Thursday, October 18, 2012

যুক্তরাষ্ট্রে মিডিয়ার খবর নাফিসের ঘটনা : সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের নতুন ফ্রন্ট বাংলাদেশ : সহযোগী সন্দেহে এক মার্কিনি গ্রেফতার

নাফিসকে গ্রেফতারের পর যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাস ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বাংলা-দেশকে সন্ত্রাস-বিরোধী যুদ্ধের নয়া ফ্রন্ট মনে করছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত টিভি স্টেশন সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে।
সিবিএস নিউজ বলেছে, সন্ত্রাস বিশেষজ্ঞরা ফেডা-রেল রিজার্ভ ভবন উড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনাকে বিভিন্ন কারণে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন। এর মধ্যে সন্দেহভাজন কাজী নাফিস বাংলাদেশী হওয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে বাংলাদেশকে নতুন ফ্রন্ট হিসেবে উল্লেখ করেছেন তারা।
সিবিএস নিউজের বরাত দিয়ে নিউজওয়ার্ল্ড জানায়, নিউইয়র্কে এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী আক্রমণের পরিকল্পনা ফাঁস হলেও বাংলাদেশী নাফিসের পরিকল্পনা ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। সবকিছু দেখে মনে হয়েছে সে তার উদ্দেশ্য সাধনে ছিল দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ভয়াবহ জিহাদ সংঘটনই ছিল তার মূল চিন্তা ও চেতনা। ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী ঘটনার চেয়েও ভয়াবহ ছিল
তার পরিকল্পনা। নিউইয়র্ক সিটির জন জে কলেজ অব ক্রিমিনাল জাস্টিসের শিক্ষক ড. মাকি হ্যাবারফিল্ড বলেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই নাফিসের পরিকল্পনা ছিল বড় কিছু একটা করার। সিবিএস নিউজ বলেছে, কথিত সন্ত্রাসী ঘটনা ব্যর্থ হলেও এর ফলে অনেক নতুন ঘটনা ঘটতে পারে। আরও অনেক তরুণ এতে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়ার কথিত পরিকল্পনার অভিযোগে বুধবার নাফিসকে গ্রেফতার করে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় অপরাধ তদন্ত ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়, নাফিসের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্রের ব্যবহার ও জঙ্গি সংগঠন আল কায়দাকে সহযোগিতা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
নাফিস বলত, প্রকৃত মুসলমান সহিংসতায় বিশ্বাস করে না : সন্ত্রাসবাদী পরিকল্পনার অভিযোগে নিউইয়র্কে বাংলাদেশী যুবক কাজী মোহাম্মদ রেজওয়ানুল আহসান নাফিস এফবিআইর হাতে গ্রেফতার হওয়ায় বিস্মিত হয়েছেন তার মার্কিন সহপাঠীরা। নাফিসের ভূয়সী প্রশংসা করে তারা বলেছেন, ‘নাফিস ছিল ভদ্র ও বিনয়ী। সে বলত, প্রকৃত মুসলমান কখনও সহিংসতায় বিশ্বাস করে না।’ ফক্স নিউজ এ খবর দিয়েছে।
গতকাল মার্কিন টিভি চ্যানেল ফক্স নিউজের অনলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর নাফিস প্রথমে ভর্তি হন সাউথইস্ট মিসৌরি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে। সেখানে তার সহপাঠী ডিয়ন ডানকান বলেন, ‘নাফিস ছিলেন ভালো মানুষ। তার মধ্যে কখনও মার্কিন বিরোধিতা দেখিনি। সে ছিল বিশ্বস্ত ও সত্ লোক। ডানকান বলেন, ‘নাফিস ছিল ভদ্র ও বিনয়ী। সে ছিল পরোপকারী। একজন ভালো মুসলিমের কাছ থেকে আপনি যেমনটা আশা করেন, সে ছিল তেমনই। সে দৈনিক ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ত।’
ওই ইউনিভার্সিটিতে তার আরেক সহপাঠী ডাউ বলেন, ‘নাফিস লাদেনের প্রশংসা করেছে ঠিকই। তবে সে বলেছে, লাদেন টুইন টাওয়ারে হামলা করেছে বলে সে বিশ্বাস করে না। নাফিস বলত, লাদেন ছিল ধর্মপরায়ণ এবং একজন ধার্মিক লোক কখনও এ কাজ করতে পারে না।’ ডাউ বলেন, নাফিস তাকে এক কপি কোরআন শরিফ উপহার দিয়ে তা পড়তে বলেছিল। তবে কোরআন পড়ার জন্য সে কখনও পীড়াপীড়ি করেনি।’
নাফিসের পরিবারও একই ধরনের কথা বলেছে। তারা বলেছেন, নাফিস এফবিআইর সাজানো নাটকের শিকার। নাফিস শিশুর মতো সরল মনের অধিকারী বলে মন্তব্য করেছে তার পরিবার ও নিকটজনরা।
এফবিআই যে কৌশল নিয়ে এভাবে সম্ভাব্য অপরাধীদের গ্রেফতার করে তা নিয়ে মার্কিন মুল্লুকেও প্রশ্নও উঠেছে। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের ভাষ্যমতেই এফবিআইর এজেন্ট ও ইনফরমার এ ধরনের অপারেশন চালাতে নাফিসকে উত্সাহিত করেছেন, তাকে নির্দেশনা দিয়েছেন, অর্থ দিয়েছেন, এমনকি হামলা চালাতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পর্যন্ত সরবরাহ দিয়েছেন। সমালোচকরা মনে করছেন, উপযুক্ত সরকারি সহায়তা ছাড়া এমন একটি পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে পারত না নাফিস।
এক্ষেত্রে নিউইয়র্ক টাইমস ২০০৯ সালের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছে। ওই বছর বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ব্রনক্সে রিভারডেল সেকশনে একটি উপাসনালয়ের সামনে বাসায় তৈরি বোমা স্থাপন করেছিল। ওই ঘটনায় ৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। তাতেও সরকারি ইনফরমারের ভূমিকা ছিল। এ মামলাটি যে বিচারক দেখছিলেন, তিনি এতে আইন প্রয়োগকারী এজেন্টদের ভূমিকার সমালোচনা করেন। ওই এজেন্টরা ওই ব্যক্তিদের বোমা পাতার পরিকল্পনা সামনে এগিয়ে নিতে সহায়তা করেছিল। বিচারক তাই সমালোচনায় বলেছিলেন, ‘দ্য গভর্নমেন্ট মেড দেম টেররিস্টস’ (সরকার তাদের সন্ত্রাসী বানিয়েছে।’
নাফিসের সহযোগী সন্দেহে এক মার্কিনি গ্রেফতার : নাফিসের সঙ্গে ই-মেইলে যোগাযোগের সূত্র ধরে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো থেকে এক মার্কিন নাগরিককে গ্রেফতার করেছে এফবিআই। তার নাম হাওয়ার্ড উইলি কারটার। গতকাল নিউইয়র্ক টাইমসে এ খবর প্রকাশিত হয়।
কারটারের বাসা থেকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন সম্পর্কের ৩০টি ভিডিও এবং সহস্রাধিক ছবি জব্দ করা হয় বলেও এসব প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে আদালতের বরাত দিয়ে এসব প্রতিবেদনে বলা হয়, কারটারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে লিপ্ত থাকার কোনো অভিযোগ এখনও দায়ের করা হয়নি।

Wednesday, October 17, 2012


আমু ও জলিল মন্ত্রী হচ্ছেন! 






















আরেক দফায় সম্প্রসারণ হচ্ছে মন্ত্রিসভা। তবে ঠিক কবে নাগাদ সম্প্রসারণ হবে, তা কেউ নির্দিষ্ট করে বলতে না পারলেও কমপক্ষে দু'জন মন্ত্রিসভায় আসছেন বলে সমকালকে নিশ্চিত করেছে একাধিক সূত্র। আলোচনায় পুরোভাগে রয়েছেন আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদের দুই সদস্য আমির হোসেন আমু ও আবদুল জলিল। বর্ষীয়ান এ দুই নেতা ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। আমির হোসেন আমু খাদ্যমন্ত্রী ও আবদুল জলিল ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। আওয়ামী লীগের কয়েকজন
নীতিনির্ধারক নেতা সমকালকে জানিয়েছেন, সরকারের শেষ বেলায় অনাগ্রহ থাকলেও আমন্ত্রণ জানানো হলে মন্ত্রী হিসেবে শেষের খেয়ার যাত্রী হতে তাদের আপত্তি থাকবে না। ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, দল ও দলনেত্রীর প্রতি আনুগত্যের প্রমাণ দিতে মন্ত্রিত্বের আমন্ত্রণে এ দু'জন নেতা সম্মত হবেন। তবে এ দুই নেতার বিকল্প হিসেবে নতুন দু'জনের কথাও ভেবে রাখা হয়েছে।
মন্ত্রিসভা সম্প্রসারিত হলেও কারোর বাদ পড়ার সম্ভাবনা নেই। প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যেও কারও পদোন্নতির সম্ভাবনা কম। তবে কোনো কোনো মন্ত্রীর দায়িত্ব কমিয়ে আলাদাভাবে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হবে নতুনদের। ঈদের আগে না হলেও নভেম্বর মাসে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদের তিন সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ ও আবদুল জলিলকে দলের সাংগঠনিক কাঠামোতে আরও সক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি ইতিমধ্যে এই তিন নেতাকে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় পরিষদ সদস্য করেছেন।
এ অবস্থায় অনেকেই মনে করছেন, আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় দলের জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ ও আবদুল জলিলকে গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবিতে ফিরিয়ে আনবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
কাঠগড়ায় আ'লীগের তিন সাংগঠনিক সম্পাদক
সোমবার আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টারি বোর্ডের বৈঠকের পর দলের তিন সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, ভূঁইয়া মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক ও আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনকে ডেকে আনেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জানতে চান, সাংগঠনিক সম্পাদকদের উদ্ধৃতি দিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে ভুল সংবাদ কীভাবে প্রচার হচ্ছে। এ সময় সাত সাংগঠনিক সম্পাদকের পক্ষে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন আহমদ হোসেন, ভূঁইয়া মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক ও আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। তারা বলেছেন, যা বলা হয়নি তা-ও প্রকাশ পেয়েছে কয়েকটি গণমাধ্যমে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাংগঠনিক সম্পাদকদের বক্তব্য বিকৃত করে প্রকাশ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমে প্রতিবাদও পাঠানো হয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমে সতর্ক হয়ে কথা বলার নির্দেশ দিয়েছেন।
বৈঠকে সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ, যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, অধ্যাপক ড. আলাউদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ ও গৃহায়ন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান উপস্থিত ছিলেন।

Tuesday, October 16, 2012


ঢাকাসহ দেশব্যাপী ১৮ দলীয় জোটের বিশাল গণমিছিল : ব্যর্থতার ভারেই সরকারের পতন ঘটবে - মওদুদ

রাজধানীতে গতকাল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের বিশাল গণমিছিল থেকে ঘোষণা করা হয়, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। মিছিল-পূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এমপি বলেন, ব্যর্থতার ভারেই সরকারের পতন হবে। এ সরকারের দুর্নীতি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। এখন আন্তর্জাতিকভাবেই শেখ হাসিনার সরকারকে বিশ্বচোর হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যান, ঘাবড়াবেন না। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি ও সরকারের নির্যাতনের প্রতিবাদে ১৮ দলীয় জোটের উদ্যোগে দেশব্যাপী মহানগর ও জেলা সদরে গণমিছিলের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানীতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বিকাল সোয়া ৪টায় গণমিছিল শুরু হয়। পরে মগবাজার মোড়ে গিয়ে তা শেষ হয়। গণমিছিল শেষে ছাত্রশিবির মৌচাক মোড়ে সমাবেশ করে। এতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর নেতারা বক্তৃতা করেন।
পূর্বে ফকিরেরপুল বাজার থেকে কাকরাইল মোড় পর্যন্ত নয়াপল্টনের দীর্ঘ সড়ক কানায় কানায় পূর্ণ ছিল মিছিলে। এর ৫ মিনিটের মাথায় নয়াপল্টনের আনন্দভবন কমিউনিটি সেন্টারের বিপরীত দিকে সড়কের পাশে ট্রান্সফরমারে বিকট শব্দ হলে নেতাকর্মীরা দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন। এতে মিছিলের নেতাকর্মীদের মাঝে ভয়-আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। অনেক নেতাকর্মী ভয়ে অলিগলিতে ঢুকে যায়। অনেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে। দৌড়াদৌড়ির সময়ে অনেক নেতাকর্মী আহত হয়। নেতাকর্মীরা অনেকে আইল্যান্ডের ব্যানার-ফেস্টুনের বাঁশ-লাঠি নিয়ে এগুতে থাকে। পেছনের অংশটিতে জামায়াতে ইসলামীসহ জোটের শরিক দলের কর্মীরা ছিলেন। তবে কিছুক্ষণের মধ্যে পরিস্থিতি শান্ত হয়। অলিগলিতে থাকা নেতাকর্মীরা আবার মিছিলে অংশ নেয়। এ সময়ে রাস্তার দুই পাশে পুলিশ ও র্যাব স্থিরভাবে দাঁড়িয়েছিল।
গণমিছিলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এমপি, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, সহ-সভাপতি সাদেক হোসেন খোকা, আবদুল্লাহ আল নোমান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, শামসুজ্জামান দুদু, কেন্দ্রীয় নেতা আমানউল্লাহ আমান, রবকতউল্লাহ বুলু, অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী, ফজলুল হক মিলন, আবদুস সালাম, আবদুল লতিফ জনি, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, আসাদুর রহমান শাহীন, যুবদলের অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, সাইফুল আলম নীরব, স্বেচ্ছাসেবক দলের হাবিব-উন নবী খান সোহেল, মীর সরফত আলী সপু, শফিউল বারী বাবু, মহিলা দলের শিরিন সুলতানা, ছাত্রদলের আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, হাবিবুর রশিদ হাবিব, নিলোফার চৌধুরী মনি এমপি ও হেলেন জেরিন খানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
গণমিছিলে ১৮ দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক মজিবুর রহমান, মিয়া গোলাম পরওয়ার, অধ্যাপক তাসনীম আলম, হামিদুর রহমান আযাদ এমপি, মাওলানা আবদুল হালিম, নুরুল ইসলাম বুলবুল, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, সেলিম উদ্দিন ও মঞ্জুরুল ইসলাম ভুঁইয়া, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির শামীম আল মামুন, খেলাফত মজলিসের মাওলানা শফিক উদ্দিন, শেখ গোলাম আজগর ও নোমান মাজহারী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির খন্দকার গোলাম মুর্তজা, ন্যাপের জেবেল রহমান ঘানি, ইসলামিক পার্টির আবদুল মবিন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, ন্যাপ ভাসানীর শেখ আনোয়ারুল হক, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সাইফুদ্দিন মনি, পিপলস লীগের সৈয়দ মাহবুব হোসেন প্রমুখ। এছাড়াও গণমিছিলে ছাত্রশিবিরের সভাপতি দেলাওয়ার হোসাইন ও সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল জব্বার উপস্থিত ছিলেন।
নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বিকাল সোয়া ৪টার গণমিছিল শুরু হয়ে মগবাজার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। নির্দলীয় সরকারের দাবিতে সর্বশেষ গণমিছিলটি হয়েছিল ৩০ জানুয়ারি। ওই মিছিলে নেতৃত্ব দেন দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া।
দুপুর আড়াইটা থেকে মহানগরের ১০০টি ওয়ার্ডে থেকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে সমবেত হয়। বিকাল সাড়ে তিনটার মধ্যে ফকিরেরপুল মোড় থেকে শুরু করে বিজয়নগরের নাইটেঙ্গল ছাড়িয়ে কাকরাইল মোড় পর্যন্ত পুরো এলাকা নেতাকর্মীদের উপস্থিতি জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
কর্মীদের হাতে নানা রঙের উত্সব পতাকা, ব্যানার-ফেস্টুন ছিল। গণমিছিলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের প্রতিকৃতিও স্থান পায়। জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা মঞ্চের বাঁদিকে অবস্থান নেয়। তারা দলীয় ক্যাপ পরে ব্যাপক শোডাউন করে। এছাড়াও ১৮ দলীয় জোটের শরিক খেলাফত মজলিস, এলডিপি, বাংলাদেশ ন্যাপ ও লেবার পার্টিসহ অন্য দলগুলোও গণমিছিলে শরিক হয়।
গণমিছিল উপলক্ষে ফকিরেরপুল, নয়াপল্টন, বিজয়নগর, কাকরাইল, শান্তিনগর, মালিবাগ ও মগবাজার মোড়ে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি ছিল।
গণমিছিল শুরুর আগে নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়। মহানগর আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা এতে সভাপতিত্ব করেন। ট্রাকের ওপর দাঁড়িয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, সরকার সংসদকে অকার্যকর করে রেখেছে। তারা ৪ বছর ধরে একদলীয়ভাবে সংসদ চালিয়ে যাচ্ছে। কেবল তাই নয়, কর্মকমিশন, নির্বাচন কমিশনসহ সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর হয়ে আছে। চার বছরে সরকারের ব্যর্থতার হিসাব এতো বেশি যে বলে শেষ করা যাবে না। এই ব্যর্থতার ভারে তাদের পতন ঘটবে। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনেই এদের বিদায় করব।
দুর্নীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার দুর্নীতিতে ডুবে গেছে। পদ্মা সেতুর দুর্নীতিতে বিশ্বের কাছে দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হয়েছে। লজ্জায় মুখ দেখানো যায় না। আমি সম্প্রতি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক আমার কাছে জানতে চেয়েছিলেন তোমাদের দেশে কেন এতো বড় দুর্নীতি হয়। আমি এর জবাব দিতে পারিনি।
পদ্মা সেতুর দুর্নীতি পর্যবেক্ষণে বিশ্বব্যাংকের তদন্ত দলের ঢাকায় আগমনকে লজ্জাজনক অভিহিত করে সাবেক আইনমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন সরকারের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। তারা আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। আমার বিশ্বাস বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতি পর্যবেক্ষণ টিম এ বিষয়টি বুঝতে পারবে। তখন তারা হতাশ হবেন।
গণমাধ্যমের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুনেছি প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বেসরকারি কোনো টেলিভিশন ও সংবাদপত্রকে কাভার করতে দিচ্ছে না। তাদের ব্যর্থতার খবর সব গণমাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে বলে সরকার অসহনশীল হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালেও আওয়ামী লীগ সংবাদপত্র দমন একদলীয় শাসন কায়েম করেছিলো। এবারও তারা গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ জনগণ বরদাশত করবে না।
নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি উল্লেখ করে মওদুদ বলেন, শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী রেখে কোনো নির্বাচনে বিএনপি যাবে না। জনগণও ওই নির্বাচনে অংশ নেবে না।
রামু, উখিয়া, টেকনাফ ও পটিয়ায় বৌদ্ধবিহারে হামলার ঘটনার জন্য সরকারকে দায়ী করে মওদুদ বলেন, বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র বানিয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের জন্য সরকার পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

Monday, October 15, 2012


ঝুলে গেল পদ্মা সেতুর ঋণ : ডিসেম্বরে আবার আসবে বিশ্বব্যাংক প্যানেল : তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে দুদককে পরামর্শ

পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধান পর্যবেক্ষণে আসা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশ্বব্যাংক গঠিত শক্তিশালী প্যানেল অব ইনভেস্টিগেটিভ এক্সপার্টের সদস্যরা গতকাল ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে তারা দুদক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে তারা জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরে তারা আবার আসবেন। এছাড়া দুদককে তারা তদন্তের জন্য কিছু ‘সাজেশন’ দিয়েছেন।
প্যানেলের কর্মসূচি নিয়ে গতকাল দুদক বা বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে গোপনীয়তা অবলম্বন করা হয়। তারা কোথায় কখন বৈঠক করবেন, কী নিয়ে আলোচনা করবেন—এসব বিষয়ে গণমাধ্যমের কাছে গোপন রাখা হয়। উল্টো দুদকের উপ-পরিচালক জনসংযোগ পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে গতকাল প্যানেলের সদস্যরা দুদকে যাচ্ছেন না। দুদক চেয়ারম্যান এবং কমিশনাররাও অফিস থেকে বাইরে চলে যান। এ অবস্থায় সন্ধ্যায় ৭টার দিকে প্যানেলের সদস্যরা দুদকে প্রবেশ করেন। তার আগেই চেয়ারম্যান, কমিশনার, দুদুকের প্রধান আইন উপদেষ্টা ও অনুসন্ধান টিমের কর্মকর্তারা দুদকে উপস্থিত হন।
দুপুরে বাইরে যাওয়ার আগে দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের জানান, রোববারের বৈঠকটি ছিল পরিচিতিমূলক। তারা আরও পর্যবেক্ষণ শেষে ফিরে যাবেন। পরে প্রয়োজনে আবার আসতে পারেন। তবে এখানেই তারা পর্যবেক্ষণ সমাপ্ত করবেন না আরও বসবেন, সে বিষয়টি প্যানেলের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। ওই সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পে কমিশন যে অনুসন্ধান করছে, সেটি এখনও কারও বিরুদ্ধে মামলার পর্যায়ে পৌঁছেনি।
পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি ও দুর্নীতির ষড়যন্ত্র বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের দুটি অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। প্রাথমিক তদন্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে পদ্মা সেতু প্রকল্পে ঋণ দেয়ার বিষয়টি গত ২৯ জুন বাতিল করে বিশ্বব্যাংক। পরে সরকার ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতার প্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাংক তিন সদস্যের একটি প্যানেল ঘোষণা করে। প্যানেলের তিন সদস্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সাবেক প্রধান প্রসিকিউটর লুই গাব্রিয়েল মোরেনো ওকাম্পো, হংকংয়ের দুর্নীতিবিরোধী স্বাধীন কমিশনের সাবেক কমিশনার টিমোথি টং ও যুক্তরাজ্যের গুরুতর প্রতারণা দমন কার্যালয়ের সাবেক পরিচালক রিচার্ড অল্ডারম্যান রোববার বাংলাদেশে আসেন। এছাড়া বিশেষজ্ঞ কমিটির সঙ্গে বাংলাদেশে আসেন বিশ্বব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্ত বিষয়ক প্রধান জিমারম্যান ও বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ বিষয়ক আইন উপদেষ্টা প্রিরালি মালিক। এ ৫ বিশেষজ্ঞ ও বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশে কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যালেন গোলস্টেইন গতকালও দুদকের বৈঠকে অংশ নেন।
একটি সূত্র জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞ প্যানেল গতকাল এসএনসি-লাভালিনের তিন সাব-কনসালট্যান্ট প্রতিষ্ঠান প্রকল্প প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহিদুল হাসান খান, বেটস কনসালটিং লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক নুরুল ইসলাম ও বিসিএল অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের পরিচালক ড. এম এ আজিজসহ কয়েক জনের সঙ্গে কথা বলেছেন। এছাড়া তারা প্রথম দিনের বৈঠকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করেছেন। সেখানে তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, এসব বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
এর আগে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুর্নীতির অভিযেগের তদন্ত বাংলাদেশের আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী হবে, সে ব্যাপারে উভয়পক্ষ একমত হয়েছে। পাশাপাশি পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের আইনই অনুসরণ করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। তারা তদন্তের যেসব তথ্য-উপাত্ত চেয়েছিলেন তাদেরকে সেটা দেয়া হয়েছে। তারা যদি এগুলোতে সন্তুষ্ট থাকেন, তবে আজই তাদের সিদ্ধান্ত জানাতে পারেন। সাংবাদিকদের অন্য একটি প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের অনুসন্ধান এখনও মামলা করার পর্যায়ে পৌঁছেনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান প্যানেলের সদস্যদের কোনো ধরনের গাইডলাইন দেয়ার বিষয়েও অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, রাতে যে বৈঠক হবে, সেখানে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

Saturday, October 13, 2012

সরকারের প্রতি হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের আসামি পক্ষের আইনজীবীদের হয়রানি বন্ধ করুন

কোনো কারণ উল্লেখ ছাড়াই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আসামি পক্ষের এক প্রখ্যাত আইনজীবীর অফিসে সশস্ত্র পুলিশের হানা দেয়া নিরপেক্ষ বিচারের মৌলিক ধারণার মারাত্মক লঙ্ঘন। বাংলাদেশ সরকারের উচিত হবে আসামি পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের অফিসে হানা দেয়ার নির্দেশ যারা দিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া এবং ওই আইনজীবীরা যে হুমকি ও ভীতি প্রদর্শনের মুখে পড়বেন না, তা নিশ্চিত করা।

নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানাবাধিকার সংস্থা হিউম্যঅন রাইটস ওয়াচ আজ বুধবার তাদের ওয়েব সাইটে এক প্রতিবেদনে এই আহ্বান জানিয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়াবিষয়ক পরিচালক ব্র্র্যাড অ্যাডামস বলেন, যুদ্ধাপরাধ বিচারপ্রক্রিয়াটি ইতোমধ্যে ক্রুটিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এখন কোনো ওয়ারেন্ট বা যুক্তিগ্রাহ্য কারণ ছাড়া আসামি পক্ষের আইনজীবীদের অফিসে সশস্ত্র গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের তল্লাসি ওই প্রক্রিয়াকে মারাত্মক ঝুঁকিগ্রস্ত করবে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ সরকারের উচিত প্রকাশ্যে ওই ব্যবস্থার সমালোচনা করা। নয়তো নিরপেক্ষ বিচার মানদণ্ডের এই মারাত্মক লঙ্ঘনের জন্য দায়ভার তাদের ওপর বর্তাবে।

মানবাধিকার সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ৯ অক্টোবর বিকেলে সাড়ে ৪টার দিকে  গোয়েন্দা সংস্থার (ডিবি) পরিচয়ে ১০/১২ জন পুলিশ কর্মকর্তা তাজুল ইসলামের চেম্বারের বাইরে জড়ো হন। সেখানে উপস্থিত আইনজীবীরা তাদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করলে পুলিশ কর্মকর্তারা প্রথমে চেম্বারের ব্যাপারে আগ্রহ না থাকার কথা জানালেও পরে তারা জানান, তারা সেখানে তল্লাসি চালাতে চান বলে জানান। আইনজীবীরা তাদেরকে সার্চ ওয়ারেন্ট দেখাতে বললে তারা তা দেখাতে ব্যর্থ হন। তারপর পুলিশ সদস্যরা ওই চেম্বারে উপস্থিত স্টাফ ও মক্কেলদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকেন, তাদের ঠিকানা নেন। প্রায় ২০ মিনিট পরে পুলিশ সেখান থেকে চলে যায়।

১০ অক্টোবর আসামি পক্ষ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১ ও ২-এ বিষয়টি অবগত করান। ট্রাইব্যুনাল-২ আসামি পক্ষকে লিখিত আবেদন দাখিল এবং থানায় জিডি করতে বলেন। আর ট্রাইব্যুনাল-১ জানায়, বিষয়টি তাদের আওতাবহির্ভূত।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাইব্যুনালে আসামি পক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুর রাজ্জাককে হয়রানি, হুমকি দেয়া হয়েছে। তার বাড়ি ও চেম্বারের উপর নজরদারি করা হচ্ছে।

আসামি পক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ করছেন, কৌসুলিদের পক্ষে কর্মরত ব্যক্তিদের হুমকি ও ভীতি প্রদর্শনের জন্য তারা অনেক সময়ই সাক্ষীদের আদালতে আনতে পারছেন না।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ওই প্রতিবেদনে অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ত্রুটিগুলো সংশোধনের দাবিও জানিয়েছে। সংস্থাটি উভয় পক্ষের প্রতি সমান আচরণ করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বানও জানায়।

Friday, October 12, 2012

নিরাপত্তা পেলে সামনে আসবেন গাড়িচালক আজম

পালিয়ে বেড়ানো জীবনের অবসান ঘটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চান গাড়িচালক আজম খান। তিনি সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) ওমর ফারুক তালুকদারের গাড়িচালক ছিলেন। আজম চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার নওগাঁও গ্রামের বাসিন্দা।
আজ রোববার দুপুরে ‘প্রথম আলো’র মতলব দক্ষিণ (চাঁদপুর) প্রতিনিধিকে মুঠোফোনে এসব কথা বলেন আজমের বোন সৌদি প্রবাসী সালমা বেগম।
সালমা বেগমের দাবি, তাঁর ভাই আজম গতকাল শনিবার দুপুরে তাঁকে ফোন করেছিলেন। আলাপচারিতায় আজম তাঁকে বলেছেন, রেলের অবৈধ টাকা ধরিয়ে দিয়ে তিনি সঠিক কাজটিই করেছেন। দেশের সবাইকে সত্যটা জানিয়েছেন। তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন, অথচ দোষী ব্যক্তিরা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছেন।
সালমা বেগমের দাবি, আজম তাঁকে বলেছেন, আত্মগোপনে থাকতে থাকতে এখন তিনি (আজম) ক্লান্ত ও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। টিভিতে তাঁর সাক্ষাত্কার প্রচারিত হওয়ার পর তিনি জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত বলে বোনকে জানিয়েছেন। যেকোনো সময় তাঁকে গুম বা হত্যা করা হতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও বোনকে জানিয়েছেন তিনি। সরকার আজমের জীবনের নিরাপত্তা দিলে প্রয়োজনে যেকোনো তদন্ত বা মামলার মুখোমুখি হতে রাজি আছেন তিনি।
সালমা বেগম বলেন, আজম লুকিয়ে থাকায় একমাত্র মেয়েকে নিয়ে তাঁর স্ত্রী স্বপ্না বেগম খুবই অর্থকষ্টে আছেন। অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে গেছে আজমের মেয়ে রিয়ার লেখাপড়া। মতলব থানা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) না নেওয়ায় আজমের পরিবার হতাশ ও উদ্বিগ্ন বলেও সালমা জানান।
রেলের অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনার পর থেকে পলাতক আছেন চালক আজম খান। সম্প্রতি তিনি অজ্ঞাত স্থান থেকে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভিকে সাক্ষাত্কার দেন। তাঁর দেওয়া বক্তব্যের ব্যাপারে নিজের অবস্থান জানিয়ে সংবাদ ব্রিফিং করেন সাবেক রেলমন্ত্রী ও বর্তমানে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

১/১১ খেলোয়াড়রাই আবার খেলছে : শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এক এগারোর সরকারের মতো অনির্বাচিতদের ক্ষমতায় আনার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। আবারও ওয়ান ইলেভেন সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, কিছু মানুষ আছে, যাদের ক্ষমতায় যাওয়ার খায়েশ থাকলেও নির্বাচন করার সাহস নেই। জনগণের সামনে দাঁড়াতে পারেন না। জনগণের ওপর তাদের ভরসা নেই, ভরসা অসাংবিধানিক পথে। অসাংবিধানিক ধারায় ক্ষমতায় যেতে চান। তাদের খায়েশের কারণেই দেশ বারবার বিপদে পড়ে। তারা এখন আবার খেলা শুরু করেছেন।
গতকাল গণভবনে আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির বৈঠকে প্রারম্ভিক বক্তব্যে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতার খায়েশধারীদের কারণে বারবার দেশে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা বারবার অসাংবিধানিক ব্যবস্থাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্নম্ন আইনজীবী বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে এ প্লাস সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন। কীভাবে ওই তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে আরও রাখা যায়, সে ফতোয়া দিয়েছিলেন। তারাই এখন স্বোচ্চার হয়েছেন। তাদের খায়েশ মেটাতে গিয়ে দেশটাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অবশ্য ফতোয়াবাজরা তো অসাংবিধানিক সরকার চাবেনই। কারণ তারা সাংবিধানিক সরকারের সময়ে মূল্য পান না। অসাংবিধানিক সরকার এলে তাদের মূল্য বাড়ে। সে কারণে তারা অসাংবিধানিক সরকার চান।
সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ষড়যন্ত্র চললেও তা নস্যাত্ করে সংবিধান অনুযায়ীই দেশ চলবে। কারণ এক-এগারোর কথা জনগণ ভুলে যায়নি।
শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে জাতীয় সংসদের উপনির্বাচন থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার পর্যায়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি নির্বাচনের সবই সুষ্ঠু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করেছে। মানুষ পছন্দমতো তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। শুধু আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনেই সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে। এরই মধ্যে তা প্রমাণিত হয়েছে।
সুশীল সমাজের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এক শ্রেণীর মানুষ সরকারের কাছ থেকে সুবিধা ভোগ করতে না পেরে মধ্যরাতের টকশো থেকে শুরু করে বিভিন্ন ভাবে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আমরা মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। দেশের অনেক উন্নতি হয়েছে। সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া গ্রামের মানুষ পাচ্ছেন। পাচ্ছেন না শুধু কিছু লোক। তারা (টেলিভিশনের টকশো) মধ্যরাতে জেগে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন। এই রাত জেগে জেগে নাই নাই, এটা হলো না, ওটা হলো না। কিন্তু কোন অবস্থায় ছিল বাংলাদেশ? বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা থেকে কোথায় নিয়ে এসেছি। সেটা তো চোখে দেখেন না তারা। এই যে ঈদ গেল প্রত্যেকটি মানুষকে ১০ কেজি খাবার সাহায্য দিয়েছি। তারা কি একটুও চিন্তা করেন? অবশ্য তারা দেখবেন কীভাবে? চোখে তো তারা ঠুলি পরা।
আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আসা ঠেকাতে বিভিন্নমুখী ষড়যন্ত্রের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রতিবছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে তাদের প্রতিবেদন দিলেও ২০০১ সালে হঠাত্ বলা নেই কওয়া নেই তারা দুর্নীতির রিপোর্ট প্রকাশ করল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ছাড়ার ঠিক আগে তড়িঘড়ি করে এই রিপোর্ট দেয়া হলো, যা ছিল সম্পূর্ণ বানোয়াট। এতেই বোঝা গেছে যে তাদের উদ্দেশ্য আছে। আর না হলে এভাবে নির্বাচনের আগে রিপোর্ট দেবে কেন।
তিনি বলেন, ওই সময় তেল-গ্যাস বিক্রি করতে রাজি হইনি বলেই আওয়ামী লীগ তখন ক্ষমতায় বসতে পারেনি। আমাদের দেশের সম্পদ বেচবে এক দেশ আর কিনবে আরেক দেশ। আমি রাজি হইনি। যার কারণে আমরা ভোট পেয়েও ক্ষমতায় যেতে পারলাম না।
প্রতিটি সাংগঠনিক জেলা থেকে একজন, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য এবং দলীয় প্রধান মনোনীত ২১ জনকে নিয়ে জাতীয় কমিটি গঠিত হয়। দলীয় প্রধানের মনোনীত কোটায় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমদ ও আবদুল জলিলকে সম্প্রতি জাতীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের সর্বশেষ জাতীয় সম্মেলনের পর গতকালই জাতীয় কমিটির প্রথম বৈঠক হলো। তবে এখন থেকে এ কমিটির বৈঠক নিয়মিত হবে বলে জানান দলটির সভানেত্রী।
আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির বর্ধিত মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনুমোদন দিয়েছে দলের জাতীয় কমিটি। এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে কমিটির মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়। গত ২৩ জুলাই আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির তিন বছর মেয়াদ শেষ হয়।
এখন থেকে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি ছয় মাস অন্তর জাতীয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে জানান। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, বৈঠকে জাতীয় কমিটির তৃণমূল পর্যায়ের সদস্যরা তৃণমূল সংগঠনের সমন্বয়হীনতা ও সাংগঠনিক দুর্বলতার কথা তুলে ধরেন। তারা স্থানীয় সংসদ সদস্যদের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, এমপিরা স্থানীয় নেতাকর্মীদের গুরুত্ব না দিয়ে নিজস্ব বলয় সৃষ্টি করছেন। এমপির ‘লোকজন’ সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির মাধ্যমে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন বলেও কেউ কেউ অভিযোগ করেন। তারা বলেন, এমপি ও স্থানীয় সংগঠনের মধ্যে যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে, তা এখনই না মেটানো হলে আগামী নির্বাচনে মূল্য দিতে হবে। বেশ কয়েকজন সদস্য তাদের নিজ নিজ এলাকার বর্তমান সংসদ সদস্যকে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়া হলে নিশ্চিত পরাজয় বলেও মন্তব্য করেন।
বৈঠকে বেশ কয়েকজন সদস্য গণমাধ্যমের সমালোচনা করে বলেন, টিভি দেখলে আর পত্রিকা পড়লে শুধু সরকারের বিরুদ্ধেই খবর দেখি। বর্তমান সরকারের কাছ থেকে পাওয়া টিভি চ্যানেলগুলোও সরকারের সমালোচনা করছে। সরকারের কোনো ভালো কাজের খবর আমরা গণমাধ্যমে দেখি না।
বৈঠকে চট্টগ্রাম অঞ্চলের এক সদস্য রামু প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেন। তিনি এ ঘটনাকে সুপরিকল্পিত উল্লেখ করে বলেন, একটি মহল আওয়ামী লীগকে জড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি বৌদ্ধদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কক্সবাজারের রামু ও হিমছড়িতে দুটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের প্রস্তাব করেন। অন্যান্য সাংগঠনিক জেলা থেকে আসা সদস্যরা তাদের নিজ নিজ জেলার রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি করেছেন।
সূত্র আরও জানায়, বৈঠকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রমের ওপর জোর দেয়া হয়। যেসব জেলা ও উপজেলায় এখনো সম্মেলন হয়নি সেখানে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্মেলন সম্পন্ন করার তাগিদ দেয়া হয়।
প্রায় পাঁচ বছর পর গতকাল আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গঠনতন্ত্রের ১৭(ঝ) অনুযায়ী প্রতি ছয় মাস অন্তর জাতীয় কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

বিএনপির তদন্ত কমিটির রিপোর্ট প্রকাশ : জঙ্গি প্রমাণ করতেই রামুর ঘটনা

কক্সবাজারের রামু, উখিয়া, টেকনাফ এবং চট্টগ্রামের পটিয়ায় বৌদ্ধবিহার ও বসতিতে হামলার ঘটনা সরকারের মদতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপির তদন্ত দল। সহিংসতার সুষ্ঠু তদন্ত করতে একজন সাবেক সিনিয়র প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি বিচারবিভাগীয় কমিশন গঠনের দাবিও করেছে দলটি। সরেজমিন তদন্তে প্রাপ্ত সব তথ্য পর্যালোচনায় সরকারের ইন্ধনেই সাম্প্রদায়িক এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানায় বিএনপির তদন্ত দল। গতকাল সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ৬৭ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন কমিটির আহ্বায়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার কাছে এ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়।
বিএনপির অভিযোগ, আগামীতে সুষ্ঠু নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সরকারের মদতে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা করা হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মওদুদ আহমদ বলেন, ২৯ সেপ্টেম্বর রাত ৯টা থেকে সাড়ে নয়টার মধ্যে শ’খানেক লোক মিছিল করে। এরপর ভোররাত ৫টা পর্যন্ত অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর লুটপাট হয়। পরদিন পটিয়ায়ও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। প্রায় ২৪ ঘণ্টা সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ছিল না। সরকারের উপস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, রামুর কেন্দ্রীয় সীমাবিহার থেকে থানার দূরত্ব ছিল মাত্র আধা কিলোমিটার। জেলা পুলিশ সদরের দূরত্ব ১৮ কিলোমিটার আর সেনা ক্যাম্পের দূরত্ব ছিল ৪ কিলোমিটার। তারা কেউই পরিস্থিতি শান্ত বা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ভূমিকা নেয়নি। নিলে এই বর্বর নারকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। তাদের এই ব্যর্থতার কারণেই এ ঘটনা আজ জাতীয় ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, আশ্চর্যের বিষয় হলো, যে উত্তম কুমার বড়ুয়ার জন্য ঘটনার সূত্রপাত, তার বাড়ির সামনে দিয়ে মিছিল হয়, আশপাশের বৌদ্ধবিহারে হামলা হয়, কিন্তু উত্তমের বাড়িতে একটি ইটও পড়েনি। তদন্ত দলের মনে এটি গভীর সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। তদন্ত দলটি ৫ ও ৬ অক্টোবর রামু, উখিয়া, টেকনাফ ও পটিয়ায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সেখানে তারা শ’ শ’ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে অন্তত ৬০ জনের বক্তব্য রেকর্ড করেন, বক্তব্যের ভিডিও দৃশ্য ধারণ করেন। তিনি বলেন, দলীয়ভাবে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হয়েছে। কারণ বিএনপি একটি অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব সালাউদ্দিন আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার, নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিস্ট অ্যান্ড পালি বিভাগের অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া এবং বিএনপি নেতা কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, আবদুল লতিফ জনি, আবদুস সালাম আজাদ, রফিক শিকদার প্রমুখ।
সহিংসতা পূর্বপরিকল্পিত : ক্ষতিগ্রস্ত ও আক্রান্ত লোকজনের সাক্ষ্য এবং হামলার ঘটনায় গান পাউডারের ব্যবহার ও সিমেন্টের তৈরি চৌকোণা ব্লক দেখে ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল বলে তদন্ত দল নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়া তদন্ত দলটি অভিযোগ করে, রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহেল সরওয়ার ওরফে কাজল ওই দিন বিএনপির সংসদ সদস্যদের সঙ্গে মিলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তার ভাই স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা সাইমুন সরওয়ার ওরফে কমল এ ঘটনায় মদত দিয়েছেন। ‘রামুর ঘটনায় স্থানীয় এমপি কাজল জড়িত’ প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সমালোচনা করে মওদুদ বলেন, তার মতো দায়িত্বশীল পদে থেকে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই এ ধরনের কথা বলা ঠিক হয়নি। তাহলে তদন্ত করার দরকার কি? দোষী কে সেটা তো তিনি বলেই দিয়েছেন! এমপিই যদি এত ক্ষমতাবান হন, তাহলে সরকারের থাকার দরকার কি?
সুপারিশ : তদন্ত প্রতিবেদনে কয়েকটি সুপারিশও করা হয়েছে। স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় যাদের নাম এসেছে, তাদের গ্রেফতার করে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যারা যথাসময়ে দায়িত্ব পালন করেনি, তাদের যথাযথ শাস্তি দিতে হবে। এই ঘটনাকে পুঁজি করে সরকার বিরোধী দলের উপরে যে মিথ্যা অভিযোগ ও হয়রানি করেছে তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং সরকারের তদন্তের আগেই বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য লুত্ফর রহমান কাজলকে দায়ী করে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তা প্রত্যাহার করতে হবে। ওইসব জনপদে বসবাসকারী সব জনগোষ্ঠীর দ্রুত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনার জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। ধ্বংস হওয়া বিহার, প্যাগোডা, মন্দির ও বসত বাড়ি নির্মাণে যত কোটি টাকা লাগুক পুনর্নির্মাণ করে দিতে হবে। স্বর্ণের মূর্তি যেগুলো চুরি হয়েছে সেগুলো উদ্ধার করে তাদের ফেরত দিতে হবে। পুড়ে যাওয়া ত্রিপিটক সংগ্রহ করে দিতে হবে। ১৫টি বিহার, মন্দির ও প্যাগোডা বানিয়ে দিতে হবে। আশপাশের পুড়ে যাওয়া ১৮টি বাড়িসহ ক্ষতিগ্রস্ত সব বাড়ি পুনর্নির্মাণের সহায়তা দিতে হবে।
মওদুদ বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার যে অংশ এই ঘটনায় মদত দিয়েছে, তাদের গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। কারণ প্রকৃত ঘটনা তারও জানত।
বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি : ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, প্রকৃত ঘটনা জানার জন্য একজন অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে অতিদ্রুত একটি তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে। এ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করে প্রকৃত দায়ীদের শাস্তির বিধান করতে হবে। আগামীতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ১৪ জন সাবেক প্রধান বিচারপতি বেঁঁচে আছেন। তাদের মধ্য থেকে সিনিয়র একজনকে এ দায়িত্ব দিতে হবে। যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জনগণ গ্রহণ করবে না। ওই কমিটির তদন্ত রিপোর্ট হবে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে নির্দোষ ঘোষণার মতো।
নানা প্রশ্ন : সংবাদ সম্মেলনে মওদুদ আহমদ বলেন, এ ঘটনায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বিদেশে থাকলেও ৫ মিনিটের মধ্যে এ খবর জেনে যাওয়ার কথা। তিনি যদি না জানেন তাহলে মনে করতে হবে ওই সময় দেশে কোনো সরকার ছিল না। আর জানলে তিনি তাত্ক্ষণিকভাবে কেন ব্যবস্থা নেননি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত থাকাকালে পাশের থানায় কীভাবে হামলা হলো? তখন পুলিশ কি করেছে? তাহলে কি পুলিশের মধ্যকার চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে? শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া এ ঘটনা সঙ্গে সঙ্গে জানলেও তিনি কেন কোনো ব্যবস্থা নেননি? সব স্থানে একই ধরনের হামলা হয়েছে। এটা কীভাবে সম্ভব? যে গান পাউডার দিয়ে আগুন জ্বালানো হয়েছে তা কোথা থেকে, কারা এনেছে? ঘটনার মূলসূত্র উত্তম বড়ুয়ার বাড়ির সামনে দিয়ে মিছিল গেলেও তার বাড়িতে হামলা হলো না কেন?