পর্যায়ের সদস্যরা তৃণমূল সংগঠনের সমন্বয়হীনতা ও সাংগঠনিক দুর্বলতার কথা তুলে ধরেন। তারা স্থানীয় সংসদ সদস্যদের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, এমপিরা স্থানীয় নেতাকর্মীদের গুরুত্ব না দিয়ে নিজস্ব বলয় সৃষ্টি করছেন। এমপির ‘লোকজন’ সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির মাধ্যমে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন বলেও কেউ কেউ অভিযোগ করেন। তারা বলেন, এমপি ও স্থানীয় সংগঠনের মধ্যে যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে, তা এখনই না মেটানো হলে আগামী নির্বাচনে মূল্য দিতে হবে। বেশ কয়েকজন সদস্য তাদের নিজ নিজ এলাকার বর্তমান সংসদ সদস্যকে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়া হলে নিশ্চিত পরাজয় বলেও মন্তব্য করেন।
বৈঠকে বেশ কয়েকজন সদস্য গণমাধ্যমের সমালোচনা করে বলেন, টিভি দেখলে আর পত্রিকা পড়লে শুধু সরকারের বিরুদ্ধেই খবর দেখি। বর্তমান সরকারের কাছ থেকে পাওয়া টিভি চ্যানেলগুলোও সরকারের সমালোচনা করছে। সরকারের কোনো ভালো কাজের খবর আমরা গণমাধ্যমে দেখি না।
বৈঠকে চট্টগ্রাম অঞ্চলের এক সদস্য রামু প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেন। তিনি এ ঘটনাকে সুপরিকল্পিত উল্লেখ করে বলেন, একটি মহল আওয়ামী লীগকে জড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি বৌদ্ধদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কক্সবাজারের রামু ও হিমছড়িতে দুটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের প্রস্তাব করেন। অন্যান্য সাংগঠনিক জেলা থেকে আসা সদস্যরা তাদের নিজ নিজ জেলার রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি করেছেন।
সূত্র আরও জানায়, বৈঠকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রমের ওপর জোর দেয়া হয়। যেসব জেলা ও উপজেলায় এখনো সম্মেলন হয়নি সেখানে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্মেলন সম্পন্ন করার তাগিদ দেয়া হয়।
প্রায় পাঁচ বছর পর গতকাল আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গঠনতন্ত্রের ১৭(ঝ) অনুযায়ী প্রতি ছয় মাস অন্তর জাতীয় কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

বিএনপির তদন্ত কমিটির রিপোর্ট প্রকাশ : জঙ্গি প্রমাণ করতেই রামুর ঘটনা

কক্সবাজারের রামু, উখিয়া, টেকনাফ এবং চট্টগ্রামের পটিয়ায় বৌদ্ধবিহার ও বসতিতে হামলার ঘটনা সরকারের মদতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপির তদন্ত দল। সহিংসতার সুষ্ঠু তদন্ত করতে একজন সাবেক সিনিয়র প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি বিচারবিভাগীয় কমিশন গঠনের দাবিও করেছে দলটি। সরেজমিন তদন্তে প্রাপ্ত সব তথ্য পর্যালোচনায় সরকারের ইন্ধনেই সাম্প্রদায়িক এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানায় বিএনপির তদন্ত দল। গতকাল সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ৬৭ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন কমিটির আহ্বায়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার কাছে এ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়।
বিএনপির অভিযোগ, আগামীতে সুষ্ঠু নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সরকারের মদতে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা করা হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মওদুদ আহমদ বলেন, ২৯ সেপ্টেম্বর রাত ৯টা থেকে সাড়ে নয়টার মধ্যে শ’খানেক লোক মিছিল করে। এরপর ভোররাত ৫টা পর্যন্ত অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর লুটপাট হয়। পরদিন পটিয়ায়ও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। প্রায় ২৪ ঘণ্টা সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ছিল না। সরকারের উপস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, রামুর কেন্দ্রীয় সীমাবিহার থেকে থানার দূরত্ব ছিল মাত্র আধা কিলোমিটার। জেলা পুলিশ সদরের দূরত্ব ১৮ কিলোমিটার আর সেনা ক্যাম্পের দূরত্ব ছিল ৪ কিলোমিটার। তারা কেউই পরিস্থিতি শান্ত বা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ভূমিকা নেয়নি। নিলে এই বর্বর নারকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। তাদের এই ব্যর্থতার কারণেই এ ঘটনা আজ জাতীয় ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, আশ্চর্যের বিষয় হলো, যে উত্তম কুমার বড়ুয়ার জন্য ঘটনার সূত্রপাত, তার বাড়ির সামনে দিয়ে মিছিল হয়, আশপাশের বৌদ্ধবিহারে হামলা হয়, কিন্তু উত্তমের বাড়িতে একটি ইটও পড়েনি। তদন্ত দলের মনে এটি গভীর সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। তদন্ত দলটি ৫ ও ৬ অক্টোবর রামু, উখিয়া, টেকনাফ ও পটিয়ায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সেখানে তারা শ’ শ’ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে অন্তত ৬০ জনের বক্তব্য রেকর্ড করেন, বক্তব্যের ভিডিও দৃশ্য ধারণ করেন। তিনি বলেন, দলীয়ভাবে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হয়েছে। কারণ বিএনপি একটি অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব সালাউদ্দিন আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার, নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিস্ট অ্যান্ড পালি বিভাগের অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া এবং বিএনপি নেতা কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, আবদুল লতিফ জনি, আবদুস সালাম আজাদ, রফিক শিকদার প্রমুখ।
সহিংসতা পূর্বপরিকল্পিত : ক্ষতিগ্রস্ত ও আক্রান্ত লোকজনের সাক্ষ্য এবং হামলার ঘটনায় গান পাউডারের ব্যবহার ও সিমেন্টের তৈরি চৌকোণা ব্লক দেখে ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল বলে তদন্ত দল নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়া তদন্ত দলটি অভিযোগ করে, রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহেল সরওয়ার ওরফে কাজল ওই দিন বিএনপির সংসদ সদস্যদের সঙ্গে মিলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তার ভাই স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা সাইমুন সরওয়ার ওরফে কমল এ ঘটনায় মদত দিয়েছেন। ‘রামুর ঘটনায় স্থানীয় এমপি কাজল জড়িত’ প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সমালোচনা করে মওদুদ বলেন, তার মতো দায়িত্বশীল পদে থেকে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই এ ধরনের কথা বলা ঠিক হয়নি। তাহলে তদন্ত করার দরকার কি? দোষী কে সেটা তো তিনি বলেই দিয়েছেন! এমপিই যদি এত ক্ষমতাবান হন, তাহলে সরকারের থাকার দরকার কি?
সুপারিশ : তদন্ত প্রতিবেদনে কয়েকটি সুপারিশও করা হয়েছে। স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় যাদের নাম এসেছে, তাদের গ্রেফতার করে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যারা যথাসময়ে দায়িত্ব পালন করেনি, তাদের যথাযথ শাস্তি দিতে হবে। এই ঘটনাকে পুঁজি করে সরকার বিরোধী দলের উপরে যে মিথ্যা অভিযোগ ও হয়রানি করেছে তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং সরকারের তদন্তের আগেই বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য লুত্ফর রহমান কাজলকে দায়ী করে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তা প্রত্যাহার করতে হবে। ওইসব জনপদে বসবাসকারী সব জনগোষ্ঠীর দ্রুত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনার জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। ধ্বংস হওয়া বিহার, প্যাগোডা, মন্দির ও বসত বাড়ি নির্মাণে যত কোটি টাকা লাগুক পুনর্নির্মাণ করে দিতে হবে। স্বর্ণের মূর্তি যেগুলো চুরি হয়েছে সেগুলো উদ্ধার করে তাদের ফেরত দিতে হবে। পুড়ে যাওয়া ত্রিপিটক সংগ্রহ করে দিতে হবে। ১৫টি বিহার, মন্দির ও প্যাগোডা বানিয়ে দিতে হবে। আশপাশের পুড়ে যাওয়া ১৮টি বাড়িসহ ক্ষতিগ্রস্ত সব বাড়ি পুনর্নির্মাণের সহায়তা দিতে হবে।
মওদুদ বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার যে অংশ এই ঘটনায় মদত দিয়েছে, তাদের গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। কারণ প্রকৃত ঘটনা তারও জানত।
বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি : ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, প্রকৃত ঘটনা জানার জন্য একজন অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে অতিদ্রুত একটি তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে। এ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করে প্রকৃত দায়ীদের শাস্তির বিধান করতে হবে। আগামীতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ১৪ জন সাবেক প্রধান বিচারপতি বেঁঁচে আছেন। তাদের মধ্য থেকে সিনিয়র একজনকে এ দায়িত্ব দিতে হবে। যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জনগণ গ্রহণ করবে না। ওই কমিটির তদন্ত রিপোর্ট হবে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে নির্দোষ ঘোষণার মতো।
নানা প্রশ্ন : সংবাদ সম্মেলনে মওদুদ আহমদ বলেন, এ ঘটনায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বিদেশে থাকলেও ৫ মিনিটের মধ্যে এ খবর জেনে যাওয়ার কথা। তিনি যদি না জানেন তাহলে মনে করতে হবে ওই সময় দেশে কোনো সরকার ছিল না। আর জানলে তিনি তাত্ক্ষণিকভাবে কেন ব্যবস্থা নেননি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত থাকাকালে পাশের থানায় কীভাবে হামলা হলো? তখন পুলিশ কি করেছে? তাহলে কি পুলিশের মধ্যকার চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে? শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া এ ঘটনা সঙ্গে সঙ্গে জানলেও তিনি কেন কোনো ব্যবস্থা নেননি? সব স্থানে একই ধরনের হামলা হয়েছে। এটা কীভাবে সম্ভব? যে গান পাউডার দিয়ে আগুন জ্বালানো হয়েছে তা কোথা থেকে, কারা এনেছে? ঘটনার মূলসূত্র উত্তম বড়ুয়ার বাড়ির সামনে দিয়ে মিছিল গেলেও তার বাড়িতে হামলা হলো না কেন?

Thursday, October 11, 2012

ডেসটিনি চেয়ারম্যান জে. হারুনসহ তিন কর্মকর্তা জেলহাজতে : আদালত প্রাঙ্গণে ডেসটিনি কর্মীদের পুলিশের লাঠিচার্জ


সাবেক সেনাপ্রধান ও ডেসটিনি গ্রুপের চেয়ারম্যান লে. জেনারেল (অব.) হারুন-অর-রশীদসহ ডেসটিনির তিন শীর্ষ কর্মকর্তা আদালতে আত্মসমর্পণ করার পর তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মানি লন্ডারিং আইনসহ অর্থ আত্মসাত্ ও প্রতারণার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের দায়ের করা মামলায় গতকাল তাদের জামিন নামঞ্জুর করা হয়েছে। আসামিদের আদালত থেকে জেলহাজতে নেয়ার সময় কয়েকজন ব্যক্তি রাস্তায় শুয়ে ও মায়াকান্না জুড়ে প্রতিবাদ জানানোর চেষ্টা করে। পুলিশ তাদের বেধড়ক পিটুনি দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এদিকে ডেসটিনি গ্রুপের চেয়ারম্যান সাবেক সেনাপ্রধান ও সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের পদত্যাগকারী সাধারণ সম্পাদক লে. জেনারেল (অব.) হারুনের জামিন আবেদন জানানো হয়েছে হাইকোর্টে। আদালত আগামী রোববার জামিন আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করেছে।
জানা গেছে, গত ৩১ জুলাই রাজধানীর কলাবাগান থানায় লে. জেনারেল (অব.) হারুন-অর-রশীদসহ ডেসটিনির ২২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা মামলায় জামিন বাতিল হওয়ার পর দুদক তাদের গ্রেফতারের জন্য বিশেষ অভিযানে নামে। গ্রেফতার এড়াতে গতকাল লে. জেনারেল (অব.) হারুন-অর-রশীদ, ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীন ও ডেসটিনি ২০০০-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। বৃহস্পতিবার ঢাকার সিনিয়র বিশেষ জজ মো. জহুরুল হক শুনানি শেষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ডেসটিনির তিন শীর্ষ কর্মকর্তা গতকাল সকাল ১০টার দিকে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত ওই আবেদনের ওপর শুনানি হয়। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী কাজী নজিবুল্লাহ হিরু এবং এহসানুল হক সমাজী তাদের জামিন আবেদনে বলেন, লে. জেনারেল হারুন সাবেক সেনাপ্রধান। ডেসটিনি ২০০০-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন ও ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীন সমাজের সম্মানিত ব্যক্তি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। ডেসটিনির মাল্টিপারপাস ও ট্রি প্লান্টেশন কোম্পানি সমবায় আইনের কোনো ধরনের লঙ্ঘন করেনি। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তারা আত্মসমর্পন করেছেন, তাদের জামিন দেয়া হোক। তাছাড়া গত ৬ আগস্ট আসামিরা নিম্ন আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। জামিন পাওয়ার পর জামিনের কোনো শর্ত তারা লঙ্ঘন করেননি।
সিনিয়র আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী বলেন, আদালত যদি তাদের জামিন নামঞ্জুর করেন তবে সবার কাছে প্রমাণ হবে তারা দোষী। কিন্তু উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত আছে, সব সাক্ষ্য-প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্তভাবে রায় হওয়ার আগে কাউকে দোষী বলা যাবে না।
কাজী নজিবুল্লাহ হিরু বলেন, ডেসটিনির ব্যাংক হিসাব জব্দ থাকায় ৫৬ লাখ পরিবার না খেয়ে আছে। ডেসটিনির কোনো গ্রাহক কি দুদককে বলেছে যে তারা প্রতারিত হয়েছে! তবে কেন এবং কার ইশারায় লাখ লাখ লোককে না খাইয়ে রাখা হয়েছে? নজিবুল্লাহ হিরু আরও বলেন, এসব ষড়যন্ত্র। অবশ্যই এসবের নেপথ্যে কেউ একজন খেলছে। তারা কিসের স্বার্থে, কাদের স্বার্থে ডেসটিনিকে হয়রানি করছে? সেটি খতিয়ে দেখতে আদালতের প্রতি আবেদন জানান তিনি।
আসামিপক্ষের আইনজীবীদের জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে দুদকের প্রধান আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, আমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিকে সরাসারি অভিযোগ করতে হয় না। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে আমলযোগ্য অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা। ডেসটিনির হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে। নিজেদের অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নিয়েছে। কোম্পানির সাড়ে ৩৩ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৫৩৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আছে মাত্র ১৩ কোটি টাকা।
মামলার তদন্তের স্বার্থে তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, অভিনব কায়দায় জনগণকে প্রতারিত করে ডেসটিনির এসব কর্মকর্তা হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট ও আত্মসাত্ করেছেন। বাদী-বিবাদী পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শোনার পর আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ডেসটিনির বিরুদ্ধে মুদ্রা পাচারের দুটি মামলায় ডেসটিনি গ্রুপের চেয়ারম্যান লে. জেনারেল হারুনসহ ২২ আসামির জামিন বাতিল করে আদালত। এরপর থেকে তারা পলাতক ছিল।
গত ৬ আগস্ট মহানগর হাকিমের আদালতে আত্মসমর্পণ করে ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীনসহ ৬ জন জামিন নিয়েছিলেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে গত ১৩ আগস্ট দুদকের পক্ষ থেকে ডেসটিনির শীর্ষ পাঁচ কর্মকর্তার জামিনের আদেশ পুনর্বিবেচনার জন্য (রিভিশন) ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে আবেদন করা হয়। গত ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকার বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক ড. আখতারুজ্জামান রিভিউ আবেদন গ্রহণ করেন এবং নিম্ন আদালতের আদেশ বাতিল করেন।
গত ১৩ আগস্ট আসামিপক্ষ ভারপ্রাপ্ত বিচারকের দেয়া আদেশের বিরুদ্ধে সিনিয়র বিশেষ জজ জহুরুল হকের কাছে আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন জানান। আদালত ওই আবেদন গ্রহণ করায় ভারপ্রাপ্ত বিচারকের আদেশ বাতিল হয়ে যায়। এরপর বিচারক শুনানির জন্য ২০ সেপ্টেম্বর ধার্য করেন। ওইদিন রাষ্ট্র অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানি করেন। ওই শুনানিতে তিনি বলেছিলেন, জনগণের অর্থ আত্মসাতকারী চোরদের আবার সামাজিক মর্যাদা কিসের? রাষ্ট্রের স্বার্থে জনগণের অর্থ আত্মসাতকারীদের উপযুক্ত বিচারে সহায়তা করতে আমি এই আদালতে এসেছি।
ডেসটিনির ২২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাত করে বিদেশে পাচারের অভিযোগে গত ৩১ জুলাই রাজধানীর কলাবাগান থানায় দুটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন। কমিশনের উপ-পরিচালক মো. মোজাহার আলী সরদার ও সহকারী পরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ আইনে ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেশন (এমএলএম) ও ট্রি প্লানটেশন প্রকল্পের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থ স্থানান্তরের প্রমাণ পেয়ে দুটি মামলা দায়ের করেন।
ডেসটিনি কর্মীদের মায়াকান্না থামাতে বেধড়ক পিটুনি : তিন শীর্ষ কর্মকর্তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় ডেসটিনির কয়েকশ’ কর্মী ব্যারিকেড দেয়ার চেষ্টা করে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবী অ্যাডভোকেট বেলাল হোসেন জসিম বলেন, প্রথম দিকে পুলিশ ডেসটিনির ওই গ্রাহকদের কিছু বলেনি, বাধা দেয়নি। আসামিদের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় ২০-৫০ কর্মী গাড়ির সামনে শুয়ে হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করে। তারা আসামিদের ছেড়ে দিতে পুলিশের প্রতি অনুরোধ করে। এ সময় তারা পুলিশের পা জড়িয়ে ধরে। এরকম নাটকীয় অবস্থায় পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ করে ডেসটিনির কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে আসামিদের জেলহাজতে নেয়া হয়।
এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অপর আইনজীবী বলেন, দেখে মনে হয়েছে তারা আগে থেকেই পরিকল্পনা করে এসেছিল। তারা যখন হাউমাউ করে কাঁদছিল, তখন অন্য আইনজীবী ও উপস্থিত কিছু লোকজন চোর চোর বলে চিত্কার করে বলেন, চোরের শাস্তি হওয়া উচিত।
হাইকোর্টে জামিন আবেদন : বিশেষ জজ আদালতে জামিন আবেদন বাতিল হওয়ার পর গতকালই লে. জেনারেল (অব.) হারুন-অর-রশীদের জামিনের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে। আগামী রোববার এ আবেদনের ওপর শুনানি হবে।
বৃহস্পতিবার বিকালে বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি ফরিদ আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু। বিকালে তিনি হারুন-অর-রশীদকে চিকিত্সার জন্য বিএসএমএমইউ হাসপাতালে পাঠানোর আবেদন করেন। তিনি আদালতে বলেন, লে. জে. (অব.) হারুন-অর-রশীদ সাবেক সেনাপ্রধান। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার। তিনি গুরুতর অসুস্থ। হার্টের সমস্যায় ভুগছেন। তাকে জামিন দেয়া বা না দেয়ার এখতিয়ার আদালতের আছে। তবে তাকে হাসপাতালে পাঠানোর আবেদন করছি। তাকে হাসপাতালে পাঠানোর আবেদনের বিরোধিতা করে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, তিনি (হারুন-অর-রশীদ) এখনও কারাগারে যাননি। কারাগারে গেলে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আইজি প্রিজনকে বলব। তিনি বলেন, ‘হারুন-অর-রশীদের অসুস্থতার সমর্থনে কোনো কাগজপত্র নেই। ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন আবেদনের শুনানিতে অসুস্থতা সম্পর্কে কোনো কিছু বলা হয়নি।’
এ সময় আদালত বলে, ডেসটিনির অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনা ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। গ্রুপের চেয়ারম্যান সাবেক সেনাপ্রধান ও একজন সেক্টর কমান্ডার। তিনি সম্মানিত ব্যক্তি। এর আগেও তো হাসপাতালে পাঠানোর ঘটনা আছে। তাছাড়া আবদুল মতিন খসরুর কথা কি বিশ্বাসযোগ্য নয়? তাছাড়া তার কিছু হলে আপনি বা আমরা দায়ী হবো।
জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী যা করার সব হবে। কারা কর্তৃপক্ষই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে। হারুন-অর-রশীদ ডেসটিনি থেকে মাসে ১০ লাখ টাকা বেতন নেন। তিনি সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি ডেসটিনি ছাড়তে পারবেন না। তাই বলে কি উনি চোরদের সঙ্গে থাকবেন?’
জবাবে মতিন খসরু বলেন, ‘ডেসটিনির সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি একজন কর্মচারী। চাকরিজীবী। পরিচালনা পরিষদই ডেসটিনি পরিচালনা করে থাকে। হারুন-অর-রশীদ ডেসটিনি গ্রুপের চেয়ারম্যান। এই চেয়ারম্যান পদ আলঙ্কারিক।
এরপর আদালত জামিন আবেদনের ওপর রোববার শুনানির দিন ধার্য করেন। তবে হারুন-অর-রশীদকে হাসপাতালে পাঠানোর বিষয়টি অ্যাটর্নি জেনারেলকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে আদালত বলেন, আপনি আদালতকে আশ্বস্ত করেছেন, ন্যূনতম অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে পাঠাবেন।

Wednesday, October 10, 2012

রামুর ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি চান খালেদা


 বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, কক্সবাজারের রামুর ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত টিম গঠন করে সত্যিকারের দোষিদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

বুধবার রাতে গুলশানে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে রামু উখিয়া হোয়াইক্যং ও পটিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধ ভিক্ষু ও সম্প্রদায়ের লোকজন সাক্ষাত করতে এলে তিনি তাদের ক্ষতির বিবরণ শুনে এ কথা বলেন।

খালেদা জিয়া বলেন, “সরকার যদি শাস্তির ব্যবস্থা না করে তবে আমরা করবো। অপরাধীদের একদিন না একদিন বের করে শাস্তি দেওয়া হবে।”

বিএনপি প্রধান বলেন, “আপনারা মনে অনেক কষ্ট নিয়ে আমাদের কাছে এসেছেন। ২৯ সেপ্টেম্বরের ঘটনায় আমরা সবাই অত্যান্ত দুঃখিত ও মর্মাহত। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে এই ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না।”

তিনি বলেন, “এই ঘটনা ঘটার পর আমি তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের দলের নেতা মওদুদ আহমদ এর নেতৃত্বে একটি কমিটি করে দিয়েছি। তারা সব তথ্য নিয়ে এসেছে। কালকে আমার কাছে রিপোর্ট জমা দেবে। পরবর্তীতে তারা সংবাদ সম্মেলন করবে।”

খালেদা জিয়া বলেন, “কারো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আঘাত করা নিঃসন্দেহে যে ধর্মেরই হোক তার নিন্দনীয়। এতে মানসিক আঘাত লাগবেই। আমরা সব ধর্মকে সম্মান করি। বৌদ্ধ পূর্ণিমায় ছুটি থাকে। তাদের সঙ্গে আমরা মতবিনিময় করি। হিন্দুসহ সব সম্প্রদায়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলি।”

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যাওয়ার দাবির জবাবে তিনি বলেন, “আমি অবশ্যই যাব। সবার সঙ্গে কথা বলবো। আর আজকে আপনারা যেসব দাবি দিয়েছেন তা পূরণ করার চেষ্টা করবো। আপনারা জানেন, আমরা বিরোধীদলে আছি। তারপরও বিরোধীদল হিসেবে আমরা দায়িত্ব পালন করি। বন্যা হলে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে ছুটে যাই। কক্সবাজারেও তাৎক্ষণিকভাবে লোক পাঠিয়েছি। আরো চেষ্টা করবো। যতটুকু সাহায্য করার তা করবো।”

তিনি বলেন, “কিন্তু প্রধান দায়িত্ব হলো সরকারের। তাদের দায়িত্ব হলো সব প্রতিষ্ঠান আবার নতুন করে গড়ে দেওয়া। যাতে আপনারা পুনরায় নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারেন।”

সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, “আমি দাবি জানাবো ওই এলাকায় যেন সার্বক্ষণিকভাবে নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা হয়। ভবিষ্যতে আর কেউ যেন এরকম অঘটন ঘটাতে সাহস না করে। আর যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের দলমত নির্বিশেষে ধরে শাস্তি দিতে হবে।”

পুলিশ কেন ঠিক মতো দায়িত্ব পালন করলো না এই প্রশ্ন তুলে খালেদা জিয়া বলেন, “যারা দায়িত্ব ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করেনি, তাদেরও শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।”

তিনি বলেন, “বিএনপি সব সময় আপনাদের পাশে আছে ও থাকবে।
আমি চীন থেকে এসেই ওখানে যাব।”

তিনি অভিযোগ করেন, “এ সরকার তদন্ত না করেই কোনো ঘটনা ঘটলে কথায় কথায় বিরোধীদলেরওপর দোষ চাপায়। অপরাধ কারা করেছে তা না জেনে কারো নাম এভাবে বলা উচিত না।”

তিনি বলেন, “উচ্চ পর্যায়ের একটি নিরপেক্ষ টিম গঠন করে যারা দোষী তাদের শাস্তি দিলে কিছুটা হলেও যারা ক্ষতিগ্রস্ত তারা মনে শান্ত্বনা পাবে।”

অনুষ্ঠানে রামুর রামকোট বৌদ্ধ তীর্থের অধ্যক্ষ প্রজ্ঞাবংশ মহাথেরো, খরুলিয়ার বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত জ্যোতি বোধি ভিক্ষু, রামুর বৌদ্ধ বিহারের বিশুদ্ধাবংশ ভিক্ষু, উখিয়ার বৌদ্ধ বিহারের কোলিয় বংশ ভিক্ষু, উখিয়ার ভালুকিয়া বৌদ্ধ বিহারের সভাপতি দীপক বড়ুয়া, উত্তর বড়বিল বৌদ্ধ বিহারের সভাপতি বাবু সেন বড়ুয়া, মরিয়া দীপংকর বৌদ্ধ বিহারের সভাপতি বাবু লাল বড়ুয়া, রেজুরকুল বৌদ্ধ বিহারের সভাপতি প্রেমানন্দ বড়ুয়া, খরুলিয়া ধর্মজ্যেতি বৌদ্ধ বিহারের সাধারণ সম্পাদক চন্দন বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের রামুর ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসী প্রিয়দর্শী বড়ুয়া, প্রদীপ বড়ুয়া, বিকিরণ বড়ুয়া, মিঠুন বড়ুয়া, কক্সবাজার সদরের কিশোর বড়ুয়া, কানন বড়ুয়া, পরিমল বড়ুয়া, বাবু বড়ুয়া, সুরঞ্জন বড়ুয়া, সুধাংশু বড়ুয়া, খরুলিয়ার আকিঞ্চন বড়ুয়া, লোকনাথ বড়ুয়া, অনঙা বড়ুয়া, কানুনগো বড়ুয়া, টিসেন বড়ুয়া,সুনীল বড়ুয়া, পটিয়ার সুজন বড়ুয়া, বিকাশ বড়ুয়া, প্রদীপ বড়ুয়া, ধনু বড়ুয়া, অমলেন্দু বড়ুয়া, মিন্টু সরদার, রূপক শীল ও বিপ্লব চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, বিশ্ব বৌদ্ধ ফেডারেশনের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া এবং হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য ফ্রন্টের আহ্বায়ক গৌতম চক্রবর্তী, বিএনপির সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক নিতাই রায় চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে রামুর রামকোট বৌদ্ধ তীর্থের অধ্যক্ষ প্রজ্ঞাবন্দা মহাথেরো
বলেন, “এ ঘটনায় বৌদ্ধদের মাঝে অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। আরাকানে নানা ঘটনা ঘটছে। সেজন্য বৌদ্ধরা আতঙ্কিত।”

তিনি বলেন, “একটা ভিত্তিহীন ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাজার বছরের সম্প্রীতি নষ্ট করা হয়েছে। এর একটা স্থায়ী সমাধান হওয়া দরকার।”

খালেদা জিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনি সেখানে যাবেন। তাহলে ক্ষতিগ্রস্তরা সাহস পাবে।”

পটিয়ার কোলাগাঁও সার্বজনীন রত্নপুর বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ দীপানন্দ ভিক্ষু বলেন, “আমরা যার পূজা করি তার মূর্তি কিভাবে ভাঙা হয়েছে আপনি দেখে আসবেন। আমার বিহারে অনেক সম্পদ ছিল তা লুট করে নিয়ে গেছে। যে বা যারা করেছে আমি তাদের শাস্তি কামনা করি। আপনি যদি পটিয়ায় গিয়ে দেখে আসেন তাহলে ভাল হবে। শুধু কোলাগাঁও গ্রাম নয়, গোটা বৌদ্ধ সম্প্রদায় এখন আতঙ্কিত।

একজন ইউপি চেয়ারম্যান দীপক বড়ুয়া বলেন, “আমরা নির্বাক, আমরা হতবাক। বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর ৪০ বছরে এরকম নির্মম নির্যাতন আর হয়নি। স্বাধীনতা সংগ্রামেও হয়নি।”

খালেদা জিয়াকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “ঘটনার পরপরই কমিটি করে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন, এজন্য আমরা আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে এসেছি। ২৯ সেপ্টেম্বর যে ঘটনা ঘটেছে আমরা আশা করবো তার সত্য প্র্রকাশ পাবে।”

তিনি বলেন, “সেদিন প্রথম শোডাউন করেছে রাত ৯টা থেকে। রাত সাড়ে এগারোটা থেকে দুই ঘণ্টা মিছিল সভা হয়েছে। কিন্তু প্রশাসন জানে না।”

দীপক বড়ুয়া বলেন, “যদি প্রশাসন যথাযথভাবে উদ্যোগ ও ব্যবস্থা নিত তাহলে কোনো কিছু ঘটতো না। যারা সর্ব প্রথম মিছিল করেছে তাদের নাম দেওয়া হয়েছে। তাদের ধরে থানায় নিয়ে যাওয়া হলেও ছেড়ে দেওয়া হয়। এতে আমরা অত্যন্ত ব্যাথিত।”

তিনি বলেন, “চেয়ারপারসন, আমরা আপনাকে আমন্ত্রণ জানাতে এসেছি। আমরা অত্যন্ত আতঙ্কগ্রস্ত। যে কোনো মুহূর্তে আবার ঘটনা ঘটতে পারে।”

দীপক বড়ুয়া বলেন, “যেখান থেকে আমি চেয়ারম্যান হয়েছি, সেখানে কাস্টিং ভোটের ৯০ ভাগ মুসলিম ভোট।হাজার বছরের বৌদ্ধ বিহার যা পুড়ে গেছে তা শুধু বৌদ্ধদের সম্পদ নয়। এটা বাংলাদেশের সম্পদ। এই সম্পদ যে নষ্ট হয়ে গেল তা অত্যন্ত দুঃখজনক।

তিনি বলেন, “২৯ সেপ্টেম্বর রাতে রামুর ঘটনা  ঘটলো। ৩০ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেখানে থাকাকালে পাশে উখিয়ায় আক্রমণ হলো। সাতটি বৌদ্ধ মন্দির ভেঙে ও পুড়িয়ে দেওয়া হলো। এটা কিভাবে সম্ভব হলো?”

দীপক বড়ুয়া বলেন, “চেয়ারপারসন, আপনি যদি সরেজমিনে গিয়ে দেখে আসেন তাহলে যারা ভয়ভীতিতে আছে তারা একটু সাহস পাবেন।”

পটিয়ার লাখেরা কোলাগাঁও ইউনিয়নের মানুষের পক্ষ থেকে তিনি চেয়ারপারসনের প্রতি চারটি দাবি তুলে ধরেন। এগুলো হলো-

এক. একদিনের কর্মসূচি নিয়ে একটু কষ্ট করে দেখে আসবেন। নর-নারীদের শান্ত্বনা দিয়ে আসবেন।

দুই. আপনার পক্ষ থেকে একটি ত্রাণ কমিটি গঠন করে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।

তিন. ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির ও পরিবারের লোকদের হামলা মামলা থেকে রক্ষা করার জন্য সহযোগিতা করবেন।

চার. বর্তমানে এবং আগামীতে অসহায় এ জনগোষ্ঠীর দুর্বিষহ চিত্র তুলে ধরতে একজন প্রতিনিধি থাকলে ভাল হয়। এবং দেশি বিদেশি মহলে এই বিষয়টি তুলে ধরার জন্য আপনার কাছে অনুরোধ করছি। 

উল্লেখ্য, ফেসবুকের প্রোফাইলে কোরআন এর অবমাননাকর ছবি থাকার অভিযোগ তুলে গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ মন্দির ও ঘরবাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর চালায় ধর্মীয় উগ্রপন্থিরা।
রাতভর হামলায় সাতটি বৌদ্ধ মন্দির, অন্তত ৩০টি বাড়ি ও দোকান পুড়িয়ে দেওয়া হয়। হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয় আরো শতাধিক বাড়ি ও দোকানে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ওই ঘটনা তদন্তে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেন। কমিটি গত শুক্র ও শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত করেছে।

হলমার্ক কেলেঙ্কারি

মামলা না করলে সোনালী ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা: দুদক



সোনালী ব্যাংক যদি হলমার্কের টাকা উদ্ধারের জন্য মামলা না করে তাহলে সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেই সহায়তাকারী হিসেবে মামলা করবে  দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় দুদকের মাসিক ব্রিফিংয়ে দুদক সচিব মো. ফয়জুর রহমান চৌধুরী সাংবাদিকদের একথা বলেন।

তিনি বলেন, হলমার্কের টাকা উদ্ধারের দায়িত্ব দুদকের নয়। দুদক হলমার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় যারা অভিযুক্ত তাদের বিরুদ্ধে শুধু আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছে।

অপরদিকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সাবেক এপিএস ওমর ফারুক তালুকদারের গাড়ি চালক আজম খানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কি-না  সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আজমের বক্তব্য নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সোনালী ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের সাবেক ও বর্তমান ১০ পরিচালককে শিগগিরই সম্পদ বিবরণীর জন্য নোটিশ পাঠানো হবে বলে তিনি জানান।

পদ্মা সেতু দুর্নীতি 

বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক প্যানেল আসছে ১৪ অক্টোবর


পদ্মা সেতুর প্রকল্পে দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে বিশ্বব্যাংকের তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেল আগামী ১৪ অক্টোবর (রোববার) ঢাকায় আসছেন। তারা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করবেন।

বুধবার বিকেলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় থেকে পাঠানো বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমানও তাদের আগমনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, বেশ কয়েকটি ধারাবাহিক পরিদর্শনের মধ্যে এই সফর প্রাথমিক পর্যায়ের।

তিন সদস্যের এই প্যানেলে আছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সাবেক প্রধান কৌঁসুলি লুই গ্যাব্রিয়েল মোরেনো ওকাম্পো, হংকংয়ের দুর্নীতিবিরোধী স্বাধীন কমিশনের সাবেক কমিশনার টিমোথি টং ও যুক্তরাজ্যের সিরিয়াস ফ্রড অফিসের সাবেক পরিচালক রিচার্ড এল্ডারম্যান। এ প্যানেলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মোরেনো ওকাম্পো।

পদ্মা সেতুর দুর্নীতি তদন্তে গত ৫ অক্টোবর আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তিন সদস্যের প্যানেল গঠনের ঘোষণা দেয় বিশ্বব্যাংক।

বিবৃতিতে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, মোরেনো ওকাম্পো নেতৃত্বাধীন প্যানেল পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি পর্যবেক্ষণে দুদকের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করবে। তারা একটি প্রতিবেদন বিশ্বব্যাংক সদর দপ্তরে দাখিল করার পাশাপাশি সরকারকে তাদের পাওয়া পর্যবেক্ষণ অবহিত করবে। একই সঙ্গে অন্য অর্থায়নকারী দাতাদের বিষয়টি অবহিত করা হবে।

এদিকে, দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বাংলানিউজকে বলেন, “বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তাদের একাধিকবার আমার কথা হয়েছে। তারা ১৪ অক্টোবর আসছেন। ১৪ বা ১৫ অক্টোবরের যে কোনো দিন আমরা একসঙ্গে বসব।”

প্রসঙ্গত, বিশ্বব্যাংক ছাড়াও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাপানি সংস্থা জাইকা ও ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) এই প্রকল্পের অংশীদার।

তথ্য মতে, এই প্যানেলের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করছে পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করবে কিনা।

দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গত জুন মাসে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের বহু প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতু প্রকল্পে ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি বাতিল করেছিল।

তবে সরকারের বহুমুখী তৎপরতায় বিশ্বব্যাংক গত মাসে পদ্মা প্রকল্পে ফেরার ঘোষণা দেয়। জানা গেছে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাংক ঋণসহায়তার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এ ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত আরোপ করে। এগুলোর অন্যতম হচ্ছে একটি বিশেষজ্ঞ দলের মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে পরিচালিত তদন্তের গ্রহণযোগ্যতা পর্যালোচনা করে দেখা।

আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেল ঘোষণার পর বহুজাতিক সংস্থাটি বলেছিলো, “এই প্যানেলের পর্যবেক্ষণ বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটি বড় সুযোগ, যা তদন্তের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার বাড়বে।”

চুক্তি বাতিলের পর অবশ্য শর্ত পূরণে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন পদত্যাগ করেন। ছুটিতে পাঠানো হয় প্রকল্পের ইন্টিগ্রিটি অ্যাডভাইজার ও প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মসিউর রহমান ও সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশারররফ হোসেন ভূঁইয়াকে।

পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত পর্যবেক্ষণ করতে দিতেও রাজি হয় সরকার, যার ফলে প্রকল্পে সম্পৃক্ত হবার ঘোষণা দেয় বিশ্বব্যাংক।

প্রসঙ্গত, পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ পেতে কানাডাভিত্তিক প্রকৌশল কোম্পানি এসএনসি-লাভালিন গ্রুপ কয়েকজনকে ঘুষ দিয়েছে মর্মে অভিযোগ তোলার পরই বিশ্বব্যাংক তার ঋণ প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসে।